মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যের নামকাম জেলায় রোববার এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৪৬ জন নিহত ও ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দুইজন উদ্ধারকর্মী জানিয়েছেন। বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, খনি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরকের বিস্ফোরণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এক উদ্ধারকর্মী জানান, নিহতদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও লাশ থাকতে পারে। অপর এক জরুরি কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে এবং বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণে থাকা তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণে বহু স্থানীয় বাসিন্দা নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টিএনএলএ ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’-এর সদস্য, যেখানে আরাকান আর্মি (এএ) ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) অন্তর্ভুক্ত। এই জোট ২০২৪ সালের শুরুতে চীনের মধ্যস্থতায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, তবে জুনে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই বিস্ফোরণ উত্তর মিয়ানমারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যেখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ সোমবার, ১ জুন ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ছিলেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। তিনি এক মেয়ে ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়া অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সোমবার থেকে জেট ফুয়েল রপ্তানিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ইয়েনি শাফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পণ্যবাজারের মাধ্যমে কেনা জেট ফুয়েলও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে, তবে কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত চালান এবং আন্তঃসরকারি চুক্তির আওতায় সরবরাহ করা জ্বালানি এর বাইরে থাকবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশীয় জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাশিয়া একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে পেট্রোল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, যা ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল। রুশ সরকার জানিয়েছে, দেশের বাজারে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রেখেছে এবং লেবাননে তার মিত্র ইসরাইলের হামলা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ ইসরাইলের কর্মকাণ্ডকে লেবাননে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটি যুদ্ধবিরতি না মানার স্পষ্ট প্রমাণ। গালিবাফ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করা যায় না এবং ইরানি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে সম্মত হবে না। তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে আরও কঠোর শর্তযুক্ত একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। এই পরিস্থিতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পুলিশের এই হামলায় বহু আমানতকারী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে সাধারণ গ্রাহকেরা ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা ও নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পুলিশের এই অযাচিত বলপ্রয়োগ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং গ্রাহকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি অবজ্ঞা। জামায়াত অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানায় এবং বিতর্কিত চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করে ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানায়।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ নিয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা। সোমবার দুপুরে তিনি লেখেন, দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। চাকমা মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি এক বিরল ঘটনা, যেখানে অধিকাংশ রাজনীতিক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চান। চাকমা তার পোস্টে দীপেন দেওয়ানকে ভদ্র, মার্জিত ও স্বল্পভাষী রাজনীতিক হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি কখনও বিরোধীদের আক্রমণ করেননি। তিনি বলেন, এমন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ দেশের প্রয়োজন। যদিও তিনি জানেন না কেন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, তবে দেশ ও পার্বত্যবাসীর কল্যাণে তার পদে থাকা দরকার বলে মত দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে দীপেন দেওয়ান নিশ্চয়ই না করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন নিশ্চিত করেছেন যে, দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, ইরান জানে কখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে, তবে এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে, এমনকি তার বক্তব্যের দিন সকালেও। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান প্রয়োজন মনে করলে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে। তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে ইরানি রাডার ও ড্রোন সাইটে হামলার কথা স্বীকার করেছে, যা ওয়াশিংটন আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করেছে। এই পরিস্থিতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে, এবং পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
ইরান নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান ইস্যুতে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। তার মতে, ডেমোক্র্যাট দলের মধ্যপন্থি ও ডানঘেঁষা অংশগুলো মনে করছে ইরান শক্তিশালী হচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলকভাবে দুর্বল। একই সঙ্গে রিপাবলিকান পার্টির ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ঘরানার একটি অংশও ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করছে। মোর্তাজাভি বলেন, ট্রাম্প একসময় মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতাকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ করেছিলেন, কিন্তু এখন তার নীতি সেই অবস্থানের বিপরীত দিকে যাচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ট্রাম্প দুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের “বোকা” ও “অর্থহীন” যুদ্ধ শেষ করার এবং নিজেকে “শান্তির প্রেসিডেন্ট” হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। তার মতে, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত ইরান আক্রমণ পরিকল্পনা গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে, কারণ আগের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট তা করেননি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানকে সহজ লক্ষ্য ভাবা ভুল হবে এবং ট্রাম্প এখন এমন এক জটিল পরিস্থিতিতে আছেন যেখানে সমালোচনা আসছে নিজের দল ও বিরোধী উভয় দিক থেকেই।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের অধিকার কেবল ইরান ও ওমানের। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ১ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। গারিবাবাদি বলেন, ইরান এই জলপথে যানবাহন ও নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নতুন প্রক্রিয়া চালু করেছে, যা ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে ইরান হরমুজ প্রণালিতে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ ও ওমানের সঙ্গে সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ঘোষণাটি ইরানের অবস্থানকে স্পষ্ট করে যে, হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌমত্বের বিষয়টি কেবল ইরান ও ওমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং বাইরের হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার জানিয়েছেন, ফ্রান্স ও তার মিত্ররা আটলান্টিক মহাসাগরে ‘টাগর’ নামের একটি রুশ তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এই জাহাজটি রোববার সকালে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করা হয়। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, অভিযানে ব্রিটেন ও অন্যান্য অংশীদার দেশ সহায়তা করেছে। ম্যাক্রোঁ বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়া, সমুদ্র আইন লঙ্ঘন করা এবং চার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধকে অর্থায়ন করার জন্য এই জাহাজ ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। তার বক্তব্যে রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ধারাবাহিকতা প্রতিফলিত হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে আটক জাহাজটির গন্তব্য বা ক্রুদের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে সোমবার হাজার হাজার গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সেখানে গ্রাহক ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডাররা মতিঝিলে জড়ো হতে থাকেন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। মতিঝিল জোনের ডিসি হারুনুর রশীদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যদিও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
ইসরাইল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলের চ্যানেল-১৫। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের ভূখণ্ডজুড়ে ইসরাইলের আক্রমণ জোরদারে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযান বিস্তৃত করার আগে ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরামর্শ করেছেন। এই অভিযানে দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, সীমিত সামরিক পদক্ষেপে তাদের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব নয়, তাই অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় সরকার বাধ্য হয়ে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে সরকার দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি মাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয়ের প্রক্রিয়া রয়েছে, তবে মে মাসে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশই ডিজেল, যা সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি পায়। সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব কমাতে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে হয়েছে এবং অপ্রয়োজনে দাম বাড়ানো হবে না। তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অফশোর অনুসন্ধান, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে এখনো বড় ধরনের চক্রান্তের জাল বিস্তারের চেষ্টা চলছে। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যান-অটোচালক দলের আয়োজনে দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে শুধু অপপ্রচার নয়, মব কালচারও তৈরি করা হচ্ছে। রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে বিএনপি কর্মসংস্থানের সরকার হিসেবে কাজ করেছে। তিনি দাবি করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে কেউ বেকার থাকবে না এবং হকার উচ্ছেদ হলেও তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। আওয়ামী লীগের ১৯৭২–১৯৭৫ সালের শাসনকালকে তিনি দুঃশাসনের সময় হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান সরকারকে জনগণের টাকা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পুরোনো ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসে, তবে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। অনুষ্ঠানে আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা বক্তব্য দেন এবং শেষে গরিবদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তির সংশোধনী প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আধা সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান নিজস্ব নতুন সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিয়েছে খসড়া সমঝোতা স্মারকে। আলোচনাগুলো এখনো চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের বরাতে তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের এই সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া মানে এই নয় যে দেশটি ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো গ্রহণ করেছে। এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাবিত শান্তিকাঠামোর একটি সংশোধিত সংস্করণ ইরানের কাছে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যেখানে আগের তুলনায় আরও কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এবং উভয় পক্ষের অবস্থান ভিন্ন রয়ে গেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।