সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করবে। সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। লিন্ডসে গ্রাহাম মঙ্গলবারের প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তারা একটি ভালো চুক্তি করতে চায়, এমনকি পরমাণু অস্ত্র না রাখার প্রতিশ্রুতিও দিতে রাজি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই লড়াইয়ে জয়ের পথে রয়েছে এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করা হবে, যা তেলের দাম হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। এর আগে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার কথা ছিল। সিএনএন সূত্রে প্রকাশিত এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ইরান ইস্যুতে বড় কোনো কূটনৈতিক বা কৌশলগত ঘোষণা দিতে পারে।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ—চলতি বছরও অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তবে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ২০২৬ সালের শেষভাগে শুরু হতে পারে বলে স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজনের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো রুটিন কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য ইউপি নির্বাচনকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। নির্বাচনের নির্দলীয় আয়োজনের কথা থাকলেও বড় দলগুলোর কৌশলগত অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন সংশোধিত স্থানীয় সরকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বিধিমালা ও আচরণবিধি তৈরি করছে। ১৫ জুন এসব খসড়া জনমতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। বাজেট অনুমোদন ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মঙ্গলবার সকালে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি সারগাজের কাছে হরমুজগান ও কারমান প্রদেশে অনুভূত হয়। প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ফিলিপাইনে এক দিন আগে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সকসারজেন অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩১টি লাশ, এবং এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। বহু ভবন ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিসিটিভি ও মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে ফিলিপাইনের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্পের ভয়াবহতা দেখা গেছে, যখন স্থানীয় সময় সকালে মানুষ কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ছিল।
ইরান ও ইসরাইল সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর পাল্টাপাল্টি হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণে। এর আগে তেহরান জানায়, তারা আপাতত সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ রাখবে, তবে ইসরাইল যদি ইরান বা লেবাননে আবার হামলা চালায়, তাহলে জবাব দেওয়া হবে। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। দুই মাস ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর রোববার রাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত হামলা চললেও পরে উভয় দেশই তা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। পরিস্থিতি এখনো নাজুক, কারণ উভয় পক্ষই ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে শর্তসাপেক্ষে সংযমের ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইসরাইলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জারি করা সব ধরনের উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইরান। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশসীমা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সব বিমানবন্দর থেকে পুনরায় ফ্লাইট চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি জানায়, সংস্থার কর্মকর্তা আবুজার শিরুদি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ইসরাইলের অভ্যন্তরে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ইরান সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট বাতিল করে আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় শেষে এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান তার বিমান চলাচল কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে, যা তেহরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে দক্ষিণ ফিলিপাইনে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে অন্তত ৩৭ জন নিহত এবং দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্দানাওয়ের জেনারেল সান্তোস শহর থেকে প্রায় ৮ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং গভীরতা ছিল ৬ দশমিক ২ মাইল। দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকসারজেন অঞ্চলে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩১টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলক্যানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভেও এর মাত্রা ৭ দশমিক ৮ বলে নিশ্চিত করেছে। ভূমিকম্পের পরপরই প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার সতর্কতা জারি করে জানায়, ফিলিপাইনের কিছু উপকূলে ১০ ফুট পর্যন্ত এবং ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু উপকূলে এক মিটার পর্যন্ত ঢেউ উঠতে পারে। পরে জানানো হয়, সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আফগানিস্তান বিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া প্রস্তুতের জন্য নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব বিনিময় করছে। ইরাভানি জানান, উভয় দেশ এখনো চূড়ান্ত পাঠে পৌঁছাতে পারেনি, তবে সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে। তার বক্তব্য ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ইরাভানির এই মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই যোগাযোগ ভবিষ্যতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন, ইরান ও গাজায় কার্যকর যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। গুতেরেস গাজায় প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ইসরাইলের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সব সীমান্ত ও প্রবেশপথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে মানবিক সহায়তা ও জরুরি পণ্য সরবরাহ নির্বিঘ্নে চালানো যায়। তিনি আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলের স্বাধীনতা ও অধিকার সম্মানের ওপরও জোর দেন, যা বিশ্লেষকদের মতে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। তিনি বলেন, সংলাপ ও আলোচনাই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে প্রত্যাশিত ফল না আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধীরে ধীরে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বিরক্ত হচ্ছেন। তার মতে, যুদ্ধের ব্যর্থতার জন্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে দায়ী করতে পারেন। বিশারা মনে করেন, যুদ্ধটি প্রত্যাশামতো এগোচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন এক জটিল অবস্থায় আটকে গেছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অনেকেই মনে করেন এই যুদ্ধ জনপ্রিয় নয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত লক্ষ্যও পূরণ হয়নি। ওয়াশিংটন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরতে পারছে না, আবার ইরানকেও নিজেদের শর্তে শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করতে পারছে না। বিশারার মতে, ট্রাম্প শুরুতে ইরানের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ দাবি করলেও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বিশ্লেষক জানান, নেতানিয়াহুর অবস্থান তুলনামূলকভাবে বেশি সামরিকমুখী এবং তিনি সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার পক্ষপাতী বলে মনে হয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।
কিউবায় চলমান জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেশটিকে গভীর মানবিক ও সামাজিক সংকটে ফেলেছে। রাজধানী হাভানাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পানির সংকট, অতিরিক্ত গরম ও মশার উপদ্রব পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে। অনেক এলাকায় মানুষ হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে ‘কাসেরোলাজো’ নামে পরিচিত প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে। পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসের ঘাটতিতে অনেকেই কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কয়েক ডলার থেকে বেড়ে ২৯ ডলারে পৌঁছেছে, আর পেনশন কমে ১০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো কার্যক্রম কমিয়ে দিচ্ছে। কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায় নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে, প্রচণ্ড গরম ও খরা বিদ্যুৎবিহীন কিউবায় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের মহাসাগরগুলো “তীব্র ও দ্রুত বর্ধনশীল” সংকটে পড়েছে এবং গত এক দশকের তুলনায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্ব মহাসাগর দিবসে প্রকাশিত জাতিসংঘের তৃতীয় ‘ওয়ার্ল্ড ওশেন অ্যাসেসমেন্ট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষণ ও শিল্পভিত্তিক মৎস্য শিকারের কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ৮৬টি দেশের প্রায় ৬০০ বিজ্ঞানীর ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের আগে প্রতি বছর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২ মিলিমিটার বাড়লেও ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪.৩ মিলিমিটারে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক আইননির্ভর পদক্ষেপ এখন জরুরি। প্রতিবেদনে নতুন ‘হাই সিস ট্রিটি’-কে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার খণ্ডিত কাঠামোকে বড় চ্যালেঞ্জ বলা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০% মহাসাগর সুরক্ষিত করা এখন ন্যূনতম প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে লেবানন ইস্যু নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা জানান, এই মতপার্থক্য এতটাই গভীর ছিল যে ট্রাম্প প্রায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিলেন। লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ট্রাম্প প্রতিদিন লেবাননের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ রাখছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈরুতের শহরতলিতে ইসরাইলের বিমান হামলা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন ইসা। এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে নতুন ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প ইসরাইলকে নতুন হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। তার আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সূত্রগুলো জানায়, নেতানিয়াহু প্রথমে আপত্তি জানালেও পরে আংশিকভাবে সম্মতি দেন। ট্রাম্প গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন, যদিও পর্যবেক্ষকদের মতে সংঘাতের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার ইরাক তার আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানায়, ইরাকের সব বিমানবন্দর থেকে যাত্রীবাহী ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত থাকবে। এর আগে রোববার সন্ধ্যায় ইরান ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর ইরাক ৭২ ঘণ্টার জন্য আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। এটি ছিল ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের প্রথম ঘটনা। আকাশসীমা পুনরায় খোলার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরাক সতর্কভাবে স্বাভাবিক বিমান চলাচলে ফিরে যাচ্ছে, যদিও আঞ্চলিক উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আকাশসীমা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক ঘটনার ওপর নির্ভর করবে।
লেবাননের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের জেফতা শহরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে এক সিরীয় শিশু ও এক নারী রয়েছেন। আজ ভোরে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামলার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আল জাজিরা সূত্রে এই তথ্য জানিয়েছে লেবাননের সংবাদমাধ্যম। ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বলা হয়, একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১১ হাজার ১৮৮ জন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংঘাত লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। হামলার কারণে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহল বারবার সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেও সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত ও আহতের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।