রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন স্থায়িত্বের দিক থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার সংঘাতের ১,৫৬৯তম দিনে পদার্পণ করে এটি চার বছর তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর দ্রুত বিজয়ের আশা করেছিলেন, কিন্তু যুদ্ধটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু সংঘাতে পরিণত হয়েছে। শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক ইউক্রেনীয় মনে করেন যুদ্ধ আগামী বছরের আগে শেষ হবে না। ইতিহাসবিদরা বলছেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি তুলনা সীমিত হলেও উভয় যুদ্ধই ইউরোপের ভূরাজনীতি ও সামরিক জোটের কাঠামো বদলে দিয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে যুদ্ধের ধরনও পাল্টেছে—যেখানে একসময় ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধবিমান ছিল, এখন সেখানে ড্রোনের আধিপত্য। ড্রোনের কারণে পরিখাভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে, সৈন্যরা এখন ছোট ও গভীর বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছে। ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা আগের মতোই ভয়াবহ, এবং বিশেষজ্ঞরা একে ‘ড্রোন যুগের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। ইউক্রেন এখন রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়ে অচলাবস্থা ভাঙার চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেন যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্ব একটি খসড়া চুক্তি অনুমোদন করেছে যা যুদ্ধবিরতি বাড়াবে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সূচনা করবে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশ এই চুক্তির ধারণা ও বিস্তারিত অনুমোদন করেছে এবং চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, কোনো চুক্তি অনুমোদিত হয়নি, তবে তেহরান ভবিষ্যতে তা বিবেচনা করতে পারে। তিনটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানায়, বুধবার তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনায় মূল পার্থক্যগুলো সংকুচিত হয়েছে। আলোচনায় ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্তি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এবং পারমাণবিক আলোচনার কাঠামো নিয়ে অগ্রগতি হয়। সূত্রগুলো জানায়, ইরানি কর্মকর্তারা কয়েকটি দেশকে বলেছেন যে একটি নীতিগত চুক্তি হয়েছে, তবে সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স ও পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনে তিনি বলেন, বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের উৎসাহিত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরকারের প্রতি আস্থার প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকার খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু এবং শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা জোরদারে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কার্যকর করেছে। প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কল্যাণ, বীমা, ব্যাংকিং ও জরুরি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে চুক্তির উদ্যোগ এবং মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে ২.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩.৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এই প্রবাহ অব্যাহত রাখতে প্রণোদনা কার্যক্রম চালু থাকবে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিক সুরক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে, যা কল্যাণ, বিমা, ব্যাংকিং ও জরুরি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের বাজার পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া চলছে। বাজেটে দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশীয় ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে কর্মশক্তিকে প্রস্তুত করা যায়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সুদ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ ব্যয় ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয় ছিল ১ লাখ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায়। বিদেশি ঋণের সুদ ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং তা অপরিবর্তিত রাখা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করে কৃষি খাতে ব্যাপক ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব দেন। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশীয় শিল্প সুরক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবে কীটনাশক ও সার উৎপাদনের ৩৬ ধরনের কাঁচামালে ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, জিংক সালফেট সারের কাঁচামাল জিংক অ্যাশে শূন্য শুল্ক এবং সারের ব্যবসায় পর্যায়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। কীটনাশক আমদানির আগাম করও মওকুফ করা হবে। পোল্ট্রি, ডেইরি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য তিনটি নতুন কাঁচামালে শূন্য শুল্ক সুবিধা এবং যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব এসেছে। জেনেরিক ভেটেরিনারি ওষুধকেও শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় আনা হবে। দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশে বাড়ানো এবং আমদানিকৃত পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন বাজেটে সরাসরি বরাদ্দের চেয়ে কর ও শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে প্রতিযোগিতামূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় কমে দেশীয় উৎপাদন বাড়তে পারে।
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় তিনি সন্তুষ্ট নন। গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং হাসপাতালের মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে দেওয়া ওই নোটিশে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ৬৮ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকায়। বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, এই বৃদ্ধি বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব ফেলেছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকার এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। বিটিএমএ ও ডিসিসিআই বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে তারা আরও নীতিগত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা, যা ৬৫ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় ১৬ গুণের বেশি বৃদ্ধি। বৃহস্পতিবার বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি এ তথ্য জানান এবং পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালে দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালে প্রায় ৬ দশমিক ৫০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায়। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী জানান, এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের বিধান রয়েছে, যা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংসদে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ লেনদেন থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আর কোনো আয়কর দিতে হবে না। আয়কর আইন ২০২৩-এর সপ্তম তফসিল অনুযায়ী বর্তমানে এই কর আরোপ করা হয়। নতুন বাজেটে এ বিধান বিলুপ্ত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে, ফলে শেয়ারবাজারে মূলধনী আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত হবে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের তুলনায় বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ প্রায় সাড়ে ছয় গুণ বেড়ে ২০২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকায়। বৃহস্পতিবার জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ তথ্য দেন। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণ ৬৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১০ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ১৬ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি এবং উদ্বেগজনক। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে পূরণের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা ঋণনির্ভর অর্থনীতির প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের সুদ পরিশোধের ব্যয় ১৩ গুণ বেড়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকায়। বৃহস্পতিবার জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা এবং রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাজেটে ইতিবাচক দিক থাকলেও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বিনিয়োগ পরিবেশে আরও নীতিগত সহায়তা চেয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে জানান, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ সচল রাখতে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজেটে খেলাপি ঋণ হ্রাস, ঋণ অনুমোদন ও পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হবে এবং প্রয়োজন হলে পুনঃমূলধনীকরণ ও ব্যবস্থাপনা সংস্কার করা হবে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণে ব্যয় করা হয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক নিয়োগ ও হস্তক্ষেপ বন্ধে আইনি সংশোধন আনা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, মূলধন পর্যাপ্ততা ও করপোরেট সুশাসন নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাজেটে ব্যাংক ও পুঁজিবাজার খাতে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও টেকসই আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬–২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বেশি। সরকারের এই প্রস্তাব খাতটির জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটায়। বিনিয়োগ ও সরবরাহ কার্যক্রম সহজ করতে উৎসে কর কর্তনের হার কমানোর প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে এবং রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব পদক্ষেপ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যবসায়িক ব্যয় কমাবে এবং খাতটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাজার হাজার মানুষ, এমনকি শিশুরাও নিহত হয়েছে। পেত্রো বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ এই বাস্তবতাকে আড়াল করতে পারে না এবং আমরা যেন নাৎসি যুগে ফিরে যাচ্ছি। পেত্রোর এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার। তিনি সামাজিকমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, পেত্রো ইহুদি-বিরোধী এবং তিনি পরিকল্পিতভাবে হলোকাস্টের স্মৃতিকে তুচ্ছ করছেন। এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২১ জুন কলম্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তবে পেত্রো পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।