Web Analytics
logo
নোটিশঃ একনজরের সবগুলো মডিউল এখনো একটিভেট না হওয়াতে শুধুমাত্র নিউজগুলো দেখাচ্ছে ফিডে। সবগুলো মডিউল একটিভ করার পর পুরো প্লাটফর্মের সকল একটিভিটিস/আপডেট এখানে ফিড হিসেবে দেখাবে। আমরা আসছি, অনেক কিছু নিয়ে। অপেক্ষায় থাকুন!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয় করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ১১ জুন বৃহস্পতিবার মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে। এর আগে একই মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এটি দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, দলগত ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বিশ্ব ক্রিকেটে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে। এ অর্জনের জন্য তিনি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। এই সিরিজ জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Card image

ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে প্রায় তিন দশক পর আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আলোচিত এই মামলায় নতুন করে লাশ উত্তোলনের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। নীলা চৌধুরী জানান, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সময় ডাক্তার, পুলিশ ও সাংবাদিকরা লাশের অবস্থা স্বাভাবিক দেখেছিলেন, অথচ প্রতিবেদনে বলা হয় লাশ পচে গিয়েছিল। এতে তদন্তে গড়মিল রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও প্রভাব খাটানো হয়েছে। একই প্রক্রিয়া বারবার কেন করা হচ্ছে, তা তার বোধগম্য নয়। তবে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তই তিনি মেনে চলবেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে ধরা হলেও পরে তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশে আবারও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড।

Card image

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে রাজনৈতিক চমকবাজী ছাড়া আর কিছু নয় বলে অভিহিত করেছে। বৃহস্পতিবার বাজেট ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, এই বাজেট কথার ফুলঝুড়ি মাত্র, বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি বিবৃতিতে জানায়, বাজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা অবাস্তব এবং অর্জনযোগ্য নয়। তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এটি উন্নয়নের চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই বিবৃতি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতি জাসদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে, যেখানে দলটি বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Card image

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে লজিস্টিকস সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এয়ার কার্গো অপারেটর স্টেশন স্থাপন সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করেছেন। বৃহস্পতিবার, ১১ জুন তিনি জানান, বিশ্বের স্বনামধন্য লজিস্টিকস কোম্পানি ও দেশীয় বেসরকারি খাতকে এয়ার কার্গো ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বিধিমালা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে এবং ই-কমার্স খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি বন্দর সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করতে এবং গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ আকর্ষণে বেসরকারি বন্দর ও টার্মিনাল অপারেটর সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা প্রণয়নের প্রস্তাবও করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছর ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

Card image

সুদানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এল-ওবেইদ শহরে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটি অন্যতম মারাত্মক বিমান হামলা। দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলা এই হামলায় আবাসিক এলাকা, একটি জানাজার জমায়েত এবং খাদ্য সরবরাহকারী ট্রাক লক্ষ্যবস্তু হয়। মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ হামলার জন্য আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে দায়ী করেছে এবং জানিয়েছে, অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং আরএসএফের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উত্তর কর্দোফানের রাজধানী এল-ওবেইদ শহরটি কয়েক মাস ধরে আরএসএফের আংশিক অবরোধে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং মরদেহগুলো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু ও তাদের মা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে দেশজুড়ে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান সংঘাতে ইতিমধ্যে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও ক্ষুধা সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে।

Card image

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে ডিয়ানচি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে শুরু হয়েছে ১০ম চায়না–দক্ষিণ এশিয়া এক্সপো ও ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলা ২০২৬। এ আয়োজনে থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে এই আন্তর্জাতিক মেলায় ৬৮টি দেশের প্রায় ২৩০০ প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ইউনানের গভর্নর ওয়াং ইউবো। এখানে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইলস, ওষুধ, পাটজাত পণ্য, চামড়া, প্লাস্টিক ও হস্তশিল্পসহ প্রধান রপ্তানি খাতের পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ব্যবস্থাপনায় এবং কুনমিংস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সহযোগিতায় রেকর্ডসংখ্যক ১০১টি প্রতিষ্ঠান ও ১৭৫ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার ইয়ান ডং বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। আগামী ১২ জুন এক্সপো প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও রপ্তানি সক্ষমতা তুলে ধরা হবে।

Card image

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) জনপ্রিয় করতে বড় ধরনের কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দামের ইভি আমদানিতে মোট কর ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের আমদানি শুল্ক ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে শূন্যে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ির কর ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে নতুন প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির কর ছাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক বাসে ২০৩০ পর্যন্ত কর অব্যাহতি এবং স্থানীয়ভাবে ইভি সংযোজন ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ব্যাপক রেয়াতের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া লিথিয়াম-আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে ২০৩০ পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো পরিবেশ দূষণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দেশীয় ইভি শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে বলে বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Card image

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ক্যান্সারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এই প্রস্তাব দেন। বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্তদের জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না, ফলে রোগী ও পরিবার উভয়েই দুর্ভোগে পড়েন। দরিদ্র রোগীদের কল্যাণে পরিচালিত এই কর্মসূচি বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে মাসে ৮৫০ টাকা করে দেওয়া হবে।

Card image

বাংলাদেশ সরকার ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। নতুন পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। জানা গেছে, এ খাতে বরাদ্দ প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রশাসনের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত বৈষম্য কমিয়ে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

Card image

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যেখানে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) জনপ্রিয় করতে বড় ধরনের কর ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির মোট কর ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ করা হবে। অন্যদিকে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত দামের ইভির কর ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইভি চার্জার ও চার্জিং স্টেশনের আমদানি শুল্কও ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে শূন্যে নামানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব শুল্ক-কর অব্যাহতি ২০৩০ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক বাস, ট্রাক ও ই-বাইক উৎপাদনকারীদের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে কর ছাড় দেওয়া হবে। পাশাপাশি লিথিয়াম-আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানিতে কর অব্যাহতি ২০৩০ পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বছরের ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার তুলনায় বেশি।

Card image

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের ভিত্তিতে জনবান্ধব ও ভিশনারি বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। মাহদী আমিন বলেন, এই বাজেটে শ্রেণি, পেশা, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি জানান, বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, তথ্যপ্রযুক্তি, সৃজনশীল অর্থনীতি, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু কল্যাণ, অবকাঠামো, জ্বালানি ও পরিবেশসহ ১২টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল ও মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানো হয়েছে যাতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে। বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ, তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত আর্থিক শাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রশাসনিক ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো ও করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলাই এই বাজেটের লক্ষ্য।

Card image

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। চলতি অর্থবছরের তুলনায় ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে মোট বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতি পূরণে দেশীয় উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আসবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। চলতি বছরের তুলনায় ব্যাংক ঋণ কিছুটা কমানো হলেও সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা বজায় রাখছে।

Card image

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮৮০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫১ কোটি টাকা কম। বাজেট কাঠামো অনুযায়ী, এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় বাবদ ৪৬৩ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় বাবদ ৪১৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড চালু করা হবে, যা প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা ও জরুরি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মন্ত্রণালয়টির জন্য ৯৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৪৩৪ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ৪৯৭ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবিত বাজেট ব্যয় কাঠামোয় পরিবর্তন আনলেও প্রবাসী কল্যাণ কার্যক্রমে গুরুত্ব বজায় রেখেছে।

Card image

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম সামান্য বাড়ানো হলেও বিড়ি, গুল ও জর্দার দাম ও করহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ও আয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সামান্য বৃদ্ধি তামাকপণ্যকে আরও সস্তা করে তুলবে। তাদের মতে, বাজেট পাস হলে তামাকের ব্যবহার, তামাকজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যু বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ হারিয়ে যাবে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে, যা ৩.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি; অথচ মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১০.২৭ শতাংশ। মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দামও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রজ্ঞা ও আত্মার মতে, কর কাঠামোয় সংস্কার না থাকায় কোম্পানিগুলো বাড়তি মুনাফা পাবে এবং তা তামাক ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহার করবে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকবিরোধী সংস্কার অন্তর্ভুক্ত করে রাজস্ব বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সুযোগ কাজে লাগাতে।

Card image

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করেছেন, যা আগের বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১৭ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা বেশি। বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য হ্রাস করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের প্রধান নারী মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাতা পাবেন। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে এই কার্ড প্রদান এবং এর জন্য সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া দুরারোগ্য ব্যাধির সহায়তা, সিনিয়র নাগরিকদের যাতায়াত সুবিধা, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর জন্য ভাতা ও আবাসন প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

Card image

আরো ফিড দেখতে লগইন করুন

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।