বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ঋণনির্ভর বাজেট বাংলাদেশের আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ১১ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তার মতে, বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। তিনি আরও বলেন, বাজেটে উদারীকরণ, মানবিক অর্থনীতি গঠন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুব সমাজ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, এই নীতিগত কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ভিত্তি দুর্বল এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বড় ধরনের ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, মোবাইল সিমের ওপর ৩০০ টাকার কর তুলে নেওয়া এবং কিছু শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় সরবরাহ, সেবা আমদানি ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে হার্টের রিং ও চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সে ১০ শতাংশ ভ্যাট ছাড় এবং কিডনি ডায়ালাইসিস সরঞ্জামে ৭.৫ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে। কৃষি খাতে সব ধরনের সার ও আমদানিকৃত কীটনাশকের ওপর থেকে ভ্যাট ও আগাম কর সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের স্থানীয় উৎপাদনে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। হিমায়িত মাছ, আমদানিকৃত বৃক্ষ ও জুয়েলারি সেবায় নতুন ভ্যাট হার এবং তামাকজাত পণ্যে কর বৃদ্ধি প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের আবাসনের জন্য চলমান প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে শহীদ পরিবার ও আহতদের মাসিক ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৭ জন বৃদ্ধি করে মোট ১৬ হাজার ৫১৩ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শহীদ পরিবার মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং “এ”, “বি” ও “সি” ক্যাটাগরির আহতরা যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের ভাতা ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বীরশ্রেষ্ঠদের জন্য ৪০ হাজার, বীর উত্তমদের জন্য ৩০ হাজার এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীকের জন্য ২৫ হাজার টাকা হবে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২০ হাজার টাকাই থাকবে। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা যায়।
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লাইসেন্স বাতিলের পর চূড়ান্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছে। সম্প্রতি ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করার সুযোগ রয়েছে এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে কার্যক্রম চালু রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাসপাতালটি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসাস্থল। হঠাৎ করে কার্যক্রম বন্ধ হলে ভর্তি থাকা বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হয়ে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বর্তমানে হাসপাতালে ৪১৬ জন রোগী ভর্তি আছেন, বহির্বিভাগে প্রায় এক হাজার রোগী সেবা নিয়েছেন, ৬০ নবজাতক এনআইসিইউতে, ২০ জন আইসিইউতে এবং ৪ জন সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে সরকার সিম কর প্রত্যাহার, স্থানীয় উৎপাদনে কর হ্রাস এবং দেশব্যাপী ৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি সিম কার্ডে আরোপিত ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হবে, ফলে এখন থেকে কেবল ১৫ শতাংশ কর আদায় করা হবে। এতে সাধারণ মানুষ কম দামে সিম কিনতে পারবে, যদিও এতে সরকারের প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিতে হবে। স্থানীয় মোবাইল উৎপাদকদের সহায়তায় ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে কর ১২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানোয় কলরেট ও ইন্টারনেট খরচ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিটিআরসির লাইসেন্স ফি-তে ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য দেশের ৯০ শতাংশ মানুষকে ৫জি ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা এবং ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড গতি নিশ্চিত করা। ইতিমধ্যে ৪১ লাখ নতুন ৪জি সংযোগ ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন ও বিমানবন্দরে ফ্রি উচ্চগতির ইন্টারনেট চালুর কাজ শুরু হয়েছে।
নারী ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার বিশেষ ‘পিংক বাস সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, নারীদের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নারী চালক, সহকারী ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই বাস সার্ভিস চালু করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ও কর্মজীবী নারীদের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য নিরাপদ আবাসন সুবিধা ও যাতায়াত ব্যবস্থার সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার মনে করে, নারীদের কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণ বাড়াতে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এই লক্ষ্যেই সুরক্ষামূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক সম্মানী ভাতা বাড়াতে যাচ্ছে। ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি প্রতি পরিবারে মাসিক ৫ হাজার টাকা করে ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের মাসিক ভাতা হবে ৪০ হাজার টাকা, বীর উত্তম পরিবারের ৩০ হাজার টাকা এবং বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারের ২৫ হাজার টাকা। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকবে। উৎসব ভাতা, নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসা ও দাফন অনুদানসহ অন্যান্য সুবিধা বহাল থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের তথ্যমতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালে সাতজনকে বীরশ্রেষ্ঠ, ৬৮ জনকে বীর উত্তম, ১৭৫ জনকে বীর বিক্রম এবং ৪২৬ জনকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগামী অর্থবছরে ৪ হাজার ৭৩০টি বীর নিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাজেটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারদের ভাতা বহাল রাখার পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৫১৩ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, ঘোষিত সংস্কার কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করবে। রাজধানীতে বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট এবং ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। তিনি আরও বলেন, উচ্চ রাজস্ব আহরণ ও ঋণনির্ভর ঘাটতি ব্যবস্থাপনা বেসরকারি খাতে অর্থপ্রবাহে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ডিসিসিআই উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামালে করহার কমানো, ৬০টি নিত্যপণ্যে স্বল্প করহার নির্ধারণ, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে প্রণোদনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজে সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার করব্যবস্থা সহজ করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ডিসিসিআই মনে করে, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা, দ্রুত ওয়ার্ক পারমিট প্রদান, বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবর্তন দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় শূন্যরেখায় আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক জানায়, এসব ঘটনা মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী। সংস্থাটি জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ ও স্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধ্য করছে। আসকের মতে, কোনো ব্যক্তির জাতীয়তা, ধর্ম বা অভিবাসন অবস্থান যাই হোক না কেন, তাকে অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের শিকার করা যায় না। সীমান্তে খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয় থেকে বঞ্চিত করা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং নিষ্ঠুর আচরণের শামিল। আসক বলেছে, নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্নের সমাধান স্বচ্ছ, আইনসম্মত ও পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতে বড় ধরনের কর ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য এই খাতকে জাতীয় ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে গড়ে তোলা। বাজেটে মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার সুনির্দিষ্ট কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরকারের রাজস্ব প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা কমবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আদায়কৃত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য চার্জের ওপর ২০ শতাংশ উৎসে করও প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের কাঁচামালের আমদানিতে কর কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মোবাইল উৎপাদন ও সংযোজন খাতে মূসক অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ জনগণের কাছে ৫জি সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শহর ও গ্রামে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, টেলিকম খাতে কর, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিতে সংস্কার আনা হবে যাতে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। বর্তমানে আইসিটি ও টেলিকম খাত জিডিপিতে ১–২ শতাংশ অবদান রাখলেও আগামী পাঁচ বছরে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে রহমত রনি ও রায়হান নামে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সদর উপজেলার বড়পুকুরিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালতে সোপর্দ করা হয়। বুধবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির পেছনের মাঠে খেলার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানায়, দুই কিশোর কৌশলে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি ঘটনাটি পরিবারকে জানালে তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে এবং শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুই অভিযুক্তের বয়স ১৫ বছর এবং তারা সদর উপজেলার বড়পুকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েতদের মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতা বাড়াতে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সাশ্রয়ী ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম মাসে ১০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পুরোহিত ও সেবায়েত মাসে ৮ হাজার টাকা পাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৬,৪৩৮টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ৯,৫২০ জন এই সুবিধা পেয়েছেন। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং তা মূলত অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মেটানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট। বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এবারের বাজেটের আকার ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘গণবিরোধী ও গণনিপীড়ক’ বলে অভিহিত করে বিভিন্ন দফার তীব্র নিন্দা জানান এবং বাজেট প্রত্যাহারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি তোলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিছিলে নেতৃত্ব দেন এবং রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এই কর্মসূচি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতি দলের তীব্র বিরোধিতার প্রকাশ ঘটায়। এর আগে একই দিনে জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন, যা ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনার সূচনা করে।
৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘোষণার পরও বাজারে নিত্যপণ্যের অস্থিরতা কমেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। রাজধানীর কারওয়ানবাজার, নয়াবাজার ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, চাল, ডাল, তেল ও ডিমের দাম বাড়তি। ক্রেতারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের মাসিক বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে, আর বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ব্যয় ও পাইকারি দামের চাপ তাদেরও বিপাকে ফেলেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে বাজেটের ঘোষণায় তেমন আগ্রহ নেই, বরং তারা চিন্তিত পণ্যের দাম আরও বাড়বে কি না। বিক্রেতারা পরিবহন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধিকে দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেটের প্রভাবের কথাও বলেছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ঘোষণার পর অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে দাম বাড়ে, যা অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ হিসেবে নেয়। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মতে, সরকারের কর-শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের সুফল সাধারণ মানুষ নাও পেতে পারে যদি বাজার তদারকি জোরদার না করা হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কার্যকর নজরদারি ছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ১১ জুন ২০২৬ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩৬ বল হাতে রেখে ১৯৫/৫ স্কোরে জয় পায় স্বাগতিকরা। তাওহিদ হৃদয় অপরাজিত ৪০ ও মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত ২২ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধস নামে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে। তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে সফরকারীরা ৩ উইকেট হারায় কোনো রান না তুলেই। পরে মার্নাস লাবুশেন ও জেভিয়ার বার্টলেটের ১০৪ রানের জুটিতে দলটি ৪২ ওভারে ১৮৭/৮ রান করে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য নির্ধারণ হয়। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে এবং টানা চতুর্থ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড গড়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।