বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনার্থীপ্রাপ্ত লুভর জাদুঘর বর্তমানে অবকাঠামো সংস্কার ও সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। সম্প্রতি ফরাসি সিনেট কমিটির এক শুনানিতে নতুন পরিচালক ক্রিস্তফ লেরিবো স্বীকার করেছেন যে জাদুঘরটি এখন গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছে। প্রায় ১০ কোটি ডলার মূল্যের রাজকীয় অলংকার চুরির ঘটনার পর থেকেই জাদুঘরের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে এবং তৎকালীন প্রধান পদত্যাগ করেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্পকলার বিশেষজ্ঞ লেরিবো গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, ভবনের সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর কার্যকারিতা প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং জরুরি সমস্যাগুলো দ্রুত বাড়ছে। সেন নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ দর্শনার্থী আসেন, যেখানে লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম ‘মোনা লিসা’ সংরক্ষিত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ধর্মঘট, প্রায় ১ কোটি ইউরোর টিকিট জালিয়াতি, ভবনে পানি চুইয়ে পড়া এবং রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা লুভরের আর্থিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
জর্ডান সরকার দেশটিতে অবস্থানরত নথিপত্রবিহীন বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। বুধবার জর্ডানে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই সুযোগে অবৈধ প্রবাসীরা বৈধ হতে পারবেন অথবা জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। দূতাবাসের ফেসবুক পেজেও বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাধারণ ক্ষমার আওতায় কোনো শ্রমিক চাইলে শর্তসাপেক্ষে জর্ডানে থেকে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। তারা চাইলে কর্মস্থলও পরিবর্তন করতে পারবেন। গৃহকর্মীরা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে পারবেন এবং যারা ভ্রমণ ভিসায় গিয়েছেন, তারা ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করতে পারবেন। দূতাবাস প্রবাসীদের আহ্বান জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রযোজ্য যেকোনো সুবিধা নিতে তারা যেন দূতাবাসের সহায়তা গ্রহণ করেন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় পল্লীরানী ড্রেসম্যান নামের একটি পোশাক কারখানায় পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিকভাবে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। একজন শ্রমিক জানান, পানি পান করার পর তার পেটব্যথা ও বমি বমি ভাব শুরু হয় এবং পরে তিনি জ্ঞান হারান। আরেক শ্রমিক বলেন, কয়েকদিন ধরে কারখানার পানির স্বাদ নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটি ডাক্তার নওরিন আহমেদ জানান, শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন, এর মধ্যে ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কারখানার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আতিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ৩০-৩৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বৃষ্টির পানির কারণে পানি দূষিত হতে পারে। শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৩১ জুলাই একটি সাহিত্য সংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে টেলস অব জুলাই। শুরুতে এটি ছিল একটি সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি গবেষণা, আর্কাইভিং, প্রকাশনা ও স্মৃতি সংরক্ষণের একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্মে রূপ নেয়। এখন পর্যন্ত তারা জুলাই বিপ্লবের নানা দিক, স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে সাতটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ—‘জুলাইয়ের ফুল’, যেখানে ১১১ জন শিশু শহীদের জীবনের গল্প রয়েছে, এবং শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে একটি স্মৃতিস্মারক গ্রন্থ। এর আগে তারা ‘রক্তাক্ত জুলাইয়ের কবিতা’, ‘ইন্টারনেট ক্র্যাকডাউনের দিনগুলো’সহ বিভিন্ন স্মরণ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ১৩ সদস্যের গভর্নিং বডির নেতৃত্বে প্ল্যাটফর্মটি পরিচালিত হচ্ছে, যার প্রতিষ্ঠাতা কবি ইস্রাফিল আকন্দ রুদ্র এবং নির্বাহী পরিচালক তাহসীন আহমেদ। টেলস অব জুলাই আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে এবং তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করে। পাশাপাশি তারা গবেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষকদের উৎপাদনে উৎসাহিত করে দেশীয় বিলুপ্ত ফলের প্রজাতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮ জুন ২০২৬ খামারবাড়ির বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী মেলা পরিদর্শন করে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর ফল মেলার মাধ্যমে দেশে ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা ফলের জাতের জিন এনে দেশে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় আমদানি নির্ভরতা কমেছে। ড্রাগন ফলের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, দেশের উৎপাদিত ফল বিদেশের তুলনায় বেশি সুস্বাদু এবং কৃষকদের উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে কৃষি বাজেট গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ এবং উন্নয়ন ও প্রণোদনা বাজেট ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, তাই বাজেট কমার অভিযোগ সঠিক নয়।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ব্যাংক খাত সম্মিলিতভাবে লোকসানে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’-এ দেখা যায়, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণের বিপরীতে বিপুল প্রভিশন সংরক্ষণ করায় এই লোকসান হয়। ব্যাংকগুলোর সুদ আয় ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা, কিন্তু সুদ ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৫২ কোটি টাকায়। ফলে সুদ থেকে আয় ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। প্রভিশনের আগে পরিচালন মুনাফা ছিল ১৯ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা, কিন্তু প্রভিশন বেড়ে এক লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ অধিকাংশ ব্যাংক লোকসানে পড়ে, তবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংক মুনাফা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ২০২৪ সালের তুলনায় নিট মুনাফা কমেছে এক লাখ ৪৮ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা, যা ১,২২৪ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্যাংক খাতের প্রায় ৬০ শতাংশ ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় এবং খেলাপির হার ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার দেশের ৮৭ হাজার গ্রামে গতিশীল ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে ফাইবার লাইন আন্ডারগ্রাউন্ডে স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে ২০২২ সালে ‘টাইগার প্রজেক্ট’ নামে প্রকল্পটি শুরু হয়, পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ডি-স্টার’ বা ‘ডিজিটাল স্টার’। প্রকল্পের প্রাথমিক বরাদ্দ ধরা হয় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিটিআরসি মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করলেও প্রকল্পের অগ্রগতি বিভিন্ন জটিলতায় আটকে আছে। মোবাইল অপারেটর ও ফাইবার ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়নি। মোবাইল অপারেটররা স্পেকট্রাম বাড়ানোর দাবি জানালেও ফাইবার ব্যবসায়ীরা ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি ফাইবার সংযোগের পক্ষে মত দিয়েছেন। উভয় পক্ষই প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে তদবির করছে। টেলিকম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবার লাইন মাটির নিচ দিয়ে নিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির আশঙ্কা কমবে এবং অবকাঠামোগত জটিলতাও হ্রাস পাবে। সরকার প্রাথমিকভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড সংযোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের গণেশ হাওরে বজ্রপাতে রাজিব মিয়া (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত রাজিব মিয়া উপজেলার জয়পাশা গ্রামের সোনালী মিয়ার ছেলে এবং পেশায় ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। ঘটনার পর রাজিবের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজিবের স্ত্রী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং পরিবারের আট সদস্যের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি। ফলে পরিবারটি এখন অসহায় অবস্থায় পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে রাজিবের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারিভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্থানীয় প্রশাসন বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ মে অনুষ্ঠিত সিলেকশন বোর্ডের সভায় ২৪ প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়, যেখানে নির্ধারিত মানদণ্ড যেমন একাডেমিক ফলাফল, গবেষণা প্রকাশনা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ও আইন বিভাগের কয়েকজন অধ্যাপক উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন প্রার্থী বাদ পড়ে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রার্থী তালিকায় স্থান পেয়েছেন। সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে মনিরুজ্জামান ও মাকসুদা সরকার প্রিডেটরি জার্নালে গবেষণা প্রকাশ এবং রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে বিতর্কে রয়েছেন। মনিরুজ্জামান স্বীকার করেছেন যে তিনি ভুলবশত নিম্নমানের জার্নালে লেখা প্রকাশ করেছিলেন। অপর প্রার্থী আলী মাশরাফের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক লবিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) প্রিডেটরি জার্নালের দুর্বল রিভিউ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও নিয়োগ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রার্থীরা অভিযোগের তদন্ত ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও একাডেমিক মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দক্ষিণ লেবাননে সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কমলেও হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছে, তারা কোনো একতরফা যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের বিমান হামলা আগের তুলনায় কমেছে, তবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর জবাবে হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা চালিয়ে জানিয়েছে, তারা একতরফাভাবে হামলা বন্ধ করবে না। ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর দুটি হামলায় তাদের একজন সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতার পর হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী মনে করছে। সংগঠনটির ধারণা, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে, যা হিজবুল্লাহকেও শক্তিশালী করেছে। হিজবুল্লাহ ইসরাইলকে জানিয়েছে, আলোচনার একমাত্র বিষয় পারস্পরিক নিরাপত্তা, এর বাইরে তারা কোনো ছাড় দেবে না। সংগঠনটি লেবানন সরকারকেও জানিয়েছে, তারা নিরস্ত্রীকরণ মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, স্থায়ী সমাধান না হলে সীমান্তে আবারও সংঘাত বাড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশের পর এর শর্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ছাড় স্পষ্ট হলেও ইরানের তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। দুই ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের ওপর তেল, পেট্রোকেমিক্যাল, ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতে থাকা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথা বলা হয়েছে। এতে ইরান বছরে ৬০ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। চুক্তিতে ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা এবং ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে, যা ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা তৈরি করবে। ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, তবে বিস্তারিত বাধ্যবাধকতা চূড়ান্ত চুক্তির জন্য রাখা হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ক্ষেপণাস্ত্র, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট শর্ত নেই। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকতা ফিরলেও ৬০ দিনের আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিলে এই শান্তি উদ্যোগের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রধান ক্যামেরন স্ট্যানলির লিখিত সাক্ষ্যে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইলন মাস্কের ‘গ্রক’ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র চার দিনে ইরানের দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এই তথ্য প্রকাশ পায় মিসিসিপির উত্তর জেলা আদালতে চলমান একটি দেওয়ানি মামলায়, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন মাস্কের প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর পক্ষে হস্তক্ষেপ করেছে। স্ট্যানলি জানান, মার্কিন সরকার এক্সএআই-এর বাণিজ্যিক সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘গ্রক গভ মডেল’ ব্যবহার করেছে, যা পেন্টাগনের ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমস’-এর অংশ হিসেবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে। তবে প্রযুক্তিটি ঠিক কোন তারিখে ব্যবহৃত হয়েছিল তা স্পষ্ট নয়। ইরানের ‘ফাউন্ডেশন অব মার্টিয়ার্স অ্যান্ড ভেটেরান্স’-এর তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এনএএসিপি ২৬ এপ্রিল এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করে অভিযোগ তোলে যে, মেমফিসের ‘কোলোসাস ২’ ডেটা সেন্টারে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য মিসিসিপির সাউথহ্যাভেনে ২৭টি অবৈধ মিথেন টারবাইন চালানো হচ্ছে। পেন্টাগন ও মার্কিন বিচার বিভাগ মামলাটির বিরোধিতা করে জানায়, ডেটা সেন্টার বন্ধ হলে জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরান চুক্তির সমালোচকদের হিংসুটে, বাজে ও বোকা বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প ইরানের প্রতি যথেষ্ট কঠোর নন। এর জবাবে তিনি নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যারা মনে করেন তিনি ইরানের প্রতি যথেষ্ট কঠোর নন, তারা হিংসুটে, বাজে লোক বা বোকা। এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। সূত্র অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন, যার লক্ষ্য চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, চুক্তিটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এই চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ করবে না এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হবে। চুক্তিটি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ পুনরায় সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি’ মামলায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত শেষে ১৫০ পৃষ্ঠার খসড়া অভিযোগপত্র তৈরি করেছে এবং তা আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আতিউর রহমান ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং বর্তমানে তিনি পলাতক। অভিযুক্তদের মধ্যে আরও নয়জন বাংলাদেশি কর্মকর্তা ও নাগরিক ছাড়াও ভারত, উত্তর কোরিয়া, চীন, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ‘ল্যাজারাস গ্রুপ’সহ আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্রের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। চুরি হওয়া অর্থের একটি অংশ বিদেশি ক্যাসিনো ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাচার করা হয়। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া সুইফট বার্তার মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি হয়, যার মধ্যে মাত্র ৩৪.৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। আইনি মতামত পাওয়ার পর আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে। এতে সামরিক অভিযান বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেন। সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ তাদের মিত্ররা অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সব সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া শুরু করবে এবং চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে বাহিনী সরিয়ে নেবে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদারেরা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। ইরান পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং আইএইএর তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা চলবে। ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।