ফরহাদ মজহার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করে দিল্লির প্ররোচনায় ৭২-এর সংবিধানকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সংবিধানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল বাঙ্গালি জাতীবাদ ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্র। এগুলো ৭১-এর আন্দোলনের অংশ ছিল না। এগুলো চাপিয়ে দেওয়া হয়। অতএব ৭২-এর সংবিধান অবশ্যই বাতিল করতে হবে। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, গত পাঁচ আগস্টে সংগ্রামে আমরা জয়ী হলাম। তবে অল্পটুকু জয়ী হয়েছি পূর্ণ বিজয় এখনো হয়নি। কারণ এই বিজয়টাতেই ঢুকিয়ে ফেলেছি আবার ফ্যাসিস্ট সংবিধানের অধীনে। আওয়ামী লীগের ভূত এখনো জারি রয়েছে। সেই আওয়ামী লীগের ভূতের নাম হচ্ছে ৭২-এর সংবিধান। কবি ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ছাত্ররা যখন জুলাই ঘোষণা দিতে চেয়েছিল সেই নতুন ঘোষণা দিতে দেন নাই ড. ইউনূস। এটা তিনি ঠিক করেন নাই।
আগামী ১০ মে অনুষ্ঠিতব্য রাজশাহী ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া)-এর নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন বলেন, নির্বাচন কমিশনার প্রফেশন নুরুল হোসেন চৌধুরী স্যার ও প্রফেসর হাবিবুল হক পদত্যাগ করছেন। তাদেরকে ভয় ভীতি দেখানো হয়েছে, তারা যেন নির্বাচন কমিশনের কাজ না করেন। নুরুল হোসেন স্যার পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদেরকে জানিয়েছেন, তিনি দুই রাতে ঘুমাতে পারেননি। হাবিবুল হক স্যারও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। কোনো একটা পক্ষ চাচ্ছিল না নির্বাচন হোক। আবার হয়তো অ্যাডহক কমিটি বসানো হবে, কমিশন গঠিত হবে।
বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গণতন্ত্র ফেরাতেই ফ্যাসিবাদ তাড়াতে হয়েছে। তবে গণতন্ত্র এখনও আলোর মুখ দেখেনি, চোরাবালিতে আটকে আছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গণতন্ত্র আর বিএনপি এক ও অভিন্ন। বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকে আমি এক মাপেই মাপতে চাই। আরাকানের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার সাত শর্তে চুক্তি করেছে। তারা সেই শর্ত প্রকাশ করছে না কেন? শেখ হাসিনাও এমন শর্ত দিয়ে চুক্তি করেছিল। যা প্রকাশ করা হয়নি। দেখা যাবে, এমন চুক্তি করেছে, যা একসময় দেশের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে!
বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের জনগণ নির্বাচন ছাড়া কাউকে ক্ষমতা গ্রহণের বৈধতা দেবে না। যারা নির্বাচন ঠেকাতে চায়, তাদের প্রতি দেশের মানুষের বার্তা স্পষ্ট—তাদের জনগণ ক্ষমা করবে না এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে তাদের কোনো ইচ্ছাও পূরণ হবে না। আরো বলেন, বিএনপির ৩১ দফা রোডম্যাপে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তাদের পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণমূলক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে যেভাবে শ্রমিক স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। খসরু বলেন, যদি দেশে একটি নির্বাচিত সরকার থাকত, তাহলে করিডরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ইস্যুতে সংসদে আলোচনা হতো এবং জনগণের মতামত বিবেচনায় নেওয়া হতো।
বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, শ্রমজীবীরা ঐক্যবদ্ধ না-থাকায় বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। শ্রমিকদের লড়াইয়ের মাধ্যমে অধিকার আদায় করে নিতে হবে। তিনি বলেন, বিএনপি শ্রমিকদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে। শ্রম সংস্কার কমিশন থেকে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা আগামী মে দিবসের আগে আইন করে বাস্তবায়নের আহ্বান জানাচ্ছি।
চলতি মাসের ৪ কিংবা ৫ তারিখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার একান্ত সচিব এবি এম আব্দুস সাত্তার। আব্দুস সাত্তার বলেন, আসলে ম্যাডামকে নিয়ে আসতে হবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে। সেটা ঠিক করার বিষয় আছে। আবার ম্যাডামের শারীরিক অবস্থার বিষয়টি আছে। তিনি বলেন, সবকিছু বিবেচনা নিয়ে ম্যাডাম কবে দেশে ফিরবেন এটা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। তবে, ৪-৫ মে ধরে নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ সময় পেহেলগাম হামলার ঘটনায় ভারতের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারতের ‘আত্মরক্ষার’ প্রতি পূর্ণ সমর্থন আছে যুক্তরাষ্ট্রের। পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফোনালাপে বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠনকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন করার ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের। দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের পরিচয় প্রকাশ হয়েছে। তারা বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দিচ্ছে এবং এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। বিশ্ব এই সন্ত্রাসবাদ থেকে আর চোখ বন্ধ করে রাখতে পারে না। তবে, চলমান উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে অবহেলা করে এমন কোনো চুক্তি করবেন না, যা বাংলাদেশের স্বার্থের বিপক্ষে যায়। তিনি বলেন, ড. ইউনূস একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। আমরা বারবার অনুরোধ করেছি। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন দিন। আজকে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, এটা প্রথম বিএনপিই নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শহীদ জিয়াউর রহমান নিয়ে এসেছিলেন। আজকে অনেক মিডিয়া এখানে দাঁড়িয়ে আছে, জিয়াউর রহমান সংস্কার করে মিডিয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আরো বলেন, সংস্কার আমাদের দাবি, আমাদের সন্তান। সুতরাং, কঠিন সময়েও সংস্কারের কথা চিন্তা করে আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়েছিলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, প্রবাসী শ্রমিকদের দেশ কী দিতে পেরেছে? তারা দেশে ফিরে আসার পর পরিবারের বোঝা হয়ে যায়। ক্ষমতা নির্ধারণে যাতে প্রবাসীদেরও ভোটের মূল্যায়ন হয়, সেটা আমরা চাই। তাদের বঞ্চিত করে নির্বাচন আরেকটি বৈষম্যের শামিল। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শ্রমিকদের অধিকারের জায়গা আমরা এখনও প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি। ভোট সংস্কৃতির কারণে শ্রমিকরা সংখ্যায় খাতা কলমে থেকে গেছেন। আরও বলেন, আমরা চাই, প্রতিটা মানুষ এবং শ্রমিক নাগরিক হয়ে উঠবে। ক্ষমতায় যারাই আসুক তাদের মনে রাখতে হবে শ্রমিকদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া আপনার কর্তব্য।
তারেক রহমান বলেছেন, বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সবার আগে দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, রাখাইনে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নাকি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিন্তু জনগণকে জানায়নি। এমনকি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কোনো আলোচনা করার প্রয়োজনবোধ করেনি। তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে তৃণমূলের জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া, শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়।
চুয়েট পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. হযরত আলী খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। কুয়েটে পূর্ণকালীন উপাচার্য নিয়োগের আগপর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য হযরত আলী উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগে কয়েকটি শর্তের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো— তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা প্রাপ্য হবেন; বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন; রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা আবু হানিফ বলেছেন, আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে জোট করা কিংবা আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো সমঝোতা কিংবা এই বিষয়ে আলাপ হয়নি। এমনকি সবশেষ বিএনপির সঙ্গে বৈঠকটিও যুগপৎ আন্দোলনের বৈঠকের ধারাবাহিকতার অংশ ছিল।। উল্লেখ্য, পটুয়াখালি-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, এমন একটি প্রতিবেদন হয়েছিল। হানিফ বলেন, এতে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। ফলে অন্য কোনো নিউজে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ রইল।
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের অধিকার জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। মে দিবসে শ্রমিক দলের র্যালিতে রিজভী বলেন, পালিয়ে গিয়েও দেশে হত্যার রাজনীতি অব্যাহত রেখেছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। ২৬২ জনকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে। গোয়েন্দারা প্রমাণ পেয়েছে যে, ওই বক্তব্যের কণ্ঠ তারই ছিল। একটি কথা মনে রাখতে হবে, এদেশে আবারো ফ্যাসিস্ট ফিরে এলে আপনার আমার কারো রেহাই নেই। অতএব দ্রুত নির্বাচন দিয়ে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। কেবল তাহলেই সম্ভব হবে পতিত ফ্যাসিস্টকে চিরতরে নির্মূল করা। জনগণই পারবে ফ্যাসিস্ট ঠেকাতে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বিডিআর কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) এএলএম ফজলুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে কোনোভাবেই একমত পোষণ করে না অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশ সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে সম্মান করে। এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ভারত পাকিস্তান আক্রমণ করলে বাংলাদেশের উচিত হবে উত্তর পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য দখল করে নেওয়া। এ ব্যাপারে চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করি।’ প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘ফজলুর রহমানের ব্যক্তিগত মতামতকে সরকারের মতামত হিসেবে বিবেচনা না করার জন্য আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
গাজীপুরে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব আতাউর রহমান বলেছেন, ইসলামী শ্রমনীতি ছাড়া যে শ্রমিকের মুক্তি সম্ভব না তা আজ প্রমাণিত। স্বাধীনতার এতোগুলো বছর পরেও বিদ্যমান শ্রম নীতিমালাই বাস্তবায়ন করা যায় নাই। টাকার অংকে শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি হলেও মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরী বরং আরো কমেছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামকে ভিত্তি বানাতে না পারলে শ্রমিকের ভাগ্য কোন দিনই পরিবর্তন হবে না। শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ইসলামী শ্রম আইন বাস্তবায়নে সামগ্রিক আন্দোলন করা ছাড়া শ্রমিকের সামনে আর কোন পথ নাই। ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন সেই পথেই হাঁটবে; ইনশাআল্লাহ।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।