সর্বদলীয় কনভেনশন আহ্বান করে মানবতাবিরোধী দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবি পার্টি। চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ‘গুম, খুন, গণহত্যা ও সীমাহীন লুটপাটসহ সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ। তারা নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করুন।’ তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক নেতারা চেষ্টা করেছি যাতে মব সৃষ্টি না হয়। কিন্তু প্রতিবার আওয়ামী লীগ উসকানি দিয়েছে, যা অনবরত করেই যাচ্ছে। আরো বলেন, প্রথমে বিএনপি ও জামায়াতের মতো বড় দলগুলো নীতিগতভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হোক চায়নি। কিন্তু আমরা সব দল মিলে একটা সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা কোথায়?’ এই সময় আব্দুল হামিদের দেশত্যাগে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
বাকশাল কায়েম করে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা বলে যে কালো আইন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই আইনের ১৯ ধারায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, জাতিসংঘের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে জুলাই বিপ্লবে তারা ২ হাজার মানুষকে খুন এবং ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করেছে। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে ৭০০ মানুষকে খুন করা হয়েছে। সাড়ে ৪ হাজার মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে। ১৭ বছরে ৬০ লাখ মানুষের নামে গায়েবি মামলা করা হয়েছে। এই যখন অবস্থা তখন সবকিছুই মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে গণ্য হবে। বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের বিচার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেই, ইনশাল্লাহ।
ভারতের অনেক শহরের বাসিন্দাদের গতরাত কেটেছে নিদ্রাহীনভাবে। কোটি মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন আতঙ্কে! পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা কোন পর্যন্ত গড়াবে—এই প্রশ্নই এখন সবার মুখে। একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, ভারত জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। অনলাইনে সত্য ও গুজব মিশে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়ছে। দিল্লি থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত কোথাও কোথাও চলছে প্রস্তুতিমূলক মহড়া। আকাশে সাইরেন, ব্ল্যাকআউট— এসব মানুষের মনে আরও আতঙ্ক তৈরি করছে। সীমান্ত এলাকা থেকে যাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাদেরকে সংসারের জন্য হঠাৎ করে নতুন জিনিস কিনতে হচ্ছে। তারা কখন বাড়ি ফিরবেন তা অজানা।
গণঅভ্যুত্থানের নেতা সারজিস আলম লিখেছেন, প্রথমত আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করতে হবে এবং তৃতীয়ত জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে। এর আগে লিখেছেন, বিএনপি এবং তার অঙ্গসংগঠন ব্যতীত সকল রাজনৈতিক দল এখন শাহবাগে। বিএনপি আসলে জুলাইয়ের ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। ঐক্যবদ্ধ শাহবাগ বিএনপির অপেক্ষায়।
গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, শাহবাগের অবস্থান চলমান থাকবে। দলমত নির্বিশেষে আওয়ামী লীগ ও দেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে জুলাইয়ের সকল শক্তি এক থাকবে এটাই প্রত্যাশা। তিনি লিখেছেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্লকেড চালু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে সমগ্র বাংলাদেশ আবারও ঢাকা শহরে মার্চ করবে। আরো লিখেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী, জুলাই বিরোধী, গণতন্ত্র বিরোধী, ইসলাম বিরোধী, নারী বিরোধী, মানবতা বিরোধী ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী মুজিববাদী সংগঠন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধকরণে বাংলাদেশপন্থী সকল শক্তি ঐক্যবদ্ধ হই।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছেন, ভারতের পাশে আজ কোনও দেশ নেই, শুধু ইসরাইল ছাড়া। তিনি বলেন, বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এই ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। আসিফ জানান, পাকিস্তানের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে চীন, তুরস্ক ও আজারবাইজান স্পষ্টভাবে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পাকিস্তান সরকার ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, চীন ও কাতারের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ রাখছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ৮ ও ৯ মে রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পুরো পশ্চিম সীমান্তে আক্রমণ করেছে। কাশ্মীরের জম্মু, উধমপুর ও পাঞ্জাবের পাঠানকোটে ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ।
নুরুল হক নুর বলেছেন, বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করতে হবে। নুর বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করে না। তারা এখন আওয়ামী লীগকে তোষণ করা শুরু করেছে। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের সাথে বেইমানি করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। অবিলম্বে উপদেষ্টা পরিষদ পুনগঠন করতে হবে। রাশেদ খান বলেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে, গত ৯ মাসে ব্যবস্থা নিলে আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারতো না। আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে না পারলে তারা ফিরে এসে বিপ্লবীদের শিক্ষা দিবে।
যে শাহবাগে ফ্যাসিবাদ তৈরি হয়েছিল, সেই শাহবাগেই ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত পতন ঘটবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবারে এক স্ট্যাটাসে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমাদের জুলাইয়ের সকল শক্তির ঐক্যবদ্ধ লড়াই চলবে। এর আগে, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে গণহত্যার অভিযোগে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ এলাকায় অবরোধের ঘোষণা দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, দলটি নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়বেন না। এখান থেকে দ্বিতীয় অভ্যূত্থান পর্ব শুরু হবে।
তারেক রহমান বলেছেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ করে স্বৈরাচারের দোসরদের দেশত্যাগের সুযোগ, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরানো ও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে সরকার। তিনি বলেন, দেশ কোনও ব্যক্তি বা দলের নয়, দেশটা জণগণের। আওয়ামী লীগ সংবিধানকে দলীয় সংবিধানে পরিণত করেছিলো। তাই সংবিধান সংস্কারের কোনও বিকল্প নেই। ফ্যাসিবাদ পালানোর পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা তৈরির সুযোগ হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আরও বলেন, ৫ আগস্ট যেভাবে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, সেভাবেই আব্দুল হামিদ পালিয়েছে। সরকার নাকি আব্দুল হামিদের বিষয়ে কিছু জানে না। বিষয়টি নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম বিনা বিচারে গণহত্যাকারী আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসরদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ প্রদানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ছে। বিবৃতিতে বলেছে, সহস্রাধিক শহিদের প্রাণের বিনিময়ে ইতিহাসের অন্যতম সফল রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের বৈধতার ভিত্তিতে এ অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু নজিরবিহীন জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও জুলাই বিপ্লবের প্রথম দাবি শাপলা চত্বর ও জুলাইয়ের গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে সরকার। আমরা মানবতার শত্রু আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দ্রুত নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের নেতাকর্মীসহ সমগ্র ছাত্র-জনতাকে রাজপথ আঁকড়ে থাকার আহ্বান করছি। সংগঠনটি বলেছে, 'অতীতেও তারা তওবা করে ফিরেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে ঠিকই ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। এমনকি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও ভারতের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে।'
গণঅভ্যুত্থানের নেতা সারজিস আলম লিখেছেন, বিএনপি এবং তার অঙ্গ সংগঠন ব্যতীত সব রাজনৈতিক দল এখন শাহবাগে। বিএনপি আসলে জুলাইয়ের ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। ঐক্যবদ্ধ শাহবাগ বিএনপির অপেক্ষায়। আজকের এই শাহবাগ ইতিহাসের অংশ এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির মানদণ্ড। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবার শাহবাগ মোড় অবরোধ করলেন আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেরণা, প্রতিজ্ঞা ও ঐক্য সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করলো ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ। জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-জনতার অনেকে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়েছেন। এর অন্যতম উদ্যোক্তা আলী আহসান জুনায়েদ জুলাই অভ্যুত্থানের একজন নেতা এবং শিবিরের ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি। আলী আহসান জুনায়েদকে আহবায়ক করে আপ বাংলাদেশের ৮২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওসমানের পিতা আব্দুর রহমান। আরেফিন মো. হিজবুল্লাহকে সদস্য সচিব, রাফে সালমান রিফাতকে প্রধান সমন্বয়কারী, নাঈম আহমেদকে প্রধান সংগঠক ও শাহরিন ইরাকে আপ বাংলাদশের মুখপাত্র করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা। এরআগে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পার্শ্ববর্তী সড়কে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে গণসমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। প্রসঙ্গত, এই আন্দোলনে জুলাইয়ের বিভিন্ন ফ্রন্ট সমর্থন দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে। এমনকি জামায়াত, হেফাজত, শিবির, আপ বাংলাদেশ, ইনকিলাব মঞ্চ থেকে শুরু অনেক সংগঠন সংহতি জানিয়েছে।
পাকশাসিত কাশ্মীরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভারত নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় গুলিবর্ষণের ফলে কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। আহত ২৯ জনের মধ্যে নয়জন নারী এবং তিনজন শিশু রয়েছেন। বুধবার ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে মোট ১৭ জন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন। ১৩৯টি আবাসিক বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি সেদিন থেকে শুরু হবে, যেদিন বাংলাদেশ টাইটেল পাবে ‘বাংলাদেশ উইদাউট আওয়ামী লীগ’। আমরা সেই টাইটেল দেওয়ার জন্য কিছুক্ষণ আগে মানুষের সমাগম করার জন্য এ জায়গা বেছে নিয়েছিলাম। এ জায়গা থেকে আমরা এখন রাস্তা ব্লকেড করব। আরও বলেন, ইন্টারিমের কানে আমাদের কথা পৌঁছায় নাই; আহতদের আর্তনাদ পৌঁছায় না, আমরা এখান থেকে গিয়ে শাহবাগে অবরোধ করব। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত আমরা জায়গা ছাড়ব না। উল্লেখ্য, লীগ নিষিদ্ধ ও বিচারের দাবিতে হওয়া এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ছাত্র-জনতা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে অংশ নিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।