লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চর রমনী মোহন ইউনিয়নে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা একটি চর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। রোববার সকালে কৃষকদের বাধার মুখে তারা চরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল কাদের, সদস্য মো. রিপন ও মো. মিলন মজুচৌধুরীর হাট থেকে দুটি ট্রলারে দলবল নিয়ে সেখানে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, আগাছা পরিষ্কার করে তারা চরগুলো চাষাবাদের উপযোগী করেছেন এবং ধান, সয়াবিন ও বিভিন্ন সবজি উৎপাদন করেন। তাদের অভিযোগ, প্রায় অর্ধশত লোক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতারা চরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কৃষকদের দাবি, চর জমি ভাড়া দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি একরে ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল; তারা অপারগতা জানালে উচ্ছেদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা হয়। আবদুল কাদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কিছু নেতাকর্মী পিকনিক করতে চরে গিয়েছিলেন এবং দখলের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, চরটি এখনো আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দখলে এবং সেখানে সাধারণ কৃষক নেই। খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে অত্যন্ত সহিংস ও মন্দ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেলে তা ব্যবহার করত। তিনি বলেন, ইরান এ অস্ত্র অর্জন করলে মধ্যপ্রাচ্য কার্যত ধ্বংস হয়ে যেত এবং ইসরাইলও ধ্বংস হতো। এরপর যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপও হামলার লক্ষ্য হতে পারত বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ইরানকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের শুরুতে তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করলে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, সবাই হতবাক হয়েছিল। তবে তিনি পরে এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন, কারণ এতে ইরান যে সমর্থন পেয়েছিল তা হারিয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। ২০২৫ সালের মার্চের শুরুতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আছিয়া ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং এরপর ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান ২০২৫ সালের ১৭ মে আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে অন্য তিন আসামি সজীব শেখ, রাতুল শেখ ও জাহেদা বেগম খালাস পান। ট্রাইব্যুনালের নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। ২৫ আগস্ট রায়ের দিন নির্ধারিত থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রাজধানীর কদমতলীতে কিশোর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক ইমন কাজীকে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলায় মো. আল-আমিন শেখকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরীর আদালত ১২ কার্যদিবসে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আল-আমিনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে; অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আলামত নষ্ট ও মরদেহ গুমের দায়ে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় পৃথকভাবে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উভয় সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে এবং আগে কারাভোগের সময় মূল সাজা থেকে বাদ যাবে। ২০২৩ সালের ৩০ মে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ইমন। ৩ জুন পশ্চিম মোহাম্মদবাগের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি, হাত-পা বাঁধা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে পুলিশ জানায়, পারিবারিক পরকীয়ার সন্দেহ ও ধার দেওয়া ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ৫ জুন বরিশালের হিজলা থেকে গ্রেপ্তার আল-আমিন পরে ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া বৈদেশিক ঋণের দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে নতুন ঋণ ছাড় হয়েছে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে আগে নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। ফলে নতুন প্রাপ্তির তুলনায় ঋণ পরিশোধে ২৭৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার বেশি গেছে। প্রতি এক ডলার নতুন ঋণ পাওয়ার বিপরীতে পুরোনো দায় পরিশোধে প্রায় আড়াই ডলার ব্যয় হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ঋণ ছাড় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে। ওই জুলাইয়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছিল। অন্যদিকে, ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলারে উঠেছে। অর্থবছরের শুরুতেই নতুন অর্থায়ন ও ঋণ পরিশোধের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসল পরিশোধ শুরু হওয়ায় আগামী দিনে চাপ আরও বাড়তে পারে। নতুন ঋণের অর্থছাড় প্রত্যাশিত হারে না বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অফিস আদেশে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসউদকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসলাম হোসেনের অনার্স ডিগ্রি নেই, তবে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের দাবি করেছেন। সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান ফেসবুক পোস্টে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষ্য, উপ-রেজিস্ট্রার পদে আবেদনের শর্তে অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক থাকলেও আসলাম হোসেনের ক্ষেত্রে তা শিথিল ছিল। তিনি রাজনৈতিক সুপারিশের কথাও শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন। সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত মাসউদও বলেন, দেখা ফাইল অনুযায়ী আসলাম হোসেনকে তিনি যোগ্য মনে করেন না। অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আসলাম হোসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, যোগ্যতা দেখেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, আসলাম হোসেন ১৯৯২ সালে রাবির ইতিহাস বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি নেন এবং ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি উপ-রেজিস্ট্রার হিসেবে রাবিতে যোগ দেন।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের শেয়ারবাজারে নতুন করে ৮ হাজার ৫৭০ জন বিনিয়োগকারী যুক্ত হয়েছেন। বিও হিসাবধারীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৬ থেকে ১৬ আগস্টে বেড়ে ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮৬ হয়েছে। এটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম ছয় মাসে ১৬ হাজার ৯৬০ জনের নিট বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক। বিএনপি সরকারের ওই সময়ে ৫৫ হাজার ৮১৪টি নতুন বিও হিসাব খোলা হলেও বন্ধ হয়েছে ৪৭ হাজার ২৪৪টি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে খোলা হয়েছিল ৩৯ হাজার ১৭২টি হিসাব এবং বন্ধ হয়েছিল ২২ হাজার ২১২টি। বিপরীতে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের প্রথম ছয় মাসে ৪৯ হাজার ৬৮০ জন বিনিয়োগকারী কমে যায়; তখন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৮টি হিসাব খোলা এবং ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮টি বন্ধ হয়েছিল। বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সরকার গঠনের প্রভাব থাকতে পারে, তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আর্থিক নীতি, তালিকাভুক্ত কোম্পানির অবস্থা, আইপিও অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নেতৃত্বও গুরুত্বপূর্ণ। জুনে বিও হিসাব নবায়নের ফি না দিলে হিসাব স্থগিত হওয়ার বিষয়টিও প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপি সরকার গঠনের প্রায় চার মাস পর ৪ জুন বিএসইসির নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে।
হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং জর্ডানে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আক্রমণের পর সোমবার এশীয় লেনদেনের শুরুতে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ০৮ ডলার বা ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছায়। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯২ সেন্ট বা ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম জানিয়েছে, লারাক দ্বীপে দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। জুলাইয়ের শেষভাগের পর রোববারই সেখানে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা ছিল এটি। আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, সংঘাত নতুন করে উত্তেজনার পর্যায়ে ঢুকেছে, তবে এর স্থায়িত্ব কয়েক দিন না কয়েক সপ্তাহ হবে তা বলা কঠিন। সংঘাত বন্ধের আলোচনা অচল থাকায় মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে চেষ্টা করছেন। সপ্তাহান্তে প্রণালি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে দিনে পাঁচটিতে নেমেছে। এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলেন, তেল প্রবাহ বাড়ায় সরবরাহ-উদ্বেগ কিছুটা কমেছে, তবে প্রণালিটি পুরোপুরি খোলার পথ এখনো অনিশ্চিত।
বাংলাদেশ সরকার তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্ভাবনাময় পাঁচ খাত থেকে রপ্তানি বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বেসরকারি খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়। উদ্যোগটির লক্ষ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। সূত্রে বলা হয়েছে, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অন্য পাঁচ থেকে ছয়টি পণ্য থেকে আসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আয়। কর্মপরিকল্পনায় তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চামড়াজাত পণ্যের মতো খাত অগ্রাধিকার পাবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি একটি বৈঠক করেছে এবং শিগগির কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। সরকার জেলাভিত্তিক উৎপাদন, সক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট ধারণা আরও জোরালোভাবে বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পরও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। ইশতেহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্তি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ছিল। ইশতেহারে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, করপোরেট নেতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞদের নিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছিল। এর আগে আইএমএফের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের খসড়া তৈরি করা হয়। গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে নিয়োগ, বাজেট, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, জনবল ও নীতিনির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার বিষয় ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রভাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি দুর্বল করে এবং স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টেকসই সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত স্বাধীনতা, জবাবদিহিমূলক পর্ষদ, ঋণ অনুমোদন ও আদায় ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং প্রয়োজন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ছয় মাসে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে এগোয়নি।
ভারতের মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাত কেজি স্বর্ণ জব্দ করেছে দেশটির রাজস্ব গোয়েন্দা দপ্তর বা ডিআরআই। এ ঘটনায় ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের এক কর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি ট্রানজিট যাত্রী এবং একজন বেসরকারি বিমান সংস্থার গ্রাউন্ড স্টাফ রয়েছেন। জব্দ স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি রুপি। ডিআরআই সূত্রের বরাতে জানা যায়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের কর্মী মুনাফ মোশারফ জামাদারকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে বিমানবন্দরে স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গোয়েন্দারা তার কাছ থেকে সাতটি ডিম্বাকৃতির ক্যাপসুল উদ্ধার করেন, যার ভেতরে মোমের মতো পদার্থে মোড়ানো স্বর্ণের গুঁড়া ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে মুনাফ জানান, বিমানবন্দরের বাইরে এক ব্যক্তির কাছে ওই স্বর্ণ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তার। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচ যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়, যারা তার হাতে স্বর্ণ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাদের মধ্যে মুহম্মদ আবু নাসর, মুহাম্মদ আলম ও মুহাম্মদ নাক্সিমুদ্দিন বাংলাদেশি নাগরিক। মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ও মুহাম্মদ হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, মোট ১৬টি বল থেকে স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে।
বাংলাদেশে সরকারি সার মজুতের হিসাব নিয়ে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে; কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের গুদাম মজুতের মিল পাওয়া যাচ্ছে না বলে বলা হয়েছে। বোরো ও আমন মৌসুমে চাহিদা বাড়ার সময়ে এ পরিস্থিতি সরবরাহ ও বিতরণে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। রোববার জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ দাবি করেন, দেশে চাহিদা অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় মনিটরিং চলছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এক বছরে ইউরিয়ার সরকারি মজুত ১৪ লাখ ৬ হাজার ৯২৬ টন থেকে কমে ১২ লাখ ৩ হাজার ৩৯৯ টনে নেমেছে। ডিএপির মজুত ৪৩ হাজার ৩৪৩ টন থেকে ৩৬ হাজার ৪০ টনে কমেছে। তবে টিএসপির মজুত ২৬ হাজার ১২৩ টন থেকে ৩০ হাজার ২৬৫ টন এবং এমওপির মজুত ৫১ হাজার ৩৫ টন থেকে ৫৩ হাজার ৩৮৮ টনে বেড়েছে। ডিলারদের দাবি, কৃষিকাজের আওতা বাড়লেও সারের বরাদ্দ বাড়েনি। সার বিতরণ বিতর্কের মধ্যে সরকার তিন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়েছে। আলু মৌসুম সামনে রেখে কৃষকেরা আগাম ডিএপি কিনছেন বলে কর্মকর্তারা জানান, যদিও ইউরিয়ার বিক্রি সীমিত। অনিয়মের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৯ জন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও অবৈধ মজুতের অভিযোগে চার খুচরা বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে হুমকি তৈরি করা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের মাইন পাতা বাহিনীর বিরুদ্ধে লরাক দ্বীপে সীমিত ও নির্ভুল অভিযান চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সেন্টকম দাবি করে, জাহাজ চলাচলের জন্য বাহিনীটি তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিল। সেন্টকমের ভাষ্য, হুমকিটি ইরান তৈরি করেছিল এবং বেসামরিক নাবিক, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ সুরক্ষায় মার্কিন সামরিক বাহিনী তা দূর করেছে। লরাক দ্বীপে মার্কিন হামলাকে ইরান আগ্রাসনের কর্মকাণ্ড বললেও সেন্টকম সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়। সূত্রে বলা হয়েছে, সেখানে সামরিক তৎপরতা বা জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে। সেন্টকম জানিয়েছে, অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল বেসামরিক নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংবিধান সংস্কার, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দাবিতে বড় ধরনের রাজপথের কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ হবে। বর্তমান সরকারের সাড়ে ছয় মাসে বিরোধী দল হিসেবে এটিই জোটের প্রথম ও সবচেয়ে বড় কর্মসূচি বলে নেতারা জানিয়েছেন। পরে আরও তিন বিভাগে লংমার্চ শেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। জোটনেতাদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ মাস ধরে সংসদ, সভা-সমাবেশ, বক্তব্য ও বিবৃতিতে সংস্কারের দাবি জানালেও সরকার সাড়া দেয়নি। তাদের প্রধান ছয় দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের দলীয়করণ বন্ধ করা। ৫ সেপ্টেম্বর শাপলা চত্বরে সকাল ৭টার সমাবেশের পর লংমার্চ শুরু হয়ে রাত ৯টায় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শেষ হওয়ার কথা। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা হবে। আয়োজকেরা আইজিপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং মহাসড়কের এক পাশ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী বড় সামরিক অভিযান শুরুর ছয় মাস পর তিন দেশই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি ও কয়েকজন নেতা নিহত হলেও দেশটির সরকার টিকে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের প্রধান লক্ষ্যগুলোর বড় অংশ অর্জিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে প্রতি তিনজন মার্কিনের মধ্যে একজনেরও কম যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন। ট্রাম্প তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এর নাম রেখেছেন ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ এবং হরমুজ প্রণালি খুলতে চুক্তির আশা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সুবিধা পাননি এবং ইরানের হুমকি কমেনি। ইরানের হিসাবে, এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধের ক্ষতি ১৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং গত মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। তবু অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি; কোনো পক্ষই এখন হার মানতে রাজি নয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।