দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত স্বাক্ষর করল ১০ বছরের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি, যা বাণিজ্য চুক্তির আগেই সম্পন্ন হয়েছে। মালয়েশিয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথের উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। চুক্তি স্বাক্ষরের পর হেগসেথ এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আলোচনায় জিই অ্যারোস্পেসের এফ৪০৪ ইঞ্জিন সরবরাহে বিলম্ব এবং তার ফলে তেজস যুদ্ধবিমান উৎপাদনে সমস্যার প্রসঙ্গ উঠে আসে। রাজনাথ সিং দ্রুত হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) ও জিই অ্যারোস্পেসের যৌথভাবে এফ৪১৪ ইঞ্জিন উৎপাদনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতা বাড়াবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাবে। চীনকে ঘিরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বোঝাপড়াকে আরও গভীর করেছে। এটি ২০২৫ সালে মোদি-ট্রাম্পের যৌথ বিবৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অগ্রগতি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐকমত্য কমিশনকে দায়ী করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) গণসংহতি আন্দোলনের সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং বলেন, এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে, তাই সরকারের উচিত দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করা। তিনি বলেন, সংকট দীর্ঘায়িত না করে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সবাই একসঙ্গে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে। মির্জা ফখরুল আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ অতীতের মতো এবারও সংকট কাটিয়ে উঠবে, কারণ তারা কখনও পরাজয় মেনে নেয়নি। তিনি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মত ও দলীয় পার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থই সবার আগে হওয়া উচিত। বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, অতীতেও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে বিএনপি, ভবিষ্যতেও করবে, তবে সরকারকে নিজেদের সৃষ্ট সমস্যা সমাধান করতে হবে যাতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরে আসে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে টানা পাঁচ দিনের বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সংঘাতে রূপ নেয়। পাকিস্তান অভিযোগ করে যে আফগান তালেবানরা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে; তবে কাবুল সরকার তা অস্বীকার করেছে। গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তানের বিমান হামলায় কাবুলে টিটিপির শীর্ষ নেতা নূর ওয়ালি মেহসুদসহ কয়েকজন নিহত হন। এর জবাবে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিতে হামলা চালায়, যা উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই সৃষ্টি করে। এতে ২০০ জনের বেশি আফগান সেনা ও ২৩ পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। ১৫ অক্টোবর ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশ। দোহা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ইস্তাম্বুলে হওয়া বৈঠকে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করে কাতার ও তুরস্ক। অবশেষে ৩০ অক্টোবর দুই দেশ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে রাজি হয় এবং ৬ নভেম্বর নতুন বৈঠকে শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা হবে।
৬০ বছর বয়সী ইসলামিক ধর্মপ্রচারক ডা. জাকির নায়েক, যিনি ভারতের হেট স্পিচ ও অর্থপাচারের মামলার আসামি, নভেম্বর ২৮–২৯ তারিখে ঢাকায় একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠানটি স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে আয়োজিত হবে এবং সম্ভবত আগারগাঁও এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬ সালে স্থায়ীভাবে মালয়েশিয়ায় বসবাস করতে যাওয়া নায়েক বহুবার বলেছেন যে তিনি ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা ছাড়া ভারতে ফিরে যাবেন না। ২০১৬ সালের হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশ তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়ে গেছে, যার ফলে এবার তার ঢাকায় আসা সম্ভব হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে অনুরোধ করা হয়েছে যে, তিনি ঢাকায় আসলে তাকে হস্তান্তর করা হোক। তার ভ্রমণ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক নজর কেড়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ভোটার তালিকা “স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন” (এসআইআর) কার্যক্রমের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অবৈধ নাগরিক ঘোষণার ভয় সামলাতে না পেরে বীরভূম জেলার ইলামবাজারে ৯৫ বছর বয়সী ক্ষিতিশ মজুমদার আত্মহত্যা করেছেন। বাংলাদেশের বরিশালের বাসিন্দা এই বৃদ্ধ কয়েক দশক আগে ভারতে এসেছিলেন এবং নাগরিকত্ব হারানোর ভয়ে চাপগ্রস্ত ছিলেন, বিশেষত ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তার নাম না থাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া বা ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার ভয়ে অতিশয় চিন্তায় ছিলেন। গত ৭২ ঘণ্টায় দিনহাটা এবং পানিহাটিতে আরও দুটি আত্মহত্যা ঘটেছে, যা বৃদ্ধ এবং প্রবীণ নাগরিকদের ওপর মানসিক প্রভাবের সংকেত দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে দায়ী করেছেন, এটিকে “ভয়, বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতির করুণ পরিণতি” আখ্যায়িত করে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম আসলে একটি রাজ্যভিত্তিক এনআরসি প্রক্রিয়া, যা বিশেষ করে আধুনিক পরিচয়পত্রহীন প্রবীণদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। এই ঘটনাগুলো রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ সৃষ্টি করেছে এবং নাগরিকরা তাদের আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তর মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ নাগরিকত্ব ও পরিচয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন।
ইসরায়েলের সেনারা ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে দক্ষিণ লেবাননের ব্লিদায় একটি পৌর ভবনে অভিযান চালিয়ে পৌর কর্মী ইব্রাহিম সালামেহকে হত্যা করেছে। ড্রোন ও সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। ইসরায়েল এই ভবনটি হিজবুল্লাহ ব্যবহার করেছিল—এর কোনো প্রমাণ দেয়নি। সেনারা দাবি করেছে, “সন্দেহভাজন” ব্যক্তির মুখোমুখি হলে গুলি চালানো হয়েছিল, তবে সালামেহ লক্ষ্যবস্তু ছিলেন কি না তা অজানা। হামলার পর লেবাননে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ সীমান্তে যেকোনো ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম হামলাকে লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর নগ্ন লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা জানান। ব্লিদা ও আশপাশের শহরগুলোতে বিক্ষোভে সড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। আরাগচি এই সিদ্ধান্তকে ‘পশ্চাদমুখী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত এক দখলদার দানব’ বলে উল্লেখ করেছেন। ৩০ অক্টোবরের এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তাদের ‘প্রতিরক্ষা বিভাগ’কে ‘যুদ্ধ বিভাগ’ হিসেবে নামান্তর করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে অপবাদ দিচ্ছে এবং আমাদের সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘ভণ্ডামি’কে নিন্দা জানিয়ে বলেন, অন্যদিকে তারা নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় যুক্ত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিস্তার-ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এটি গুরুতর হুমকি তৈরি করবে বলে সতর্ক করেন।
সৌদি আরব ওমরাহ ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঘোষণা করেছে, যা ভিসার বৈধতা তিন মাস থেকে কমিয়ে এক মাস করা হয়েছে। ভিসা ইস্যুর ৩০ দিনের মধ্যে দেশে প্রবেশ করতে হবে, নাহলে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, প্রবেশের সময়সীমা এক মাস হলেও সৌদি আরবে অবস্থানের সময় আগের মতো তিন মাসই থাকবে। এই সিদ্ধান্তটি গ্রীষ্মশেষে এবং শীতল আবহাওয়ার আগে নেওয়া হয়েছে, যাতে মক্কা ও মদিনায় প্রচুর যাত্রী আগমনের প্রস্তুতি নেওয়া যায়। জুন থেকে ইতিমধ্যে চার মিলিয়নেরও বেশি বিদেশি ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন, যা গত বছরের মোটেরও বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রবৃদ্ধি মুসলিমদের মধ্যে পবিত্র স্থান পরিদর্শনের আগ্রহ বাড়ার প্রমাণ বহন করছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে গাজায় ২৪ হাজার টনেরও বেশি ত্রাণ প্রবেশ করেছে, যা যুদ্ধবিরতির আগের তুলনায় অনেক বেশি। জাতিসংঘের উপ-সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ জানান, ত্রাণ এখন কমিউনিটি পর্যায়ে বিতরণ হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ২০ দিনে প্রায় ২০ হাজার টন খাদ্য সংগ্রহ করেছে। উপকূলীয় এলাকায় লুটপাট কমে যাওয়ায় ত্রাণ বিতরণ সহজ হয়েছে। ইউনিসেফ ১৫টি চিকিৎসা কেন্দ্র চালু করেছে, যার মধ্যে আটটি গাজার উত্তরাংশে। আলাকবারভ মার্কিন ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং ইসরাইলকে এনজিওদের অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইসরাইলে একটি সমন্বয় কেন্দ্র স্থাপন করেছে যুদ্ধবিরতি ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির জন্য। জাতিসংঘ জানায়, এই যুদ্ধবিরতির ফলে গাজায় মানবিক সহায়তার বৃহত্তম উদ্যোগ সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশা প্রকাশ করেছেন যে, হিন্দু সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স একদিন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করবেন। গত ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ আয়োজিত এক যুব সম্মেলনে তিনি বলেন, উষা এখন প্রায় প্রতি রোববারই তার সঙ্গে গির্জায় যান এবং তিনি আশা করেন যে, উষা ক্যাথলিক গির্জার প্রভাবে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবেন। তবে ভ্যান্স জোর দিয়ে বলেন, এটি সম্পূর্ণ উষার নিজের সিদ্ধান্ত, কারণ “ঈশ্বর প্রত্যেককে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন।” ২০১৯ সালে ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষা নেওয়া ভ্যান্স জানান, উষার সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার সময় তিনি নিজেকে সংশয়বাদী বা নাস্তিক ভাবতেন। বর্তমানে তাদের সন্তানরা খ্রিষ্টান ধর্মমতে বেড়ে উঠছে এবং একটি খ্রিষ্টান স্কুলে অধ্যয়ন করছে। ভ্যান্সের বক্তব্য দম্পতির আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক ও তার প্রকাশ্য ধর্মবিশ্বাস নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মো. শাহজাহান মিয়া, যিনি একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক, ঢাকা পানি সরবরাহ ও ময়লা নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ড্যাকা ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাকে তার পদ থেকে সরানো হয়েছে। ৩০ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে স্থানান্তরিত করেছে। তিনি চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ১৮ মে ঢাকার ওয়াসার এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান বিরোধের মধ্যে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, দীর্ঘ ২৭০ দিনের আলোচনার পরও কোনো ঐকমত্য না আসায় সরকার এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। ঢাকায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এতদিনের সংলাপের পরও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে না পৌঁছানো হতাশাজনক। তিনি জানান, এখন বিরোধ কেবল সনদের বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং এটি কোন পদ্ধতিতে পাশ হবে ও গণভোট কবে হবে—তা নিয়েও। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে—একটি গণভোট ও ২৭০ দিনের মধ্যে সমাধান না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব, অন্যটি দায়িত্ব সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্বাচনি বা প্রাক-পরীক্ষার ফল ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা যথাসময়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, সময়মতো ফরম পূরণের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ অভিযোগ করেছেন, ভারত আফগানিস্তানকে ব্যবহার করছে দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরির জন্য। জিও নিউজে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাবুল এখন ভারতের “পুতুল”, আর দিল্লিই সেখানে সব সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। ইস্তানবুলে পাকিস্তান-আফগানিস্তান শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। আসিফ হুঁশিয়ারি দেন, আফগানিস্তান পাকিস্তানের ওপর হামলা করলে “৫০ গুণ শক্তিশালী” জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারত কাবুলের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিম্নমাত্রার যুদ্ধ চালাতে চায়। কাবুল আগেই এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আসিফের মন্তব্যে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াতে ইসলামীকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, দলের রাজনৈতিক অবস্থান ভণ্ডামিপূর্ণ ও পরস্পরবিরোধী। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে “রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথরেখা” শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, জামায়াতের মুখের কথা ও অন্তরের ভাব এক নয়, বিশেষ করে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান বিভ্রান্তিকর। তিনি ধারণা দেন, গণভোট প্রশ্নে জামায়াত শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে এক হতে পারে। পাটওয়ারী আইনি বিশেষজ্ঞ আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের খসড়া প্রকাশ না করলে এনসিপি এতে স্বাক্ষর করবে না, কারণ দলের আসিফ নজরুলের ওপর আস্থা নেই। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন “বল ড. ইউনূসের কোর্টে।” প্রধান উপদেষ্টাকে শহীদ মিনারে গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাটওয়ারী জানান, সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হলেই এনসিপি এতে স্বাক্ষর করবে। ছবির ক্যাপশন:
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।