২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার চায়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রথম রায় ঘোষণা করবে। প্রসিকিউশন ৭৮ বছর বয়সী হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যায় উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশসহ পাঁচ অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং আদালতের দৃষ্টিতে তিনি পলাতক। নিহতদের স্বজনরা আদালতে এসে দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের আহ্বান জানান। হাসিনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। মামলাটি ও রায় ঘোষণাকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও দুই আসামির মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার আগে মন্তব্য করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ডও তার অপরাধের তুলনায় কম শাস্তি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই মামলার রায় আজ ঘোষণা হওয়ার কথা। ১৭ নভেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে মোর্তোজা লেখেন, শেখ হাসিনার অপরাধের যথাযথ শাস্তি হবে যদি তাকে আজীবন কারাগারে রাখা যায়। তিনি রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়াও একটি বড় অর্জন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, যারা এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলাতক আসামিদের পক্ষ নেবেন, তাদের সম্পর্কে জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই রায় দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দেওয়া এই রায়ে দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড ও একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন রায়ের পর গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছেন এবং এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চান না। আপিলের সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ না করা বা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আপিলের কোনো সুযোগ নেই। এই রায় বাংলাদেশের বিচার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দেশ-বিদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মধ্যে হওয়া কথোপকথনের সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঘোষণা দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আসামি হিসেবে রয়েছেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান বর্তমানে পলাতক এবং ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থয়ের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ ১৭ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করে। শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি তিন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, চাঁনখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ। ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছে যে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সহিংসতা উসকে দেন এবং তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে পলাতক থাকায় তিনি আপিল করতে পারবেন না। রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এই রায় নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে এবং এটি বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তিনি আরও বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করা, যা আজ আংশিকভাবে পূর্ণ হয়েছে। জুলাই মাসে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা হলো, যা একটি ঐতিহাসিক নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থয়ের সময় সংঘটিত গণহত্যার দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার দায়ে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল। রায় ঘোষণার পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এ রায় প্রত্যাখ্যান করে। দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এক ভিডিও বার্তায় বলেন, অবৈধ আদালত প্রতিশোধের মনোভাব নিয়ে প্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, মাত্র দুই মাসে ২০ দিনের শুনানিতে মামলাটি শেষ করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে রায়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নানক আরও ঘোষণা দেন, রায়ের প্রতিবাদে সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শাটডাউন পালন করা হবে এবং সরকারকে অচিরেই পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। এ রায়কে ঘিরে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সর্বোচ্চ সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের। রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল পাঁচ বছরের সরকারের জন্য ভোট নয়, বরং এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পূর্ণতা দেবে। জেলা প্রশাসকদের তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকবেন এবং ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন জাতির নতুন সূচনা ঘটাবে এবং শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছরে বহু তরুণ ও নারী ভোট দিতে পারেননি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা এবার নির্বাচনের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে অন্যান্য উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে। চানখারপুরে ছয়জনকে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনি পলাতক থাকায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাবেন না। রায় ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ন্যায়বিচারের এক ঐতিহাসিক দিন। এ রায়কে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাধারণ জনগণ মামুনের শাস্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, গণহত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে মামুনের শাস্তি অত্যন্ত কম হয়েছে; তার মৃত্যুদণ্ড বা অন্তত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়া উচিত ছিল। রায় ঘোষণার সময় মামুনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। চলতি বছরের মার্চে তাকে মামলার আসামি করা হয় এবং এবার তিনি পাঁচ বছরের সাজা শুনলেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ১৭ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন। শেখ হাসিনাকে দুটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, পলাতক হাসিনা ও কামালের সাজা তাদের গ্রেফতারের দিন থেকে কার্যকর হবে। ট্রাইব্যুনাল তাদের বিরুদ্ধে উসকানি, আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ ও একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দিয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল এ রায়কে বাংলাদেশের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থয়ের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল সোমবার দুই ঘণ্টার শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করে। রায় ঘোষণার পর সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের উন্নয়ন অনেক পিছিয়ে গেছে, জনগণ আর পিছিয়ে যেতে চায় না। তিনি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান। সালাহউদ্দিন আরও বলেন, প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিএনপি অব্যাহতভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সোমবার ঘোষিত এ রায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উল্লাসের সৃষ্টি করে। ডাকসুর উদ্যোগে টিএসসির পায়রা চত্বরে বড় পর্দায় রায় প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি রায় দেখেন এবং পরে মিষ্টি বিতরণ করেন। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে থাকা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আর সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রি করবে না এবং আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ছেঁড়া বা নষ্ট নোট বদল, সরকারি চালান গ্রহণ ও চালানের ভাংতি টাকা দেওয়ার মতো গ্রাহকসেবাও বন্ধ করবে। প্রথমে সিদ্ধান্তটি মতিঝিল অফিসে কার্যকর হবে, পরে ধীরে ধীরে অন্যান্য শাখায়ও চালু হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এসব সেবা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যেন নির্বিঘ্নে দিতে পারে, সে জন্য তাদের তদারকি জোরদার করা হবে। নিরাপত্তা ও নীতিগত কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি বাণিজ্যিক সেবা দেওয়া উচিত নয়, তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকে যেন গ্রাহকদের ভোগান্তি না বাড়ে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ইএফটিএন ব্যবস্থার মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের সুদ ও আসল পরিশোধসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু থাকবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থয়ের সময় চানখারপুরে ছয়জনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানান, শেখ হাসিনা পলাতক থাকায় তিনি আপিল করতে পারবেন না। ট্রাইব্যুনাল আইনে বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হবে বা গ্রেফতার হতে হবে। আইনি বিশেষজ্ঞরা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধিতে নারী, শিশু বা অসুস্থদের জামিনে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও, ট্রাইব্যুনাল আইনে রায় বা আপিলের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুবিধা নেই। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা পলাতক রয়েছেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।