বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানে এখনো জমি ও ভবনের মতো স্থাবর সম্পদের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে। মোট ঋণের ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৬ কোটি টাকা রিয়েল এস্টেট জামানতের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই হার সামান্য বেড়েছে। তবে এসব বন্ধকী সম্পদের অনেকটাই এখন বিক্রি করা যাচ্ছে না, বিশেষ করে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের সম্পদ কেনায় বাজারে আগ্রহ কমে গেছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো সম্পদভিত্তিক ঋণকেই নিরাপদ মনে করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতা ব্যাংক ঋণের টাকা দিয়ে জমি কিনে পরে সেই জমি বন্ধক রেখে আবার ঋণ নিয়েছেন, যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন। ফলে বন্ধকী সম্পদ বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ ও তরুণ উদ্যোক্তারা মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের এই স্থাবর সম্পত্তিনির্ভর ঋণপ্রবণতা নতুন ও উদ্ভাবনী ব্যবসার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রয়োজন মেটানোসহ বিভিন্ন জরুরি খাতে ৮৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। হাউস স্পিকার মাইক জনসনের কাছে পাঠানো বাজেট অফিসের চিঠিতে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে ৬৭ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে গোলাবারুদ, পরিচালন ব্যয় ও গোপন কর্মসূচির খরচ অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া মার্কিন কৃষকদের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলার এবং মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা মোকাবিলায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। এই অনুরোধ এমন সময়ে এসেছে, যখন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। ইরান যুদ্ধ ভোটারদের কাছে অজনপ্রিয় হওয়ায় এবং নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় প্রস্তাবটি কংগ্রেসে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। চিঠিতে বলা হয়েছে, “অপারেশন এপিক ফিউরি”–সংক্রান্ত জরুরি চাহিদা পূরণই এই অনুরোধের মূল লক্ষ্য। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা জোরদারে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও পেন্টাগনকে সাম্প্রতিক হামলার পর মজুত পুনর্গঠন করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে বুধবার সন্ধ্যায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও সক্ষম এবং সব সরকারি সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রায় আঘাত হানে, এরপর মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প ঘটে। ট্রুহিলো, কারাবাও, মিরান্ডা ও লা গুয়াইরা রাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউএসজিএসের হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ানোর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখ ছাড়ানোর সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি জেরেমি লেউইন জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সামগ্রী এবং মানবিক সহায়তা পাঠাতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স প্রস্তুত করা হয়েছে। উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্দাউ ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী জাতীয় উদযাপনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার উদ্বোধনী ভাষণকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প জাতীয় উদযাপনের মঞ্চকে নির্বাচনি প্রচারণার মতো ব্যবহার করেছেন। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের কথা বলেন এবং সাম্প্রতিক সামরিক ও অর্থনৈতিক সাফল্যের দাবি তোলেন। ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ নামে এই উৎসব ১০ জুলাই পর্যন্ত চলবে, যেখানে ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ৬টি অঞ্চল তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরছে। মেলায় খাবার, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী, সামরিক ব্যান্ড, বিমান মহড়া ও ১১০ ফুট উচ্চতার ফেরিস হুইলসহ নানা আয়োজন রয়েছে। তবে কয়েকজন শিল্পী অংশগ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ান, অভিযোগ করেন যে অনুষ্ঠানটি অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে। পরে ট্রাম্প নিজেকে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই আয়োজনকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমাপনী বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতা দিবসকে ‘সর্বকালের সেরা উদযাপন’ আখ্যা দেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন ‘স্বর্ণযুগ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নবম সরকারি পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার পর ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মকর্তারাও নতুন পে স্কেলের আওতায় আসবেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত সুপারিশে ঐকমত্য হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রথম ধাপে ৬০ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ৪০ শতাংশ বর্ধিত বেতন পাবেন। বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে দ্রুত ভেটিং ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে শিগগির আরেকটি বৈঠক হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’-এ তিনি এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এই সম্মেলনে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুযোগ নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেন। সম্মেলনে চীনের ১২৫ জন ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত এবং চীনের সঙ্গে আরও গভীর শিল্প অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী। তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালুচেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন, নীতির ধারাবাহিকতা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি চীনা বিনিয়োগকারীদের আরও কার্যকর সেবা প্রদানের জন্য শিগগিরই চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু করা হবে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামলা, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে। বিল পরিশোধ ও টেন্ডার নিয়ে বিরোধের জেরে এসব ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গত ২১ জুন এলজিইডি কার্যালয়ে ৩০–৩৫ জন ঠিকাদার হামলার চেষ্টা করলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর আগে ১৮ জুন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে মুখোশধারী সশস্ত্র দল নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি দেয়। একইভাবে কাস্টমস, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন ও বিদ্যুৎ ভবনেও হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে গত এক বছরে অন্তত ১০টি হামলার মধ্যে মাত্র পাঁচটির অভিযোগ থানায় এসেছে। নাগরিক সংগঠন সুজনের চট্টগ্রাম সম্পাদক সতর্ক করেছেন, এ ধরনের সশস্ত্র চাপ অব্যাহত থাকলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে। এলজিইডির কর্মকর্তারা বলছেন, ভয়ভীতি ও চাপের কারণে সরকারি কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এসব হামলা দমন না হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে জনআস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেল জংশনের ইনার সিগন্যালের পাশে লাইনচ্যুত তিনটি কোচ ফেলে আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ট্রেনটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে রওনা দেয়। এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটির শেষের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়, এতে কয়েকজন যাত্রী আহত হন। গৌরীপুর স্টেশন মাস্টার সফিকুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের সুবিধার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি কোচ রেখে বাকি ১১টি বগি নিয়ে ট্রেনটি চট্টগ্রামের পথে যাত্রা করে। স্টেশনের মাইকে ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের জানানো হয়, দুর্ঘটনাকবলিত বগির যাত্রীরা অন্য বগিতে যেতে পারবেন। যাত্রা বাতিল করতে ইচ্ছুকদের টিকিটের টাকা ফেরতের ঘোষণা দেওয়া হলেও কেউ ফেরত নেননি। রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সিগন্যালের নির্দিষ্ট সময় শেষে লাইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় শেষের তিনটি বগি অন্য লাইনে চলে যায়। দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা গৌরীপুর-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
২০২৬ সালের ২৫ জুন ভেনেজুয়েলা, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভেনেজুয়েলায় কারাকাসের পশ্চিমে সান ফেলিপে ও ইউমারের কাছে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প ঘটে। এতে একাধিক রাজ্যে ভবন ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউএসজিএস জানায়, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছানোর ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখ ছাড়ানোর ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দর, স্কুল, মেট্রো ও রেলসেবা বন্ধের নির্দেশ দেন। জাপানে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প কুজির উত্তর-পূর্বে আঘাত হানে, তবে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি হয়নি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ক্ষয়ক্ষতির জরুরি মূল্যায়নের নির্দেশ দেন। মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিব মিনোরু কিহারা জানান, কোনো হতাহতের খবর নেই এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্বাভাবিক রয়েছে। ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি শিন-আওমোরি থেকে টোকিও পর্যন্ত বুলেট ট্রেন পরিষেবা স্থগিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৭ হাজার ৪০০ ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ইউএসজিএসের শেকঅ্যালার্ট ব্যবস্থা মাইশেক অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত সতর্কবার্তা পাঠায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তিনজন বিচারক গত বছর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা এই মামলায় কানাডার কিম্বার্লি প্রোস্ট, উগান্ডার সোলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডেলেইড সোফি আলাপিনি-গানসু অভিযোগ করেছেন যে, তাদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে লক্ষ্য করে ট্রাম্প প্রশাসন বিচারবহির্ভূত চাপ প্রয়োগ করেছে। বিচারকেরা অভিযোগ করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা আদালতের পূর্ববর্তী কিছু বিচারিক সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় আরোপ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনেয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত। তারা দাবি করেছেন, এসব পদক্ষেপ তাদের বিচারিক কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কোনো ব্যক্তির দৈনন্দিন কার্যক্রম যেমন ব্যাংকিং বা অনলাইন সেবা ব্যবহারের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করতে পারে এবং এতে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ বা আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই আমন্ত্রণ দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে উপস্থিত থাকবেন নাকি কোনো প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে প্রথম জানাজা ও তিন দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠান শুরু হবে। ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ শায়িত থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে পারে। ৬ জুলাই একটি রাষ্ট্রীয় শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে এবং এই সময় তেহরান প্রদেশে সরকারি ছুটি থাকবে। এই আমন্ত্রণ ইরান-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে, বিশেষত খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে জাতীয় শোক পালনের প্রেক্ষাপটে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনের বেইজিং সফর নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টায়) সেন্ট্রাল বেইজিংয়ের দিয়াওতাই হোটেলের ফাং ফি হলে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বিষয় বা এজেন্ডা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার বেইজিং সফরের কার্যক্রম ও আলোচনার বিষয়ে তথ্য দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
৭ দশমিক ৫ ও ৭ দশমিক ২ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানী কারাকাসে বহু ভবন ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। মারাত্মক ক্ষতির কারণে মাইকেতিয়ার সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুল ক্লাস বাতিল করা হয়েছে এবং মেট্রো ও রেলসেবা স্থগিত করা হয়েছে। সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় কার্যক্রমও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফকে সক্রিয় করা হয়েছে এবং বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটি কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে আঘাত হানে এবং ৩৯ সেকেন্ড পর দ্বিতীয়টি ইউমারের কাছে ঘটে। ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, কারণ ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তিতে নির্মিত নয়।
বাংলাদেশ সরকার কোনো সমীক্ষা ছাড়াই দেশের কয়েকটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা নিয়ে অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঈশ্বরদীর মতো কিছু বিমানবন্দর লাভজনক হতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে। ইতোমধ্যে বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও জোরদার হয়েছে, যদিও অবকাঠামো ও যাত্রী চাহিদা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, শমশেরনগর, খানজাহান আলী ও পটুয়াখালীসহ সাতটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর ধাপে ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৫০ একর জায়গাজুড়ে বগুড়া বিমানবন্দরে দুটি রানওয়ে, চারতলা টার্মিনাল ও আধুনিক নেভিগেশন প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৮ সালের মার্চে চালু হতে পারে। প্রকল্প ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও যাত্রী চাহিদা যাচাই ছাড়া এসব প্রকল্প আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে সরকার বলছে, এসব উদ্যোগ আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ ‘চায়না দুয়ারী’ জাল তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে মৎস্য বিভাগ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যরাজিব সয়ারকাজী গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬৮০টি জাল, চারটি মেশিন ও অন্যান্য সামগ্রীসহ প্রায় ৪৪ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করা হয়। অভিযানে জড়িত এক সহযোগীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, তবে কারখানার মালিক পলাতক রয়েছেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, কারখানাটি রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ জাল সরবরাহ করত। অভিযানে তিনটি ডায়াস ভেঙে ফেলা হয় এবং ৮০টি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধারকৃত জালগুলো থানায় আনা হয়েছে। অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, দেশীয় মাছ রক্ষায় এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অবৈধ জালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।