ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত হাদিকে দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশে যদি কেউ নতুন করে ফ্যাসিবাদ বা সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, জনগণ তার জবাব দেবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ধরনের ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মাটি ১৮ কোটি মানুষের, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তিনি হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে উল্লেখ করে বলেন, জাতি এ ধরনের সহিংসতা সহ্য করবে না। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, হাদির অবস্থা সংকটজনক। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে জামায়াত আমির বলেন, হাদি যেন আবার মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে ফিরে আসতে পারে—এই প্রার্থনা করছি। ঘটনাটি নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, পল্টনে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়া ওসমান হাদির ঘটনাটি নৃশংস ও দুঃখজনক। তিনি আহ্বান জানান, দুষ্কৃতকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে। তারেক রহমান বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি ছাত্রদলসহ দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের ধৈর্য, সচেতনতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানান। কর্মশালায় তিনি পরিকল্পিত ও সমন্বিত রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেশের উন্নয়নে বড় বাধা। গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মোটরসাইকেলে আসা অস্ত্রধারীরা রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি কোমায় আছেন। ডিএমপি কমিশনার জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাব একযোগে অভিযান চালাচ্ছে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য। মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত চলছে। এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢামেক হাসপাতালে জড়ো হন জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর ঢাকার পল্টনে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ নিন্দা জানান। তিনি এই নৃশংস ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। তারেক রহমান ছাত্রদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে যাতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার সম্ভব হয়। গত রোববার শুরু হওয়া এই কর্মশালায় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। ঘটনাটি ঢাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতারা দোষীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে গুলিবিদ্ধ শরীফ ওসমান হাদিকে দেখতে যান। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, দুপুর আড়াইটার পরপরই হাদিকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার বাম কানের নিচে গুলি লেগেছে এবং চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন। বিকেল ৪টার দিকে মির্জা আব্বাস হাসপাতালে পৌঁছে হাদির শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্বাচনী সময়ে এ ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনের ডিআর টাওয়ারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ হাসপাতালে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিকেলে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসও হাসপাতালে গিয়ে হাদির খোঁজখবর নেন। ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানও দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিন মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। নির্বাচনের আগে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই হামলা ঘটল। হাদি এর আগে একাধিকবার বিদেশি নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার হয়নি, তবে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার বিকেলে বিজয়নগরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে লাইফ সাপোর্টে আছেন এবং তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পুলিশ জানায়, দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে পল্টনের ডিআর টাওয়ারের সামনে তিন মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। বাম কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হন হাদি। তার সহযাত্রীরা রক্তক্ষরণে ভুগতে থাকা হাদিকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং বি-নেগেটিভ রক্তের জন্য আহ্বান জানান। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী সাবেক ছাত্রনেতা হাদি পূর্বে একাধিকবার হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। ঘটনাটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে তার চিকিৎসার খোঁজ নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে রাজধানীর পল্টনের ডিআর টাওয়ারের সামনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। হাদির খোঁজ নিতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও ডা. তাসনিম জারাও হাসপাতালে যান। এর আগে বিএনপি নেতা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাসও তাকে দেখতে যান। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করেছেন। ঘটনাটি নির্বাচনি উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার ও সহিংসতা রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন জরুরি।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় নির্বাচনি প্রচারের প্রস্তুতিকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার মাথা ও কানের পাশে গুলির আঘাত রয়েছে এবং অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তিনি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে লাইফ সাপোর্টে আছেন। ঘটনার পর ঢামেকে চার প্লাটুন সেনা সদস্য ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিকেলে হাসপাতাল চত্বরে সেনাবাহিনীর একাধিক যানবাহন প্রবেশ করতে দেখা যায়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। এ হামলার পর নির্বাচনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, গত এক মাসেই প্রায় ২৫ হাজার সৈন্য নিহত হয়েছে, যা তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, রক্তপাত বন্ধ না হলে এটি বৈশ্বিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানে ট্রাম্পের অসন্তোষ বাড়ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, শান্তি আলোচনার ধীরগতিতে প্রেসিডেন্ট হতাশ এবং তিনি কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান। ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করতে প্রস্তুত, যা যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় ট্রাম্প হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, এ অবস্থার অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং জরুরি চিকিৎসা চলছে। শুক্রবার দুপুরে বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং হামলাকারীদের শনাক্তে অভিযান চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও ব্যাপক তদন্ত চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই হামলা রাজধানীতে রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, নির্বাচনি প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুজন ব্যক্তি হাদির ওপর গুলি চালায়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জসদ) তীব্র নিন্দা জানায়। সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বলেন, এটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও প্রার্থী-ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের শনাক্তে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাকে অমানবিক ও নৃশংস বলে নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি চক্র সমাজে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে চায়। বিএনপি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ হাদি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই হামলার ঘটনায় নির্বাচনি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো আশঙ্কা করছে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন আছেন। এই হামলার ঘটনায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা বেড়েছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা গত কয়েক মাসে অন্তত ৮০ জন ভাড়াটে খুনি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করিয়েছে। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর অঞ্চলের চরমপন্থি গোষ্ঠী এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যরা একত্র হয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থী ও জনপ্রিয় নেতাদের টার্গেট করছে। সায়ের আরও জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পলাতক অপরাধী ও স্থানীয় চরমপন্থিদের মধ্যে সাম্প্রতিক টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা হয়েছে। সরকারি সূত্র এখনো এসব অভিযোগ নিশ্চিত করেনি, তবে ঘটনাটি নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত জোরদার করেছে।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারের প্রস্তুতিকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পুলিশ জানায়, জুমার নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত হাদির ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। বিকেল ২টা ৩৫ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ঢামেক হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, হাদিকে হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং তাকে সিপিআর দিতে হয়। বর্তমানে তার রক্তচাপ কিছুটা উন্নত হলেও মাথার ভেতরে গুলি রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায় এবং হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। এই হামলার পর নির্বাচনি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় নজরদারি জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।