ঢাকায় শুক্রবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা শরীফ ওসমান হাদি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা জানান, হাদির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রয়েছে এবং আপাতত আর কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও চিকিৎসকরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। তাসনিম জারা সমর্থকদের হাসপাতালে ভিড় না করার আহ্বান জানান এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির নেতাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আজকের ঘটনায় প্রশাসনকে দায় নিতে হবে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারের প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে হাদি আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ারে স্থানান্তর করে অস্ত্রোপচার করা হয়। এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি, যা নির্বাচনী উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দেশত্যাগ রোধে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নিরাপত্তা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ড. ইউনূস হামলাকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর পরিকল্পিত আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুততম সময়ে হামলাকারীদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। বৈঠকে আইন, স্বরাষ্ট্র, তথ্য, জ্বালানি, স্থানীয় সরকার ও সংস্কৃতি উপদেষ্টাসহ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বানচালের ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং গুরুতর আহত হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া করতে অনুরোধ করেন। এদিকে, হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানানো হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, ফয়সাল করিম মাসুদ নামের ওই ব্যক্তি (ছদ্মনাম দাউদ বিন ফয়সাল) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও আদাবর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। সায়ের তার পোস্টে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে লাল বৃত্তে চিহ্নিত ফয়সালকে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ওসমান হাদির পাশে বসে থাকতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফয়সাল জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ অনুসারী। তবে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সরকারি কোনো সংস্থা এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। ঘটনাটি নির্বাচনী সময়ের উত্তেজনার মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তদন্তের অগ্রগতি ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া শিগগিরই জানা যেতে পারে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের ওপর ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা সারা দেশে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঢাকার ৮ নম্বর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে রয়েছেন। এর আগে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগকালে গুলিবিদ্ধ হন। এসব ঘটনার পর প্রার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও আমার বাংলাদেশ পার্টির নেতারা এসব হামলাকে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের সহিংসতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ প্রার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ শুরু করেছে এবং আসনভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি হাদির ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সরকার তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে এবং প্রয়োজনে বিদেশেও সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। ইউনূস জানান, তিনি উপদেষ্টা পরিষদের কয়েকজন সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিজয়নগর এলাকায় প্রচার প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকরা জানান, হাদির মাথা ও কানের পাশে গুলির আঘাত রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি রাজনৈতিক সহিংসতা দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও ন্যক্কারজনক হত্যাচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ইশরাক বলেন, এই ঘটনার দায়ভার বর্তমান সরকার এড়াতে পারে না এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সব গোয়েন্দা সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে হামলাকারীদের জনগণের হাতে সোপর্দ করার ব্যবস্থা করতে হবে। পোস্টে তিনি আহত শরিফ ওসমান হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন। ঘটনাটি জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে, যা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বৈঠকে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরছেন।” তিনি আরও জানান, লন্ডনে দলের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে তার ফেরার সময় নির্ধারিত হয়েছিল। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা। তবে তার আইনি অবস্থান ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী ওসমান হাদি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর জানান, গুলি হাদির ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে, এতে তার মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লেগেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ডা. জাফর বলেন, হাসপাতালে আনার সময় হাদির গ্লাসগো কোমা স্কেল ছিল সর্বনিম্ন, পরে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মস্তিষ্কে চাপ কমাতে নিউরোসার্জনরা খুলির একটি অংশ বড় করে খুলে দেন। তিনি বর্তমানে কৃত্রিম ভেন্টিলেশনে আছেন। সরকারিভাবে সিএমএইচে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরিবারের অনুরোধে তাকে এভারকেয়ারে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাইতুস সালাম জামে মসজিদের সামনে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তার বা উদ্দেশ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুক্রবার দুপুরে বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় অস্ত্রধারীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সিআইডি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এলাকাটি তল্লাশি চালিয়ে দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করে সিআইডি, যা গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, খোসাগুলো পরীক্ষা করে অস্ত্রের ধরন ও গুলির উৎস শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে ১৪ নভেম্বর হাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছিলেন, বিদেশি নাম্বার থেকে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শুক্রবার ঢাকায় এক বিজয় মিছিলে অংশ নেন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানান। ঢাকা-৮ আসনের স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিল ধানমন্ডি, কলাবাগান ও সায়েন্স ল্যাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে ‘হাদির গায়ে গুলি কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ নানা স্লোগান শোনা যায়। রিকশার ওপর দাঁড়িয়ে আসিফ মাহমুদ স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেন। এর আগে সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় তিনি ঘোষণা দেন যে, তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দুই দিন আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন, যেখানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন, সমবায় ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনাটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে এবং প্রশাসনিক ভবনে অনির্দিষ্টকালের জন্য তালা দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বটতলা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রশাসনিক ভবন ও উপাচার্যের বাসভবন ঘুরে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি তোলে। জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রশাসনের গড়িমসির কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করে, জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। প্রশাসন বারবার সময়সীমা ঘোষণা করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চাকরি বিধিমালা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) মেট্রোরেলের কর্মীরা সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করায় রাজধানীতে মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী উত্তরা থেকে বিকাল ৩টা ও মতিঝিল থেকে ৩টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো ট্রেনই স্টেশন ছেড়ে যায়নি, ফলে যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) একাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এই কর্মবিরতির ডাক দেন। যদিও ডিএমটিসিএল আগের দিন জানিয়েছিল যে শুক্রবার মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে, কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেই ঘোষণা মানেননি। ডিএমটিসিএলের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরও কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয় বাকি থাকায় যাত্রীসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। হঠাৎ এই বন্ধে বিকেলে ঘুরতে বের হওয়া অনেক পরিবার বিপাকে পড়ে। সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে, তবে কবে সেবা স্বাভাবিক হবে তা এখনো জানা যায়নি।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শুক্রবার দুপুরে বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির একজন তার মাথায় গুলি চালায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ওসামা জানান, হামলাকারী দুইজন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হাদির প্রচারণা টিমে যোগ দিয়েছিল। কিছুদিন অনুপস্থিত থাকার পর তারা সম্প্রতি আবার প্রচারণায় অংশ নেয়। পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হাদির অবস্থার বিষয়ে কিছু জানায়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রয়োজনে হাদিকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে। হামলার কারণ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ও লাইফ সাপোর্টে রাখার পর পরিবারের সিদ্ধান্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচারের প্রস্তুতিকালে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্তের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঢামেকের চিকিৎসকরা জানান, তার মাথা ও কানের পাশে গুলির আঘাত রয়েছে এবং হাসপাতালে আনার পর তাকে সিপিআর দিতে হয়। ঘটনার পর পুলিশ হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে বলে ডিএমপি কমিশনার জানান। নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এই হামলা রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতিকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় এবং অস্ত্রোপচার চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, হাদি এর আগে একাধিকবার বিদেশি নাম্বার থেকে হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন। ফারুকী বলেন, যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং বলেন, গোটা দেশ তার সুস্থতার প্রার্থনা করছে। এদিকে, হামলাকারীদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।