ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা সোমবার বিকাল ৩টায় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে সবাইকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনার প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে জুমা এই আহ্বান জানান এবং আহত হাদির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। জুমা তার পোস্টে ওসমান হাদিকে একজন ত্যাগী ও দেশপ্রেমিক নেতা হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি সহকর্মীদের পাশে থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। তিনি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার সমালোচনা করে বলেন, এমন সৎ মানুষকে রক্ষা না করার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। পোস্টে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান জানান তিনি। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশটি নতুন করে ছাত্র আন্দোলনের গতি সঞ্চার করতে পারে এবং রাজনৈতিক সংহতির একটি মঞ্চে পরিণত হতে পারে।
রোববার রাতে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালের সামনে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদির কিছু হলে সেটিই হবে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিন। তিনি অভিযোগ করেন, গুলিবিদ্ধ হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করায় সরকার দায়িত্বে ব্যর্থ হয়েছে। আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকারের এই ব্যর্থতা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তিনি আইনজীবীদেরও সমালোচনা করেন, অভিযোগ করে বলেন, অর্থের বিনিময়ে মানবতা ও রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিক্রি করা হচ্ছে। অস্ত্র মামলার এক অভিযুক্তকে জামিন দেওয়ার ঘটনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সহিংসতা বা স্বাধীনতা বিরোধী বক্তব্য প্রচার করে, তাদের টকশোতে আমন্ত্রণ না জানাতে হবে। ওসমান হাদির ওপর হামলা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে, এবং ইনকিলাব মঞ্চ সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে আর্সেনাল। ম্যাচের ৭০ মিনিটে বুকায়ে সাকার কর্নার থেকে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় গানাররা। শেষ মিনিটে নাইজেরিয়ার তোলু সমতাসূচক গোল করলেও ইনজুরি টাইমে (৯০+৪ মিনিটে) উলভস ডিফেন্ডার মস্কেরার মাথায় লেগে বল জালে জড়ালে জয় নিশ্চিত হয় মিকেল আর্তেতার দলের। অন্যদিকে, ইনজুরির পর লিভারপুলের হয়ে মাঠে ফিরেছেন মোহামেদ সালাহ। ২৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে সতীর্থ হুগো একিতিকের গোলে অবদান রাখেন তিনি। একিতিকের জোড়া গোলে অ্যানফিল্ডে ২-০ ব্যবধানে ব্রাইটনকে হারায় লিভারপুল। সালাহর এই অবদান নিয়ে লিভারপুলের হয়ে তার মোট গোল-অবদান দাঁড়াল ২৭৭, যা ওয়েইন রুনির এক ক্লাবের হয়ে সর্বাধিক গোল-অবদানের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চেলসি ঘরের মাঠে এভারটনকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারায় ফিরেছে। ফরাসি লিগে মেটজকে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে পিএসজি।
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যেখানে চিকিৎসকরা জানান তার মাথায় গুলির অংশ রয়ে গেছে। এই হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ভারতের সামাজিক মাধ্যমে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ভারতীয় কিছু অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রচারণা অ্যাকাউন্ট হাদির ওপর হামলাকে সমর্থন জানিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেছে, হাদি নাকি ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল দখল করে “গ্রেটার বাংলাদেশ” গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন। অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর মাধান কুমার ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ প্রচারক ড. রাজেশ পাটিলসহ অনেকে #Dhurandar হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে হামলাকারীদের প্রশংসা করেছেন। ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব পোস্ট সমন্বিতভাবে প্রচারিত হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিভাজন ও ভ্রান্ত তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
রবিবার রাত সোয়া আটটার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার প্রগতি সরণির কাছে অছিম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম কিবরিয়া খান জানান, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে কেউ হতাহত হননি। প্রাথমিকভাবে কে বা কারা আগুন দিয়েছে তা জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনা ঘটায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। এই ঘটনা ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের দাবিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। রোববার রাতে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম তার ফেসবুক পোস্টে এই ঘোষণা দেন এবং ছাত্রসমাজকে সোমবার দুপুরে ডাকসু প্রাঙ্গণে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান। ঘোষণায় বলা হয়, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। এই কর্মসূচি ছাত্ররাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের জনগণের কাছে দলের পরিকল্পনা ও কর্মসূচি সহজভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে ঢাকার গুলশানে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে দলের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথম কাজ হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট, পানিসংকট ও পরিবেশ দূষণকেও তিনি জরুরি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তরুণ সমাজের মাদক সমস্যা মোকাবিলায় খেলাধুলা, বিতর্ক ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, দলের পরিকল্পনার অন্তত ৪০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের বিদ্যমান সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অংশ নেন বিভিন্ন বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বুদ্ধিজীবী হত্যার মাধ্যমে দেশকে মেধাশূন্য করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, স্বাধীনতার পর সুবিধাবাদীরা সেটিকে কাজে লাগিয়ে ‘মুজিববাদ’ নামে একটি ফ্যাসিবাদী মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করে। তিনি বলেন, ইতিহাসকে বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। নাঈম আহমাদ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশপ্রেমিক ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরদের দমন করতে একই ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা ও আপ বাংলাদেশ নেতা তাহমিদের হত্যার ঘটনাকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মুন্সী আব্দুল আলীম বলেন, সরকার এসব হামলার বিষয়ে নির্বিকার ভূমিকা নিচ্ছে এবং ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ছাড়া বিকল্প নেই। আলোচনা শেষে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এসব বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।
ইনকিলাব মঞ্চ সরকারের প্রতি কঠোর আল্টিমেটাম জারি করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িত আসামিদের আগামীকালের মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইন উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে। রোববার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে ইনকিলাব মঞ্চ কঠোর অবস্থান নেবে। এই দাবি সরকারের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে জনআস্থা আরও কমে যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
রোববার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি ভারত বাংলাদেশের এক খুনি অভিযুক্তকে হস্তান্তরে সহযোগিতা না করে, তবে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতে পালিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত তার প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানোর আহ্বান জানান। জাবের অভিযোগ করেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করছে এবং এমন ব্যক্তিদের আশ্রয় দিচ্ছে যারা দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের দায়িত্ব হলো অপরাধীদের আশ্রয় না দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহায়তা করা। বক্তব্যে তিনি ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন। এই সতর্কবার্তা জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের প্রতিফলন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশন বা বাংলাদেশ সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সন্দেহভাজন ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, তার শ্যালক শিপু এবং বান্ধবী মারিয়া। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, গুলির ঘটনার আগে ও পরে ফয়সালের সঙ্গে এই তিনজনের ঘনঘন ফোনালাপের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গুলির সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে। হাদির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে ঘটনাটি জনমনে আলোড়ন তুলেছে। র্যাব জানায়, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজন হলে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
খুলনায় ডিবি পুলিশের অভিযানে যে স্থাপনাকে প্রথমে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা হিসেবে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে জানা গেছে সেটি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) প্রশিক্ষণে ব্যবহারের জন্য ডামি অস্ত্র তৈরির স্থান। শনিবার সন্ধ্যায় অভিযানে ডিবি পুলিশ বিভিন্ন অস্ত্রসদৃশ যন্ত্রাংশ ও ছাঁচ উদ্ধার করে এবং চারজনকে আটক করে। রবিবার খুলনা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওসি তৈমুর ইসলাম জানান, বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো অবৈধ নয়। বিএনসিসি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র উপস্থাপন করলে পুলিশ কমিশনার ও ডিসি (ডিবি)-এর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। উদ্ধারকৃত ট্রিগার, কাঠের বাঁট ও অন্যান্য অংশ আসল অস্ত্র নয়, বরং প্রশিক্ষণ উপকরণ। পুলিশ জানিয়েছে, ভুল বোঝাবুঝি দূর হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি এখন নিষ্পত্তি হয়েছে। ঘটনাটি ভবিষ্যতে এমন অভিযানে যাচাই প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের উত্তরে ২৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক মুহাম্মদ ওয়ায়েল আল-শারৌফকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ওই যুবক ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করেছিল এবং তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে নির্মূল করা হয়েছে। এর একদিন আগে উত্তর পশ্চিম তীরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর মুহাম্মদ ইয়াদ আবাহরাকে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনারা নিহত কিশোরের মরদেহও আটকে রেখেছে। ইসরাইলের দাবি, ওই কিশোর সৈন্যদের দিকে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে পূর্ব জেরুজালেমসহ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় কমপক্ষে ১,০৯৩ জন নিহত এবং প্রায় ১১,০০০ জন আহত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দখলকৃত অঞ্চলে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে থাইল্যান্ড তার পূর্বাঞ্চলীয় ত্রাত প্রদেশের কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলায় সামরিক আইন জারি করেছে। রবিবার থাই গণমাধ্যম খাওসোদ জানায়, সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে ‘বিএম-২১’ রকেট হামলায় থাই সেনাবাহিনীর এক স্টাফ সার্জেন্ট নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নৌবাহিনী ত্রাত অঞ্চলের চারটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে এবং সীমান্তে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সামরিক আইন জারির ফলে নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক, যানবাহন ও স্থাপনা তল্লাশিসহ অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়েছে। থাই নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল পারাচ রত্তানাচাইপান দাবি করেন, তাদের মেরিন বাহিনী চাম রাক উপ-জেলার কয়েকটি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা চাইয়াপ্রুয়েক দুয়াংপ্রাপাত বলেন, থাইল্যান্ডের লক্ষ্য হলো কম্বোডিয়া যেন ভবিষ্যতে সামরিক হুমকি তৈরি করতে না পারে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাই বাহিনী তাদের গ্রামগুলোতে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে সীমান্ত বাণিজ্য ও মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামী সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিঙ্গাপুর থেকে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকায় পৌঁছাবে এবং দুপুর দেড়টায় ওসমান হাদিকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হবে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালকে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেছে। চিকিৎসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সব ব্যয় বহন করা হবে। প্রধান উপদেষ্টা তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। এই উদ্যোগকে অন্তর্বর্তী সরকারের মানবিক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।