টোলো নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার উজবেকিস্তান থেকে পেরুতে স্থানান্তর করেছে। ২০২১ সালের আগস্টে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও কাবুল সরকারের পতনের পর এসব হেলিকপ্টার উজবেকিস্তানে নেওয়া হয়েছিল। তালেবান সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সম্প্রতি দেশগুলোর কাছে এসব হেলিকপ্টার ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সেগুলো মানবিক কার্যক্রমে ব্যবহার করা যায়। সামরিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ জালমাই আফগানিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তানে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মনোযোগী। তার মতে, হেলিকপ্টারগুলো ফেরত পেলে সেগুলো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহার করা সম্ভব। ২০২১ সালে আফগান সরকারের পতনের পর ৪৬টি সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার উজবেকিস্তানে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে সাতটি ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তর করা হয়। এই স্থানান্তর যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান সরকারের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং আফগান সামরিক সম্পদের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
সিরাজগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুয়েল শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে পৌর এলাকার সয়াগোবিন্দ মিলন মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সিরাজগঞ্জ সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আহসানুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বোন বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং জুয়েল শেখকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১১ মাস আগে ফেসবুকে স্কুলছাত্রীর সঙ্গে জুয়েল শেখের পরিচয় হয়। পরে বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ। দলীয় পদ পাওয়ার পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করেন তিনি এবং অনলাইন যোগাযোগের প্রমাণ মুছে ফেলেন। ঘটনাটি জানাতে গেলে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা স্কুলছাত্রীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন সীমান্ত, ভ্রমণ ও চিকিৎসা খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। ভারতের ভিসা জটিলতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশিরা এখন আর দেশটিকে চিকিৎসার জন্য নিরাপদ মনে করছেন না। ফলে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও চীনের মতো দেশগুলো দ্রুত বিকল্প গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিনের যাত্রী পারাপার ৪০০-৬০০ থেকে নেমে ৬৫-৭০ এ এসে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকার ৫ আগস্টের পর ট্যুরিস্ট, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা বন্ধ করে এবং মেডিকেল ভিসায় কঠোর শর্ত আরোপ করে। এতে ভারতগামী রোগীর সংখ্যা ৮০ শতাংশ কমে যায়। বিপরীতে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ ও ভেজথানি হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগী ২০ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের হাসপাতাল ও পশ্চিমবঙ্গের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত এতে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে দেশেই আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল গড়ে তোলার, যাতে বিদেশে চিকিৎসা নির্ভরতা কমানো যায়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এটি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত নয়। সোমবার গুলশানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং জনগণকে উদ্বেগমুক্ত থাকার আহ্বান জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বাংলাদেশে মাঝে মাঝে কিছু সহিংস ঘটনা ঘটে, যা নতুন নয়। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার হত্যার উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে এবং তা বিচ্ছিন্নভাবেই দেখা যায়। নাসির উদ্দিন আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সকল পক্ষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ফাতিমা তাসনিম জুমা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধী এখনো বাংলাদেশেই অবস্থান করছে। সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, অপরাধীদের রক্ষা করার জন্য কোনো প্রোপাগান্ডা তৈরি করা হলে তা প্রতিহত করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আরেকটি পোস্টে জুমা বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জনগণের জানা জরুরি। তিনি বিকেল ৩টায় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে দেশের স্বার্থে ঐক্য প্রদর্শনের আহ্বান জানান। ওসমান হাদির আহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রকৃত বিজয়ের পথে লড়াই করতে গিয়ে তিনি জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম করছেন। তার এই আহ্বান ছাত্র ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শহীদ মিনারে ঘোষিত সমাবেশটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এক সভায় বলেন, কেউ জামায়াত-রাজাকারদের ভোট দিলে শান্তিতে থাকতে দেবেন না। ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সাগর দাবি করেন, তার বক্তব্য বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান জানান, ভিডিওটি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে, তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি দাদন মুন্সি বলেন, এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, জনগণই এর জবাব দেবে। শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে, যা নির্বাচনি পরিবেশে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি নির্বাচনি প্রচারে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার পক্ষে প্রচারে নেমেছেন অ্যাক্টিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি। গত শুক্রবারের হামলার পর হাদির অবস্থা সংকটাপন্ন থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটে নেওয়া হচ্ছে। সোমবার ফজরের নামাজের পর রনি বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে প্রচার শুরু করেন। তিনি ভোটারদের হাদির পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানান এবং তার সুস্থতার জন্য দোয়া চান। ফেসবুকে রনি জানান, বহু মানুষ হাদির জন্য দোয়া করছেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রনির এই উদ্যোগ হাদির অনুপস্থিতিতেও তার প্রচারণাকে জীবিত রাখবে। তবে ঘটনাটি নির্বাচনি সহিংসতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা নিয়ে তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান উঠেছে।
বাংলাদেশের প্রসিকিউশন আজ সোমবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে আপিল দায়ের করতে যাচ্ছে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালত এর আগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, সাজা বাড়ানোর এই আপিল আজ আপিল বিভাগে দাখিল করা হবে এবং পরে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হবে। গত ২৭ নভেম্বর প্রসিকিউশন জানিয়েছিল যে তারা শেখ হাসিনার সাজা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মামলাটি রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এটি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আপিল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। আপিল বিভাগের রায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ১৬ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সোমবারের জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে একজন ব্যক্তির জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুকের সংখ্যায় সীমা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সময় পরপর লাইসেন্স পর্যালোচনা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোরতা আনা। আলবানিজ বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষ উগ্রপন্থী হয়ে উঠতে পারে, তাই লাইসেন্স স্থায়ী হওয়া উচিত নয়। অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় তিন দশক আগে পোর্ট আর্থারের গণহত্যার পর থেকেই কঠোর অস্ত্র আইন কার্যকর রয়েছে। বন্ডি হামলার পর দেশজুড়ে অস্ত্র নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকার দ্রুত আইন সংস্কারের পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে হানুকা উৎসব চলাকালে বন্দুক হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন হামলাকারীও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের কমিশনার মাল ল্যানিয়ন জানান, ৫০ বছর বয়সী এক বাবা ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই হামলাকে সন্ত্রাসী ও ইহুদিবিদ্বেষী কর্মকাণ্ড হিসেবে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, এটি জাতির প্রাণকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে এবং এমন ঘৃণার কোনো স্থান অস্ট্রেলিয়ায় নেই। প্রধানমন্ত্রী হামলার পর অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছেন। ঘটনাটিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শোক প্রকাশ করে বলেছেন, দায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না। হামলার তদন্ত চলছে এবং এটি অস্ট্রেলিয়ায় জননিরাপত্তা ও ঘৃণাজনিত সহিংসতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন ওমর তার সাম্প্রতিক এক মতামত নিবন্ধে দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনে সহযোগিতার অভিযোগে জাতীয় পার্টির নেতাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টি কখনো আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভার অংশ, আবার কখনো বিরোধী দল হিসেবে থেকেও ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে। ওমর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের বিরুদ্ধে হাজারো মামলা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে এবং জাতীয় পার্টি এসব কর্মকাণ্ডে নীরব সহযোগী ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদীয় বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানান, বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে ৮ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে এবং প্রায় ৫০ লাখ মানুষ আসামি। ২০২৪ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ও নিবন্ধন স্থগিত হওয়ার পর ওমর দাবি করেন, জাতীয় পার্টিকেও একইভাবে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত এবং তাদের নেতাদের বিচার করতে হবে, কারণ তার মতে তারা দীর্ঘদিন ধরে দমনমূলক শাসন টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করেছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর দুটি পৃথক অভিযানে ১৩ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ১২ থেকে ১৩ ডিসেম্বর মোহমান্দ ও বান্নু জেলায় পরিচালিত অভিযানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। মোহমান্দে সাতজন এবং বান্নুতে ছয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআর দাবি করেছে, নিহতরা ভারতীয় মদদপুষ্ট ছিল, যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। গত মাসেই বান্নু জেলায় ২২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০২৫ অনুযায়ী, পাকিস্তান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর হার আগের বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে সম্ভব নয়; এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সোমবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ইউথ ভোটার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করা যাবে না। সিইসি তরুণ ভোটারদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তরুণরা সাহস ও সৃষ্টির প্রতীক, তাদের জ্ঞান ও উদ্যম দেশের উন্নয়নে অপরিহার্য। তিনি আশ্বাস দেন, ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলাকে তিনি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। নাসির উদ্দিন সবাইকে উদ্বেগমুক্ত থেকে নির্বাচনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে রোববারের গুলিবর্ষণের ঘটনায় হামলাকারী দুজনই বাবা ও ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ কমিশনার মাল ল্যানিয়ন জানান, ৫০ বছর বয়সী বাবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৪ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, অন্য কোনো সন্দেহভাজনকে খোঁজা হচ্ছে না। ঘটনার পর বনিরিগ ও ক্যাম্পসি শহরতলিতে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি নিবন্ধিত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে অস্ত্রগুলো হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না তা নিশ্চিত করতে। প্রায় দুই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের হানুকা উৎসব চলাকালে এই হামলা ঘটে, যা দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ একে “সন্ত্রাসী ও ইহুদিবিদ্বেষী অশুভ তৎপরতা” বলে আখ্যা দেন। গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, হামলাকারীরা আগে নজরদারিতে ছিল কি না, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীতে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চ সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। রবিবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। জাবের জানান, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি বিরোধী দল এতে যোগ দেবে। তবে ভারতপন্থি কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, শহীদ মিনার থেকে ভারতীয় আগ্রাসন ও আওয়ামী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক দলকে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে ঐক্য গঠনের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।