Web Analytics
logo
নোটিশঃ একনজরের সবগুলো মডিউল এখনো একটিভেট না হওয়াতে শুধুমাত্র নিউজগুলো দেখাচ্ছে ফিডে। সবগুলো মডিউল একটিভ করার পর পুরো প্লাটফর্মের সকল একটিভিটিস/আপডেট এখানে ফিড হিসেবে দেখাবে। আমরা আসছি, অনেক কিছু নিয়ে। অপেক্ষায় থাকুন!

দেশব্যাপী চলমান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর মধ্যেই বগুড়ার শাজাহানপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ছান্নু তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে মিছিলের ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অবৈধ তফসিল ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এই মিছিল করেছে। তবে শাজাহানপুর থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি দেখে অনুসন্ধান চালানো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো মিছিল হয়নি। পুলিশের ধারণা, ভিডিওটি আগেই ধারণ করা হয়েছিল এবং পরে পোস্ট করা হয়েছে। অভিযানের সময় এমন ভিডিও প্রকাশ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি চলমান নিরাপত্তা অভিযানের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে এমন কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিভ্রান্তি ও রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়াতে পারে।

Card image

সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর দাবি, সহিংসতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরএসএফের প্রধান পৃষ্ঠপোষক সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ব্রিটেনের অস্ত্র বিক্রিও বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আরএসএফের ব্যবহৃত সাঁজোয়া যানগুলোতে ব্রিটিশ তৈরি ইঞ্জিন পাওয়া গেছে। যদিও যুক্তরাজ্য সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো সমালোচনা করেনি। সুদানি উপসেনাপ্রধান ইয়াসের আল-আত্তা আরএসএফকে জাতিগত নির্মূল অভিযানের দায়ে অভিযুক্ত করে বলেছেন, বিশ্ব নীরব রয়েছে আমিরাতের আর্থিক প্রভাবের কারণে। জাতিসংঘ ইতিমধ্যে সুদানকে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে দেড় লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটেনের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও আমিরাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই নীরবতার পেছনে বড় কারণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অস্ত্র সরবরাহ ও কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে সুদানের প্রক্সি যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে।

Card image

ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই লোকসভায় জানিয়েছেন, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও নেপাল-ভুটানের সঙ্গে ভারতের সীমান্তে মোট ২৩ হাজার ৯২৬ জন অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেই আটক হয়েছে ২১ হাজারের বেশি মানুষ, যা সর্বাধিক সংখ্যক। তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১৮ হাজার ৮৫১ জন, মিয়ানমার সীমান্তে ১ হাজার ১৬৫ জন, পাকিস্তান সীমান্তে ৫৫৬ জন এবং নেপাল-ভুটান সীমান্তে ২৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ভারত-চীন সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আরও ৩ হাজার ১২০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও ভৌগোলিক জটিলতা সীমান্ত অতিক্রমের প্রবণতা বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা ও সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

Card image

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার পল্টনে নির্বাচনি প্রচারের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হামলার পর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বদলীয় ঐক্য সমাবেশে লাখো মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় তার সুস্থতার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ হাদির প্রতি সংহতি জানিয়ে নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশের দাবি তুলেছেন। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন এই হামলা হওয়ায় পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সরকারকে দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Card image

রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনে একটি মার্কিন-সমর্থিত বহুজাতিক বাহিনী পরিচালনার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং আরও আটটি ইউরোপীয় দেশ এই জোটে অংশ নেবে, যা ইউক্রেনের সেনাবাহিনী পুনর্গঠন, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখার কাজে সহায়তা করবে। এটি হোয়াইট হাউসের নতুন নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্যাকেজের অংশ, যার লক্ষ্য মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ইউরোপীয় ও ন্যাটো নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, শান্তি চুক্তি এখন আগের চেয়ে অনেক কাছাকাছি। তবে পূর্ব ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে মতভেদ রয়ে গেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ইউক্রেনকে ডনবাসের কিছু অংশ মস্কোর হাতে ছেড়ে দিতে হতে পারে, যদিও জেলেনস্কি আগে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আনতে পারে, তবে ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া জটিলতা তৈরি করতে পারে।

Card image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কাছাকাছি। জার্মানির বার্লিনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতার সঙ্গে টানা দুই দিনের আলোচনার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক পর্যায়ে রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনার প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, তবে ভূখণ্ড ছাড়ের প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নেটোর আর্টিকেল-৫-এর আদলে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত, যা রাশিয়া আপত্তি না জানাতে পারে। তবে এই নিশ্চয়তা স্থায়ী হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে। জেলেনস্কি নতুন নিরাপত্তা প্রস্তাবের প্রশংসা করলেও রাশিয়ার কাছে কোনো অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে মতবিরোধ বজায় রেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য সমঝোতা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

Card image

ভারতের নয়টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলো সতর্ক করেছে যে এটি দেশের গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দরিদ্র ও সংখ্যালঘু, বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক ক্ষমতা আরও দৃঢ় করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে সংসদে এই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক হয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, এসআইআর আসামের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি)-এর মতোই একটি গোপন পরিকল্পনা, যা মুসলিমদের নাগরিকত্ব প্রশ্নে অনিশ্চয়তায় ফেলবে। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে, এটি কেবল ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রশাসনিক উদ্যোগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, এই প্রক্রিয়া ভারতের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোকে আরও দুর্বল করতে পারে এবং আসন্ন রাজ্য নির্বাচনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা ও স্বাধীন তদারকির আহ্বান জানিয়েছে।

Card image

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন আটটি ইসলামীমুখী রাজনৈতিক দল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশল চূড়ান্তের পথে রয়েছে। লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা আসন সমঝোতা ও প্রার্থী বাছাই নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। কয়েকটি মৌলিক নীতির ভিত্তিতে প্রার্থী নির্ধারণের কাজ চলছে এবং শিগগিরই একক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) সমন্বয়ে গঠিত এই আট দল আনুষ্ঠানিক জোট নয়, বরং সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নেবে। নেতারা জানিয়েছেন, প্রতিটি আসনে আট দলের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী থাকবে এবং নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসন সমঝোতা প্রক্রিয়া অংশীদারদের মধ্যে প্রভাব ও ছাড়ের ভারসাম্য রক্ষার বড় পরীক্ষা হবে। নির্বাচনের আগে ঐক্য ধরে রাখা এবং মাঠপর্যায়ে সমর্থন নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Card image

গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একই ফিলিস্তিনি পরিবারের ৩০ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স দল। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিহতরা সবাই সালেম পরিবারের সদস্য, যারা ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর আল-রিমাল এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় পরিবারটির প্রায় ৬০ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এই উদ্ধার অভিযানটি গাজার সিভিল ডিফেন্সের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনগুলোর নিচে আটকে থাকা হাজারো ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা। সীমিত সরঞ্জাম, বিশেষ করে একটি মাত্র খননযন্ত্র নিয়ে, উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই উদ্ধার অভিযান গাজার মানবিক সংকটের গভীরতা ও পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে।

Card image

প্রায় আট মাস পর বরগুনার তালতলীর আশারচর ও নিদ্রারচরসহ উপকূলের শুঁটকিপল্লীগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। হাজারো জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক এখন ব্যস্ত প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে মাছ শুকানোর কাজে। এখানকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে, কিছু বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও পয়ঃনিষ্কাশনের দুরবস্থা এই সম্ভাবনাময় শিল্পের অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য সাগরের পানি দূষিত করছে, ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এতে শুঁটকি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা সরকারিভাবে রপ্তানির সুযোগ ও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রশাসন জানিয়েছে, শুঁটকি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভর এই শিল্পটি টেকসইভাবে গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা এখন সময়ের দাবি।

Card image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও সম্প্রসারিত করে সিরিয়া, লাওস ও আফ্রিকার ছয়টি দেশ—বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, সিয়েরা লিওন ও দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পাসপোর্টধারীরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য এমন বিদেশিদের প্রবেশ রোধ করা, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা সাংবিধানিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি হতে পারে। সিরিয়ায় দুই মার্কিন সেনা ও এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প আফ্রিকান ও মুসলিম বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা এই নিষেধাজ্ঞার পটভূমিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হওয়ায় পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিষিদ্ধ দেশের তালিকা আরও দীর্ঘ হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Card image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নওগাঁয় নির্বাচনি মাঠে উত্তেজনা বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছয়টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার পর মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের ক্ষোভে দলটি বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে এবং ধানের শীষের ভোট ব্যাংক দুর্বল হয়ে পড়ছে। জামায়াত প্রায় এক বছর আগে থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে সক্রিয় রয়েছে, ফলে তাদের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির বঞ্চিত নেতারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ, মশাল মিছিল ও সমাবেশ করছেন, যা ঘোষিত প্রার্থীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিভাজনের সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত ও অন্যান্য ছোট দল। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যে, বিএনপি দ্রুত অভ্যন্তরীণ সংকট মেটাতে না পারলে নওগাঁর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবিধা নিতে পারে। এই পরিস্থিতি জাতীয় পর্যায়ে বিরোধী জোটের ঐক্য রক্ষার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

Card image

বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড সময়মতো র‌্যাব ব্যবস্থা নিলে এড়ানো সম্ভব ছিল। ৩০ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, র‌্যাবের অগ্রবর্তী ইউনিটগুলো প্রস্তুত থাকলেও তাদের পিলখানায় প্রবেশ বা গুলি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন র‌্যাব মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার ও এডিজি মেজর জেনারেল রেজানুর খান অনুমতি আটকে রাখেন, যদিও রেজানুর পরে দায় চাপান মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দিক ও জয়নুল আবেদীনের ওপর। কমিশন আরও জানায়, পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা নিষ্ক্রিয় থেকে বিদ্রোহীদের পালাতে সহায়তা করেন এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হন। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটির দায়বদ্ধতা ও তৎকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জোরালো হতে পারে।

Card image

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে বিজয় দিবসের ভাষণে বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট ও সন্ত্রাসী শক্তির সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে। তিনি জানান, ভয় বা রক্তপাতের মাধ্যমে কেউ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। জনগণকে সংযম বজায় রাখতে, গুজবে কান না দিতে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি। শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পথচলার ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন। ড. ইউনূস তিনটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন—জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো গঠন এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, প্রতিযোগী হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গেও তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ইউনূস বলেন, ন্যায়বিচার, সংস্কার ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনই নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

Card image

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনার চার দিন পার হলেও প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে আত্মগোপনে থাকায় প্রচলিত সোর্সের বাইরে গিয়ে ম্যানুয়াল অভিযান চালানো হচ্ছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চলছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। র‌্যাব সোমবার রাতে ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে হাদির ওপর হামলা চালানো হয়। এদিকে বিজিবি সীমান্তে চেকপোস্ট স্থাপন করে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা গেলে হামলার অর্থায়ন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Card image

আরো ফিড দেখতে লগইন করুন

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।