ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গুরুতর আহত হাদির উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে বলেও জানানো হয়েছে। গত সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্সরা তার সঙ্গে রয়েছেন। গত শুক্রবার মতিঝিল এলাকায় প্রচার শেষে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজে সরকারের এই সহায়তার তথ্য জানায়। ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান, তবে সরকার বলেছে আহত রাজনৈতিক কর্মীর চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। হাদির শারীরিক অবস্থা ও তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আগামী দিনগুলোতে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৭ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে। ভারত জানিয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় মিশনের আশপাশে কিছু চরমপন্থী উপাদান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রচারিত মিথ্যা কাহিনী ভারত প্রত্যাখ্যান করছে। তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশ এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করেনি এবং প্রাসঙ্গিক প্রমাণ ভারতকে সরবরাহ করেনি। ভারত আরও জানায়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পক্ষে তারা অবস্থান নিয়েছে। এর আগে ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশ। দুই দিনের ব্যবধানে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলব করা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লোকসভায় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায় লিখিত জবাবে জানান, ৪ হাজার ৯৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তের মধ্যে ৩ হাজার ২৩৯ দশমিক ৯২ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসানো হয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের লক্ষ্য অনুপ্রবেশ রোধ ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা। একইসঙ্গে ভারত–পাকিস্তান সীমান্তের ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতার স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যা ২ হাজার ১৩৫ দশমিক ১৩৬ কিলোমিটার। বাকি ১৫৪ দশমিক ৫২৪ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাজ চলছে। এছাড়া ভারত–মিয়ানমার সীমান্তেও প্রাথমিক পর্যায়ে কাঁটাতার স্থাপনের অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, সীমান্তে কাঁটাতার স্থাপন নিরাপত্তা জোরদার করলেও সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। কঠিন ভৌগোলিক এলাকায় কাজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, গত মার্চ মাস থেকে তারা গাজায় নিজেদের ত্রাণসামগ্রী পাঠাতে পারছে না। ওই সময় ইসরাইল গাজা উপত্যকায় পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছিল। ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সংস্থাটি জানায়, এখনো তারা তাঁবু, কম্বল ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী গাজায় পৌঁছাতে পারছে না। সাম্প্রতিক ঝড়ে গাজার অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের গাজা মিডিয়া ম্যানেজার শুরৌক আলজাজিরাকে বলেন, জাতিসংঘের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ ত্রাণ পাঠানো হয়েছে, যা গাজার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। এক সাহায্যকর্মী জানান, আশ্রয়ের জায়গা খুঁজে পেতে ফিলিস্তিনিরা এখন মরিয়া। সংস্থাটি স্থানীয়ভাবে কিছু আশ্রয়কেন্দ্র সরবরাহের চেষ্টা করেছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য। মানবিক সংস্থাগুলো ইসরাইলকে অবরোধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর না হয়।
বাংলাদেশের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছে এবং আগামী ২১ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যা করেন। প্রসিকিউশন জানায়, তিনটি বড় ঘটনার মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘অপারেশন’ নামে প্রচার করা হলেও, প্রকৃতপক্ষে তা ছিল পরিকল্পিত গুম ও হত্যার ঘটনা। নিহতদের লাশ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় ফেলে দেওয়া হতো প্রমাণ নষ্টের উদ্দেশ্যে। এই মামলাকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মামলার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে আইন ভঙ্গ করে আন্দোলন ও অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সোমবার একাধিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের বরখাস্তের বিষয়টি জানায়। গত ১০ ডিসেম্বর ‘সচিবালয় ভাতা’ দাবিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয়ে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অর্থ উপদেষ্টাকে কক্ষে আটকে রাখেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি সচিবালয় ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। বরখাস্তদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবিরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আন্দোলনের সময় তারা সচিবালয়ের দরজার সামনে স্লোগান দেন এবং উপদেষ্টাকে বের হতে বাধা দেন। সরকারি সূত্র বলছে, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলো বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে অতিরিক্ত কঠোর বলে দাবি করছে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে কয়লার ব্যবহার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন টন। সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে কয়লার চাহিদা ০ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। আইইএ জানায়, বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা ও শিল্পায়নের কারণে চীন ও ভারত বৈশ্বিক কয়লা ব্যবহারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে রয়ে গেছে। তবে চীনে ব্যবহার স্থিতিশীল থাকলেও ভারতে বর্ষা মৌসুমে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় কয়লার ব্যবহার কিছুটা কমেছে। অপরদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরকারি সহায়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার চাহিদা বেড়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, কয়লা মানবসৃষ্ট কার্বন নিঃসরণের প্রধান উৎস এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। তবে বিকল্প জ্বালানির সম্প্রসারণের ফলে দশকের শেষ দিকে কয়লার চাহিদা ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আইইএ আশা করছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বর্তমানে এক নতুন সংকটে পড়েছে, কারণ শত শত সেনা সদস্য ও কর্মকর্তা পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন এবং অনেকেই দেশত্যাগ করছেন। ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিয়মিত বাহিনীর অফিসার ও নন-কমিশনড অফিসারদের কাছ থেকে প্রায় ৫০০টি পদত্যাগের আবেদন জমা পড়েছে। সেনা কর্তৃপক্ষ সৈন্যদের দেশত্যাগের প্রবণতা নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে, যা কর্মী সংকটকে আরও গভীর করছে। ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, পদত্যাগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, যা বাহিনীর কার্যক্ষমতা ও প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। জানা গেছে, সেনাবাহিনী হাজার হাজার অফিসার ও এনসিওদের পদত্যাগ থেকে বিরত রাখতে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ইসরাইলি সেনাবাহিনীকে তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। আগামী মাসগুলোতে সেনাবাহিনী কর্মী ধরে রাখার জন্য নতুন প্রণোদনা বা নীতিমালা গ্রহণ করতে পারে।
মঙ্গলবার রাতে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে শতাধিক মানুষ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং গাজায় ইসরাইলের চলমান হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেন। অংশগ্রহণকারীরা ক্রয়ৎসবার্গ এলাকার হোহেনশটাউফেন স্কয়ারে জড়ো হয়ে লণ্ঠন ও মোমবাতি হাতে নিয়ে হালেশেস টোর সাবওয়ে স্টেশনের দিকে অগ্রসর হন। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, তারা ফিলিস্তিনি পতাকা বহন করেন এবং “ফ্রি ফিলিস্তিন”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে জার্মান সরকারের ইসরাইলপন্থী নীতির সমালোচনা করেন। বিক্ষোভকারীরা বলেন, গাজায় ইসরাইলের হামলায় ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে প্রায় ৭০ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে নীরব ভূমিকা পালন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বার্লিনের এই মশাল মিছিল ইউরোপজুড়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে চলমান প্রতিবাদ আন্দোলনেরই অংশ, যা আন্তর্জাতিক মহলে মানবিক সহায়তা ও যুদ্ধবিরতির দাবিকে আরও জোরদার করছে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ জানিয়েছেন, ইউরোপীয় নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হিসেবে ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত তার দেশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মিশন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নয়, বরং ইউরোপের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জেডডিএফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মের্জ বলেন, ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশও অংশ নিতে পারে। বার্লিনে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর দুই দিনের বৈঠকের পর এই অবস্থান স্পষ্ট হয়। আলোচনায় ইউরোপীয় নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব উঠে আসে, যা ইউক্রেনীয় সেনাদের সহায়তা ও আকাশ-সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। মের্জ বলেন, এমন উদ্যোগ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে পারে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিদেশি সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, মের্জ মনে করেন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে এটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সব তেলবাহী জাহাজের ওপর পূর্ণাঙ্গ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এই নির্দেশের মাধ্যমে কারাকাসের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও জোরালো হয়েছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার ‘চুরি করা তেল’ থেকে অর্জিত অর্থ মাদক ও মানবপাচারে ব্যয় করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে। এই পদক্ষেপের আগে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক মোতায়েন এবং একটি ভেনেজুয়েলান তেলবাহী জাহাজ জব্দ করে। ভেনেজুয়েলার দাবি, এসব পদক্ষেপের আসল উদ্দেশ্য মাদুরো সরকারকে উৎখাত করা ও তেল সম্পদ দখল করা। বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি বন্ধ হলে দেশটির দুর্বল অর্থনীতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে, যার ফলে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। ওপেকের তথ্যমতে, বিশ্বের সর্বাধিক ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলা এখন বৈদেশিক বাজারে প্রবেশে বড় বাধার মুখে পড়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়, তবে যাত্রাপথে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পর সাময়িক উন্নতি হলেও বুধবার দুপুরে আবারও তার অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসকরা এখন যাচাই করছেন, তিনি যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরের উপযোগী কিনা। চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, হাদির মস্তিষ্কে জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যা সিঙ্গাপুরে সম্ভব নয়। এ কারণে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের তিন উপদেষ্টা হাদির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, শারীরিক স্থিতিশীলতা না এলে দীর্ঘ সফর ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হাদির পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চ তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চেয়েছে এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
সাধারণত মেঘলা ও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার জন্য পরিচিত যুক্তরাজ্য ২০২৫ সালে ইতিহাসের সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল বছর পার করেছে। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়ে ১ হাজার ৬২২ ঘণ্টা সূর্যের আলো রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০০৩ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে দীর্ঘ সময় পরিষ্কার আকাশ এবং ঘন ঘন উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে এই রেকর্ড তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। আবহাওয়া দপ্তর আরও জানায়, ২০২৫ সাল যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৮ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে বলে সতর্ক করলেও, সূর্যালোক বৃদ্ধির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ১৯৮০-এর দশক থেকে যুক্তরাজ্যে সূর্যের উপস্থিতি সামগ্রিকভাবে বেড়েছে। তবে এর কারণ অনিশ্চিত—এটি প্রাকৃতিক পরিবর্তন বা বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসলের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফল হতে পারে।
ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশে কানাডার একটি প্রতিনিধিদলকে বাধা দিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে। ছয়জন কানাডীয় সংসদ সদস্য ও ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস (এনসিসিএম)–এর সদস্যদের নিয়ে গঠিত এই দলকে আগে অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানায়, সফরটি আয়োজন করেছে কানাডিয়ান মুসলিম ভোট নামের একটি সংগঠন, যা ইসলামিক রিলিফ কানাডা থেকে তহবিল পায়—একটি সংস্থা যাকে ইসরাইল ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’-এর সহযোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এনসিসিএম প্রধান স্টিফেন ব্রাউন এই সিদ্ধান্তকে হতাশাজনক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এটি অধিকৃত অঞ্চলের বাস্তবতা স্বাধীনভাবে পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত করছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানান, প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং কানাডীয় নাগরিকদের প্রতি আচরণ নিয়ে ইসরাইলের কাছে আপত্তি জানানো হয়েছে। কানাডায় ইসলামিক রিলিফ কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন নয় এবং তারা মানবিক সহায়তার জন্য সরকারি অনুদান পেয়ে থাকে। এই ঘটনায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার ১৫ ডিসেম্বর এক সরকারি অনুষ্ঠানে এক মুসলিম নারী চিকিৎসকের হিজাব টেনে নামানোর ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ঘটনাটির ভিডিও প্রকাশের পর দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিরোধী দলগুলো মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা ও পদত্যাগ দাবি করেছে। ঘটনাটি ঘটেছিল আয়ুষ বিভাগের এক চিকিৎসককে নিয়োগপত্র দেওয়ার সময়। কংগ্রেস, পিডিপি ও ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ বিভিন্ন দলের নেতারা এই আচরণকে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ঘটনাটিকে “স্তম্ভিতকর” বলে উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি বয়সজনিত সমস্যা নাকি মুসলিমদের অপমানের স্বাভাবিকীকরণের অংশ। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাংসদ আগা রুহুল্লাহ ও মুখপাত্র ইমরান নবি দার বলেন, একজন সাংবিধানিক পদধারীর এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। ঘটনাটি বিহার ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্ক নিতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং রাজ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।