বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় আগামী শুক্রবার সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মমতে প্রার্থনা আয়োজন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার জুলাই আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধা হাদির অবদানকে স্মরণ করছে এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ আহ্বানে সাড়া দেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা জাতির ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জের জাউয়া বাজারে শোক ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা হত্যার বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির আহ্বান জানান। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গত শুক্রবার জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রশাসন এখনও তদন্তের অগ্রগতি বা সন্দেহভাজনদের বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (ছাত্রদল) বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। টিএসসি এলাকা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেগম রোকেয়া হলের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়। সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির ও ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগীরাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত করতে হাদিকে হত্যা করেছে। তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে হাদি ছিলেন সামনের সারির যোদ্ধা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল অনন্য। নেতারা হাদির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার হত্যাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানোর প্রচেষ্টা নিন্দা করেন। বিক্ষোভ শেষে ছাত্রদল দ্রুত বিচার দাবি করে এবং গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানায়। ঘটনাটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা আব্দুল বাসিত আজাদ। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সংবাদমাধ্যমকে ফোনে তিনি এ শোকবার্তা জানান। তিনি হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। আল্লামা আজাদ বলেন, হাদি ছিলেন একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং তরুণ প্রজন্মকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আজ সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শাহবাগে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী’ মঞ্চের উদ্যোগে জনসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমর্থকরা জড়ো হবেন। এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী তরুণ বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির শাহাদাতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি হাদির পরিবার, সহকর্মী ও অনুসারীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার অসমাপ্ত সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রেজাউল করীম বলেন, হাদির হত্যাকারী, নির্দেশদাতা ও চক্রান্তকারীদের বিচারের আওতায় আনতে সরকারের সর্বশক্তি প্রয়োগ করা উচিত। তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও এর দালালদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান, যা ইসলামী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের জাতীয়তাবাদী অবস্থানের প্রতিফলন। হাদির মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ‘আধিপত্যবিরোধী’ কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ও মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অস্ত্রোপচারের পর তার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ও ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল আহাদ। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, অস্ত্রোপচারের পর আর কোনো আপডেট পাওয়া যায়নি এবং পরে সরাসরি মৃত্যুর খবর জানানো হয়। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গুলিবর্ষণের ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব আন্দোলনের দুই শীর্ষ নেতা জান্নাত আরা রুমি ও ওসমান শরীফ হাদি একই দিনে মারা গেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হাজারীবাগের এক ছাত্রী হোস্টেল থেকে এনসিপি নেত্রী রুমির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আর রাত সাড়ে নয়টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা ওসমান হাদি মারা যান বলে তার ভাই ওমর হাদি নিশ্চিত করেন। রুমি দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ও অনলাইন বুলিংয়ের শিকার ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তার সহকর্মীরা। অপরদিকে, হাদি আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং নির্বাচনি প্রচারণার বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। তার হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দুই নেতার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাগরিক সমাজ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, আর সমর্থকরা বলছেন—এটি বাংলাদেশের স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠরোধের আরেকটি দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, হাদির অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে দেশ এক সাহসী ও ন্যায়ের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের একজন সক্রিয় মুখপাত্র হিসেবে সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। প্রধান বিচারপতি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তাঁর এই শোকবার্তা নাগরিক সমাজে হাদির অবদানের প্রতি উচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। হাদির মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে কবিতা ও গান ভাইরাল হয়েছে, যা তাঁর জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের প্রতিফলন। তাঁর মৃত্যু নাগরিক সমাজে সাহসী কণ্ঠস্বরের সংকট নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিহত ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদির আদর্শে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমবেত হন। ‘আমরা সবাই হাদি’ ও ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে’—এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। বিক্ষোভে বক্তারা বলেন, হাদির আত্মত্যাগ জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিক সংগ্রামের প্রতীক। তারা অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদ ও বাইরের আধিপত্যের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে রাজপথেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসেও হাদির হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন তরুণদের রাজনৈতিক অসন্তোষ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে শোক মিছিল করেছে সংগঠনটি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নানা স্লোগান দেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি হাদিকে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হাদির মৃত্যুতে তার অনুসারীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাকে ‘শহিদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি, তবে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে হাদি মারা যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, হাদির মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ মানবিক মূল্য আবারও স্মরণ করিয়ে দিল। তিনি হাদিকে সাহসী রাজনৈতিক কর্মী ও নির্ভীক কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তারেক রহমান শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি দ্রুত তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তির আহ্বান জানান। হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান বিন হাদি। তার মৃত্যুর পর সংগঠনটি শুক্রবার বাদ জুমা সারাদেশের মসজিদে বিশেষ দোয়া এবং প্রতীকী কফিন মিছিলের আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জুলাই ঐক্য হাদিকে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী’ হিসেবে উল্লেখ করে তার আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানায়। সংগঠনটি সমর্থকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে জানায়, হাদির মৃত্যু তাদের আন্দোলনের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। সিঙ্গাপুরে প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ায় সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আহ্বান দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও কঠোর হতে পারে। শুক্রবারের কর্মসূচি সরকারের সহনশীলতার একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মরদেহ শুক্রবার দেশে আনা হবে এবং শনিবার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. আব্দুল আহাদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে তার মাথায় গুলি লেগে মারাত্মক ক্ষতি হয় বলে চিকিৎসকরা জানান। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। ওসমান হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি, তবে ঘটনাটি নির্বাচনী সহিংসতা ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশি সাংবাদিক ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া তরুণ কর্মী ওসমান হাদিকে স্মরণ করে একটি আবেগঘন নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি হাদিকে নির্ভীক, নির্লোভ ও আদর্শবাদী বিপ্লবী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্য ও আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। রহমানের মতে, হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে নৈতিক দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। নিবন্ধে মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করেন, হাদির ওপর হামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও দেশীয় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী একত্রে বিরোধী কণ্ঠকে দমন করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের সমালোচনা করে বলেন, এটি সরকারের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ইঙ্গিত দেয়। এই লেখাটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মতাদর্শিক বিভাজনের প্রতিফলন, যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় পরিচয় ও বিদেশি প্রভাবের প্রশ্নগুলো ক্রমেই মুখ্য হয়ে উঠছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুতে আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণা দেন। তিনি হাদিকে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের অমর সৈনিক হিসেবে উল্লেখ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এদিন দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শুক্রবার বাদ জুমা দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদি মারা যান। চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।