আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বন্ধ হওয়া ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, তবে ঘোষণার এক বছর পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত ১৩ সদস্যের টাস্কফোর্স সুপারিশ করলেও অর্থ মন্ত্রণালয় এখনো কোনো বরাদ্দ দেয়নি। ফলে শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, পঞ্চগড়, পাবনা ও কুষ্টিয়ার মিলগুলো বন্ধই রয়ে গেছে, এতে কর্মকর্তা, শ্রমিক ও আখচাষিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ মিলের জন্য ৬৩ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ চাইলেও অর্থ মন্ত্রণালয় সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে কুষ্টিয়া চিনিকলকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অধীনে নেওয়ার উদ্যোগে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএসএফআইসি এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে, তবে বেজা বলছে, মিলটি কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে দেশের চিনি উৎপাদন কমে গেছে এবং বাজারে দাম বেড়েছে। অর্থ বরাদ্দ ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে মিলগুলো পুনরায় চালুর সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রণী নেতা শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সারাদেশে জুলাই আন্দোলনের সকল স্পটে অবস্থান কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। নাহিদ ইসলাম তাঁর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন শক্তি জুলাই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি আন্দোলনকারীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং মিডিয়া ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, শরিফ ওসমান হাদির আদর্শ ধারণ করেই বাংলাদেশ ও জুলাই আন্দোলনকে রক্ষা করতে হবে। আজ সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে, আর প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান শরিফ হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি মাঠ ছাড়বেন না। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, হাদি শহীদের মর্যাদা নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তার রক্ত ন্যায়বিচারের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে থাকবে। নাহিদের এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে যখন শাহবাগে ‘আধিপত্যবাদবিরোধী’ সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন নতুন করে সক্রিয় হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, হাদির মৃত্যু জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের লাখো মানুষের কাছে সাহস ও ত্যাগের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। সামাজিক মাধ্যমে তার পোস্ট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যদিও প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনার পর আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে এবং সরকার-বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন সমন্বয় দেখা দিতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ফেসবুক পোস্টে জানান, বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত এবং বিকাল ৩টায় শাহবাগে আধিপত্যবাদবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দেশের ছাত্রসমাজকে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। হাদিকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী সংগ্রামের সেনানী হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রনেতার হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রাম, ইসলামী, জগন্নাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তি দাবি করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। এখনো পর্যন্ত সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে ছাত্রনেতারা বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম ছাত্র-জনতাকে সচেতন, সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান। সাদিক কায়েম বলেন, আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের অগ্রসেনানী শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা এবং বিদেশি প্রভাব ও প্রক্সি ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম জরুরি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু দেশীয় সহযোগী শান্তিপূর্ণ ক্ষোভকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে এবং সংবাদপত্র অফিসে হামলার ঘটনাও তার অংশ হতে পারে। তার এই আহ্বানকে ঘিরে ছাত্রসমাজে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম শুক্রবার রাতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ভারতের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তি নষ্ট হলে ভারতেরও শান্তি থাকবে না। এই মন্তব্যটি আসে জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী কণ্ঠস্বর শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর আয়োজিত শোক সমাবেশে। হাদি বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩২ বছর বয়সে মারা যান। শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র, যার মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং আজ সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তার ঢল নেমেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাহফুজ আলমের বক্তব্য সাম্প্রতিক জাতীয়তাবাদী উত্তেজনা ও প্রতিবেশী সম্পর্কের জটিলতার প্রতিফলন। শাহবাগে বড় আকারের সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে, যা আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে। বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে তিনি এই আহ্বান জানান, যা দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী ও ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী কণ্ঠস্বর শরীফ ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স ছিল ৩২ বছর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন, এবং ইনকিলাব মঞ্চের সামাজিক মাধ্যমে খবরটি প্রচারিত হয়। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বানকে অনেকেই জাতীয়তাবাদী আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই বক্তব্য যদি জনমনে আরও প্রভাব ফেলে, তবে তা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার প্রেস সচিবের মাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি হাদির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিজয়নগরে হামলার শিকার হওয়ার এক সপ্তাহ পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি মারা যান। হাদির মৃত্যুর পর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন এবং শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনায় শোক ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ায় সিঙ্গাপুরে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। তার মৃত্যু আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বিভিন্ন স্থান ঘুরে শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা হাদির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার শপথ নেন। সমাবেশে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও ভিপি আবদুর রশিদ জিতু বক্তব্য দেন। তারা বলেন, হাদির হত্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ভিপি জিতু শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান, যেখানে সবাই হত্যাকারীদের বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই বিক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শোকবার্তায় নুর বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন দেশের একনিষ্ঠ ও সাহসী তরুণ কণ্ঠস্বর, যার দেশপ্রেম ও সংগ্রামী মনোভাব স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জানান, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের সহযোদ্ধার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। নুরুল হক নুর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান। আজ সন্ধ্যায় হাদির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, এবং তার স্মরণে রাজনৈতিক কর্মীরা সমাবেশের আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ছাত্র ও জনতা ডাকবাংলা তিন রাস্তার মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে বারোটার দিকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে ইসাহাক আলী, তরিকুল ইসলাম, নাজিব ও ইস্রাফিলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা হাদির রাজনৈতিক ভূমিকা ও জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে তার মৃত্যুর বিচার দাবি করেন। এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এই ঘটনা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই চৌরঙ্গী মোড় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে সমাবেশে পরিণত হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন পৌর জামায়াতের আমির সোহেল রানা। এতে অংশ নেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আতাউর রহমান, উপজেলা শিবির সভাপতি খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর একটি চক্র সহিংসতায় নেমেছে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা করছে। তারা ওসমান হাদিকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সাহসী কণ্ঠস্বর বলে উল্লেখ করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ঘটনাটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোনো গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। বৃহস্পতিবার রাতে এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। উপাচার্য অধ্যাপক খান বলেন, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু দেশ ও সমাজের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল শিক্ষার্থী, যার স্মৃতি সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের হৃদয়ে চিরদিন অম্লান থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়াত শিক্ষার্থীর অবদান স্মরণ করে জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এখনো জানানো হয়নি কবে ও কোথায় তার দাফন সম্পন্ন হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জোহা চত্বরে সমবেত হয়ে শিক্ষার্থীরা শহরের দিকে মিছিল নিয়ে যান এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানান। বিক্ষোভ চলাকালে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন এবং বিচার বিলম্ব হলে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। পরে বিক্ষোভকারীরা রাজশাহী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালান এবং ভবনটি ভেঙে ফেলার হুমকি দেন। ঘটনাটি রাজশাহীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শিক্ষাঙ্গনের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন।
বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ শরিফ ওসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় আগামী শুক্রবার সারাদেশে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে স্ব স্ব ধর্মমতে প্রার্থনা আয়োজন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার জুলাই আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধা হাদির অবদানকে স্মরণ করছে এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছে। বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ আহ্বানে সাড়া দেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা জাতির ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।