বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ঘোষণা করেছেন যে রাশিয়ার তৈরি ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং এটি এখন পূর্ণ যুদ্ধ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মিনস্কে ৭ম অল-বেলারুশিয়ান পিপলস অ্যাসেম্বলিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রাথমিক অবস্থান প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগের দিনই এটি মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বেলারুশ জানিয়ে দিচ্ছে যে পরিস্থিতি জটিল হলে দেশটি প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ২০২৪ সালে ইউক্রেনের ডনিপ্রো শহরে রাশিয়ার হামলায়। লুকাশেঙ্কো জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পূর্বে এই মোতায়েন বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “গঠনমূলক কিন্তু কঠিন” সংলাপের কথাও উল্লেখ করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও জানান, বেলারুশে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে, যদিও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতভেদ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের লোকসভা কমিটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের পর ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। কমিটি বলেছে, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে এবং সরকারকে একাধিক নীতিগত সুপারিশ দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকছে, যা ভারতের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে। চীনের উপস্থিতি বিশেষভাবে বেড়েছে মংলা বন্দরের সম্প্রসারণ, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি ও পেকুয়া সাবমেরিন ঘাঁটির মাধ্যমে। কমিটি আরও জানায়, আগে নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে, অথচ অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে—যা নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কমিটি সুপারিশ করেছে, বাংলাদেশে কোনো বিদেশি শক্তিকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া ঠেকাতে কঠোর নজরদারি এবং উন্নয়ন ও বন্দর সুবিধায় বাংলাদেশকে তুলনামূলক সুবিধা দেওয়ার। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেদনটি ভারতের আঞ্চলিক নীতিতে পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত এক মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, খালেদা জিয়াকে সেদিন একটি ছোট চিকিৎসা প্রক্রিয়ার (প্রসিডিউর) মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা তিনি সফলভাবে গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন, যেখানে আইসিইউর সব সুবিধা রয়েছে। ডা. জাহিদ বলেন, আগের তুলনায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল এবং কোনো অবনতি ঘটেনি। তিনি আরও জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট। তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন একজন জ্যেষ্ঠ ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা এবং ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পূর্ব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শাসনব্যবস্থা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কারওয়ানবাজার ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিজিবি সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিমানবন্দরের সিভিল অ্যাভিয়েশন এলাকা, ডোমেস্টিক টার্মিনাল ও অভ্যন্তরীণ গোলচত্বরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতেও পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। হাদির মৃত্যুর ঘটনায় তার সমর্থকরা হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিজিবি মোতায়েন অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, কলম্বিয়া, মিশর, কসোভো, ভারত, মরক্কো ও তিউনিসিয়াকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা আশ্রয় নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন নীতিতে এসব দেশ থেকে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন আর আগের মতো গুরুত্ব পাবে না এবং অধিকাংশ আবেদন প্রাথমিকভাবে বাতিল হতে পারে, যদি না আবেদনকারী ব্যক্তিগতভাবে জীবনের ঝুঁকি প্রমাণ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালের ইইউ আশ্রয় সংস্কারের ধারাবাহিকতা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা এড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ফরাসি এমপি মেলিসা কামারা ও ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিল সতর্ক করেছে যে, এই নীতি নজরদারিহীন প্রত্যাবাসন কেন্দ্র ও অমানবিক আচরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, ইইউ কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করবে। ২০২৬ সালের জুনে নতুন আশ্রয় ও অভিবাসন চুক্তি কার্যকর হবে। ইইউ জানিয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছেন, ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি পরিদর্শন করে ছায়ানটের সংগঠক পার্থ তানভীর নভেদসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের নির্দেশ দেন। ফারুকী বলেন, সরকার ভবনটির সংস্কার ও পুনরায় চালু করার জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা দেবে। ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, এই হামলা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচাল ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ। সংস্কৃতি উপদেষ্টা আরও বলেন, সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলা কেবল অপরাধ নয়, এটি গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক চেতনার পরিপন্থি। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার পলাতক আসামি সুকান্ত দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার দুপুরে বান্দরবান সদর থানার নীলাচল যৌথ খামার এলাকা থেকে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম ও র্যাব-১৫ কক্সবাজারের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। ৩০ বছর বয়সী সুকান্ত দত্ত চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বারখাইন এলাকার বাসিন্দা। র্যাব জানায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসের অনুসারীদের বিক্ষোভের সময় আইনজীবী আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও কর্মবিরতি অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, সুকান্ত দত্তের গ্রেপ্তার মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিয়েছে। অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের নায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার দিনভর বিক্ষোভে উত্তাল ছিল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে বিশেষ দোয়া, কফিন মিছিল, সমাবেশ ও ব্লকেডসহ নানা কর্মসূচি পালন করে বিভিন্ন সংগঠন। এতে রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। আন্দরকিল্লা ও জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ থেকে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, হত্যার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরও প্রশাসন সাতদিনে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তারা দাবি জানান, হত্যাকারীদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে জনঅসন্তোষ বাড়ছে। তদন্তে অগ্রগতি না হলে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলেও আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ছাত্রনেতা শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে খুব শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার বিকেলে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সমবেত হয়ে ছাত্র ও জনতা রাজপথে অবস্থান নেবে এবং বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সংগঠনটি জানায়, ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়া অন্য কারও নির্দেশে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তারা হাদিকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা নতুন করে ছাত্র আন্দোলনের গতি বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, কারণ ইনকিলাব মঞ্চের পরবর্তী কর্মসূচি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ১৯ ডিসেম্বর নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, হামলার রাতে আতঙ্কিত সাংবাদিকদের কাছ থেকে সাহায্যের ফোন পেলেও সময়মতো সহায়তা পৌঁছাতে পারেননি। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ১৮ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি পত্রিকার কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। শফিকুল আলম, যিনি নিজেও সাবেক সাংবাদিক, ঘটনাটিকে দেশের গণমাধ্যমের ওপর অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন। সাংবাদিক সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে। এই হামলা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি বাড়ছে।
ছাত্রনেতৃত্বাধীন সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ তাদের অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা সংগঠনটির বাইরে কোনো নির্দেশনা বা প্ররোচনায় সাড়া না দেন। শুক্রবার বিকেলে সংগঠনটির ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ইনকিলাব মঞ্চ শহিদ ওসমান হাদির মরদেহ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আসবে। ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে রাজপথে অবস্থান করে বিচারের দাবিতে স্লোগান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি তাদের বার্তায় ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জানায়, তারা খুব শিগগিরই কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে এবং ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এ ঘটনার পর নাগরিক সমাজের সংগঠন ‘সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যেখানে ছাত্র ও নাগরিকদের মধ্যে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পেছানোর একটি অপকৌশল থাকতে পারে। শুক্রবার গুলশানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিএনপি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায় এবং সরকারকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। তিনি আরও বলেন, সরকারের উচিত ছিল আগেই পরিস্থিতি অনুমান করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কিছু নির্দিষ্ট স্থানে হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা সারাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অংশ হতে পারে। সালাউদ্দিন আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তিনি জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সব প্রস্তুতি চলছে এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত কর্মসূচি সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে, যা কোনো জনসভা নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। ফ্যাসিবাদী অপশক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু ঘটে। শুক্রবার এক শোকবার্তায় ডা. ইরান বলেন, হাদি ছিলেন ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক সাহসী কণ্ঠস্বর, যিনি অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। ডা. ইরান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নাগরিক স্বাধীনতার সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে পারে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। দলটির দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে রব গভীর শোক প্রকাশ করে দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। রব বলেন, হাদির মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা গণমাধ্যমে হামলা পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি ‘নিউ এজ’ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনাকে দুঃখজনক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো আবেগপ্রসূত পদক্ষেপ যেন জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অর্জনকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।