ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য ফাজিল (অনার্স) ২০২৪ পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার নতুন তারিখ পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। এই সিদ্ধান্তে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়েছেন, যারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যদিও স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা কমাতে দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বছরের শেষ সময়ে এমন পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় একাডেমিক ক্যালেন্ডারে প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পুনঃতালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সতর্ক করে বলেছেন, দেশে কোনো দূতাবাসে হামলা হলে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি সবাইকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে আন্দোলন চালানোর আহ্বান জানান। নাসীরুদ্দীন বলেন, দূতাবাসে হামলা বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সরকার বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত, তবে এনসিপি কোনোভাবেই ভারতীয় দূতাবাসে হামলার পক্ষে নয়। কর্মসূচিতে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় এনসিপির এই অবস্থানকে অনেকেই সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখছেন। দলটি অহিংস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়ে সহিংস অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস পেয়েছেন, যা তাকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার সুযোগ দেবে। দলীয় ও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি বৃহস্পতিবার আবেদন করার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয় সময় ট্রাভেল পাস হাতে পান। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি তা নবায়ন করেননি। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেননি। ফলে দেশে ফিরতে হলে তাকে এককালীন ট্রাভেল পাস নিতে হয়েছে। তার এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা আগামী জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তার আগমনের আগে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায়। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। সেখানে সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মরদেহ গ্রহণ করেন। সিঙ্গাপুর থেকে হাদির বড় ভাই আবু বকর মরদেহের সঙ্গে আসেন। শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের অনুরোধে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, মরদেহ হিমাগারে রাখা হয়েছে এবং শাহবাগে কর্মীরা অবস্থান নেবে। তারা আন্দোলনকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং সহিংসতা এড়াতে সতর্ক করেছে। হাদির মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনায় রাজনৈতিক ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে শান্তিপূর্ণ শোকপালনের আহ্বান জোরালো হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য, সংযম ও বিচক্ষণতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর সারাদেশে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কিছু পক্ষ এই ক্ষোভকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে, যা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, সংকটময় এই সময়ে জাতীয় ঐক্য, দায়িত্বশীলতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশই দেশের অগ্রগতির একমাত্র পথ। সকল নাগরিককে সচেতনতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা আগামী শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জানাজার সময় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে বর্তমানে হাদির মরদেহ রাখা আছে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজে শোক ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিটিজেন ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন সংগঠন হাদির হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো সাম্প্রতিক সংবাদপত্র অফিসে হামলার ঘটনাকেও নিন্দা জানিয়েছে। হাদির জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী শরিফ ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে। শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, হাদির মরদেহ বিমানবন্দর থেকে হিমঘরে নেওয়া হয়েছে এবং কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের অনুরোধে কবি নজরুলের পাশে হাদিকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বান, আন্দোলনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো গোষ্ঠী যেন অনুপ্রবেশ বা সহিংসতা ঘটাতে না পারে। সংগঠনটি জানিয়েছে, মরদেহ দেখার সুযোগ থাকবে না। হাদির মৃত্যুর ঘটনায় নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সাম্প্রতিক সংবাদপত্র অফিসে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। নজরুলের পাশে তার সমাধি তাকে প্রতীকীভাবে জাতীয় আন্দোলনের ধারার সঙ্গে যুক্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া জুলাই বিপ্লবী শহীদ হাদির মরদেহ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তার মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে হাদির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।
গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ) নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে এবং সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে হামলা ও রাজনৈতিক নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ওপর আঘাত এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি। তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, ফিরোজ আহমেদ ও তাসলিমা আখতারসহ নেতারা প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং হামলার নিন্দা জানান। তারা অন্তর্বর্তী সরকারের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, সরকারের এই ব্যর্থতা গণমাধ্যমের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। রুবেল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এই সহিংসতা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে। তারা দেশি-বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শক্তির সভাপতি জিয়াউদ্দিন আয়ন অভিযোগ করেন, বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদীকে ভারতীয় মদদে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইন্টেরিম সরকারের ব্যর্থতার কারণেই হাদীর মৃত্যু ঘটেছে এবং ভারতে পালিয়ে থাকা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দেশে ফেরত আনার দাবি জানান। আয়ন হুঁশিয়ারি দেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের হস্তান্তর না করা হলে ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে এবং ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে। তিনি জুলাই হামলায় জড়িত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দ্রুত বিচারেরও দাবি জানান। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। উপাচার্য হাদীর মৃত্যুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। দাবি পূরণ না হলে জানুয়ারিতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে।
ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনগুলো তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পৃথক বার্তায় হাদির পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, তারা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে তরুণ নেতা হাদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে। যুক্তরাজ্য হাইকমিশনও গভীর দুঃখ প্রকাশ করে কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনও একইভাবে শোক জানিয়ে হাদির মৃত্যুতে গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করে। হাদির মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার মরদেহ হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নাগরিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তদন্তের দাবি উঠেছে।
শুক্রবার বিকেলে শাহবাগের জুলাই চত্বরে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বোনকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী করার প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি হাদির মৃত্যুর পর রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশে বক্তারা শাহবাগ চত্বর ও হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নেওয়ার দাবি জানান। সমাবেশে হাজারো তরুণ, নারী ও পরিবার অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারীরা পতাকা হাতে স্লোগান দেন— ফ্যাসিবাদবিরোধী ও হাদির রক্ত বৃথা না যাওয়ার প্রতিশ্রুতিতে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার কবীর বলেন, হাদি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন এবং তার আত্মত্যাগ জাতির প্রেরণা হয়ে থাকবে। হাদির বোনকে প্রার্থী করার এই প্রস্তাবকে অনেকে প্রতীকী রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও বিরোধী রাজনীতির গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের তরুণ নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার ঢাকায় অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনগুলো তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পৃথক শোকবার্তা প্রকাশ করে হাদির পরিবার, বন্ধু ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানায়। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস জানায়, তারা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এই তরুণ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে। যুক্তরাজ্য হাইকমিশন ও ইইউ দূতাবাসও হাদির মৃত্যুতে গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করে এবং শোকাহতদের পাশে থাকার অঙ্গীকার জানায়। এই কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়াগুলো ঘটনাটির গুরুত্ব ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক হিসেবে পরিচিত হাদি ছিলেন তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় এক সংগঠক। তার মৃত্যুতে নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান, তবে এখনো কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়নি।
বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো ঘোষণা করেছেন যে রাশিয়ার তৈরি ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে এবং এটি এখন পূর্ণ যুদ্ধ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। মিনস্কে ৭ম অল-বেলারুশিয়ান পিপলস অ্যাসেম্বলিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রাথমিক অবস্থান প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আগের দিনই এটি মোতায়েন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বেলারুশ জানিয়ে দিচ্ছে যে পরিস্থিতি জটিল হলে দেশটি প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ২০২৪ সালে ইউক্রেনের ডনিপ্রো শহরে রাশিয়ার হামলায়। লুকাশেঙ্কো জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে পূর্বে এই মোতায়েন বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “গঠনমূলক কিন্তু কঠিন” সংলাপের কথাও উল্লেখ করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ইঙ্গিত দেন। তিনি আরও জানান, বেলারুশে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে, যদিও নিরাপত্তা ইস্যুতে মতভেদ রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের লোকসভা কমিটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের পর ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। কমিটি বলেছে, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে এবং সরকারকে একাধিক নীতিগত সুপারিশ দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য পাকিস্তান ও চীনের দিকে ঝুঁকছে, যা ভারতের প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে। চীনের উপস্থিতি বিশেষভাবে বেড়েছে মংলা বন্দরের সম্প্রসারণ, লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি ও পেকুয়া সাবমেরিন ঘাঁটির মাধ্যমে। কমিটি আরও জানায়, আগে নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী এখন নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে, অথচ অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে—যা নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। কমিটি সুপারিশ করেছে, বাংলাদেশে কোনো বিদেশি শক্তিকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া ঠেকাতে কঠোর নজরদারি এবং উন্নয়ন ও বন্দর সুবিধায় বাংলাদেশকে তুলনামূলক সুবিধা দেওয়ার। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেদনটি ভারতের আঞ্চলিক নীতিতে পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।