ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে গণতন্ত্র মঞ্চ, গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও এলডিপির নেতারা বলেন, হাদি ছিলেন সাহসী, অকুতোভয় ও দেশপ্রেমিক নেতা, যিনি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। বিবৃতিতে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও ছায়ানটের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নেতারা বলেন, এসব হামলা দেশের গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র। তারা হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা ও অসংলগ্ন বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়। নেতারা ময়মনসিংহে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানান। তারা বলেন, হাদির মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলেও কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না—ভারতের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। এক বিবৃতিতে হাইকমিশনের মুখপাত্র জানান, দুই দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অবগত যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল ও বিকাশমান, যা গভীর ও নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। বিবৃতিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময় সাধারণত অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে। উদাহরণ হিসেবে তরুণ নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়। হাইকমিশন জোর দিয়ে জানায়, ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনধিকার চর্চা করছে না এবং প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কিছু বিক্ষোভকারী ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা বাংলাদেশের আগের সরকারের সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামও রয়েছে। এসব অভিযোগে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অভিযোগ করেছে যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান শরীফ হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাগুলো দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অনিশ্চিত করার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। শুক্রবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক শেষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব মন্তব্য করেন। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ওসমান শরীফের মৃত্যুর পর রাতে কয়েকটি সংবাদপত্রের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি চিহ্নিত মহল সরকারের নাকের ডগায় থেকে দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদের নতুন সংস্করণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিএনপি শান্তিকামী ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান জানায়। ঘটনাগুলোর পর রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে দেশি-বিদেশি মহলে শান্তি ও জবাবদিহিতার দাবি জোরদার হচ্ছে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুমার নামাজের পর উপজেলা মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে ডা. জাহাঙ্গীর আলম ডাবলু, মুফতি তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, সাবেক ছাত্র নেতা ওমর ফারুকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। একই দাবিতে মহিমাগঞ্জ বন্দরে আরও একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং প্রশাসনের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতে শরীয়তপুরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যার প্রতিবাদে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিলটি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শরীয়তপুর–ঢাকা সড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশে এনসিপি জেলা কমিটির সদস্য সচিব সবুজ তালুকদার বলেন, হাদী হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক কণ্ঠরোধের অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, এক সপ্তাহ পার হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আমিন মোহাম্মদ জিতু বলেন, হাদী ছিলেন সাহসী প্রতিবাদী কণ্ঠ, তার হত্যাকাণ্ড মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বিক্ষোভে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে দেশে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মাসুদুজ্জামান মাসুদ তার আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার নিজ বাসভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, পারিবারিক সমস্যা ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে ১৬ ডিসেম্বর তিনি নির্বাচন না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে এখন তিনি আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরছেন। মাসুদ বলেন, তার আগের সিদ্ধান্তে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ নেতাকর্মীরা কষ্ট পেয়েছেন। তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, দলের চেয়ে দেশ বড়, জনগণই সর্বাগ্রে। তিনি জানান, বিএনপির সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ একমত এবং দলের মনোনয়ন অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেবেন। তার এই প্রত্যাবর্তন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রচারণায় নতুন গতি আনতে পারে। মাসুদ সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, এখন থেকে জনগণই তার পরিবার ও নিরাপত্তা, এবং তিনি জীবন বাজি রেখে নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কণ্ঠস্বর শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ নেতারা বলেন, ওসমান হাদি কেবল একজন সংগঠকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশের এক স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে লড়াই করেছেন। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড সহিংস রাজনীতির নগ্ন প্রকাশ এবং একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, হাদির রক্ত বৃথা যাবে না এবং তার আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করবে। সংগঠনটি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার পরিবার ও সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়। হাদির মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই গণমাধ্যমের অফিসে আগুন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। তিনি বলেন, এই দুই পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকলেও, আধুনিক রাষ্ট্রে কোনো সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা বা অগ্নিসংযোগের নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা নেই। গাজী আতাউর রহমান আরও জানান, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠন কিংবা শহীদ ওসমান হাদির সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান জড়িত নয়, এটি একটি বিচ্ছিন্ন কিন্তু গুরুতর ঘটনা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে এবং ওসমান হাদির শাহাদাতকে কেন্দ্র করে কেউ যেন সেই প্রচেষ্টাকে উৎসাহ না দেয়। দলটি ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ১১ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন, স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এসব অভিযান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত হয়। অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদকাসক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান চলাকালে ৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭ রাউন্ড গুলি, ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযান সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং নগর অপরাধ দমন প্রচেষ্টার অংশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবিষ্যতেও এমন যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। শুক্রবার রাজধানীর পল্টন থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শাহবাগ ও টিএসসি প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় পল্টনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এবি পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা এতে অংশ নিয়ে ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ফুয়াদ বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত, তাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবি পার্টির এই উদ্যোগ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানটি পরিদর্শন করে অনুমোদন দিয়েছেন। পরিবারের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কবির পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্তটি হাদির জাতীয় চেতনা ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাদির মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল ঘটনার পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। জাতীয় কবির পাশে তার সমাধি তাকে জাতীয় আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় তাফসীর পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের অংশ। শুক্রবার রাজধানীর কদমতলীর মেরাজনগরে এক দোয়া মাহফিলে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য অশনিসংকেত এবং নতুন সংকটের সূচনা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আধিপত্যবাদী ভারত গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কাইয়ুম দাবি করেন, হাদির হত্যার পর ৫০ জন দেশপ্রেমিক ও আলেমের নাম একটি হিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন পীর সাহেব চরমোনাই ও মাওলানা মামুনুল হক। অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার পর দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। ১৮ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে উচ্ছৃঙ্খল একদল ব্যক্তি দুটি পত্রিকার অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, এতে অনেক সাংবাদিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেন, গণমাধ্যমের ওপর এই হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সাংবাদিক নূরুল কবীরও উদ্ধার অভিযানে হেনস্তার শিকার হন বলে জানা গেছে। ডিআরইউ নেতারা সতর্ক করেন, গণমাধ্যমকে টার্গেট করে হামলা চালানো গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, নির্বাচনের আগে দেশে শান্তি বজায় রাখা এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ফলকার তুর্ক জানান, নির্বাচনি প্রচারের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি সবাইকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিশোধ কেবল বিভেদ বাড়াবে এবং মানবাধিকারের ক্ষতি করবে। জাতিসংঘের এই আহ্বানকে অনেকেই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তদন্তের স্বচ্ছতা ও দায়ীদের বিচারের নিশ্চয়তা না পেলে জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য ফাজিল (অনার্স) ২০২৪ পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার নতুন তারিখ পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। এই সিদ্ধান্তে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়েছেন, যারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যদিও স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা কমাতে দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বছরের শেষ সময়ে এমন পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় একাডেমিক ক্যালেন্ডারে প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পুনঃতালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।