ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ নাগরিক এতে অংশ নেন। পুরো এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়; পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সেনাবাহিনীর বিশেষ টহল ছিল মাঠে। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর হাদি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। পরদিন তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে হাজারো মানুষ বিমানবন্দরে ভিড় করেন। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। হাদির মৃত্যু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঞ্চার করেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কমলদহ এলাকায় শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুতগামী অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দীপন চন্দ্র নাথ (৪২) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। সকাল ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এক পথচারীও আহত হন। পুলিশ জানায়, দীপন তার রিকশাভ্যানে করে বিক্রির পণ্য সরবরাহ করছিলেন, এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত দীপন মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার হিরালাল চন্দ্র নাথের ছেলে। কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জাকির রাব্বানি জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান ও লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ অজ্ঞাত গাড়ি ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ও বেপরোয়া গতির কারণে এলাকাবাসী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ জানান, সারওয়ার্দীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং দলীয় অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল এবং এটি এলডিপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। দলটি উল্লেখ করেছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি একটি উদারনৈতিক দল হিসেবে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখছে। চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না। ঘটনাটি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে সেখানে নেওয়া হয়। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়। হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তরুণ সমর্থকরা জাতীয় পতাকা বেঁধে জানাজায় অংশ নিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দাফন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িকভাবে ক্যাম্পাসের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষের চলাচলে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানাজা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক সদস্যের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ভিডিও রেকর্ড ও মনিটরিং করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব ফুটেজ ডিএমপির কন্ট্রোল রুমে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। ঘটনাটিকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাঁকে জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধে এই স্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে সকাল থেকেই এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত এলাকা এবং মসজিদের আশপাশে পুলিশ, আনসার, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অংশ নেয়। সমাধিস্থলে কেবল অনুমোদিত শিক্ষক, কর্মকর্তা, ডাকসু সদস্য ও সরকার নির্ধারিত ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দাফন অনুষ্ঠানকে ঘিরে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য নেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, হাদির দাফনস্থল নির্বাচন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘটনাটির সংবেদনশীলতা এবং এর প্রতীকী গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী হেলিপ্যাড মাঠে বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজায় জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, হাদি ভারতের আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে কথা বলেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা হাদির সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, হাদি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছিলেন না, বরং জাতীয় মর্যাদা ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই জানাজা সমাবেশে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক মহলে ভারতের প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা যায়। স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের দাবি আগামী রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শনিবার দুপুরে জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা ও জোহরের নামাজে লাখো মানুষ অংশ নেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে নামাজ শুরু হয়, এর আগে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জানাজাকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, আগারগাঁও, খামারবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। খামারবাড়ি মোড়, আসাদগেট, বিজয় সরণি, আগারগাঁও ও ফার্মগেট এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে মেটাল ডিটেক্টর ও হ্যান্ড স্ক্যানারের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয়। সন্দেহজনক ব্যাগ ও সামগ্রী আলাদাভাবে পরীক্ষা করা হয়। বিপুল জনসমাগমে হাদির রাজনৈতিক প্রভাব ও জনপ্রিয়তা স্পষ্ট হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত জারি ছিল।
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে শনিবার শহীদ নেতা ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে ঢাকাসহ আশপাশের জেলা থেকে লাখো মানুষ সমবেত হন। সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে জানাজাস্থলে। নারী, পুরুষ ও শিশুরা একসঙ্গে অংশ নেন এই বিদায়ে। অনেকে কালো ব্যাজ ও জাতীয় পতাকা ধারণ করে শোক ও দেশপ্রেম প্রকাশ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উপস্থিতদের প্রবেশের আগে তল্লাশি চালায়। তরুণদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি, যারা হাদির স্মরণে নানা স্লোগান দেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হলেও তারা জানান, পুরুষদের পাশাপাশি তারাও শেষ বিদায়ে একাত্ম হতে এসেছেন। হাদির জানাজায় বিপুল জনসমাগম তার জনপ্রিয়তা ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রভাবের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। জানাজা-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রতিক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
পাকিস্তানের একটি বিশেষ আদালত তোশাখানা দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে অনুষ্ঠিত শুনানিতে আদালত জানায়, তারা রাষ্ট্রীয় উপহার অবৈধভাবে গ্রহণ ও বিক্রি করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। ইমরান বর্তমানে এই কারাগারেই বন্দি আছেন। রায়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৪ ও ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। উভয়কে এক কোটি ৬৪ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত ইমরানের বয়স ও বুশরার নারী পরিচয় বিবেচনায় সাজা কিছুটা কম দিয়েছে। তাদের আইনজীবীরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো মামলাটি দায়ের করে, যেখানে সৌদি যুবরাজের উপহার হিসেবে পাওয়া অলংকার কম দামে দেখিয়ে তোশাখানা থেকে নেয়ার অভিযোগ আনা হয়। এই রায় ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান সম্প্রতি বাম, শাহবাগী, ছায়ানট ও উদীচীকে ‘তছনছ’ করার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর আয়োজিত এক বিক্ষোভে দেওয়া ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। শুক্রবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মোস্তাফিজুর ব্যাখ্যা দেন যে, ‘তছনছ’ বলতে তিনি ভাঙচুর নয়, বরং আদর্শিক বয়ান ভাঙাকে বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী বয়ানের মোকাবিলা নিয়মতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে করা হবে। শব্দচয়নে তাড়াহুড়ো হয়েছে স্বীকার করে তিনি জানান, ইসলামী ছাত্রশিবির শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক সংগ্রামের পথেই অটল থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে উগ্র বক্তব্য ও আদর্শিক বিভাজন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির লাশ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দুপুরের দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হয়। ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগে গেলে মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে ফেরত আসে এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়। ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এখনো হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদি ইন্তেকাল করেন। এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, হাদি ছিলেন জুলাই বিপ্লবের সামনের সারির সাহসী ও আদর্শিক তরুণ সৈনিক, যিনি দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। উপাচার্য আরও বলেন, হাদির মৃত্যুতে দেশ একজন নির্ভীক দেশপ্রেমী সন্তানকে হারিয়েছে। হাদির মৃত্যুতে সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সংগঠনগুলো তার স্মরণে দোয়া ও গায়েবানা জানাজার আয়োজন করছে।
জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করার প্রস্তুতি চলছে। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর ১৮ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ময়নাতদন্ত শেষে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়েছে। শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর বিজয়নগরে ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলি লাগার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাতীয় কবির পাশে হাদির সমাধি তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানাজা ও দাফন ঘিরে বিপুল জনসমাগমের আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ লেবার পার্টি সাংবাদিক ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে পরিচালিত কথিত পরিকল্পিত অপপ্রচার ও চরিত্রহননের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, প্রো-সরকারি ও প্রো-ভারতীয় স্বার্থগোষ্ঠী অনলাইন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মাহমুদুর রহমানকে টার্গেট করছে, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের আধিপত্যবাদী নীতির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন বৈষম্য ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারী চুক্তির বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমানের অবস্থান তাকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে। ডা. ইরান দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্রীয় দমননীতির মুখোশ উন্মোচনের কারণে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে এই অপতৎপরতা শুরু হয়। লেবার পার্টি অবিলম্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান অপপ্রচার বন্ধে রাষ্ট্রীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায় এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক শক্তি, সাংবাদিক সমাজ ও নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।