তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোকায়েলি প্রদেশের কিউবুকলুবালা এলাকায় রাশিয়ার তৈরি একটি মানবহীন ড্রোন বিমান (ইউএভি) বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি ওরলান-১০ মডেলের, যা সাধারণত গোয়েন্দা ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ড্রোনটিতে ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে, তবে এটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে নাকি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কয়েক দিন আগেই কৃষ্ণ সাগর থেকে তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আরেকটি ড্রোন তুর্কি বাহিনী ভূপাতিত করেছিল। এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে যখন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান কৃষ্ণ সাগরকে রাশিয়া-ইউক্রেনের ‘সংঘাতের ক্ষেত্র’ হওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের ওডেসার কাছে রাশিয়ার বিমান হামলায় একটি তুর্কি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আঙ্কারা ও মস্কোর সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক এই ঘটনাটি কূটনৈতিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তুলতে পারে।
ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২০২৪ সালের আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ডে লাইফ ইনস্যুরেন্স ক্যাটাগরিতে গোল্ড পদক অর্জন করেছে। ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন ও সিএফও প্রবীর চন্দ্র দাসের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, স্বচ্ছতা ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। জীবন বীমা খাতে টানা চতুর্থবারের মতো এই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স তাদের নেতৃত্ব ও সুশাসনের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করল।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় দুর্ভিক্ষ এড়ানো গেলেও মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গাজা উপত্যকার ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ—প্রায় ১৬ লাখ—তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও গুরুতর অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছেন। গুতেরেস বলেন, টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সীমান্ত ক্রসিং ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং গাজার অভ্যন্তরে নিরাপদ রুট তৈরি করা জরুরি। তিনি দাতা সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার ও টেকসই তহবিলের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা, ভূমি দখল ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনাতেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গুতেরেস বলেন, শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই, নইলে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, ইউক্রেনে নির্বাচনের সময় রাশিয়া হামলা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে যদি রাশিয়ায় বসবাসরত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়। মস্কোতে বছরশেষের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ইউক্রেনীয় বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন এবং তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হলে রাশিয়া নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রস্তুত। তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের এই প্রস্তাব ইউক্রেনের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কৌশল হতে পারে। তিনি বলেন, ভোটের দিন ইউক্রেনের গভীরে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব রাশিয়ার রাজনৈতিক চাপের অংশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। ইউক্রেন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসরাইলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আঘিল কেশাভার্জ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতের রায়ে কেশাভার্জকে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা ও ইরানের সামরিক স্থাপনায় নজরদারির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারিক নথি অনুযায়ী, কেশাভার্জ সাইবারস্পেসের মাধ্যমে ইসরাইলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন এবং মোসাদ ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করতেন। তাকে চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে উত্তর-পশ্চিম ইরানের উরমিয়া শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত জুনে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের পর থেকে এ ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় ইরানে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলছে, এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে দুইটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি স্থানীয় এলাকায় সক্রিয় একটি ছিনতাই চক্রের সদস্য হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধারণ মানুষের তৎপরতায় ঘটনাস্থলেই অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছোটখাটো চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ টহল জোরদার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।
জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর। ড. ইউনূস বলেন, হাদি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই সমাবেশ বিদায় নয়, বরং হাদির আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। ইউনূস বলেন, হাদির মানবপ্রেম, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশার ভঙ্গি জাতির জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। জানাজায় মানুষের ঢল প্রমাণ করে হাদির প্রতি জাতীয় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কত গভীর। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার আদর্শ ভবিষ্যত প্রজন্মের নাগরিক চেতনা ও ঐক্যের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা আদায় করেছেন শনিবার জোহরের নামাজের পর। বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় ইমামতি করেন আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ. ক. ম. আবদুল কাদের। ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ’ (চাকসু)-এর ব্যানারে আয়োজিত জানাজায় শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা অংশ নেন। দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ওসমান হাদি ন্যায়ের পথে চলার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, মাত্র ৩২ বছর বয়সে হাদি বাংলাদেশের তরুণদের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। তার মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার স্মরণে জানাজা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার আদর্শের প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, সারা বাংলাদেশ আজ কাঁদছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় তিনি হাদির শাহাদাতের মর্যাদা ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, হাদি যে ইনসাফভিত্তিক ও আদিপত্যবিরোধী সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দেশের সব মসজিদে তার আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া ও জিকির অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি হাদির জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের প্রতিফলন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তার মৃত্যু সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংস্কার আন্দোলনকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয়ভাবে শোক পালনের উদ্যোগ তার প্রতীকী গুরুত্বকে আরও জোরদার করেছে।
শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ না করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের শনিবার ঢাকার মানিক মিয়ায় হাদির জানাজায় বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হত্যার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কোনো গ্রেপ্তার বা তদন্তের অগ্রগতি দেখা যায়নি। জাবের বলেন, এটি একক খুনি নয়, বরং একটি সংগঠিত চক্রের কাজ। তিনি জনতাকে শাহবাগে শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হয়ে বিচার দাবিতে আন্দোলনের আহ্বান জানান। নিহত হাদির পরিবারও খুনিদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। এই আলটিমেটাম অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এখন পর্যন্ত সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সৌদি আরব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করেছে। রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির ৩০টি সরকারি ও ১৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি ও ডিপ্লোমা পর্যায়ে অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন, শিক্ষা, আইন, রাজনীতি, গণমাধ্যম, ধর্ম ও ভাষা শিক্ষা, কৃষি, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলসহ ১০ বিষয়ে পড়ার সুযোগ থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পছন্দের তিনটিতে আবেদন করতে পারবেন, যা পূর্বের আলাদা আবেদন প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। মেধা ও নির্দিষ্ট কোটার ভিত্তিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত করা হবে। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব মদিনা ও কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি রয়েছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে এবং বাংলাদেশি তরুণদের জন্য বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শান্তি রক্ষা প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের আগ্রহকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত মূল্যায়ন করছে। তবে ইসলামাবাদ এখনো সেনা পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। রুবিও জানান, একাধিক দেশ গাজায় সেনা পাঠাতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং পাকিস্তান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে তারা হবে অন্যতম প্রধান অংশীদার। তিনি আরও বলেন, বাহিনী মোতায়েনের আগে কিছু রাজনৈতিক ও কার্যকরী বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসেন আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ গাজা শান্তি বাহিনীতে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত। পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তানের অংশগ্রহণ কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা দেবে, তবে আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় রাখতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এই দাফন সম্পন্ন হয়। সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অশ্রুসিক্ত চোখে এই তরুণ বিপ্লবীকে শেষ বিদায় জানান। ৩৪ বছর বয়সী ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনি প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানসহ অনেকে। এই হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার বা তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
জেমস ক্যামেরনের বহুল প্রতীক্ষিত কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্র *অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ* গতকাল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও একই দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সে ছবিটি প্রদর্শিত হয়েছে। গল্পে সুলি পরিবারের শোক, সংগ্রাম ও নতুন বিপদের মুখোমুখি হওয়ার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। লন্ডনে বিশেষ প্রদর্শনীতে সমালোচকরা ছবিটির ভিজ্যুয়াল ক্যানভাস ও বড়পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতাকে প্রশংসা করেছেন। প্যারিসে সংবাদ সম্মেলনে ক্যামেরন জানান, ছবিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারের অভিজ্ঞতা ও সন্তানদের পরিচয় খোঁজার লড়াই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সুরকার সাইমন ফ্র্যাংলেন সাত বছর ধরে সংগীত তৈরি করেছেন, লিখেছেন এক হাজার ৯০৭ পাতার স্বরলিপি এবং প্যানডোরার চরিত্রদের জন্য নতুন বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। পরিচালক আরও জানান, ছবিটির বাণিজ্যিক সাফল্যই নির্ধারণ করবে *অ্যাভাটার* সিরিজের ভবিষ্যৎ পথচলা, যা ইতিমধ্যেই আগের দুই পর্বে বিশ্বব্যাপী বিপুল আয় করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়েছে শহীদ ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদিকে। দাফন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সন্তানকে বুকে নিয়েছে—এটি এক মায়ের সন্তানের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠকে পরিবারের সম্মতিতে হাদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উপাচার্য জানান, এই কবরস্থান শুধু দাফনস্থল নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক। এখানে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বহু বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য শায়িত আছেন। তিনি হাদির পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দাফন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতাকারীদের ধন্যবাদ জানান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত হাদি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার দাফন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।