দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই গণমাধ্যমের অফিসে আগুন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। তিনি বলেন, এই দুই পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকলেও, আধুনিক রাষ্ট্রে কোনো সংবাদমাধ্যমের অফিসে হামলা বা অগ্নিসংযোগের নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা নেই। গাজী আতাউর রহমান আরও জানান, বৃহস্পতিবারের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠন কিংবা শহীদ ওসমান হাদির সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান জড়িত নয়, এটি একটি বিচ্ছিন্ন কিন্তু গুরুতর ঘটনা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে এবং ওসমান হাদির শাহাদাতকে কেন্দ্র করে কেউ যেন সেই প্রচেষ্টাকে উৎসাহ না দেয়। দলটি ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ১১ থেকে ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন, স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এসব অভিযান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত হয়। অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত, কিশোর গ্যাং সদস্য ও মাদকাসক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযান চলাকালে ৯টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭ রাউন্ড গুলি, ককটেল, মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অভিযান সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং নগর অপরাধ দমন প্রচেষ্টার অংশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভবিষ্যতেও এমন যৌথ অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জাতীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। শুক্রবার রাজধানীর পল্টন থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শাহবাগ ও টিএসসি প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় পল্টনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। এবি পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা এতে অংশ নিয়ে ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। ফুয়াদ বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ড দেশের গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত, তাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবি পার্টির এই উদ্যোগ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানটি পরিদর্শন করে অনুমোদন দিয়েছেন। পরিবারের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাদির মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। আগামীকাল শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় কবির পাশে সমাহিত করার সিদ্ধান্তটি হাদির জাতীয় চেতনা ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাদির মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল ঘটনার পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। জাতীয় কবির পাশে তার সমাধি তাকে জাতীয় আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতীয় তাফসীর পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্তের অংশ। শুক্রবার রাজধানীর কদমতলীর মেরাজনগরে এক দোয়া মাহফিলে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড দেশের জন্য অশনিসংকেত এবং নতুন সংকটের সূচনা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আধিপত্যবাদী ভারত গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কাইয়ুম দাবি করেন, হাদির হত্যার পর ৫০ জন দেশপ্রেমিক ও আলেমের নাম একটি হিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন পীর সাহেব চরমোনাই ও মাওলানা মামুনুল হক। অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হাদির মৃত্যুর ঘটনায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার পর দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা অফিসে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। ১৮ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে উচ্ছৃঙ্খল একদল ব্যক্তি দুটি পত্রিকার অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, এতে অনেক সাংবাদিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। পরে সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেন, গণমাধ্যমের ওপর এই হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সাংবাদিক নূরুল কবীরও উদ্ধার অভিযানে হেনস্তার শিকার হন বলে জানা গেছে। ডিআরইউ নেতারা সতর্ক করেন, গণমাধ্যমকে টার্গেট করে হামলা চালানো গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করতে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার জেনেভা থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, নির্বাচনের আগে দেশে শান্তি বজায় রাখা এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ফলকার তুর্ক জানান, নির্বাচনি প্রচারের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি সবাইকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিশোধ কেবল বিভেদ বাড়াবে এবং মানবাধিকারের ক্ষতি করবে। জাতিসংঘের এই আহ্বানকে অনেকেই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তদন্তের স্বচ্ছতা ও দায়ীদের বিচারের নিশ্চয়তা না পেলে জনআস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য ফাজিল (অনার্স) ২০২৪ পরীক্ষা অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার নতুন তারিখ পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। এই সিদ্ধান্তে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কলেজের হাজারো শিক্ষার্থী প্রভাবিত হয়েছেন, যারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। যদিও স্থগিতের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে শিক্ষার্থীদের অসুবিধা কমাতে দ্রুত নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বছরের শেষ সময়ে এমন পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় একাডেমিক ক্যালেন্ডারে প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পুনঃতালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সতর্ক করে বলেছেন, দেশে কোনো দূতাবাসে হামলা হলে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি সবাইকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে আন্দোলন চালানোর আহ্বান জানান। নাসীরুদ্দীন বলেন, দূতাবাসে হামলা বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সরকার বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত, তবে এনসিপি কোনোভাবেই ভারতীয় দূতাবাসে হামলার পক্ষে নয়। কর্মসূচিতে এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় এনসিপির এই অবস্থানকে অনেকেই সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখছেন। দলটি অহিংস ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়ে সহিংস অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে ট্রাভেল পাস পেয়েছেন, যা তাকে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার সুযোগ দেবে। দলীয় ও কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি বৃহস্পতিবার আবেদন করার পর শুক্রবার সকালে স্থানীয় সময় ট্রাভেল পাস হাতে পান। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি তা নবায়ন করেননি। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেননি। ফলে দেশে ফিরতে হলে তাকে এককালীন ট্রাভেল পাস নিতে হয়েছে। তার এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা আগামী জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তার আগমনের আগে প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায়। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। সেখানে সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মরদেহ গ্রহণ করেন। সিঙ্গাপুর থেকে হাদির বড় ভাই আবু বকর মরদেহের সঙ্গে আসেন। শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরিবারের অনুরোধে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, মরদেহ হিমাগারে রাখা হয়েছে এবং শাহবাগে কর্মীরা অবস্থান নেবে। তারা আন্দোলনকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং সহিংসতা এড়াতে সতর্ক করেছে। হাদির মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনায় রাজনৈতিক ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে শান্তিপূর্ণ শোকপালনের আহ্বান জোরালো হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুক্রবার এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য, সংযম ও বিচক্ষণতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পর সারাদেশে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কিছু পক্ষ এই ক্ষোভকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে, যা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হতে পারে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের ওপর হামলা মানে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি ওসমান হাদির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, সংকটময় এই সময়ে জাতীয় ঐক্য, দায়িত্বশীলতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশই দেশের অগ্রগতির একমাত্র পথ। সকল নাগরিককে সচেতনতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা আগামী শনিবার দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় জানাজার সময় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে বর্তমানে হাদির মরদেহ রাখা আছে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজে শোক ও ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিটিজেন ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন সংগঠন হাদির হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো সাম্প্রতিক সংবাদপত্র অফিসে হামলার ঘটনাকেও নিন্দা জানিয়েছে। হাদির জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী শরিফ ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে। শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, হাদির মরদেহ বিমানবন্দর থেকে হিমঘরে নেওয়া হয়েছে এবং কর্মীরা শাহবাগে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের অনুরোধে কবি নজরুলের পাশে হাদিকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বান, আন্দোলনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো গোষ্ঠী যেন অনুপ্রবেশ বা সহিংসতা ঘটাতে না পারে। সংগঠনটি জানিয়েছে, মরদেহ দেখার সুযোগ থাকবে না। হাদির মৃত্যুর ঘটনায় নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সাম্প্রতিক সংবাদপত্র অফিসে হামলার নিন্দা জানিয়েছে। নজরুলের পাশে তার সমাধি তাকে প্রতীকীভাবে জাতীয় আন্দোলনের ধারার সঙ্গে যুক্ত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া জুলাই বিপ্লবী শহীদ হাদির মরদেহ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তার মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে হাদির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। এ সময় সরকারের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী, সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।