রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে শনিবার হাদির জানাজায় অংশ নিতে বিপুল জনতা সমবেত হয়। সকাল থেকেই ঢাকাসহ আশপাশের জেলা থেকে মানুষ ঢল নামে জানাজাস্থলে। হাদির স্মরণে ও হত্যার বিচার দাবিতে নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। কেউ কালো ব্যাজ পরে, কেউ জাতীয় পতাকা হাতে জানাজায় অংশ নেন, যা শোক ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানাজাস্থলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি চালিয়ে মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। নারী, শিশু ও প্রবীণসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা হাদির জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। হাদির জানাজা শুধু শোকের নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক বার্তা বহন করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে জনমনে আগ্রহ বাড়ছে।
জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার সকালে লন্ডন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে হাদির মরদেহ দেখেন এবং পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ আহ্বান জানান। তিনি হাদিকে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই বীর সন্তানকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব। ডা. শফিকুর রহমান তার বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করে হাদির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আল্লাহর কাছে ধৈর্যের দোয়া করেন। তিনি লিখেন, ওসমান হাদি কোনো দল বা মতের নন, বরং তিনি জাতির ঐক্যের প্রতীক। তার এই আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই একে রাজনৈতিক বিভাজনের সময় একতা আহ্বানের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। রাজধানীতে অনুষ্ঠিতব্য জানাজায় বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আহ্বান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংলাপ ও সামাজিক সম্প্রীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনি প্রচারের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার ছয় দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তরুণ এই নেতার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, বিশেষ করে শিল্প ও বিনোদন অঙ্গনে গভীর প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম আহমেদ, রুকাইয়া জাহান চমক, নাসির উদ্দিন খান ও নির্মাতা আশফাক নিপুণসহ বহু শিল্পী সামাজিকমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তারা হাদিকে সাহস, স্বাধীনতা ও মানবতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহিংসতার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে। এদিকে হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। শিল্পীরা সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছেন। হাদির মৃত্যুর বিচার ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পুনরায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমাগারে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। রাজনৈতিক সহকর্মী ও সমর্থকরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং হামলার ঘটনার পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছেন। দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান প্রদেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত ও নয়জন আহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ১৩ ডিসেম্বর কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ ঘাঁটি ও শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনে এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিষদ দ্রুত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম বৃহৎ অবদানকারী দেশ।
ইরানের অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ২৯টি জাহাজ এবং তাদের ব্যবস্থাপনা সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এসব জাহাজ ‘ছদ্ম বহর’-এর অংশ, যারা প্রতারণার মাধ্যমে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ইরানি তেল পরিবহন করেছে। জাহাজগুলো পুরোনো, মালিকানা অস্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সহায়তার অর্থায়ন বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। পাঁচ দফা পরোক্ষ আলোচনার ব্যর্থতা এবং জুন মাসের ১২ দিনের বিমানযুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং পারমাণবিক আলোচনার পুনরারম্ভ আরও জটিল করে তুলবে। জাতিসংঘে ইরানি মিশন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে শোক দিবসের ঘোষণা দেন এবং হাদির মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে মোটরসাইকেলে আসা দুই সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে। তার হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের উত্তর ছাদেক নগর এলাকায় জাতীয় পার্টির (একাংশের) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বাড়িতে শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি গাড়িতে এসে বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে বাড়ির আসবাবপত্র, মূল্যবান সামগ্রী ও গ্যারেজে থাকা আনিসুল ইসলামের চাচা আকবর হায়দার চৌধুরীর ব্যক্তিগত গাড়ি পুড়ে যায়। আকবর হায়দার চৌধুরী জানান, তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ছিলেন এবং আগুন লাগার পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। ঘটনাটির কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয়রা নিরাপত্তা জোরদার ও জরুরি সেবার দ্রুত সাড়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি সেনা সদস্যের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে লাশবাহী বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামরিক মর্যাদায় মরদেহ গ্রহণ করা হয়। নিহতরা ১৩ ডিসেম্বর কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় শহীদ হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আরও নয়জন শান্তিরক্ষী আহত হন, তবে সবাই বর্তমানে শঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কর্পোরাল মাসুদ রানা ও পাঁচজন সৈনিক রয়েছেন, যাদের মরদেহ নিজ নিজ জেলায় দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এই হামলা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ, ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় বিশেষ অভিযানে মিয়ানমারে পাচারকালে ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাতারবাড়ি স্টেশনের সদস্যরা শুক্রবার রাত ১টার দিকে অভিযান চালিয়ে পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি ফিশিং বোটসহ আটজন পাচারকারীকে আটক করে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক শনিবার সকালে জানান, প্রায় দুই লাখ পঁচিশ হাজার টাকার সিমেন্ট অবৈধভাবে রপ্তানির চেষ্টা করা হচ্ছিল। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জব্দকৃত বোট ও মালামাল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে অবৈধ বাণিজ্য কার্যক্রম দমন করা যায়।
জার্নাল *মোবাইল ডিএনএ*-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মেরু ভালুকের ডিএনএ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ইস্ট অ্যাংলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের ১৭টি মেরু ভালুকের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, তাদের ডিএনএতে ‘জাম্পিং জিন’ বা চলমান জিনের সক্রিয়তা বেড়েছে। এই জিনগুলো অন্যান্য জিনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। গবেষণায় দেখা যায়, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ-পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের ভালুকদের জাম্পিং জিনের কার্যকারিতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মেটাবলিজম, তাপমাত্রা সহনশীলতা ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পরিবর্তন আনছে। গবেষণার প্রধান ড. অ্যালিস গডেন বলেন, এটি মেরু ভালুকদের উষ্ণ পরিবেশে অভিযোজনের জিনগত ইঙ্গিত হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিবর্তন বিলুপ্তির ঝুঁকি দূর করে না। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমানো ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির গতি রোধ করাই মেরু ভালুক সংরক্ষণের একমাত্র কার্যকর উপায়।
মার্কিন সাময়িকী *১৯৪৫*-এ প্রকাশিত প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ব্রেন্ট ইস্টউডের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি দেশের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। দেশগুলো হলো—চীন, রাশিয়া, ইরান, ভেনেজুয়েলা ও উত্তর কোরিয়া। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইস্টউডের বিশ্লেষণে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন, ইউক্রেনে রাশিয়ার অব্যাহত হামলা, ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী অভিযান এবং ইরান ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান উত্তেজনা যেকোনো সময় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পরিস্থিতি সীমিত সংঘর্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় জোর দিচ্ছে, বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একাধিক ফ্রন্টে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সাতজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার র্যাব-১৪ জানায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. লিমন সরকার (১৯), মো. তারেক হোসেন (১৯), মো. মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮) ও মো. মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)। র্যাব জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, তবে হত্যার কারণ বা ভুক্তভোগীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে আরও অভিযুক্ত শনাক্ত হতে পারে।
গাজা সিটিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হওয়া একটি স্কুলের দ্বিতীয় তলায় এ হামলা চালানো হয়। এ ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করছেন। গাজা গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, অক্টোবরে মার্কিন-মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরাইল ৫০০ বারেরও বেশি লঙ্ঘন করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তর গাজার ‘ইয়েলো লাইন’ এলাকায় অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে শনাক্ত করে তারা গুলি চালায়। এদিকে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কাতার, তুরস্ক, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র গাজা শাসনে সহায়তার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি, শান্তি বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশের দৈনিক *আমার দেশ*-এ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে ড. খান জহিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশি ও বিদেশি শক্তির যৌথ ভূমিকা রয়েছে। লেখকের মতে, হাদি ছিলেন এমন এক রাজনৈতিক সংস্কারক, যিনি দীর্ঘ ৫৪ বছরের দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন। নিবন্ধে বলা হয়েছে, চারটি পক্ষ—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল, ভারত, বিএনপি এবং কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব—হাদির হত্যার সরাসরি বা পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে। ড. জহিরুলের অভিযোগ, হাসিনার ঘনিষ্ঠরা হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং ভারত খুনিদের আশ্রয় ও সহায়তা দেয়। বিএনপি ও কিছু টকশো ব্যক্তিত্বকে তিনি অভিযুক্ত করেছেন হত্যার অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য। নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, হাদির মৃত্যুর বিচার না হলে তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটকে আরও গভীর করবে। লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্র কি এই হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবে, নাকি নীরবতা দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে বন্ধ্যা করে দেবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।