শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরসংলগ্ন স্থানে দাফন করা হয় শহীদ ওসমান হাদিকে। এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জানাজা শেষে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ চারজন ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশাল জনসমাগমে পুরো এলাকা শোক ও শ্রদ্ধার আবহে ভরে ওঠে। জাতীয় কবির কবরের পাশে দাফনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকী মর্যাদা হিসেবে দেখছেন, যা হাদির সংগ্রামী চেতনার প্রতি জাতির শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। নিরাপত্তা জোরদার রেখে দাফন সম্পন্ন হয়।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শনিবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর তার মরদেহ দেশে এনে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এরপর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ জানান, শনিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ময়নাতদন্ত শেষ হয়। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। হাদির জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। তার মৃত্যু রাজনৈতিক সহিংসতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখনো হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা যায়নি।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক জাতির উদ্দেশে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় তিনি ইমামতি করেন এবং বক্তব্যে বলেন, হাদি তার আট মাস বয়সী সন্তানের জন্য বিপ্লবী চেতনার নাম চেয়েছিলেন। তিনি জানান, পরিবারের সবাই শোকে ভেঙে পড়েছে এবং মাকে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রকাশ্যে রাজধানীতে গুলি করে হত্যার পরও খুনিরা সাত-আট দিনেও ধরা না পড়া জাতির জন্য লজ্জাজনক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে তারা দিনের আলোয় পালিয়ে সীমান্ত পার হতে পারল। উপস্থিত জনতা তার বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে দ্রুত তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখনো কোনো গ্রেপ্তার হয়নি, তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির লাশ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। দুপুরে জানাজা শেষে হাদির লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগে গেলে মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে হাদি গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়। শনিবার সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আনা হয়। রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজ হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং হামলার ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানায়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানিয়েছে জার্মান মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজকে ইসরাইলে পৌঁছাতে বাধা দিতে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পর্তুগিজ পতাকাবাহী জাহাজটিতে প্রায় ৪৪০ টন মর্টার বোমার যন্ত্রাংশ, প্রজেক্টাইল এবং সামরিক মানের ইস্পাত রয়েছে, যা গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে। অ্যামনেস্টির যাচাই অনুযায়ী, ‘হোলগার জি’ নামের জাহাজটি ১৬ নভেম্বর ভারত থেকে যাত্রা করে বর্তমানে ইসরাইলের হাইফা বন্দরের পথে রয়েছে। সংস্থার গবেষণা ও নীতি পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস বলেছেন, এই প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ইসরাইলে পৌঁছানো উচিত নয়, কারণ এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে অপরাধে ব্যবহারের ঝুঁকি বহন করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া রাষ্ট্রগুলো গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই আহ্বান গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাণিজ্য ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির দাফনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন করা হয়। দুপুর দুইটার দিকে ডাকসুর নিরাপত্তা ভেস্ট পরিহিত স্বেচ্ছাসেবকদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়, যেখানে হাদিকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। শাহবাগ, কাঁটাবন, নীলক্ষেত ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ডাকসুর স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, দাফনকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা এড়াতে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে। উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত তৎপরতায় পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। হাদির দাফনকে ঘিরে জনসমাগম ছিল ব্যাপক। প্রশাসন জানিয়েছে, দাফনের পরও এলাকায় সাময়িকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৩ বীর ব্যাটালিয়ন ও র্যাব-১১ (সিপিসি-২) এর যৌথ অভিযানে কুমিল্লার জাঙ্গালিয়া এলাকায় সন্ত্রাসী নাজমুল ইসলাম শামীমকে শনিবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আধুনিক জিপিএস ও লোকেশন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত চার ঘণ্টার অভিযানে স্থানীয়ভাবে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তিনটি পাইপগান, ৬০ রাউন্ড শটগান কার্তুজ, ১২ বোরের ৪০ রাউন্ড গুলি, ১৮ রাউন্ড মেশিনগান বুলেটসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটক শামীম কুমিল্লা নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তার নামে সাতটি মামলা রয়েছে। তিনি জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড কমিটির সহ-সভাপতি ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পূর্বে সক্রিয় ছিলেন। র্যাব-১১ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, সেনাবাহিনী শামীমকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় পাঠানো হবে। অভিযানটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ.কে. খন্দকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ.কে. খন্দকার মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে অসাধারণ নেতৃত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার পরিচয় দেন এবং স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রফেসর ইউনূস উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর এ.কে. খন্দকার দেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান হিসেবে বাহিনীকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হলেও সত্য প্রকাশে অটল ছিলেন। ইউনূস তাঁকে সৎ, সাহসী ও আদর্শনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করেন। শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতি একজন বীর সন্তানকে হারিয়েছে। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্য ও সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের লাখো জনতা অংশ নেন। সকাল থেকেই রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ দলে দলে সেখানে জড়ো হয়, দুপুরের আগেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকাজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং ১ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে হাদির মরদেহ জানাজাস্থলে আনা হয়। পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হবে। ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর শোক ও রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি ও সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার (বীর উত্তম) শনিবার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি রংপুরে জন্ম নেওয়া এ কে খন্দকার ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কমিশন পান এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের নভেম্বরে তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। তার মৃত্যুতে জাতি হারাল এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দক্ষ সামরিক নেতৃত্বকে। রাষ্ট্রীয় ও সামরিক পর্যায়ে তার অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ শরীফ ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ নাগরিক এতে অংশ নেন। পুরো এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়; পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সেনাবাহিনীর বিশেষ টহল ছিল মাঠে। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর হাদি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মারা যান। পরদিন তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে হাজারো মানুষ বিমানবন্দরে ভিড় করেন। ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। হাদির মৃত্যু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঞ্চার করেছে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কমলদহ এলাকায় শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুতগামী অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় দীপন চন্দ্র নাথ (৪২) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। সকাল ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় এক পথচারীও আহত হন। পুলিশ জানায়, দীপন তার রিকশাভ্যানে করে বিক্রির পণ্য সরবরাহ করছিলেন, এ সময় চট্টগ্রামমুখী একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত দীপন মিরসরাই উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর এলাকার হিরালাল চন্দ্র নাথের ছেলে। কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ জাকির রাব্বানি জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যান ও লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ অজ্ঞাত গাড়ি ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। মহাসড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ও বেপরোয়া গতির কারণে এলাকাবাসী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্য করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ জানান, সারওয়ার্দীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং দলীয় অবস্থানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল এবং এটি এলডিপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছেন। দলটি উল্লেখ করেছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি একটি উদারনৈতিক দল হিসেবে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখছে। চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না। ঘটনাটি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজা শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। শনিবার দুপুরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে সেখানে নেওয়া হয়। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন হাদি। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে রাখা হয়। হাদির মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তরুণ সমর্থকরা জাতীয় পতাকা বেঁধে জানাজায় অংশ নিচ্ছেন। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির দাফন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িকভাবে ক্যাম্পাসের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ক্যাম্পাসে ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষের চলাচলে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানাজা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক সদস্যের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ভিডিও রেকর্ড ও মনিটরিং করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব ফুটেজ ডিএমপির কন্ট্রোল রুমে রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। ঘটনাটিকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাঁকে জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে স্মরণ করা হয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।