Web Analytics
logo
নোটিশঃ একনজরের সবগুলো মডিউল এখনো একটিভেট না হওয়াতে শুধুমাত্র নিউজগুলো দেখাচ্ছে ফিডে। সবগুলো মডিউল একটিভ করার পর পুরো প্লাটফর্মের সকল একটিভিটিস/আপডেট এখানে ফিড হিসেবে দেখাবে। আমরা আসছি, অনেক কিছু নিয়ে। অপেক্ষায় থাকুন!

নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর (আনন্দ বাজার) লঞ্চঘাট উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নির্মিত এই ঘাটটি দেশের দক্ষিণ প্রান্তের দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ ও নিয়মিত নৌযোগাযোগ নিশ্চিত করবে। দীর্ঘদিন ধরে ঢালচরের মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া ও অনিরাপদ ঘাটের কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, নতুন লঞ্চঘাট চালু হওয়ায় স্থানীয় জনগণ চিকিৎসা, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবা সহজে পাবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকার প্রান্তিক ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলের জনগণকে মূলধারার উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে নৌপরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই উদ্যোগ নদীমাতৃক বাংলাদেশের সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেবে বলে কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন।

Card image

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূচনা করবে। শনিবার ঢাকার গোপীবাগে এক প্রস্তুতিসভায় তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান ফিরছেন, আর জনগণ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু অগণতান্ত্রিক ও দেশবিরোধী শক্তি সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক কিছু গণমাধ্যম কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে তিনি জাতির শত্রুদের কাজ বলে উল্লেখ করেন। মির্জা আব্বাস বলেন, সরকার বিএনপির সহযোগিতা না নিয়ে বরং এসব শক্তির সঙ্গে চলছে এবং উল্টো বিএনপিকে দোষারোপ করছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও রক্ষক, তাই গণতন্ত্রবিরোধী তৎপরতা রুখতে দল জনগণের পাশে থাকবে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

Card image

সচেতন শিক্ষার্থী সমাজ (বাসশিস) এর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী শনিবার পল্টন কালভার্ট রোডে ‘শহীদ ওসমান হাদি সড়ক’ নামফলক স্থাপন করেছে। এই স্থানেই গত ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি মোটরসাইকেল আরোহীদের গুলিতে আহত হন। তিনি রিকশায় যাত্রাকালে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়ে এই নামফলক স্থাপন করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এবং তাকে জুলাই বিপ্লবের শহীদ হিসেবে অভিহিত করে। এই প্রতীকী নামকরণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও শোকের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখনো হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কোনো অগ্রগতি ঘোষণা করা হয়নি, তবে নাগরিক সমাজ দ্রুত বিচার ও সরকারি স্বীকৃতি দাবি করছে।

Card image

শনিবার বিকেলে ঢাকায় ওসমান হাদির জানাজা শেষে একদল লোক জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করে। বেলা আড়াইটার দিকে তারা সংসদ ভবনের মূল ফটকের দিকে অগ্রসর হলে সেখানে অবস্থানরত সেনা সদস্যরা দ্রুত কর্ডন তৈরি করে তাদের বাধা দেন। সেনা সদস্যরা মাইকে সবাইকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোকজন কিছুক্ষণ সেনা কর্ডনের সামনে অবস্থান করলেও পরে তারা সরে যায়। ঘটনায় কোনো সহিংসতা বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সেনা সদস্যরা গেটের সামনে অবস্থান বজায় রাখেন। ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনাটি তা প্রতিফলিত করে। নিরাপত্তা বাহিনী সংসদ ভবন এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

Card image

২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর শনিবার ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই যোদ্ধার মুখপাত্র ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এস এম ফরহাদসহ অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজার আগে ড. ইউনূস বলেন, সারা দেশ ও প্রবাসে কোটি কোটি মানুষ এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিল। তিনি ওসমান হাদিকে বিদায় নয়, বরং জাতির অন্তরে চিরস্থায়ী উপস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন। ওসমান হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর ইমামতি করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জানাজা জাতীয় ঐক্য ও তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।

Card image

ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহর এখন বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির শোকে স্তব্ধ। তার বাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসএস কামিল মাদ্রাসায় চলছে শোকের মাতম। শেষবারের মতো তাকে দেখতে না পারার আক্ষেপে ভুগছেন নলছিটিবাসী। জেলার মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর ভাষায়, শৈশব থেকেই হাদি ছিলেন প্রতিবাদের প্রতীক। ২০০০ সালে নেছারাবাদ এন এস কামিল মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ২০০৯ সালে আলিম শেষ করেন এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি তরুণ সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তার হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ঝালকাঠি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে। লক্ষ্মীপুর ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, হাদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে থাকবেন।

Card image

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শনিবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, হাদির শেখানো মানবপ্রেম ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে এবং তার আদর্শ চিরকাল বেঁচে থাকবে। জানাজার আগে ভাষণে ইউনূস বলেন, হাদির বিনয়, মানুষের সঙ্গে মেলামেশা ও সমাজ পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি সবাই প্রশংসা করছে, যা জাতির জন্য অনুসরণীয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সাধারণ নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর ইমামতি করেন। জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে হাদি ছিলেন সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতীক। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিশাল জনসমাগম হাদির প্রভাব ও জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। অন্তর্বর্তী সরকারের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধে জোর দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

Card image

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম মুখ শরীফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে। শনিবার বিকেলে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হাদিকে ‘দ্রোহের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে আবেগঘন এক বার্তা দেন। তিনি লেখেন, হাদি ছিলেন ন্যায় ও ইনসাফের বলিষ্ঠ কণ্ঠ, যিনি জনগণের মাঝে বিপ্লবের আগুন ছড়িয়ে দিয়ে অল্প সময়ে শহীদের মর্যাদা লাভ করেন। আজহারী আরও বলেন, হাদির মতো দেশপ্রেমিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। এই দাফন ও আজহারীর প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হাদি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে প্রতিবাদ ও ন্যায়বোধের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

Card image

শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে পৌঁছান শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই বিপ্লবী হাদিকে। ভাইয়ের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে তিনি কয়েকজন নিকটাত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে রিকশায় থাকা হাদিকে আহত করা হয়। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। শনিবার বিকেলে দাফনের আগে তাঁকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য মানুষ। এই হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ এখনো তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

Card image

শনিবার ঝালকাঠি ঈদগাহ ময়দানে বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত এই জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সম্প্রতি নিহত ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত এই জানাজা এলাকাজুড়ে শোক ও প্রতিবাদের আবহ তৈরি করে। জানাজার আগে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান সাগর এবং ছাত্রশিবিরের জেলা নেতারা। তারা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং শনিবার রাতের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে রোববার সকাল থেকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই জানাজা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায়ও তার স্মরণে অনুরূপ জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

Card image

বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস হাদির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনও হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকারকে দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানায়। মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, দেশে শান্তি বজায় রাখা ও সহিংসতা এড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের এই আহ্বান বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রতিফলন। সরকারের তদন্ত প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

Card image

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) মানিক মিয়ায় শহীদ ওসমান হাদি বিন হাদির জানাজায় অংশ নিয়ে এক আবেগঘন ভাষণ দেন। জানাজা শুরুর আগে তিনি বলেন, “প্রিয় হাদি, তোমাকে বিদায় দিতে আসিনি, তুমি অনন্তকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে।” ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে বলেন, ওসমান হাদির রেখে যাওয়া স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের মন্ত্র বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে অন্তর্বর্তী সরকার হাদির আদর্শ ধারণ করে জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ রক্ষা করবে। জানাজায় তরুণদের উপস্থিতি ও জাতীয় পতাকা ধারণ ছিল শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। এই জানাজা জাতীয় সংহতির এক প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে সরকার ও জনগণ শহীদের ত্যাগকে স্মরণ করে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Card image

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি নেতা বেলাল চৌধুরীর বাড়িতে অগ্নিসন্ত্রাসে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশু নিহত হয়েছে এবং নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার টিনসেট ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, এটি পরিকল্পিত হামলা ছিল। স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাটিকে নৃশংস ও অমানবিক বলে নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছে, এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।

Card image

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ ধনতলা এলাকায় শুক্রবার রাতে সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মেয়র আসলাম ও সাবেক মেয়র আব্দুস সবুরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ একদল লোক তাদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনটি বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তাকে শরিফ ওসমান হাদীকে ‘জঙ্গি’ বলতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এর জেরেই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

Card image

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরসংলগ্ন স্থানে দাফন করা হয় শহীদ ওসমান হাদিকে। এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জানাজা শেষে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমসহ চারজন ছিলেন। ইনকিলাব মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। বিশাল জনসমাগমে পুরো এলাকা শোক ও শ্রদ্ধার আবহে ভরে ওঠে। জাতীয় কবির কবরের পাশে দাফনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকী মর্যাদা হিসেবে দেখছেন, যা হাদির সংগ্রামী চেতনার প্রতি জাতির শ্রদ্ধা প্রকাশ করে। নিরাপত্তা জোরদার রেখে দাফন সম্পন্ন হয়।

Card image

আরো ফিড দেখতে লগইন করুন

সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।