বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে নিহত গৃহবধূ আমিনা আক্তার রত্নার বাবা-মা সংবাদ সম্মেলন করে মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেছেন। আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের অসহায় দম্পতি আমির উদ্দিন ও নারগিস আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। গত ২২ নভেম্বর রাতে রত্নাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবার জানায়, রত্নার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং বিষের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আপোষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারা ২৪ নভেম্বর আটোয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন। আমির উদ্দিন অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বদলানোর জন্য টাকার প্রলোভন ও হুমকি দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা, চাচা, বোনসহ এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল ডিজিটাল বিলবোর্ড প্রচারণা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে সুদানের আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে সমর্থনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা আভাজ এই প্রচারণাটি পরিচালনা করছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়—এক তরুণী দুবাইয়ে সেলফি তুলছেন, কিন্তু ছবির প্রতিফলনে দেখা যায় যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান। বিলবোর্ডে লেখা আছে: “সুদানে তারা যা করছে তা জানলে তোমার সেলফিটি আর ভালো দেখাবে না।” এই বিলবোর্ডটি একটি ভ্যানের পাশে প্রজেক্ট করে দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা প্রচার করা হচ্ছে, প্রতি ৮০ সেকেন্ডে পুনরাবৃত্তি করে। এতে থাকা কিউআর কোড ব্যবহারকারীদের *মিডল ইস্ট আই*, *দ্য গার্ডিয়ান* ও *দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস*-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিয়ে যায়। লন্ডনের পথচারীরা এই প্রচারণা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ইউএই অবশ্য আরএসএফকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে বিশ্লেষকরা ফ্লাইট ডেটা ও অস্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত থাকার প্রমাণ বাড়ছে বলে দাবি করছেন। এই প্রচারণা মধ্যপ্রাচ্যে ইউএই-এর সামরিক ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে দুটি স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়—প্রথমটি উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এবং দ্বিতীয়টি বিকেলে ব্যস্ত কোটবাজার স্টেশনে। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। উখিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর মাওলানা আবুল ফজল ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী ওসমান হাদিকে সাহসী, আদর্শবান ও সমাজসেবী নেতা হিসেবে স্মরণ করেন। তারা তার আত্মার মাগফিরাত ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। জানাজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। উখিয়া থানার ওসি নুর আহমেদ জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ওসমান হাদির মৃত্যুতে উখিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি রিভলভার, ৭৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পল্লবী থানা পুলিশ মিরপুর-১১ ব্লক-সি এলাকার পুরাতন সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের তৃতীয় তলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অস্ত্র উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে ছিল তিনটি রিভলভার, একটি রিভলভারের কভার, একটি চাপাতি এবং দুটি ছোট ছুরি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অস্ত্রগুলোর উৎস ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো স্থানীয় অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। তদন্ত সম্পন্ন হলে অস্ত্রগুলোর উৎস ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পৃথক অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় আওয়ামী লীগের দুই স্থানীয় নেতা এবং মাদকসহ দুই কারবারী রয়েছে। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে কামারদহ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রনজিত সরকার ও দরবস্ত ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মণ্ডল সাজুকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় ভাঙচুরের মামলা রয়েছে। অপরদিকে, একই দিনে সকালে ঢাকা–রংপুর মহাসড়কের চাঁপড়ীগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশিতে ৫ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, পৃথক মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাগুলো এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জানিয়েছে, গাম্বিয়ার দায়ের করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি আগামী ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম প্রধান দেশ গাম্বিয়া ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সহায়তায় ২০১৯ সালে মামলাটি দায়ের করে, যেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। অভিযানে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। শুনানির প্রথম সপ্তাহে গাম্বিয়া ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তার যুক্তি উপস্থাপন করবে, এরপর ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মিয়ানমার নিজেদের পক্ষে বক্তব্য দেবে। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তিন দিন বরাদ্দ করেছে। মিয়ানমার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের অভিযান ছিল রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। এই শুনানি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। চূড়ান্ত রায় পেতে সময় লাগলেও এটি রোহিঙ্গা সংকটের ভবিষ্যৎ আইনি দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের অন্যতম মুখ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি ১২ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শুক্রবার তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছালে শনিবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জানাজা সম্পন্ন হয়। রয়টার্স, আল জাজিরা, ওয়াশিংটন পোস্ট, টিআরটি ওয়ার্ল্ডসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানাজায় মানুষের ঢলকে বাংলাদেশের জাতীয় শোক ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে হাদিকে দাফন করা হয়েছে, যা তাঁর সংগ্রামী ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রতীক। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাদির প্রতি জনগণের এই ব্যাপক শ্রদ্ধা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি ঢালে কৃষিকাজ করার সময় এক চাকমা যুবক অপহৃত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অপহৃতের নাম সংকুচিং (৩৫)। একই সময় তার সঙ্গে থাকা স্থানীয় কৃষক এবাদুল্লাহ (৬০) অপহরণের চেষ্টা থেকে পালিয়ে এসে প্রাণে বেঁচে যান। এবাদুল্লাহ জানান, ২০ থেকে ৩০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হঠাৎ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংকুচিংকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। পালানোর সময় সন্ত্রাসীরা তার দিকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ঘটনার পর টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ধারণা করছে, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেছেন, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ খুনি চক্রের কাজ। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা-পূর্ব বক্তব্যে তিনি বলেন, হত্যার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাসও দেওয়া হয়নি। তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত অগ্রগতি প্রকাশের আহ্বান জানান। তা না হলে তাদের পদত্যাগের দাবি তোলেন তিনি। জাবের আরও বলেন, সিভিল ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ভেতরে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী দোসরদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে। সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। জানাজা শেষে শাহবাগে সমাবেশের আহ্বান জানানো হয়।
চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ গুজব ও বিভ্রান্তিকর। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর কয়েকটি এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং কিছু মানুষ কূটনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ জানায়, কয়েকজন পাথর নিক্ষেপ করলেও কোনো অনুপ্রবেশ, ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান বলেন, সংবেদনশীল কূটনৈতিক স্থাপনা ঘিরে গুজব ছড়ানো একটি পরিকল্পিত অস্থিতিশীলতার কৌশল হতে পারে। তিনি প্রশাসনকে পরামর্শ দেন, এমন ঘটনার পরপরই স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক ব্রিফিং দিতে হবে যাতে গুজবের সুযোগ না থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।
শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবেগঘন ভাষণ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন হাদি জাতির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন। ইউনূস হাদির গণতান্ত্রিক চেতনা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাকে জাতির অগ্রগতির অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষসহ লাখো মানুষ অংশ নেন। ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের হাদির জীবন ও সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরেন। ইউনূস বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে হাদির শিক্ষা জাতির জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে। হাদির মৃত্যু জাতীয় ঐক্য ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রচেষ্টা চলছে।
শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের নেতা শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়। রাজধানীজুড়ে নেমে আসে শোকের আবহ, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা হাদির আদর্শ ও সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ৩২ বছর বয়সী হাদি গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি সংকটাপন্ন ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জানাজায় বক্তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। হাদির ভাই ড. আবু বকর সিদ্দিক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান। জানাজা শেষে শাহবাগে বিক্ষোভকারীরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। এই বিশাল জনসমাগম হাদির জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ। ২০ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে সংস্থার মহাসচিব শির্লে বোচওয়ে হাদির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। হাদি ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মারা যান। বিবৃতিতে মহাসচিব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আইনের শাসন বজায় রাখা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান এবং সবাইকে সংযম ও ঘৃণা পরিহারের আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, কমনওয়েলথের এই বিবৃতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রতিফলন। শান্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশে পরিণত হয়, যা পূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার পর সবচেয়ে বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে। জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, বিদেশি কূটনীতিক এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং এক হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে হাদির মরদেহ জানাজাস্থলে আনা হয়। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ কমপ্লেক্সে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে দাফন করা হয়। ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনি প্রচারণার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হাদি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু রাজনৈতিক সহিংসতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলা ভাষা আন্দোলনের প্রবীণ সৈনিক ও শতবর্ষী সমাজকর্মী সামসুল ইসলাম হায়দার শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডিপাশা ইউনিয়নের ষাইটকাহন গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। শনিবার দুপুরে ষাইটকাহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হায়দার পরবর্তীতে উপজেলার পুলেরঘাটে কালিয়াচাপড়া চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। প্রথমে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ভাষা সৈনিক ও সমাজসেবক হিসেবে স্মরণ করছেন, যিনি শ্রমিক অধিকার ও ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।