রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ২টায় জানাজা শুরু হলেও সকাল ৯টার পর থেকেই জনতার ভিড় জমতে থাকে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হয়, যাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিতে পারেন। তরুণদের অনেকেই মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে আসেন, যা দেশপ্রেম ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা গেছে। ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা মানুষ হাদির স্মরণে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। উত্তরা থেকে আসা মমিনুর ইসলাম বলেন, হাদি বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়েছেন। খিলগাঁওয়ের মোতাকাব্বির হোসেন জানান, হাদির প্রতিটি বক্তব্য তরুণদের জন্য শিক্ষণীয়। জানাজায় বিপুল উপস্থিতি হাদির জনপ্রিয়তা ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার প্রভাবের প্রতিফলন। তার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান, তবে জনমনে শোক ও ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির দাফন শনিবার বিকেলে সম্পন্ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে। জানাজা শেষে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে দাফন করা হয়। দাফনের পর বিশেষ মোনাজাতে সহযোদ্ধা, স্বেচ্ছাসেবী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। শোকাহত পরিবেশে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ কোরআনের আয়াত পাঠ করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। তিনি দোয়ায় হাদির রুহের মাগফিরাত ও পরিবারের ধৈর্যের জন্য প্রার্থনা করেন। উপস্থিত সবাই নীরবতায় দাঁড়িয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ওসমান হাদির মৃত্যু ইনকিলাব মঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। সহযোদ্ধারা তার আদর্শ ও আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবী শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজা উপলক্ষে শনিবার ঢাকার মানিক মিয়ায় তার ভক্তরা আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াইয়ের শপথ নেন। জানাজা শুরুর আগে অনুষ্ঠিত এই আবেগঘন অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং হাদির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন। ভক্তরা বলেন, হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, দেশকে বিদেশি প্রভাব ও বিশেষ করে আঞ্চলিক আধিপত্য থেকে মুক্ত রাখতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। হাদির শুরু করা সাংস্কৃতিক আন্দোলন সম্পূর্ণ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা। এই শপথ অনুষ্ঠানটি হাদির অনুসারীদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা ও সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের আহ্বানকে আরও জোরদার করেছে। এদিকে, হাদির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুর আড়াইটায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাচ্ছিরিন নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান জানাজার ইমামতি করেন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হেফাজতে ইসলাম, এনসিপি, এবি পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা শরিফ ওসমান হাদীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলেন, হাদীর মৃত্যু নওগাঁর সামাজিক ও মতাদর্শিক পরিমণ্ডলে এক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, যা পূরণ করা কঠিন হবে।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ৪নং শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ‘ধানমন্ডি ৩২’ ফেসবুক পেজের সদস্য হিসেবেও পরিচিত। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। একই অভিযানে ৪নং শালবাহান ইউনিয়নের কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ আলীকেও আটক করা হয়েছে। ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে সন্দেহভাজন দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নির্বাচন ঘিরে উত্তরের জেলাগুলোতে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে তারা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতীক্ষার পর টাঙ্গাইলের সোনালিয়া-করটিয়া রেলস্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। শনিবার সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন ফিতা কেটে ও সবুজ পতাকা নাড়িয়ে স্টেশনটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে পাকশি বিভাগের ব্যবস্থাপক লিয়াকত আলী খান শরিফ, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা গৌতম কুমার কুন্ডু, সাবেক সংসদ সদস্য মোর্শেদ আলী খান পন্নীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শতশত স্থানীয় মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে অংশ নেন। বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের সোনালিয়া গ্রামে ২০১০ সালের দিকে নির্মিত স্টেশনটি নাম ও প্রশাসনিক জটিলতায় এতদিন বন্ধ ছিল। স্থানীয়রা জানান, স্টেশনটি চালু না থাকায় সরকারের কোটি টাকার সম্পদ অকেজো অবস্থায় পড়ে ছিল। এখন তিন উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এই রেলসুবিধা পাবেন। রেলওয়ে মহাপরিচালক জানান, প্রাথমিকভাবে একটি ট্রেন চলবে, পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ আরও ট্রেন যুক্ত করা হবে। এছাড়া টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। স্থানীয়রা করটিয়া অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন ও আন্তঃনগর ট্রেন থামানোর দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে শহীদ ওসমান শরীফ হাদির গায়েবানা জানাজায় হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইনকিলাব মঞ্চ বগুড়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও জেএসডিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। শাহপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ আহসান হাবিব সাকি নামাজ পরিচালনা করেন এবং শেষে হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। জানাজার আগে বক্তারা বলেন, হাদির হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দেশে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তারা ঘোষণা দেন, কোনো ষড়যন্ত্রই জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না এবং হাদির আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীন চেতনার প্রতীক হয়ে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের গণজানাজা বিরোধী দলগুলোর ঐক্য ও জনসমর্থন প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদিকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সহকর্মী ও সমর্থকরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীরা কাছ থেকে গুলি করলে হাদি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান। শনিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ দাফনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হয়। হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। রাজনৈতিক সহিংসতার এই ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বচ্ছ তদন্ত ও বিরোধী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামে দ্রুতগতির একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ধাক্কায় সাতটি বন্য এশীয় হাতি মারা গেছে এবং একটি বাচ্চা হাতি আহত হয়েছে। মিজোরামের সাইরাং থেকে ৬৫০ জন যাত্রী নিয়ে নয়াদিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটি হাতির পালের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। সংঘর্ষে ট্রেনের ইঞ্জিন ও পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হলেও কোনো যাত্রী হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারতীয় রেলওয়ের মুখপাত্র কিশোর শর্মা। তিনি জানান, চালক প্রায় ১০০টি হাতির পাল দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক কষলেও দুর্ঘটনা এড়ানো যায়নি। ঘটনাস্থলটি গুয়াহাটি থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে একটি বনাঞ্চলে, যা নির্দিষ্ট হাতির করিডোর নয়। মৃত হাতিগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন সমাহিত করার কথা রয়েছে। আসামে প্রায় ৭,০০০ বন্য হাতি বাস করে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রেনের ধাক্কায় একাধিক হাতি মারা গেছে। পরিবেশবিদরা রেলপথে নজরদারি ও সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
শনিবার ভোর থেকে সকাল ৯টার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন অফিস ভবনে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়, এতে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের স্টোররুমে সংরক্ষিত কিছু নথিপত্র পুড়ে যায়। ভবনের পেছনের দিকের জানালা ভেঙে আগুন লাগানো হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা ধোঁয়া দেখে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ জামান ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিস্তারিত পরে জানানো হবে। ঘটনার পর নির্বাচন অফিসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে প্রশাসন পর্যালোচনা শুরু করেছে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনী কার্যক্রমের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
শুক্রবার গভীর রাতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে নৌবাহিনীর বিশেষায়িত ফোর্স ও টেকনাফ থানার পুলিশ যৌথভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘লম্বা মিজান’-এর বাড়ি তল্লাশি করে তিনটি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি, দুটি দেশীয় অস্ত্র এবং ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত সামগ্রী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। নৌবাহিনী জানিয়েছে, উপকূলীয় ও সীমান্তবর্তী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। বিশ্লেষকদের মতে, নৌবাহিনীর এ ধরনের অভিযান আন্তঃসংস্থাগত সহযোগিতা জোরদার করছে এবং দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বগুড়ার ধুনট শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন একটি বাণিজ্যিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় নির্মাণাধীন দোকানঘরে শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হঠাৎ বিকট শব্দে ভবনের নিচতলার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কে বা কারা ওই নির্মাণাধীন দোকানঘরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, তা এখনও জানা যায়নি। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ককটেলের আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন এলাকাটিতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়িয়েছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বাংলাদেশের পঞ্চগড়ে নিহত গৃহবধূ আমিনা আক্তার রত্নার বাবা-মা সংবাদ সম্মেলন করে মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেছেন। আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের অসহায় দম্পতি আমির উদ্দিন ও নারগিস আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের মেয়েকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। গত ২২ নভেম্বর রাতে রত্নাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবার জানায়, রত্নার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং বিষের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আপোষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তারা ২৪ নভেম্বর আটোয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন। আমির উদ্দিন অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বদলানোর জন্য টাকার প্রলোভন ও হুমকি দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের মা, চাচা, বোনসহ এলাকাবাসী উপস্থিত থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল ডিজিটাল বিলবোর্ড প্রচারণা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিরুদ্ধে সুদানের আধাসামরিক গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে সমর্থনের অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা আভাজ এই প্রচারণাটি পরিচালনা করছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়—এক তরুণী দুবাইয়ে সেলফি তুলছেন, কিন্তু ছবির প্রতিফলনে দেখা যায় যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান। বিলবোর্ডে লেখা আছে: “সুদানে তারা যা করছে তা জানলে তোমার সেলফিটি আর ভালো দেখাবে না।” এই বিলবোর্ডটি একটি ভ্যানের পাশে প্রজেক্ট করে দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টা প্রচার করা হচ্ছে, প্রতি ৮০ সেকেন্ডে পুনরাবৃত্তি করে। এতে থাকা কিউআর কোড ব্যবহারকারীদের *মিডল ইস্ট আই*, *দ্য গার্ডিয়ান* ও *দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস*-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নিয়ে যায়। লন্ডনের পথচারীরা এই প্রচারণা দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ইউএই অবশ্য আরএসএফকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে বিশ্লেষকরা ফ্লাইট ডেটা ও অস্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত থাকার প্রমাণ বাড়ছে বলে দাবি করছেন। এই প্রচারণা মধ্যপ্রাচ্যে ইউএই-এর সামরিক ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ায় শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুপুরে দুটি স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়—প্রথমটি উখিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এবং দ্বিতীয়টি বিকেলে ব্যস্ত কোটবাজার স্টেশনে। জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। উখিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমীর মাওলানা আবুল ফজল ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী ওসমান হাদিকে সাহসী, আদর্শবান ও সমাজসেবী নেতা হিসেবে স্মরণ করেন। তারা তার আত্মার মাগফিরাত ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। জানাজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। উখিয়া থানার ওসি নুর আহমেদ জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ওসমান হাদির মৃত্যুতে উখিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।