সুদানে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করাকে যুক্তরাষ্ট্র তার পররাষ্ট্রনীতির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নতুন বছরের শুরুতেই একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, যাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুদ্ধপীড়িত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে পারে। রুবিও বলেন, বর্তমানে ত্রাণ সরবরাহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে, কারণ ত্রাণ বহরের ওপর হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরের কিছু শক্তি সুদানের সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সংঘাতকে উসকে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ সৃষ্টি করছে, যদিও পূর্বের প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে আরএসএফ উত্তর দারফুরের রাজধানী এল ফাশার দখলের পর। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই সংকট দ্রুতই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় একটি নতুন শাসনব্যবস্থা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পরপরই অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থিতিশীল করা, যা ইসরাইলি হামলার কারণে বারবার হুমকির মুখে পড়েছে। রুবিও জানান, পরিকল্পনায় একটি আন্তর্জাতিক গভর্নিং বোর্ড এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। তিনি বলেন, সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি সদস্যদের চিহ্নিতকরণে অগ্রগতি হয়েছে, তবে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং বাহিনীর ম্যান্ডেট নির্ধারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত। পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ অংশগ্রহণে আগ্রহ দেখালেও তারা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে। রুবিও আরও বলেন, স্পষ্ট ম্যান্ডেট ও অর্থায়ন ছাড়া কোনো দেশ সেনা পাঠাতে রাজি হবে না। তিনি সতর্ক করেন, কার্যকর শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ছাড়া গাজার পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক তহবিল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা কনটেন্ট সরাতে মেটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গত শুক্রবার মেটাকে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট পর্যন্ত বাংলাদেশ-সংক্রান্ত কনটেন্টের ওপর বিশেষ নজরদারি বজায় রাখার আহ্বান জানায়। চিঠিতে বলা হয়, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো বাস্তব জীবনে সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার উসকানির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফেসবুকে কিছু ব্যক্তি ওসমান হাদির মৃত্যুকে সমর্থন জানিয়ে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন, যার পর দুটি পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ ঘটে। সরকার অভিযোগ করেছে, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও মেটা এসব অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেনি। এতে নাগরিকদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়ছে। চিঠিতে মেটাকে আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলা ভাষায় কনটেন্ট মডারেশন জোরদার করতে, কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে এবং সহিংসতা বা ভয়ভীতি ছড়ানো কনটেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে ফেলতে। মেটার পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তিন দফা দাবিতে উপাচার্যের অফিস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শনিবার রাতে ডাকসুর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। ডাকসু নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ না এলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। তিনটি দাবির মধ্যে রয়েছে— মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল করা, ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম পরিবর্তন করে ফেলানী হল করা এবং জুলাই গণহত্যার সমর্থনকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ। ডাকসু বলছে, এই দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ন্যায়বোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঘোষণার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে ছাত্র আন্দোলনের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক উপনিবেশবাদবিরোধী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে তিনি বলেন, ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ভূমি ও তেল সম্পদকে কার্যত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। মনকাডা অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন উনবিংশ শতাব্দীর সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ফিরিয়ে আনছে এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতিকে অবমাননা করছে। তিনি হোয়াইট হাউসের অবস্থানকে সভ্য আচরণের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, আধুনিক সময়ে সরাসরি দখলের পরিবর্তে নতুন নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ফিলিস্তিন ও পুয়ের্তো রিকোর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে মনকাডা বলেন, বিদেশি আধিপত্য মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার পরিপন্থী।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলে আংশিক সংশোধন এনেছে। সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটি ২০ ডিসেম্বর জারি করা হয়, যা ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত মূল প্রজ্ঞাপনের কিছু তারিখ ও তথ্য পরিবর্তন করেছে। ইসি জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১১(১) অনুযায়ী তিনটি প্রধান পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দাখিলের সময়সীমা ৫–১১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৫–৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে, আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা ১২–১৮ জানুয়ারির পরিবর্তে ১০–১৮ জানুয়ারি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বলেছে, এসব সংশোধন প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা ও সময়সূচির সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনী কার্যক্রমের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
জাগপা সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ভারতীয় আধিপত্য ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের অভিযোগে এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিগত কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি আগামী ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন বক্স কালভার্ট রোড থেকে গুলশানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পর্যন্ত একা পায়ে হেঁটে যাবেন। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদযাত্রায় তিনি কালো গোলাপ বহন করবেন, যা ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাশেদ প্রধান জানান, এই কর্মসূচি কোনো দলীয় নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, পূর্বে ভারতীয় দূতাবাসে স্মারকলিপি দিতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল, তাই এবার একাই শান্তিপূর্ণভাবে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদযাত্রায় বাধা দিলে সেটি তার গ্রেফতার হিসেবে গণ্য হবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আফ্রিকার দেশ সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে মরদেহগুলো পৌঁছালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তা গ্রহণ করেন। আগামীকাল রোববার ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে নিজ নিজ এলাকায় পাঠিয়ে সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হবে। আইএসপিআর জানিয়েছে, ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে ইউনিসফা ঘাঁটিতে ওই হামলায় ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং নয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে আটজন কেনিয়ার নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সবাই আশঙ্কামুক্ত। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোকায়েলি প্রদেশের কিউবুকলুবালা এলাকায় রাশিয়ার তৈরি একটি মানবহীন ড্রোন বিমান (ইউএভি) বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি ওরলান-১০ মডেলের, যা সাধারণত গোয়েন্দা ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ড্রোনটিতে ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে, তবে এটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে নাকি কারিগরি ত্রুটির কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কয়েক দিন আগেই কৃষ্ণ সাগর থেকে তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আরেকটি ড্রোন তুর্কি বাহিনী ভূপাতিত করেছিল। এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে যখন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান কৃষ্ণ সাগরকে রাশিয়া-ইউক্রেনের ‘সংঘাতের ক্ষেত্র’ হওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ইউক্রেনের ওডেসার কাছে রাশিয়ার বিমান হামলায় একটি তুর্কি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আঙ্কারা ও মস্কোর সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্ক এই ঘটনাটি কূটনৈতিকভাবে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় তুলতে পারে।
ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২০২৪ সালের আইসিএমএবি বেস্ট কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ডে লাইফ ইনস্যুরেন্স ক্যাটাগরিতে গোল্ড পদক অর্জন করেছে। ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজিম উদ্দিন ও সিএফও প্রবীর চন্দ্র দাসের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) কর্পোরেট গভর্ন্যান্স, স্বচ্ছতা ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। জীবন বীমা খাতে টানা চতুর্থবারের মতো এই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স তাদের নেতৃত্ব ও সুশাসনের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করল।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতির পর গাজায় দুর্ভিক্ষ এড়ানো গেলেও মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গাজা উপত্যকার ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ—প্রায় ১৬ লাখ—তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও গুরুতর অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছেন। গুতেরেস বলেন, টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সীমান্ত ক্রসিং ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং গাজার অভ্যন্তরে নিরাপদ রুট তৈরি করা জরুরি। তিনি দাতা সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার ও টেকসই তহবিলের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা, ভূমি দখল ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনাতেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গুতেরেস বলেন, শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই, নইলে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, ইউক্রেনে নির্বাচনের সময় রাশিয়া হামলা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে যদি রাশিয়ায় বসবাসরত ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়। মস্কোতে বছরশেষের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ইউক্রেনীয় বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন এবং তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হলে রাশিয়া নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রস্তুত। তুরস্কভিত্তিক আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের এই প্রস্তাব ইউক্রেনের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার কৌশল হতে পারে। তিনি বলেন, ভোটের দিন ইউক্রেনের গভীরে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব রাশিয়ার রাজনৈতিক চাপের অংশ এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। ইউক্রেন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসরাইলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আঘিল কেশাভার্জ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আদালতের রায়ে কেশাভার্জকে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা ও ইরানের সামরিক স্থাপনায় নজরদারির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারিক নথি অনুযায়ী, কেশাভার্জ সাইবারস্পেসের মাধ্যমে ইসরাইলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন এবং মোসাদ ও ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করতেন। তাকে চলতি বছরের এপ্রিল-মে মাসে উত্তর-পশ্চিম ইরানের উরমিয়া শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত জুনে ইরান-ইসরাইল সংঘাতের পর থেকে এ ধরনের গুপ্তচরবৃত্তি মামলায় ইরানে একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ধরনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলছে, এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ। দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে দুইটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তি স্থানীয় এলাকায় সক্রিয় একটি ছিনতাই চক্রের সদস্য হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধারণ মানুষের তৎপরতায় ঘটনাস্থলেই অপরাধীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছোটখাটো চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পুলিশ টহল জোরদার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাইকে সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে দ্রুত জানাতে আহ্বান জানিয়েছে।
জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির নামাজে জানাজা শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বকর। ড. ইউনূস বলেন, হাদি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবেন। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের এই সমাবেশ বিদায় নয়, বরং হাদির আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। ইউনূস বলেন, হাদির মানবপ্রেম, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশার ভঙ্গি জাতির জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। জানাজায় মানুষের ঢল প্রমাণ করে হাদির প্রতি জাতীয় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা কত গভীর। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার আদর্শ ভবিষ্যত প্রজন্মের নাগরিক চেতনা ও ঐক্যের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।