বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা তরুণ রাজনৈতিক নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। মাত্র ৩২ বছর বয়সী হাদি গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সরকার তাঁর পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এবং মসজিদ-মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ে তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছে। ওসমান হাদি দুর্নীতি, বিদেশি আধিপত্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তাঁকে “জাতীয় বীর” হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে বিরোধী পক্ষ অভিযোগ করেছে যে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগীরাই এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। ওসমান হাদির মৃত্যু সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক সহিংসতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারির গণভোট ও আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শনিবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা, দোয়া মাহফিল ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, জামালপুর, নওগাঁসহ দেশের নানা স্থানে হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও অন্যান্য সংগঠনের নেতারা বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে দেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, হাদি কোনো দলের এজেন্ট ছিলেন না, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করেছেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বিশাল সামুদ্রিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও গবেষণা অবকাঠামো ও মানবসম্পদের ঘাটতির কারণে বাংলাদেশ এখনো সমুদ্রসম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। পর্যাপ্ত গবেষণা জাহাজ, আধুনিক সোনার ও হাইড্রোগ্রাফিক যন্ত্রপাতি, স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণ এবং নিয়মিত মাছের মজুত জরিপের অভাবে নীতিনির্ধারণ প্রায়ই অনুমাননির্ভর হয়ে পড়ছে। এর ফলে মাছের অতিরিক্ত আহরণ, প্রজনন মৌসুমে ক্ষতি এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশিক্ষিত সমুদ্রবিজ্ঞানী ও সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানীর অভাব, গবেষণার সীমিত তহবিল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মেরিন সায়েন্স বিভাগ থাকলেও আধুনিক ল্যাব ও আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রমের সুযোগ সীমিত। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণমাত্রা ও তাপমাত্রার পরিবর্তন মাছের প্রজনন ও অভিবাসনে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক গবেষণা জাহাজ, জিআইএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, এবং জাপান, নরওয়ে ও এফএও’র সঙ্গে যৌথ গবেষণা বাড়ানো জরুরি। সমুদ্রবিজ্ঞান গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোই মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়ন ও নীল অর্থনীতির বিকাশের মূল চাবিকাঠি।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় গরু দিয়ে হালচাষের ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল লাঙল-গরুর হালচাষ, কিন্তু এখন যান্ত্রিক কৃষির প্রসারে তা প্রায় হারিয়ে গেছে। চরফরাদী ইউনিয়নের কুর্শা গ্রামে কৃষক সবুজ মিয়া এখনও বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন, যদিও আশপাশের অধিকাংশ কৃষক এখন মেশিন ব্যবহার করছেন। স্থানীয়রা জানান, আগে প্রতিটি বাড়িতেই হালের গরু ছিল, কিন্তু এখন অল্প সময়ে বেশি জমি চাষের সুবিধায় পাওয়ার টিলার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরে-ই-আলম বলেন, কৃষিকে বাণিজ্যিক রূপ দিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার অপরিহার্য। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই পরিবর্তনে গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরু দিয়ে হালচাষের বিলুপ্তি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। কৃষি আধুনিকায়নের এই যুগে ঐতিহ্য সংরক্ষণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে, যার মূল কারণ তৈরি পোশাক খাতের মন্দা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭.৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১.০৩ শতাংশ কম। স্পেন, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে, তবে জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ইতালিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউরোপে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রেতাদের চাহিদা হ্রাস এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। নগদ প্রণোদনা ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামায় রপ্তানিকারকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সতর্ক করেছেন, নীতিগত সহায়তা ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না হলে আরও কারখানা বন্ধ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের টিকে থাকার জন্য পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। ২০২৬ সালে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এসব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া স্থলবন্দরে ২০১৬ সালে নির্মিত প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটি নির্মাণের পর থেকেই অচল অবস্থায় রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্পের আওতায় কোটি টাকায় নির্মিত এ স্থাপনাটি বিদেশ থেকে আমদানি করা পশু ও প্রাণিজ খাদ্য পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হলেও গত প্রায় ১০ বছর ধরে এর কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা জানান, স্টেশনটি চালু না থাকায় ৫১টি ল্যাব যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। ২০০৯ সালে চালু হওয়া বিলোনিয়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম সীমিত থাকায় কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটির প্রয়োজনীয়তা কার্যত হারিয়ে গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, স্টেশনটি চালু হলে বৈধ পশু আমদানি বৃদ্ধি ও রাজস্ব আয় বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত সরকারি স্থাপনা শুধু সম্পদের অপচয়ই নয়, সীমান্তে পশুরোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও দুর্বল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক সমন্বয় ছাড়া স্টেশনটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৪ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ভারত কখনো তার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি। জুলাই বিপ্লবের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বহু নেতা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই বিবৃতি বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক অনুরোধ উপেক্ষিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দিল্লির বক্তব্যে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই দাবি অতীত ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা অভিযোগ করছেন, ভারতের নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং আওয়ামী লীগকেই একমাত্র মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন। সাম্প্রতিক ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবর জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, ভারত যদি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে না তোলে এবং পলাতক অপরাধীদের ফেরত না দেয়, তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীরা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানানো এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। ঐক্য পরিষদের নেতারা তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, ১ জানুয়ারির মধ্যে সরকার দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বক্তারা শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিচারণ করে জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তার আদর্শ অনুসরণ করেই তারা এগিয়ে যাবেন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, যা সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ ও আধিপত্যবাদবিরোধী তরুণ নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে শোকাবহ বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং হত্যাকারীদের বিচারের আশ্বাস দেয়। তবে হাদির মৃত্যুর পর কিছু এলাকায় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা ও নাগরিক সমাজ। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অনেকে এটিকে হাদির আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী ও কিছু প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার জনমতকে বিভ্রান্ত করে সংস্কারপন্থী শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজন অব্যাহত থাকলে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই সংস্কারপন্থী শক্তির ঐক্য ও সংযমই এখন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রধান শর্ত।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবে। চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ ঘোষণা করবেন। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেন, অন্যদিকে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। ১৭ আসামির মধ্যে হাসিনা ও তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাতজন পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে আজ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা থাকায় মামলাটি জাতীয়ভাবে আলোচিত। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়বদ্ধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে আরও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা চলতি মাসে দ্বিতীয় ঘটনা। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানান, পেন্টাগনের সহায়তায় মার্কিন কোস্টগার্ড শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে জাহাজটি আটক করে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই অভিযান অঞ্চলে মাদক ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ তেলের অবৈধ চলাচল রোধের অংশ। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের ওপর ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ ঘোষণা করেছেন। অপরদিকে, কারাকাস এই পদক্ষেপকে ‘গুরুতর আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক জাহাজ জব্দের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার অভিযোগকে গুজব বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শহরের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও কূটনৈতিক কার্যালয়ে কোনো সরাসরি হামলা বা ভাঙচুরের প্রমাণ মেলেনি। কয়েকজন বিক্ষোভকারী দূর থেকে পাথর নিক্ষেপ করলেও তা ভবনের বাইরের গেট পর্যন্ত সীমিত ছিল এবং পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আমিনুর ইসলাম জানান, কোনো অনুপ্রবেশ বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে এবং ১২ জনকে আটক করে। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়ে পুরো এলাকা নিরাপত্তা বলয়ে রাখে। ভিডিও বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যেও হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক স্থাপনা ঘিরে গুজব ছড়ালে তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জননিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা প্রশাসনকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধানদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জানাজায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নাটোর, কুড়িগ্রাম, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধার বাসিন্দা এই ছয় শান্তিরক্ষী ১৩ ডিসেম্বর সুদানে জাতিসংঘ ঘাঁটিতে হামলায় শহীদ হন। শনিবার তাদের মরদেহ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানে দেশে পৌঁছালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামরিক মর্যাদায় গ্রহণ করা হয়। সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন ও সালাম জানানো হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলো হেলিকপ্টারে নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয় এবং যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর শনিবার জানায়, গাজা সিটির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯৪ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরে দেইর আল বালাহ এলাকায় দাফন করা হবে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর এই উদ্ধার অভিযান চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, স্বাস্থ্য ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তারা অস্থায়ীভাবে সমাহিত হাজারো লাশ বিভিন্ন কবরস্থানে স্থানান্তর করেছে। যদিও ১০ অক্টোবর থেকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তথাপি ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা যদি বিচারের মুখোমুখি না হয়, তাহলে দেশে কারও জীবনই নিরাপদ থাকবে না। রবিবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, হাদি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি আদর্শের প্রতীক। তার হত্যাকারীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির শত্রু। সরকারের তদন্ত কার্যক্রমে জনগণ সন্তুষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন, হাদির জনপ্রিয়তা অনেকের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, তাই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যা হাদির আদর্শকে ঘিরে দলের রাজনৈতিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।