২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমেছে, যার মূল কারণ তৈরি পোশাক খাতের মন্দা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭.৮৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১.০৩ শতাংশ কম। স্পেন, পোল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে, তবে জার্মানি, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ইতালিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইউরোপে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রেতাদের চাহিদা হ্রাস এ পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। নগদ প্রণোদনা ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামায় রপ্তানিকারকরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সতর্ক করেছেন, নীতিগত সহায়তা ও জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ না হলে আরও কারখানা বন্ধ হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাক শিল্পের টিকে থাকার জন্য পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। ২০২৬ সালে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা এসব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া স্থলবন্দরে ২০১৬ সালে নির্মিত প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটি নির্মাণের পর থেকেই অচল অবস্থায় রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘প্রাণিরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্পের আওতায় কোটি টাকায় নির্মিত এ স্থাপনাটি বিদেশ থেকে আমদানি করা পশু ও প্রাণিজ খাদ্য পরীক্ষার জন্য তৈরি করা হলেও গত প্রায় ১০ বছর ধরে এর কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা জানান, স্টেশনটি চালু না থাকায় ৫১টি ল্যাব যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং ভবনটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। ২০০৯ সালে চালু হওয়া বিলোনিয়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম সীমিত থাকায় কোয়ারেন্টাইন স্টেশনটির প্রয়োজনীয়তা কার্যত হারিয়ে গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, স্টেশনটি চালু হলে বৈধ পশু আমদানি বৃদ্ধি ও রাজস্ব আয় বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত সরকারি স্থাপনা শুধু সম্পদের অপচয়ই নয়, সীমান্তে পশুরোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও দুর্বল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক সমন্বয় ছাড়া স্টেশনটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৪ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য ভারত কখনো তার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়নি। জুলাই বিপ্লবের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বহু নেতা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই বিবৃতি বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক অনুরোধ উপেক্ষিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দিল্লির বক্তব্যে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই দাবি অতীত ও বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা অভিযোগ করছেন, ভারতের নীতিনির্ধারকরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন এবং আওয়ামী লীগকেই একমাত্র মিত্র হিসেবে বিবেচনা করেছেন। সাম্প্রতিক ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তদের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবর জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, ভারত যদি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে না তোলে এবং পলাতক অপরাধীদের ফেরত না দেয়, তবে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীরা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানানো এবং বর্তমান রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। ঐক্য পরিষদের নেতারা তাদের সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের সুপারিশসহ গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, ১ জানুয়ারির মধ্যে সরকার দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বক্তারা শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতিচারণ করে জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তার আদর্শ অনুসরণ করেই তারা এগিয়ে যাবেন। আগামী ২৬ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, যা সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ ও আধিপত্যবাদবিরোধী তরুণ নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে শোকাবহ বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হাদির মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং হত্যাকারীদের বিচারের আশ্বাস দেয়। তবে হাদির মৃত্যুর পর কিছু এলাকায় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা ও নাগরিক সমাজ। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় অনেকে এটিকে হাদির আদর্শ থেকে বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী ও কিছু প্রবাসী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার জনমতকে বিভ্রান্ত করে সংস্কারপন্থী শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিভাজন অব্যাহত থাকলে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই সংস্কারপন্থী শক্তির ঐক্য ও সংযমই এখন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রধান শর্ত।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুমের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেবে। চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ ঘোষণা করবেন। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করেন, অন্যদিকে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। ১৭ আসামির মধ্যে হাসিনা ও তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাতজন পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে আজ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা থাকায় মামলাটি জাতীয়ভাবে আলোচিত। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়বদ্ধতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে আরও একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা চলতি মাসে দ্বিতীয় ঘটনা। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানান, পেন্টাগনের সহায়তায় মার্কিন কোস্টগার্ড শনিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে জাহাজটি আটক করে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই অভিযান অঞ্চলে মাদক ও সন্ত্রাসবাদের অর্থায়নে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ তেলের অবৈধ চলাচল রোধের অংশ। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেলবাহী জাহাজের ওপর ‘সম্পূর্ণ অবরোধ’ ঘোষণা করেছেন। অপরদিকে, কারাকাস এই পদক্ষেপকে ‘গুরুতর আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক জাহাজ জব্দের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।
চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে হামলার অভিযোগকে গুজব বলে জানিয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শহরের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লেও কূটনৈতিক কার্যালয়ে কোনো সরাসরি হামলা বা ভাঙচুরের প্রমাণ মেলেনি। কয়েকজন বিক্ষোভকারী দূর থেকে পাথর নিক্ষেপ করলেও তা ভবনের বাইরের গেট পর্যন্ত সীমিত ছিল এবং পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আমিনুর ইসলাম জানান, কোনো অনুপ্রবেশ বা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে এবং ১২ জনকে আটক করে। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয়ে পুরো এলাকা নিরাপত্তা বলয়ে রাখে। ভিডিও বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যেও হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক স্থাপনা ঘিরে গুজব ছড়ালে তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জননিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা প্রশাসনকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানান।
সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর জানাজা রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় সেনা মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধানদের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। জানাজায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নাটোর, কুড়িগ্রাম, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধার বাসিন্দা এই ছয় শান্তিরক্ষী ১৩ ডিসেম্বর সুদানে জাতিসংঘ ঘাঁটিতে হামলায় শহীদ হন। শনিবার তাদের মরদেহ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানে দেশে পৌঁছালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সামরিক মর্যাদায় গ্রহণ করা হয়। সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন ও সালাম জানানো হয়। জানাজা শেষে মরদেহগুলো হেলিকপ্টারে নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয় এবং যথাযথ সামরিক মর্যাদায় দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর শনিবার জানায়, গাজা সিটির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৯৪ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পরে দেইর আল বালাহ এলাকায় দাফন করা হবে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর এই উদ্ধার অভিযান চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, স্বাস্থ্য ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তারা অস্থায়ীভাবে সমাহিত হাজারো লাশ বিভিন্ন কবরস্থানে স্থানান্তর করেছে। যদিও ১০ অক্টোবর থেকে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তথাপি ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে, যা গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীরা যদি বিচারের মুখোমুখি না হয়, তাহলে দেশে কারও জীবনই নিরাপদ থাকবে না। রবিবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে হাদির কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন এবং দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, হাদি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং একটি আদর্শের প্রতীক। তার হত্যাকারীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির শত্রু। সরকারের তদন্ত কার্যক্রমে জনগণ সন্তুষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন, হাদির জনপ্রিয়তা অনেকের কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল, তাই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন, যা হাদির আদর্শকে ঘিরে দলের রাজনৈতিক সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কমে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। রবিবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। সকালবেলা হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শীত বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এখনো শৈত্যপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়নি, আবহাওয়াবিদরা বলছেন পরিষ্কার আকাশ ও উত্তর-পশ্চিমের বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি বাড়ছে। নাগরিকদের বিশেষ করে ভোর ও রাতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন এই ঠান্ডা অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোবাইল কোর্ট আইনের আওতায় বিচারিক ক্ষমতা এবং ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে অবাধ প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠকে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি এই প্রস্তাব দেন। তবে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বর্তমান বিধান অনুযায়ী প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া কোনো বাহিনীর সদস্য ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানান, সরকার ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করেছে। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া অন্য কাউকে এ ক্ষমতা দেওয়ার সুযোগ নেই। কমিশন পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আনবে। অন্যদিকে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানায়। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের ওপর জোর দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর এই প্রস্তাব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী বৈঠকে নেওয়া হতে পারে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যারসের শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে (২৭) পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শ্রমিক অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকার কারণে মালিকপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ সাজিয়ে তাকে কারখানার ভেতর থেকে বের করে বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। র্যাব-১৪ ও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি হঠাৎ কোনো জনতার হামলা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীদের অধিকাংশই স্থানীয় নয়। রাজনৈতিক মহলও ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। বিএনপি ও জামায়াত নেতারা বলছেন, ধর্মীয় ইস্যু ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার মালিক বাদশা মিয়া ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ এবং তার প্রভাবেই শ্রমিক আন্দোলন দমন ও দিপুর হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে, যা শ্রমিক নিরাপত্তা ও শিল্পক্ষেত্রে ধর্মীয় উসকানির অপব্যবহার নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট অঞ্চলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও জোট সমঝোতার অনিশ্চয়তা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী ঘোষণা করলেও সিলেট-৫ আসন এখনো ঝুলে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলো ইতিমধ্যে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করে প্রচারে নেমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির ঐক্যহীনতা ও মনোনয়নবঞ্চিতদের ক্ষোভ দলটির নির্বাচনি অবস্থান দুর্বল করতে পারে। জামায়াতের তৃণমূল সংগঠন এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী, যা বিএনপির জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হলে বিএনপির জন্য সিলেটে ঐক্যবদ্ধ প্রচার চালানো কঠিন হবে। ফলে ঐতিহ্যগতভাবে শক্ত ঘাঁটি এই অঞ্চলে দলটির প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।