বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ফোনে ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেন, তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলেন যে তিনি ও তার পরিবার সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট এবং এজন্য কৃতজ্ঞ। দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরার প্রেক্ষাপটে এই ধন্যবাদ বার্তা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান ও ড. ইউনূসের এই সৌজন্য বিনিময় অন্তবর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে হাসপাতাল এলাকা ও আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়, যাতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। দেশে ফেরার পর তিনি দলের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামো ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। জাতীয় পতাকা হাতে তারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও সিএসএফ সদস্যরা পুরো পথজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তারেক রহমান গাড়ি থেকে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতাকে সরাসরি দেখতে পেয়ে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে, ব্যানার, স্লোগান ও জাতীয় পতাকায় সজ্জিত হয় সংবর্ধনাস্থল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে পারে এবং আসন্ন জাতীয় রাজনীতিতে দলের অবস্থান পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দেশে ফেরার পর এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে তার প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তাদের বরণ করেন। বিমানবন্দর ত্যাগের আগে তারেক রহমান জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন, যা সমর্থকদের কাছে আবেগঘন প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশে ফেরার পরপরই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের যোগাযোগ বর্তমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিএনপির সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সমন্বয়ের সম্ভাবনাও উন্মোচন করছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জনমত জরিপ সংস্থা ভিটিএসআইওএমের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাশিয়ার অধিকাংশ নাগরিক বিশ্বাস করেন ২০২৬ সালেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হবে। এই আশাবাদের পেছনে রয়েছে রুশ বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রচেষ্টা জোরদার হওয়া। জরিপে অংশ নেওয়া ১,৬০০ জনের মধ্যে ৫৫ শতাংশ মনে করেন আগামী বছর যুদ্ধের ইতি ঘটবে, আর ৭০ শতাংশ ২০২৬ সালকে রাশিয়ার জন্য আরও সফল বছর হিসেবে দেখছেন। সংস্থার উপপ্রধান মিখাইল মামোনভ জানান, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে “বিশেষ সামরিক অভিযান” জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে শেষ হতে পারে—এই ইঙ্গিত জনগণের আশাবাদ বাড়িয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও জরিপে ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আশাবাদ যুদ্ধ ক্লান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশার প্রতিফলন। তবে তারা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি এখনো অনিশ্চিত এবং তা নির্ভর করবে যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থা ও কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারকে দেশে ফেরায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, “জনাব তারেক রহমান, সপরিবারে সুস্বাগতম!” দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে তারেক রহমান সপরিবারে দেশে ফেরেন। তিনি সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৩০০ ফিট এলাকার উদ্দেশে রওনা দেন। বিমানবন্দরে বিএনপির হাজারো নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত হয়ে তাকে হাত নেড়ে স্বাগত জানান। রাস্তার দুই পাশে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা হাতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই প্রকাশ্য শুভেচ্ছা বার্তা বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত বহন করতে পারে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরাইলের নিরস্ত্রীকরণের হুমকি প্রত্যাখ্যান করতে লেবানন সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি বলেছে, এই শর্ত মানলে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হবে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইসরাইলি বাহিনী সম্পূর্ণভাবে সরে যায়নি, যা জাতীয় অগ্রাধিকার লঙ্ঘন করছে। হিজবুল্লাহ অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি সীমান্ত চৌকিতে ইসরাইলি সেনারা এখনো অবস্থান করছে, যা জানুয়ারির প্রত্যাহার চুক্তির পরিপন্থী। সংগঠনটি বলেছে, ইসরাইলি দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধের অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি বৈধ। অন্যদিকে, ইসরাইল বছরের শেষ নাগাদ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার শর্তে আক্রমণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যুদ্ধবিরতির পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও সীমান্তে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ইসরাইলের আংশিক প্রত্যাহার এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘এ’ ও ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ) ৮৬০টি আসনের বিপরীতে ৭২ হাজার ৪৭৪ জন আবেদন করেছে, আর ‘সি’ ইউনিটে (বাণিজ্য অনুষদ) ৫২০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ২০ হাজার ৫৩৭ জন। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা ১২টি কেন্দ্রে হবে, যার মধ্যে তিনটি কেন্দ্র ঢাকার বাইরে—কুমিল্লা, খুলনা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ নয়টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকার চারটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষার মোট নম্বর ১০০, যার মধ্যে ৭২ নম্বর এমসিকিউ এবং ১৮ নম্বর এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং ঢাকার বাইরে কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য। জানুয়ারিতে অন্যান্য অনুষদের ভর্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আঙ্কারায় হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য খলিল আল-হায়ার নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গাজার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা হয়। ফিদান বলেন, তুরস্ক সব আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং গাজায় আবাসন ও মানবিক সহায়তা প্রদানে তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। হামাস প্রতিনিধিরা জানান, তারা যুদ্ধবিরতির শর্ত পূরণ করেছে, কিন্তু ইসরাইল এখনো গাজায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, যা শান্তি পরিকল্পনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে। তারা আরও বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মানবিক সহায়তা এখনো জরুরি চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয় এবং ওষুধ, জ্বালানি ও আশ্রয় সামগ্রীর ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের হামলা ও বসতি স্থাপনকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করে। এই বৈঠক তুরস্কের মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার, সরকারের উপদেষ্টা ও সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভি (২৫) কে টঙ্গীতে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে মরকুন পূর্বপাড়া চৌরঙ্গীর পাড় এলাকায় তার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে টঙ্গী পূর্ব থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানায়, সুরভির বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। তার অনলাইন কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে বলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং কর্তৃপক্ষ তাকে নজরদারিতে রাখে। ওসি মেহেদী হাসান জানান, সুরভির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে কালিয়াকৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি দেশে অনলাইন বক্তব্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমিত করতে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফকে (পিটিআই) আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ইসলামাবাদে ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, পিটিআই যদি আলোচনায় আন্তরিক হয়, সরকারও সমানভাবে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সব দলের মধ্যে রাজনৈতিক সম্প্রীতি অপরিহার্য। এর আগে পিটিআইয়ের একটি অংশ ‘তেহরিক তাহাফুজ আয়েন-ই-পাকিস্তান’ (টিটিএপি) জানায় যে, সংলাপের দরজা খোলা রয়েছে। তবে এখনো কোনো পক্ষই আলোচনার আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে, তোশাখানা-২ দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির ১৭ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যান্য মামলার অগ্রগতি আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে পিটিআই ও তার পরিবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন ছাড়া সংলাপের উদ্যোগ সফল হওয়া কঠিন হবে, বিশেষ করে ২৭ জানুয়ারির পরবর্তী শুনানির আগে।
২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তৃতীয় মেয়াদের অর্ধেক পথ অতিক্রম করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই নেতা এখনো ৭১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। তবে বিজেপির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কমে আসা এবং বিরোধী শক্তির উত্থান মোদি-পরবর্তী ভারতের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদির উত্তরসূরি হিসেবে বিজেপির ভেতর থেকেই কেউ উঠে আসতে পারেন—যেমন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনবিশ। বিকল্পভাবে অন্ধ্র প্রদেশের নেতা এন. চন্দ্রবাবু নাইডু বা তার ছেলে নারা লোকেশও নেতৃত্বে আসতে পারেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মোদি-পরবর্তী কোনো নেতা তার জনপ্রিয়তা বা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নাও পারেন। ফলে জনসমর্থন ধরে রাখতে অতিরিক্ত কল্যাণমূলক ব্যয় বা নগদ বিতরণের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা ভারতের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান ইসরাইলের বিরুদ্ধে গাজায় মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আঙ্কারায় জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির এক সভায় তিনি বলেন, ইসরাইল মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং ১১ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। এর ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও অবনত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরদোয়ান জানান, তুরস্ক ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন আরও বাড়াবে এবং গাজাকে কখনো একা ছেড়ে দেবে না। তিনি বলেন, তুরস্ক শান্তির পক্ষে থাকলেও অন্যায় ও নিপীড়নের মুখে নীরব থাকবে না। তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে যখন গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এরদোয়ানের এই অবস্থান তুরস্ককে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠ হিসেবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করছে এবং ইসরাইলের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্ককে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও ডেনমার্কসহ ১৪টি দেশ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ১৯টি নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ায় ইসরাইলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জাপান, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও যুক্তরাজ্যসহ দেশগুলো ইসরাইলকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। তারা বসতি সম্প্রসারণ ও সংযুক্তির যেকোনো নীতির বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানায়। ইসরাইলের কট্টর-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেন, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা রোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইসরাইলের পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল করতে পারে এবং গাজা যুদ্ধবিরতি রক্ষার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। ঘটনাটি দুই-রাষ্ট্র সমাধান ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেছেন, জাতীয় ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার কোনো অপচেষ্টা সহ্য করা হবে না। রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত ২৭৩তম কর্পস কমান্ডার্স কনফারেন্সে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, অপরাধ ও রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে সম্পর্ককে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আসিম মুনির সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গোয়েন্দাভিত্তিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের পেশাদারিত্ব ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, সরকার, সেনাবাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাকিস্তান ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ও উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও একবার কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ফিলিস্তিনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানান। পর্যবেক্ষকদের মতে, তার বক্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আঞ্চলিক অবস্থান শক্তিশালী করার বার্তা বহন করে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।