বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মঙ্গলবার সিলেটে নির্ধারিত দুটি বিপিএল ম্যাচ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়, যা দেশের সর্বত্র শোকের ছায়া ফেলেছে। বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ম্যাচগুলো স্থগিত করা হয়েছে এবং নতুন সূচি শিগগিরই জানানো হবে। দিনের প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল সিলেট টাইটান্সের, আর দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রতিপক্ষ ছিল রংপুর রাইডার্স। বিসিবি খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দেশের ক্রিকেটে তার অবদান স্মরণ করেছে। তিনি গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিসিবি জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলোর নতুন সময়সূচি দ্রুত জানানো হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি খালেদা জিয়ার আজীবন ত্যাগ এবং দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। শাহবাজ শরিফ বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু ছিলেন এবং পাকিস্তান সরকার ও জনগণ শোকের এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে। তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন। এদিকে, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও এক্সে দেওয়া বার্তায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ইন্তেকাল করেছেন বলে ‘আমার দেশ’ জানিয়েছে। তার ইন্তেকালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এক শোকবার্তা প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় সংগঠনের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন দূরদর্শী রাজনীতিবিদ, দেশপ্রেমিক ও সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নেতারা উল্লেখ করেন, তার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিজ্ঞ ও সংগ্রামী নেতাকে হারিয়েছে। তারা মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকাহত পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন এবং খালেদা জিয়ার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানান। শোকবার্তায় মোদি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া দেশের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি ২০১৫ সালে ঢাকায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপন্থা দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নেবে। মোদি তাঁর বার্তার শেষে প্রার্থনা করেন, বেগম খালেদা জিয়ার আত্মা যেন শান্তিতে থাকে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার অবদান, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং জনগণের ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার চলতি মাসে তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। ড. ইউনূস বলেন, তার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, যিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করে নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে মাইলফলক স্থাপন করেন। অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করেন এবং কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে খালেদা জিয়া ছিলেন সংগ্রাম ও প্রতিরোধের প্রতীক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। ড. ইউনূস তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও তার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সিন্ডিকেট কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নির্বাচন কমিশন এই স্থগিতাদেশ ঘোষণা করে। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সব প্যানেলের প্রার্থী ও কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ভিসি ভবনের সামনে জড়ো হয়ে গেটের তালা ভেঙে বিক্ষোভ শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন স্লোগান দেন, ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভস্থলে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী এ কে এম রাকিব, শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মোঃ রিয়াজুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সংবাদে প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সোমবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে জাতি হারালো এক অভিভাবককে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনবারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক যুগের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। জাতি আজ শোকাহত, কারণ তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বর্তমানে অত্যন্ত সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সোমবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, খালেদা জিয়া ২৩ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তার অবস্থা এখনও অত্যন্ত গুরুতর। তিনি বলেন, সময়ই বলে দেবে তিনি এই সংকট কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। ডা. জাহিদ জানান, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসা তদারকি করছে এবং সোমবার সকালেও বোর্ড বৈঠক করেছে। তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যান। খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসজনিত নানা জটিলতা রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শারীরিক অবস্থা আকাশযাত্রার উপযোগী না হওয়ায় দেশে তার চিকিৎসা চলছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ২৯ ডিসেম্বর রাতে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনও ক্রিটিক্যাল এবং আগের মতোই রয়েছে। প্রতিবেদনে নতুন কোনো চিকিৎসা অগ্রগতি বা পরিবর্তনের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। দীর্ঘ চিকিৎসা চলাকালে বিএনপির শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে উপস্থিত থেকে দলের চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। ঢাকার ২০টি আসনে মোট ২৪৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। বিভিন্ন আসনে মনোনয়নের সংখ্যা ভিন্ন ছিল। ঢাকা-১ আসনে ৮টি, ঢাকা-২ আসনে ৩টি, ঢাকা-৩ ও ঢাকা-৫ আসনে ১৬টি করে, ঢাকা-৪ আসনে ৮টি, ঢাকা-৬ আসনে ৭টি, ঢাকা-৭ আসনে ১৫টি, ঢাকা-৮ আসনে ১২টি, ঢাকা-৯ আসনে ১৪টি, ঢাকা-১০ আসনে ১৩টি, ঢাকা-১১ আসনে ১১টি, ঢাকা-১২ আসনে ১৮টি, ঢাকা-১৪ আসনে ১৩টি, ঢাকা-১৫ আসনে ৯টি, ঢাকা-১৬ আসনে ১৩টি, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৮ আসনে ১৭টি করে, ঢাকা-১৯ আসনে ১১টি এবং ঢাকা-২০ আসনে ৭টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মাধ্যমে ঢাকার সব আসনে মনোনয়নপত্র জমাদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, যা জাতীয় নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ ও ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমেদকে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে প্রার্থী করেছে বিএনপি। রোববার মনোনয়ন ঘোষণার পর সোমবার তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং দলের ভেতরেও ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয় নেতারা অভিযোগ করেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির মতামত ছাড়াই কেন্দ্রীয়ভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, যে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। স্থানীয় নেতাদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও ঋণখেলাপির অভিযোগও আছে। অনেক নেতা মনে করছেন, এমন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া বিএনপির আদর্শ ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, দল হয়তো আর্থিকভাবে সক্ষম প্রার্থীকে প্রয়োজন মনে করেছে এবং জসিমের কোনো দলীয় পদ ছিল না। তবে তৃণমূল নেতারা তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজম খান নির্বাচনে অংশ না নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে সমর্থন জানিয়েছেন। সোমবার তিনি নিজেই এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। আজম খান বলেন, পীরগাছা–কাউনিয়ার মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সম্মিলিত শক্তিকে আরও বেগবান করতে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্থানীয় জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রবাসী সমর্থকদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জোট মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রংপুর-৪ আসনে জোটের প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ইঙ্গিত মিলেছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারায় অবস্থিত ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ২৯ ডিসেম্বর এক প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) তিন হাজার কোটিরও বেশি টাকা বকেয়া রাখায় এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কাছে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্যও পর্যাপ্ত অর্থ নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে মোট ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে এসএস পাওয়ার সরবরাহ করে ১,২২৪ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেলে চট্টগ্রামে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে এবং দেশও ক্ষতির মুখে পড়বে। চীনের সেফকো থ্রি পরিচালিত এই কেন্দ্রটি ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং মে মাস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। ২০১৬ সালে বিপিডিবি ও এসএস পাওয়ারের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটি শুরু হয়। পরে এস আলম গ্রুপের কাছ থেকে সেফকো থ্রি কোম্পানি কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। সোমবার বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হলেও শুরু থেকেই তিনি নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মাহফুজ আলম বলেন, সরকার মনে করেছিল ছাত্র প্রতিনিধিরা থাকলে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই তিনি সরকার থেকে সরে যান, তবে নির্বাচনে না যাওয়া ছিল তার আগের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও জানান, তার ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম ওই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন করবেন। মাহফুজ আলম বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু বলার নেই। এর আগে ফেসবুকে তিনি জানান, নাগরিক কমিটি ও এনসিপি গঠনে সম্পৃক্ত থাকলেও তিনি এনসিপির অংশ হচ্ছেন না। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ইতিহাসের এই পর্বে বাংলাদেশ এক ধরনের শীতল যুদ্ধে রয়েছে এবং কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজেদের নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৭টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দিয়ে মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন, তবে তিনি এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনি সাফল্যের জন্য এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে, যদিও আসন ভাগাভাগি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি জানান, সম্ভাব্য বাতিল বা ভুলত্রুটি বিবেচনায় কিছুটা বেশি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১০ ও কুমিল্লা-৩ আসনে এনসিপির কোনো প্রার্থী নেই, সেখানে জোটের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করবে দল। তিনি আরও বলেন, দলের নেতাকর্মীরা জোটের প্রার্থীদের জন্য একযোগে কাজ করবে। জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১০ দলের এই জোটে এনসিপিকে প্রায় ৩০টি আসন দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। এবি পার্টি যুক্ত হওয়ায় আলোচনায় বিলম্ব হয়েছে, তবে আসন সমঝোতা শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।