বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর অন্তবর্তীকালীন সরকার জরুরি ভিত্তিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মির্জা ফখরুল ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতাল ত্যাগ করে বৈঠকে যোগ দিতে রওনা হয়েছেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা তাঁর সংগ্রামী জীবন ও নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর অনুপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করবে। জরুরি বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সিন্ডিকেট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করেছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিনের একক সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়ে নির্বাচন কমিশন ভোট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়েছে এবং ভোটাররাও প্রস্তুত ছিলেন। এত প্রস্তুতির পর হঠাৎ নির্বাচন স্থগিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার পেছানোর পর আজকের নির্বাচনটি হওয়া উচিত ছিল। প্রয়োজনে ফলাফল পরে ঘোষণা করা যেতে পারে, তবে এখন নির্বাচন না হলে প্রশাসনিক ও মানসিক প্রস্তুতির পরিবেশ নষ্ট হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সরকার চলতি মাসে তাকে রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ড. ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি স্বৈরশাসনের পতনে নেতৃত্ব দেন, নারী শিক্ষায় অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি এবং সবসময় আপসহীন নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দেশবাসীকে শান্ত থাকার ও তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি নয় বছরের স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আপোসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং ১১ জন মন্ত্রী ও ২১ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন। খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ শপথ নেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আরও দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিবেদনটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা তুলে ধরে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন। সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বুধবার ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকার পাশে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে তার স্বামী ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে। তিনি ছিলেন দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার দাফনের স্থান নির্বাচনে স্বামী জিয়াউর রহমানের প্রতি তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায়। বায়তুল মোকাররমের খতিব জানাজা পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে, এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা জানিয়েছেন যে তার মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সকাল সোয়া ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘদিনের এই নেত্রীর মৃত্যুতে বিএনপির মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব খালেদা জিয়াকে অপরাজেয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার মৃত্যু দেশের রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন। তার জানাজা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব পড়াবেন।
‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তাইওয়ানকে ঘিরে লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। বেইজিং জানিয়েছে, এই দুই দিনের মহড়ায় কিলুং ও কাওশিয়ুংসহ তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবরোধের অনুশীলন এবং সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সিমুলেশন করা হয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জানায়, এতে ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট, যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়েছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ জলসীমায় সমুদ্র-আকাশ সমন্বয় ও অবরোধ সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। তাইওয়ান এই পদক্ষেপকে সামরিক ভীতি প্রদর্শন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই মহড়া এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে বড় পরিসরে অস্ত্র বিক্রি করেছে এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলপ্রয়োগ হলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে যে, বহিরাগত শক্তি তাইপেকে অস্ত্র সহায়তা দিলে তাইওয়ান প্রণালী দ্রুত সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। পিএলএ মুখপাত্র শি ই বলেন, এই মহড়া ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’পন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপটির আশপাশে ১৩০টি চীনা সামরিক বিমান ও ১৪টি নৌযান শনাক্ত করা হয়েছে, যা চীনের আগ্রাসী মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মরহুমার জন্য দোয়া করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বার্তায় খালেদা জিয়ার পরিবার, প্রিয়জন ও সহকর্মীদের জন্য ধৈর্য ও শক্তি কামনা করেন। তাঁর এই শোকবার্তায় প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির প্রকাশ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁকে সংগ্রামী ও অপরাজেয় নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে।
অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতিকে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে খালেদা জিয়ার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং জানাজার দিনে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। ড. ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে অম্লান থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে এনেছে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা ও দেশপ্রেম জাতির স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রশিদ জানান, আগামীকাল বুধবার সারা দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে। তিনি বলেন, বুধবার সংসদ ভবনে বাদ জোহর খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ জানায়, রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং সরকারি পর্যায়ে শোক কর্মসূচি পালন করা হবে। অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, আজই কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং নির্বাচন শেষে প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে হবে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর উপাচার্য ড. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের মতামত নেওয়া হয়নি এবং তারা আজই নির্বাচন দাবি করেন। নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে জবি ছাত্রদল সভাপতি মেহদি হাসান হিমেল ও ইসলামী ছাত্রশিবির সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম অংশ নেন। নির্বাচন কমিশন জানায়, তারা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য এবং স্বাধীনভাবে ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, তাই স্থগিতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যাবে না। উপাচার্য জানান, দেশে শোকাবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং এই সময়ে কোনো উৎসবমুখর কার্যক্রম আয়োজন করা সমীচীন নয় বলেই নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের প্রচারণা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানান গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, জানাজা ও দাফন না হওয়া পর্যন্ত গণভোটের সব ধরনের প্রচার বন্ধ থাকবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন গণভোটে অংশ নিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার ১৯টি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিল, যার মধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও রয়েছে। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে খালেদা জিয়া মারা যান। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নির্ধারণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদ বিশেষ বৈঠকে বসেছে। বেলা ১২টার পর প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে জানানো হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক শোকবার্তায় জানায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে যুক্তরাষ্ট্র গভীর শোক প্রকাশ করছে। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং তার নেতৃত্ব দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশেষ অবদান রেখেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোরে ৭৯ বছর বয়সে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। দূতাবাসের বার্তায় তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও জাতীয় অগ্রযাত্রায় অবদানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই শোকবার্তা বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রীর মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমবেদনা প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অঝোরে কেঁদে ফেলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এমন সংবাদ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়াতে হবে তা কখনো ভাবেননি। তিনি জানান, ড. শাহাবুদ্দিনের ঘোষণায় জানা গেছে, ভোর ৬টায় ‘গণতন্ত্রের মা’ খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। তিনি এই ক্ষতিকে জাতির জন্য অপূরণীয় বলে উল্লেখ করেন। ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া সারাজীবন জনগণের অধিকার ও কল্যাণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, যার ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতি যেন মায়ের ছায়া হারিয়েছে। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার উপস্থিতি তাদের শক্তি জুগিয়েছিল এবং তার মৃত্যু গভীর বেদনার। রিজভী আরও বলেন, এই শোক ও সংকট কাটিয়ে ওঠা জাতির জন্য কঠিন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া নিপীড়ন সহ্য করে গণতন্ত্রের জন্য দৃঢ় মনোবল নিয়ে লড়াই করেছেন এবং দেশ-বিদেশে মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই শোক ও ক্ষতি অপূরণীয়, জাতি কখনোই এটি কাটিয়ে উঠতে পারবে না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, এমন সংবাদ নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়াতে হবে, তা কখনো ভাবেননি। তিনি আশা করেছিলেন, খালেদা জিয়া আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন। মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এক বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে জানাজা, রাষ্ট্রীয় সম্মানে দাফনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান। এই ঘোষণা বিএনপি ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।