ঢাকায় অবস্থিত ইরান দূতাবাস সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানায়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালে বাংলাদেশ ও ইরানের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া একজন প্রখ্যাত জাতীয় নেত্রী হিসেবে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও জনগণের কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার শাসনামলে দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আরও দৃঢ় হয়। ইরান দূতাবাস মরহুমার পরিবার, বিশেষ করে তার ছেলে তারেক রহমানসহ দলীয় সহকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী ৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের খবরে নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করা হলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে নির্বাচনের দাবি জানান। আন্দোলনের সময় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে—কেউ স্থগিতাদেশকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেন, আবার কেউ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন একাধিক দফা আলোচনার পর নতুন তারিখ ঘোষণা করে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, যেন নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন বিলম্ব বা বাতিল না হয় এবং সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক ভোট নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শিগগিরই সংশোধিত সময়সূচি ও ভোটগ্রহণের নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ছেলে তারেক রহমান মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন। পোস্টে তিনি জানান, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে তার মা খালেদা জিয়া পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি মায়ের স্মৃতি ও অবদান স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারেক রহমান লেখেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এক মমতাময়ী মা, যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ ও মানুষের জন্য। তিনি আজীবন লড়েছেন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। তিনি বহুবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তবুও সাহস ও দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত থেকেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের জন্য মা হারিয়েছেন স্বামী ও সন্তান, তাই দেশ ও দেশের মানুষই ছিল তার পরিবারের অংশ। তিনি সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন এবং দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইসরাইল-ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি, গাজায় ইসরাইলি হামলার আশঙ্কা, বাশার আল-আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ার নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ এবং সুদান ও ইয়েমেন নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে তুলছে। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটলেও যুদ্ধবিরতি এখনো অনিশ্চিত। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া ও ইসরাইলের হামলার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গাজায় অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরাইল ৭৩০ বারের বেশি তা লঙ্ঘন করেছে, যাতে ৪০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারারের সরকার স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে, যার সাফল্য উপসাগরীয়, তুর্কি ও ইউরোপীয় সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে। এদিকে, সুদান ও ইয়েমেনে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দেওয়ায় সৌদি-আমিরাত সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব সংঘাত ২০২৬ সালে উপসাগরীয় রাজনীতিতে নতুন বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই দুই মিত্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দায়ী করেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। আসিফ নজরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে জেলখানায় নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল, যা তার জীবনকে বিপন্ন করে এবং অকাল মৃত্যুর কারণ হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আসিফ নজরুল আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে একটি সাজানো ও প্রহসনমূলক মামলায় কারাবন্দি করা হয়েছিল, যা গোটা বিশ্ব দেখেছে। তিনি দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও রায়ে সেই সাজানো মামলার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। ঢাকায় জানাজা ও অন্যান্য কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, যেখানে দশ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ একজন দরদি অভিভাবককে হারিয়েছে। তারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে জান্নাত কামনা করেছে। বিবৃতিতে ইনকিলাব মঞ্চ বেগম খালেদা জিয়াকে আপসহীন দেশনেত্রী হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, তার মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সংগঠনটি তার অবদান স্মরণ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে বলে বিভিন্ন মহল মন্তব্য করেছে এবং তার সংগ্রামী জীবনের প্রশংসা করেছে।
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের স্বীকৃতির পর কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, যা ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে পৃথক হওয়া স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সোমালিয়া, পাশাপাশি কয়েকটি মুসলিম দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি ও আরব লিগও বিবৃতি দিয়েছে। হুথি নেতা আবদেল-মালিক আল-হুথি বলেছেন, সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলি উপস্থিতি তার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি একে সোমালিয়া ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হুথি নেতা সতর্ক করেছেন, এই স্বীকৃতির পরিণতি হবে গুরুতর এবং এটি সোমালিয়া, ইয়েমেন ও লোহিত সাগর তীরবর্তী দেশগুলোর প্রতি শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান। এডেন উপসাগরের কৌশলগত স্থানে অবস্থিত সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এর নিজস্ব মুদ্রা, পাসপোর্ট ও সেনাবাহিনী রয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করছেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে শুরু হওয়া এই বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে ঢাকায় ফিরছেন বৈঠকে যোগ দিতে। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দেশ একজন সাহসী গণতান্ত্রিক নেত্রীকে হারিয়েছে, যার নেতৃত্ব ও ত্যাগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ডা. ইরান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর ঐক্যের প্রতীক। তিনি লেবার পার্টি ও ছাত্রমিশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করে নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি জানান, খালেদা জিয়া তাঁকে সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামে সাহস ও দিকনির্দেশনা দিতেন। শোকবার্তায় ডা. ইরান বলেন, কারাবরণ, নিপীড়ন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। লেবার পার্টি তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে। সভায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তিনি দিনটিকে গভীর শোকের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে তাঁকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং আজ দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার জানাজায় পাকিস্তান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুপুর ১২টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে ড. ইউনূস তাঁকে বাংলাদেশের রাজনীতির এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন এবং শোকের সময়ে ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। ড. ইউনূস বলেন, খালেদা জিয়া গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব জাতিকে বারবার গণতন্ত্রহীন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছে। তিনি জাতির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবার, সহকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। প্রধান উপদেষ্টা জানাজার দিন একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন এবং শোক পালনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার দাফনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জানাজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং পাকিস্তান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানাজায় উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু রাষ্ট্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। রাষ্ট্রপতি তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। রাষ্ট্রপতি দেশবাসীকে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান। শোকবার্তায় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও জাতীয় জীবনে অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়। সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, খালেদা জিয়ার জানাজায় পাকিস্তান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দশ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মঙ্গলবার সকালে এক বার্তায় তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বার্তায় আমিরে মজলিস বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাঁর পরিশীলিত রাজনৈতিক ভাষা ও সংযমবোধ তাঁকে আরও মর্যাদাবান করেছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। দেশ ও মানুষের জন্য তাঁর এই সংগ্রাম জাতি আজীবন স্মরণে রাখবে। খেলাফত মজলিস আমিরের এই শোকবার্তা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও নৈতিক উত্তরাধিকারকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যেখানে তাঁর জাতীয় স্বার্থে অবিচল অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তিনি ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ শোকবার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। নেতৃবৃন্দ বলেন, তিনি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং গণতন্ত্র, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্ব ও অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে কারাবন্দি করে ন্যূনতম চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এবি পার্টি নেতারা মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তাঁরা দেশবাসীর কাছে তাঁর রূহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।