হামাসের আল-কাসসাম ব্রিগেড মঙ্গলবার তাদের সাবেক মুখপাত্র আবু উবাইদা এবং আরও চারজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের শাহাদাতের ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইলি হামলায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির গভীর শোক ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি একে ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর বর্বরতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেন, আবু উবাইদা ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও আল-আকসার মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর সাহস ও নেতৃত্ব মুসলিম যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইতোপূর্বে ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ারসহ বহু হামাস নেতা ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন। ছাত্রশিবির নেতারা ফিলিস্তিনে নিরীহ নাগরিকদের ওপর ইসরাইলি হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন জানান। তারা ইসরাইলি সহিংসতা বন্ধের আহ্বানও জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আগত বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এম খলিলুর রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা এবং ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগেল উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছেন। উপদেষ্টারা অতিথিদের উপস্থিতি ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। জাতীয় শোকের এই সময়ে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানাজায় অংশ নেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৯৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা পর্যন্ত এই আবেদন সম্পন্ন হয়। আবেদন প্রক্রিয়া আজ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে শেষ হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. তোফায়েল আহমেদ। বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য এই তিন ইউনিটে কোটা ছাড়া মোট আসন রয়েছে ৮৯০টি এবং বিভিন্ন কোটায় অতিরিক্ত ১০৭টি আসন সংরক্ষিত। বিজ্ঞান শাখার ‘এ’ ইউনিটে ৩০০ আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৮২৭ জন, মানবিক শাখার ‘বি’ ইউনিটে ৩৯০ আসনের বিপরীতে ৩৬ হাজার ৭০০ জন এবং বাণিজ্য শাখার ‘সি’ ইউনিটে ২০০ আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৪৭৩ জন আবেদন করেছেন। ভর্তি পরীক্ষা ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং এক ঘণ্টার ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে এবং পাশ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে আসন বণ্টন ও বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। আবেদন সংশোধনের সুযোগ থাকবে ১ থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের শোকবার্তা প্রত্যাখানের আহ্বান জানিয়েছে মঞ্চ ২৪। বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে যে, খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত এবং তাদের শোকবার্তা গ্রহণ করা তার আদর্শের প্রতি অসম্মান। বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন দেশ থেকে শোকবার্তা পাঠানো হলেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর কর্তৃক তারেক রহমানের হাতে হস্তান্তরিত বার্তাটি গ্রহণযোগ্য নয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খালেদা জিয়া জীবদ্দশায় গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের আন্দোলনে কখনও আপোষ করেননি। ২০১৫ সালে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটিও তার আপসহীন নীতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মঞ্চ ২৪ মনে করে, বিএনপির উচিত সেই নীতি অনুসরণ করে ভারতের কথিত নাটকীয় শোকবার্তা প্রত্যাখ্যান করা। সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে যে, ভারত বাংলাদেশের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডে মদদ দিয়েছে এবং তাদের শোকবার্তা গ্রহণ করা খালেদা জিয়ার আদর্শ ও সম্মানের পরিপন্থী হবে।
পিরোজপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী বলেছেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে পারলেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মা শান্তি পাবে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কুয়াকাটা ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত খালেদা জিয়ার শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানান এবং ফ্যাসিবাদের শেষ শিকড় উপড়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দেন। মাসুদ সাঈদী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র, ইসলামী মূল্যবোধ ও আলেম সমাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ঘটনার সময় আলেমদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং শাহবাগ আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে তিনি জানান, তার পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাবন্দি থাকাকালে খালেদা জিয়া তাদের পরিবারের খোঁজ নিয়েছিলেন। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আহ্বান জানান, যেন তিনি খালেদা জিয়ার মতোই সকল দল-মতকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের পথে এগিয়ে যান। আসন্ন নির্বাচনে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে ক্ষমতায় আসবে, তবে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনও শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। মঙ্গলবার রাতে তারা রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সরকার আগামীকাল থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর, ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং ৩১ ডিসেম্বর সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। খালেদা জিয়া আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। আগামীকাল দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল সাড়ে ৪টার পর তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। বায়তুল মোকাররমের খতিব শেখ আব্দুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা ও বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তার মা যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকেন তবে ক্ষমা করে দিতে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করতে অনুরোধ করেন। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজাস্থলে ভিড় করেন। আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ ও মেট্রোরেল এলাকাও জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ শোকবার্তা জানিয়ে তার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবদানকে স্মরণ করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় ৩২ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। বুধবার দুপুর ৩টার পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব। জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষের ঢল নামে। জায়গা না পেয়ে অনেকে মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে জানাজায় অংশ নেন। ৩২ দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি জানাজাটিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দেয়, যেখানে হাজারো মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষ নামাজে অংশ নেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে জানাজায় অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের শীর্ষ নেতারা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরের মাঠ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের সড়ক ও অলিগলি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আশপাশের বাসিন্দারা ছাদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেন। জানাজা শেষে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, যদি তার মা কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন তবে যেন ক্ষমা করা হয় এবং তার মায়ের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান। এই জানাজা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে বুধবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ, খামারবাড়ি ও বিজয় সরণি পর্যন্ত জনতার ঢল নামে। জানাজা শেষে যানবাহনের অভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছুটে আসে। জানাজাস্থল পরিণত হয় ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জনতার মিলনস্থলে। ঢাকায় এই বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশ হিসেবে দেখা গেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের শীর্ষ নেতারা এবং বিদেশি কূটনৈতিকরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, তার মা খালেদা জিয়া যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন তবে ক্ষমা করে দিতে এবং তার জন্য দোয়া করতে অনুরোধ জানান। বায়তুল মোকাররমের খতিব জানাজার ইমামতি করেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষ জানাজায় অংশ নিতে অবস্থান নেয়, অনেকে ছাদ ও মেট্রোরেল স্টেশন থেকেও অংশ নেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিক ঢাকায় এসে শ্রদ্ধা জানান, যা পাকিস্তান হাই কমিশন নিশ্চিত করেছে।
জাতিসংঘের বিদায়ী শরণার্থী বিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন বিশ্বজুড়ে সংকটকে আরও তীব্র করছে এবং সহিংসতা ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি বৈরিতা বাড়াচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের প্রধান হিসেবে নিজের এক দশকের দায়িত্বকাল স্মরণ করে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। ইতালীয় এই কূটনীতিক বলেন, ভূ-রাজনীতির বিভাজন বহু সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং বিশ্ব এখন সংঘাত সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছে। তার মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের অভাবকে স্পষ্ট করে তুলছে। গ্র্যান্ডি সতর্ক করে বলেন, এই বিভাজন কেবল শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগও বাড়াচ্ছে, যা বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংহতির প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে থেকেই ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানুষের ঢল নামে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয় জনসমুদ্র। আশপাশের সড়কগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে, মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছায়, ততদূর পর্যন্ত মানুষ কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে নীরব প্রার্থনা। রাজনীতির ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এই জানাজায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। প্রবীণ নাগরিকরা ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, ইতিহাস যেন আবার ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রিকশাচালকসহ সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সংসদ ভবনের আশপাশের গাছ, ফুটপাত ও ভবনের ছাদেও ছিল মানুষের ভিড়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান ও সৌদি আরবসহ ৩২টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো; তারা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে কালো ব্যাজ পরে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জানুয়ারিতেই কিয়েভ ও মস্কো এই পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছাবে। বিবরণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি, যা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবে জেলেনস্কি মেয়াদ ৫০ বছরে উন্নীত করার জন্য আলোচনা করছেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পর কেবল মার্কিন সেনারা ইউক্রেনে অবস্থান করবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ করবে। জেলেনস্কি আরও বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ট্রাম্প গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও বিনিয়োগে অংশ নেবে, যার লক্ষ্য নাগরিকদের গড় আয় বৃদ্ধি করা।
ইরান ও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের মোট ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে এই বাণিজ্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভেনেজুয়েলার একটি কোম্পানি ও এর চেয়ারম্যান, যাদের বিরুদ্ধে ইরানি ড্রোন কেনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সংগ্রহে জড়িত তিনজন ইরানি নাগরিক এবং পূর্বে নিষিদ্ধ ‘রায়ান ফ্যান গ্রুপ’-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ইরানভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা এবং তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান ভেনেজুয়েলাকে প্রচলিত অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য হুমকি, এবং এই বাণিজ্য বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।