বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভারত। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতের পক্ষ থেকে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়াকে ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে ড. জয়শঙ্কর ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। বাশার ঘাঁটিতে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফরহাদ হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজা পরিচালনা করেন। মঙ্গলবার রাত থেকেই নেতাকর্মীরা জানাজাস্থলে আসতে শুরু করেন এবং বুধবার দুপুর নাগাদ পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিকেল ৩টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি গত ২৩ নভেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী, বেনজির ভুট্টোর পর। তার জানাজা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার দুপুরে সম্পন্ন হয়। দুপুর ৩টার দিকে তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি নিজেকে খালেদা জিয়ার বড় সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, যদি তার মা জীবিত অবস্থায় কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে যেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তিনি তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। তারেক রহমান আরও বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যবহারে বা কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি মায়ের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান, যেন আল্লাহ তায়ালা তার মাকে বেহেশত দান করেন। এই জানাজা বিএনপি ও তাদের সমর্থকদের জন্য এক গভীর শোকের মুহূর্ত হয়ে ওঠে, যেখানে তারা দীর্ঘদিনের নেত্রীকে বিদায় জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা অনুশীলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা দলের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনজনকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ডা. সায়েদুর রহমান তাঁদের একজন ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা ঘিরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, সোবহানবাগ, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও শ্যামলী পর্যন্ত জনস্রোত দেখা যায়। দীর্ঘ এক মাসের বেশি চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই বিদায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার মতোই জাতি আবারও গভীর শ্রদ্ধায় বিদায় জানিয়েছে। ফারুকীর মতে, এই জনস্রোত বাংলাদেশের মানুষের কৃতজ্ঞতার প্রকাশ, যা সবার ভাগ্যে জোটে না। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।
ডয়েচে ভ্যালেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করবে তার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য। তিনি জানান, খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যার ফলে এরশাদের পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। বার্গম্যান বলেন, এরশাদের পতনের পর প্রথম নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিজয় ছিল বিস্ময়কর, কারণ অনেকে ধারণা করেছিলেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যও তাকে স্মরণ করা হবে। বার্গম্যান খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও নারী অধিকার রক্ষায় অবদানকে প্রশংসা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার দ্বিতীয় মেয়াদে দুর্নীতি বেড়ে গেলেও খালেদা জিয়া সরাসরি তাতে জড়িত ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলা দুর্বল ও অযৌক্তিক ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপিতে খালেদা জিয়ার বর্তমান প্রভাব সম্পর্কে বার্গম্যান বলেন, অসুস্থতার কারণে তার ভূমিকা কমে গেলেও তিনি কিছুটা সক্রিয় ছিলেন। লন্ডনে থাকা তার ছেলে তারেক রহমান দলের প্রভাব বাড়াচ্ছেন, তবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই নামাজে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন। নামাজের আগে মরহুমা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। জানাজার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী এবং দেশের প্রায় সকল মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া এলাকায় কুমার নদীর জায়গা দখল করে একটি পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় জিয়া ফকির নদীর অংশ ভরাট করে স্বরূপদিয়া-বড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভবনের ভিত্তি নির্মাণ করছেন। ঘটনাস্থলে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে কাজ করছিলেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, একসময় কুমার নদী ছিল এ অঞ্চলের প্রধান জলাধার, যা বর্ষায় কৃষিজমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়াত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে নদীটি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে নদী প্রায় মৃত খালে পরিণত হচ্ছে। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, দখল অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অবহিত করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার বলেন, নদীর মধ্যে ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার ইমামতি করেন। জানাজার সম্মুখ সারিতে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মির্জা আব্বাব ও মঈন খানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিদেশি কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের মাঠ, বিজয় স্মরণি, মিরপুর রোড, কারওয়ান বাজার মোড় থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত এলাকাজুড়ে জানাজার স্থান হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে জিয়া উদ্যানে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজা পরিচালনা করেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে খামারবাড়ি, আসাদগেট ও ফার্মগেট পর্যন্ত জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে। জানাজা শেষে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীকে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিতে দেখা যায়। পরে তাঁর মরদেহ সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আল্লামা মামুনুল হক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহসহ বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে তার সম্পদের হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি বা ভবন নেই এবং হাতে নগদ রয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকারও কম। নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ লাখ টাকা। দান হিসেবে প্রাপ্ত ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষিজমির বর্তমান বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। তার নামে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা করে। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র, বন্ড বা শেয়ার তার নামে নেই। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তিনি মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যার বিপরীতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা কর পরিশোধ করেছেন। হলফনামাটি তার আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছে, যা নির্বাচনের আগে তার সম্পদ স্বচ্ছভাবে প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনি হলফনামায় তিনি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে উল্লেখ রয়েছে, ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা, এক লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং ৬৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। গত ২৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তার নামে কোনো কৃষিজমি নেই। তিনি জানান, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকার মূলধন রয়েছে এবং তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেননি। বর্তমানে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তার স্ত্রী গৃহিণী এবং তার পিতা-মাতা ও সন্তান তার আয়ের উপর নির্ভরশীল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লাশবাহী গাড়ি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজার স্থানে পৌঁছেছে। সেখানে তার কফিন রাখা হয়েছে এবং অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই জানাজা শুরু হবে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে গুলশান-২ এর ১৯৬ নম্বর সড়কে তারেক রহমানের বাসা থেকে গাড়িবহরটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়ার লাশবাহী গাড়িটি তারেক রহমানের বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছিল। জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করেছেন। প্রচণ্ড জনসমাগমে উড়ালসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা ভিড়ে বিপাকে পড়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বারবার প্রশংসা করেছেন এবং পাকিস্তান-ভারতের সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকাতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। ২২ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন এবং পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে সংঘাত থামিয়ে কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। জুন থেকে এটি ছিল অন্তত দশমবার, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে মুনিরকে ‘মহান যোদ্ধা’ ও ‘ব্যতিক্রমী মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। অক্টোবরে মিশরের শার্ম আল-শেখ শান্তি সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অবদানও স্বীকার করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি দুই দেশের সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা স্বীকার করে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে, যদিও ভারত তা অস্বীকার করে। সাবেক কূটনীতিকরা মনে করেন, এই সংঘাত মুনিরের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়িয়েছে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের নির্দিষ্ট মোড় তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও মুনিরের কূটনৈতিক উদ্যোগ পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় আঞ্চলিক খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরছে।
ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। তিনি ভুটান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে দেশ-বিদেশ থেকে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সফর বাংলাদেশ ও ভুটানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ দিকটি প্রতিফলিত করছে এবং প্রয়াত নেত্রীর প্রতি আঞ্চলিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।