জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে তার সম্পদের হলফনামা জমা দিয়েছেন। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তার নামে কোনো বাড়ি, গাড়ি বা ভবন নেই এবং হাতে নগদ রয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকারও কম। নগদ অর্থ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ লাখ টাকা। দান হিসেবে প্রাপ্ত ১৬ দশমিক ৫০ শতক কৃষিজমির বর্তমান বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, সারজিস আলমের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। তার নামে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা করে। কোনো আগ্নেয়াস্ত্র, বন্ড বা শেয়ার তার নামে নেই। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তিনি মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা, যার বিপরীতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা কর পরিশোধ করেছেন। হলফনামাটি তার আর্থিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছে, যা নির্বাচনের আগে তার সম্পদ স্বচ্ছভাবে প্রকাশের ইঙ্গিত দেয়।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। নির্বাচনি হলফনামায় তিনি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৫০ লাখ টাকার সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। এতে উল্লেখ রয়েছে, ব্যাংকে ২৬ লাখ টাকার সোনা, এক লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং ৬৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য রয়েছে। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। গত ২৯ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার নির্বাচন অফিসে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তার নামে কোনো কৃষিজমি নেই। তিনি জানান, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকার মূলধন রয়েছে এবং তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেননি। বর্তমানে তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তার স্ত্রী গৃহিণী এবং তার পিতা-মাতা ও সন্তান তার আয়ের উপর নির্ভরশীল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লাশবাহী গাড়ি ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজার স্থানে পৌঁছেছে। সেখানে তার কফিন রাখা হয়েছে এবং অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই জানাজা শুরু হবে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে গুলশান-২ এর ১৯৬ নম্বর সড়কে তারেক রহমানের বাসা থেকে গাড়িবহরটি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়ার লাশবাহী গাড়িটি তারেক রহমানের বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছিল। জানাজায় অংশ নিতে লাখো মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করেছেন। প্রচণ্ড জনসমাগমে উড়ালসড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা ভিড়ে বিপাকে পড়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বারবার প্রশংসা করেছেন এবং পাকিস্তান-ভারতের সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকাতে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। ২২ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন এবং পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে সংঘাত থামিয়ে কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। জুন থেকে এটি ছিল অন্তত দশমবার, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে মুনিরকে ‘মহান যোদ্ধা’ ও ‘ব্যতিক্রমী মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করেন। অক্টোবরে মিশরের শার্ম আল-শেখ শান্তি সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অবদানও স্বীকার করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের চার দিনের যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি দুই দেশের সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা স্বীকার করে ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে, যদিও ভারত তা অস্বীকার করে। সাবেক কূটনীতিকরা মনে করেন, এই সংঘাত মুনিরের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়িয়েছে এবং সম্পর্ক উন্নয়নের নির্দিষ্ট মোড় তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা ও মুনিরের কূটনৈতিক উদ্যোগ পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় আঞ্চলিক খেলোয়াড় হিসেবে তুলে ধরছে।
ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্য মন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। তিনি ভুটান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুতে দেশ-বিদেশ থেকে শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সফর বাংলাদেশ ও ভুটানের কূটনৈতিক সম্পর্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ দিকটি প্রতিফলিত করছে এবং প্রয়াত নেত্রীর প্রতি আঞ্চলিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের একটি নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাউন্ট এভারেস্টকে দূষণমুক্ত রাখতে চালু করা ‘ডিপোজিট স্কিম’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার। ১১ বছর চালু থাকার পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় পর্বতারোহীদের অভিযানের আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিতে হতো, যা ফেরত দেওয়া হতো যদি তারা অন্তত আট কেজি বর্জ্য নিচে নামিয়ে আনতেন। তবে নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অধিকাংশ আরোহী জামানতের অর্থ ফেরত পেলেও এভারেস্টের সামগ্রিক দূষণ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। নেপাল পর্যটন বিভাগের পরিচালক হিমালা গৌতম জানান, প্রকল্পটি পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রশাসনিক জটিলতা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আরোহীরা সাধারণত নিচের ক্যাম্পগুলো থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করলেও উচ্চ ক্যাম্পগুলোতে জমে থাকা বর্জ্য অবহেলিত থেকে যায়। সাগরমাথা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রধান নির্বাহী শেরিং শেরপা জানান, ওপরের ক্যাম্পগুলোতেই দূষণের সমস্যা সবচেয়ে গুরুতর, যেখানে তাঁবু, প্লাস্টিকের ক্যান, খাবারের প্যাকেট ও ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডার ফেলে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন পর্বতারোহী গড়ে ১২ কেজি বর্জ্য তৈরি করেন, কিন্তু মাত্র আট কেজি ফেরত আনার শর্তে নিয়মটির ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। তারা এভারেস্টের পরিবেশ রক্ষায় আরও বাস্তবসম্মত নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ঢাকার শেরে বাংলা নগরে তার প্রয়াত স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। প্রথমে তাকে রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেওয়া হলেও পরে ঢাকায় এনে তৎকালীন শেরে বাংলা পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত এই পার্কের নাম পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে চন্দ্রিমা উদ্যান ও জিয়া উদ্যান হিসেবে পরিবর্তিত হয়। রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে সংসদ ভবনের কাছে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিচারপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকার। তৎকালীন উপমন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে এবং সেনাপ্রধান এরশাদও তা সমর্থন করেছিলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার জানাজা বুধবার দুপুর ২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে তার জানাজায় অংশ নিচ্ছেন, প্রয়াত নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাজছে খালেদা জিয়ার ২০১৩ সালের ভাষণ, যা তিনি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’র সামনে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে সমালোচনা করেন এবং বাংলাদেশের ওপর কোনো প্রভুত্ব মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরে নিহতদের পরিবারের কান্নার কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব বেদনা বৃথা যাবে না। তার পুরনো ভাষণ পুনঃপ্রচার তার আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও স্বাধীনতার প্রশ্নে দৃঢ়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা জানাজায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর আবেগ সৃষ্টি করেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সংসদ ভবনের পেছনে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে। দাফনের আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৪৪ বছর আগে লাখো মানুষ জিয়াউর রহমানের জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন। ঘটনাটি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনা কর্মকর্তাদের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ২ জুন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে সংসদ ভবনের উত্তর পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। ঢাকার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেই জানাজা ইতিহাসে বিশেষ স্থান পায়। স্বামীর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি দলকে নির্বাচনে জয়ী করে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তার হলফনামায় মোট ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। তার স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই তথ্য তিনি ২৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চান্দিনা) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হলফনামা অনুযায়ী, ডা. তাহেরের নামে ১০ শতক কৃষি জমি ও ১৫ শতক অকৃষি জমি রয়েছে, যার মূল্য ২২ লাখ ১৬ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নামে ০.৮ একর ১৫ কাঠা জমি ও তিনটি বাড়ি রয়েছে, যার মোট মূল্য ৩ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৭০০ টাকা। তাহেরের হাতে নগদ ৫১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর হাতে ২১ লাখ ৯২ হাজার টাকা রয়েছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ৩৫টি মামলা থাকলেও বেশিরভাগই আদালতের আদেশে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। ডা. তাহের কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, যার নামে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে। তার স্ত্রীর বিভিন্ন ব্যাংকে মোট প্রায় ৩৭ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।
চলতি বছরে স্পেনে পৌঁছানোর চেষ্টাকালে সাগরে তিন হাজারেরও বেশি অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে স্পেনের অভিবাসী অধিকার সংস্থা ‘ক্যামিনান্দো ফ্রন্টিরাস’। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জন ডুবে মারা গেছেন, যাদের মধ্যে ১৯২ জন নারী ও ৪৩৭টি শিশু রয়েছে। যদিও মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে, জাহাজডুবির সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ হয়েছে এবং ৭০টি নৌকা কোনো চিহ্ন ছাড়াই নিখোঁজ হয়েছে। সংস্থার গবেষণা সমন্বয়কারী হেলেনা ম্যালেনো জানান, মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও জাহাজডুবির বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমুদ্র ও স্থলপথে ৩৫ হাজার ৯৩৫ জন অনিয়মিত অভিবাসী স্পেনে পৌঁছেছেন, যেখানে ২০২৪ সালে একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার ৩১১। এই হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে সীমান্ত পুলিশিং কঠোরকরণকে দায়ী করা হয়েছে, বিশেষ করে মৌরিতানিয়ায়, যা স্পেনে যাওয়া অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান প্রস্থান বিন্দু। প্রতিবেদনটি ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামা অভিবাসীদের চলমান বিপদের চিত্র তুলে ধরেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এর ১৯৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় নেওয়া হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজিং গাড়িটি সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, মায়ের মরদেহের পাশে বসে কুরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পড়ছেন ছেলে তারেক রহমান। তারেক রহমানের বাসায় উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও উপদেষ্টা মাহাদী আমীনও উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এসএসএফ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। এই বাসাতেই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও দলের শীর্ষ নেতারা খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো দেখবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছেন। নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। দুপুর ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে লাল-সবুজ গাড়িতে খালেদা জিয়ার মরদেহ সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়, সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমান। লাশবাহী গাড়ির চারপাশে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর আগে সকাল ১১টার দিকে মরদেহবাহী গাড়িটি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে রওনা হয়। জানাজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মিরপুর সড়ক ব্যবহার না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই এলাকায় নেতাকর্মীরা ভিড় করতে শুরু করেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৮০ বছর বয়সে খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বুধবার সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছেছে। লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহটি সেনাবাহিনীর হিউম্যান চেইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রোটোকলে আনা হয়। সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে ফ্রিজার ভ্যানটি দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছায়, যা সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তার ছেলে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এর আগে সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে খালেদা জিয়ার মরদেহ রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানে নেওয়া হয়। শুরুতে তার দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে তারেক রহমানের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও বিএনপি নেতাকর্মীরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পড়াবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। জানাজা শেষে তাকে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বুধবার সকালে উপস্থিত হয় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া ও তার মা রাবেয়া খাতুন। তারা খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে সেখানে আসেন। আমার দেশকে লামিয়া বলেন, মা-বাবার কাছ থেকে শুনেছেন খালেদা জিয়া ছিলেন খুব ভালো মানুষ, কখনো হিংসা করতেন না এবং সবাইকে ভালোবাসতেন। রাবেয়া খাতুন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি দেশের জন্য বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাবেয়া জানান, তাদের বাড়ি কেরাণীগঞ্জে হলেও বর্তমানে তারা শাহবাগে থাকেন এবং খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম তাকে জানাজায় অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। রাবেয়া আরও বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন কারাবরণ ও অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করেছেন। তিনি প্রয়াত নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।