বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকালে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রী ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং টানা ৩৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৬টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরিবার ও দলীয় সূত্র জানায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মেডিকেল বোর্ড দীর্ঘ বিমানযাত্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মত দেয়। সরকার তাকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করে সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ড তার চিকিৎসা পরিচালনা করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে নিয়মিত মায়ের চিকিৎসা তদারকি করতেন। মৃত্যুর আগের রাতে পরিবারের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখতে যান। রাত দুইটার দিকে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন, এরপর সকালেই আসে মৃত্যুর খবর।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী বাংলাদেশের বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্মরণীয় থাকবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে তাকে স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে। রাহুল গান্ধী শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার পরিবার, সমর্থক এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
ইসরাইল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় কর্মরত কয়েকটি দাতা ও মানবিক সংস্থার কার্যক্রম স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেলআবিবের অভিযোগ, এসব সংস্থা নতুন নিয়ম মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং এতে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি, অক্সফাম ও কারিতাসসহ তিন ডজনেরও বেশি সংস্থা প্রভাবিত হবে। ইসরাইল বলছে, সংস্থাগুলো তাদের কর্মী, তহবিল ও কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য ভাগ করে নেওয়ার শর্ত পূরণ করেনি। ইসরাইল আরও অভিযোগ করেছে, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস তাদের কিছু কর্মীর ভূমিকা স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা হামাসের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। সংস্থাটি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ইসরাইলের সিদ্ধান্ত গাজায় তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমে বিপর্যয় ডেকে আনবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইসরাইলের নতুন নিয়মকে স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করেছে, আর তেলআবিব জানিয়েছে, ৩৭টি সংস্থার পারমিট নবায়ন করা হয়নি। এই পদক্ষেপ গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ও দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইয়েমেন থেকে নিজেদের অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএই বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পর এ সিদ্ধান্ত আসে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবিরোধী মিশনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়ায় বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর আগে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি ইউএইর সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেন, ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ৭২ ঘণ্টার জন্য সব সীমান্ত ও বন্দর বন্ধের ঘোষণা দেন। এ পদক্ষেপ আসে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সীমিত বিমান হামলার পর, যেখানে ইউএই–সম্পৃক্ত দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে মুকাল্লা বন্দরে আঘাত হানা হয়। ইয়েমেন সরকার অভিযোগ করে, ওই জাহাজগুলো দক্ষিণ ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের কাছে অস্ত্র পাঠাচ্ছিল। এই সেনা প্রত্যাহার জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও দক্ষিণ ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক বুধবার ঢাকায় পৌঁছান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে। পরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সহমর্মিতা জানান। বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাতের সময় তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদসহ দলটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে সরদার আয়াজ সাদিক পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এই সফর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার জানাজায় আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে ভারত। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতের পক্ষ থেকে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। শোকবার্তায় বেগম খালেদা জিয়াকে ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর অবিচল অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর আগে সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে ড. জয়শঙ্কর ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান। বাশার ঘাঁটিতে তাঁকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এম ফরহাদ হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণব ভার্মা। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজা পরিচালনা করেন। মঙ্গলবার রাত থেকেই নেতাকর্মীরা জানাজাস্থলে আসতে শুরু করেন এবং বুধবার দুপুর নাগাদ পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিকেল ৩টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি গত ২৩ নভেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী, বেনজির ভুট্টোর পর। তার জানাজা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি নির্দেশ করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার দুপুরে সম্পন্ন হয়। দুপুর ৩টার দিকে তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন। তিনি নিজেকে খালেদা জিয়ার বড় সন্তান হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, যদি তার মা জীবিত অবস্থায় কারো কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে যেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তিনি তা পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। তারেক রহমান আরও বলেন, খালেদা জিয়ার ব্যবহারে বা কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি মায়ের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান, যেন আল্লাহ তায়ালা তার মাকে বেহেশত দান করেন। এই জানাজা বিএনপি ও তাদের সমর্থকদের জন্য এক গভীর শোকের মুহূর্ত হয়ে ওঠে, যেখানে তারা দীর্ঘদিনের নেত্রীকে বিদায় জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রপতি তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নির্বাহী ক্ষমতা অনুশীলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করেছেন। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা দলের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনজনকে বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ডা. সায়েদুর রহমান তাঁদের একজন ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়। লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা ঘিরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, সোবহানবাগ, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও শ্যামলী পর্যন্ত জনস্রোত দেখা যায়। দীর্ঘ এক মাসের বেশি চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই বিদায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার মতোই জাতি আবারও গভীর শ্রদ্ধায় বিদায় জানিয়েছে। ফারুকীর মতে, এই জনস্রোত বাংলাদেশের মানুষের কৃতজ্ঞতার প্রকাশ, যা সবার ভাগ্যে জোটে না। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।
ডয়েচে ভ্যালেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে সবচেয়ে বেশি স্মরণ করবে তার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য। তিনি জানান, খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যার ফলে এরশাদের পতন ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। বার্গম্যান বলেন, এরশাদের পতনের পর প্রথম নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিজয় ছিল বিস্ময়কর, কারণ অনেকে ধারণা করেছিলেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্যও তাকে স্মরণ করা হবে। বার্গম্যান খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও নারী অধিকার রক্ষায় অবদানকে প্রশংসা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার দ্বিতীয় মেয়াদে দুর্নীতি বেড়ে গেলেও খালেদা জিয়া সরাসরি তাতে জড়িত ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতির মামলা দুর্বল ও অযৌক্তিক ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপিতে খালেদা জিয়ার বর্তমান প্রভাব সম্পর্কে বার্গম্যান বলেন, অসুস্থতার কারণে তার ভূমিকা কমে গেলেও তিনি কিছুটা সক্রিয় ছিলেন। লন্ডনে থাকা তার ছেলে তারেক রহমান দলের প্রভাব বাড়াচ্ছেন, তবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই নামাজে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ আবু দাউদ মুহাম্মদ মামুন। নামাজের আগে মরহুমা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। জানাজার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী এবং দেশের প্রায় সকল মানুষের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া এলাকায় কুমার নদীর জায়গা দখল করে একটি পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় জিয়া ফকির নদীর অংশ ভরাট করে স্বরূপদিয়া-বড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ভবনের ভিত্তি নির্মাণ করছেন। ঘটনাস্থলে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে কাজ করছিলেন। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবেশ ও জনস্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, একসময় কুমার নদী ছিল এ অঞ্চলের প্রধান জলাধার, যা বর্ষায় কৃষিজমিতে পলি এনে উর্বরতা বাড়াত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে নদীটি ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে নদী প্রায় মৃত খালে পরিণত হচ্ছে। এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন, দখল অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে অবহিত করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার বলেন, নদীর মধ্যে ভবন নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন। বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার ইমামতি করেন। জানাজার সম্মুখ সারিতে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মির্জা আব্বাব ও মঈন খানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বিদেশি কূটনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের মাঠ, বিজয় স্মরণি, মিরপুর রোড, কারওয়ান বাজার মোড় থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত এলাকাজুড়ে জানাজার স্থান হয়ে ওঠে। জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে জিয়া উদ্যানে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজা পরিচালনা করেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে খামারবাড়ি, আসাদগেট ও ফার্মগেট পর্যন্ত জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে। জানাজা শেষে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীকে খালেদা জিয়ার কফিন কাঁধে নিতে দেখা যায়। পরে তাঁর মরদেহ সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আল্লামা মামুনুল হক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহসহ বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টায় চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।