বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল সাড়ে ৪টার পর তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। বায়তুল মোকাররমের খতিব শেখ আব্দুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা ও বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তার মা যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকেন তবে ক্ষমা করে দিতে এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করতে অনুরোধ করেন। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানাজাস্থলে ভিড় করেন। আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ ও মেট্রোরেল এলাকাও জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন নানা জটিল রোগে ভুগে খালেদা জিয়া ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ শোকবার্তা জানিয়ে তার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবদানকে স্মরণ করেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় ৩২ দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। বুধবার দুপুর ৩টার পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব। জানাজায় অংশ নিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষের ঢল নামে। জায়গা না পেয়ে অনেকে মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে জানাজায় অংশ নেন। ৩২ দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি জানাজাটিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব দেয়, যেখানে হাজারো মানুষ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষ নামাজে অংশ নেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের ভবনের ছাদ থেকে জানাজায় অংশ নেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের শীর্ষ নেতারা এবং বিদেশি কূটনীতিকরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। সরেজমিন দেখা যায়, জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরের মাঠ, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং আশপাশের সড়ক ও অলিগলি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আশপাশের বাসিন্দারা ছাদে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করেন। জানাজা শেষে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, যদি তার মা কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন তবে যেন ক্ষমা করা হয় এবং তার মায়ের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান। এই জানাজা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে বুধবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ, খামারবাড়ি ও বিজয় সরণি পর্যন্ত জনতার ঢল নামে। জানাজা শেষে যানবাহনের অভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীকে শেষ বিদায় জানাতে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা ঢাকায় ছুটে আসে। জানাজাস্থল পরিণত হয় ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জনতার মিলনস্থলে। ঢাকায় এই বিশাল জনসমাগম প্রমাণ করে খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা, যা সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশ হিসেবে দেখা গেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণকালের বৃহৎ এই জানাজায় লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের শীর্ষ নেতারা এবং বিদেশি কূটনৈতিকরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, তার মা খালেদা জিয়া যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন তবে ক্ষমা করে দিতে এবং তার জন্য দোয়া করতে অনুরোধ জানান। বায়তুল মোকাররমের খতিব জানাজার ইমামতি করেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষ জানাজায় অংশ নিতে অবস্থান নেয়, অনেকে ছাদ ও মেট্রোরেল স্টেশন থেকেও অংশ নেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সারদার আয়াজ সাদিক ঢাকায় এসে শ্রদ্ধা জানান, যা পাকিস্তান হাই কমিশন নিশ্চিত করেছে।
জাতিসংঘের বিদায়ী শরণার্থী বিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বিভাজন ও সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন বিশ্বজুড়ে সংকটকে আরও তীব্র করছে এবং সহিংসতা ও যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা মানুষের প্রতি বৈরিতা বাড়াচ্ছে। ইউএনএইচসিআরের প্রধান হিসেবে নিজের এক দশকের দায়িত্বকাল স্মরণ করে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। ইতালীয় এই কূটনীতিক বলেন, ভূ-রাজনীতির বিভাজন বহু সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং বিশ্ব এখন সংঘাত সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছে। তার মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যের অভাবকে স্পষ্ট করে তুলছে। গ্র্যান্ডি সতর্ক করে বলেন, এই বিভাজন কেবল শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগও বাড়াচ্ছে, যা বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সংহতির প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে থেকেই ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে মানুষের ঢল নামে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয় জনসমুদ্র। আশপাশের সড়কগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে, মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছায়, ততদূর পর্যন্ত মানুষ কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে দোয়া করেন। অনেকের চোখে ছিল অশ্রু, মুখে নীরব প্রার্থনা। রাজনীতির ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা এই জানাজায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। প্রবীণ নাগরিকরা ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজার সঙ্গে তুলনা টেনে বলেন, ইতিহাস যেন আবার ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষ, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রিকশাচালকসহ সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন। সংসদ ভবনের আশপাশের গাছ, ফুটপাত ও ভবনের ছাদেও ছিল মানুষের ভিড়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান ও সৌদি আরবসহ ৩২টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো; তারা নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে কালো ব্যাজ পরে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জানুয়ারিতেই কিয়েভ ও মস্কো এই পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছাবে। বিবরণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন জেলেনস্কি, যা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। ট্রাম্পের পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তবে জেলেনস্কি মেয়াদ ৫০ বছরে উন্নীত করার জন্য আলোচনা করছেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পর কেবল মার্কিন সেনারা ইউক্রেনে অবস্থান করবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সরবরাহ করবে। জেলেনস্কি আরও বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ট্রাম্প গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও বিনিয়োগে অংশ নেবে, যার লক্ষ্য নাগরিকদের গড় আয় বৃদ্ধি করা।
ইরান ও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাণিজ্যে সহায়তার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের মোট ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে এই বাণিজ্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ভেনেজুয়েলার একটি কোম্পানি ও এর চেয়ারম্যান, যাদের বিরুদ্ধে ইরানি ড্রোন কেনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সংগ্রহে জড়িত তিনজন ইরানি নাগরিক এবং পূর্বে নিষিদ্ধ ‘রায়ান ফ্যান গ্রুপ’-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ইরানভিত্তিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা এবং তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান ভেনেজুয়েলাকে প্রচলিত অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য হুমকি, এবং এই বাণিজ্য বন্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তির আওতায় বোয়িং ইসরাইলকে ২৫টি এফ-১৫ আইএ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে। বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে নকশা, সংহতকরণ, পরীক্ষা ও উৎপাদনের পর ২০৩৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ইসরাইলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে। সফরকালে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের সঙ্গেও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় সংঘাত শুরুর পর গত দুই বছরে বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অন্তত ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে। এই সহায়তার মধ্যে নিঃশর্ত অস্ত্র সরবরাহ, বার্ষিক বিশেষ সুবিধা, অতিরিক্ত যুদ্ধকালীন তহবিল এবং সীমিত কংগ্রেসীয় তদারকি অন্তর্ভুক্ত। নতুন এফ-১৫ আইএ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করবে এবং ইসরাইলের সামরিক আধুনিকায়নে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করবে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। তারা খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। জিও নিউজের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এটি ছিল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রথম বৈঠক। এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত, যদিও পাকিস্তান তা অস্বীকার করে আসছে। হামলার পর ভারত পাকিস্তানে আক্রমণ চালায় এবং পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন পর এক বিরল সৌহার্দ্যের মুহূর্ত হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সাতটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কক্সবাজার শহর ও সমুদ্রসৈকত এলাকায় আতশবাজি, পটকা ও ফানুস ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। দুর্ঘটনা এড়াতে এসব সামগ্রীর বিক্রি ও বিপণনও বন্ধ থাকবে। উন্মুক্ত স্থানে কনসার্ট, নাচ-গান বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়ে জেলার সব বার ও মদের দোকানে মদ বিক্রি বন্ধ থাকবে। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এসব কর্মকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে। উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো, প্রতিযোগিতা, জয় রাইড ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী পর্যটকদের ইভটিজিং বা হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। হোটেল ও মোটেল কর্তৃপক্ষকে ইনডোর অনুষ্ঠানের তথ্য ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অলক বিশ্বাস জানিয়েছেন, পর্যটক ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর এবং শহরজুড়ে কঠোর তৎপরতা থাকবে।
ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহর নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নেবেন জোহরান মামদানি। সেপ্টেম্বরের তুলনায় তার জনপ্রিয়তা ১৪ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৩৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা কোনো নবনির্বাচিত মেয়রের জন্য রেকর্ড। নিউইয়র্ক রাজ্যজুড়েও তার জনপ্রিয়তা ১৫ পয়েন্টের বেশি। নববর্ষের দিনে সিটি হলে অনুষ্ঠিত জনসমক্ষে শপথ অনুষ্ঠানে তাকে পরিচয় করিয়ে দেবেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, উপস্থিত থাকবেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং শপথ পাঠ করাবেন অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শহরের বাস দ্রুত ও বিনামূল্যে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা বাস্তবায়ন করা হবে বিলিয়নেয়ার ও মিলিয়নেয়ারদের ওপর কর আরোপের মাধ্যমে। তার এই পরিকল্পনার প্রতি ৫০ শতাংশ জনসমর্থন রয়েছে, যেখানে ৪১ শতাংশ বিরোধিতা করছে। গত ৪ নভেম্বর তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রিও কুওমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন। ৩৪ বছর বয়সী মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং গত শতাব্দীতে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ মেয়র।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর অভিবাসননীতি প্রণয়ন করেন, যার ফলে মাত্র এক বছরের মধ্যেই দেশজুড়ে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। লুইজিয়ানার নির্মাণ সংস্থাগুলো কাঠমিস্ত্রি পাচ্ছে না, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার হাসপাতালগুলোতে বিদেশি চিকিৎসক ও নার্সের অভাব, আর টেনেসির মেমফিসে ফুটবল লিগে দল গঠন সম্ভব হচ্ছে না কারণ অভিবাসী শিশুরা আর আসছে না। প্রশাসন ভিসা ফি বাড়িয়েছে, আইনি প্রবেশপথ সংকুচিত করেছে এবং ইতোমধ্যে ছয় লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করেছে। বাইডেন প্রশাসনের অধীনে দেওয়া অস্থায়ী আইনি মর্যাদা প্রত্যাহারের ফলে আরও কয়েক লাখ মানুষ বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান নীতিতে বছরে প্রায় সাড়ে চার লাখ লোক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে, যা বাইডেন আমলের ২০ থেকে ৩০ লাখের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালে বিদেশি বংশোদ্ভূতদের হার ছিল ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ১৮৯০ সালের পর সর্বনিম্ন। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউ ইয়র্কের মতো শহরগুলো এখন বিদেশি শিক্ষার্থীশূন্য ও নিস্তব্ধ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিকরা আশঙ্কা করছেন, শ্রমিক সংকট আরও বাড়বে এবং নির্মাণ, নার্সিং হোম ও শিশু যত্ন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস (২৭) হত্যার মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, হত্যার পর মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নীরব ইসলাম (২০)। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয় এবং মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার চেরাগআলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, নীরব ইসলাম পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেডের নিটিং অপারেটর ছিলেন এবং ঘটনার পর থেকেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে ধরতে নেত্রকোনা, বনানী ও গাজীপুরে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করবে। এর আগে ১৮ আসামির মধ্যে ১২ জনকে তিন দিন এবং ছয়জনকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল; পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। নিহতের ভাই অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।