আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান সুযোগ নিশ্চিতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহের শিববাড়ি মন্দির পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো দৃশ্যমান ঘটনা ঘটেনি, যা থেকে বলা যায় নির্বাচনে সমান সুযোগ নেই। ছোট-বড় সব দলের জন্যই সমান সুযোগ রয়েছে এবং নির্বাচনি পরিবেশ ভালো রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ, যেখানে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে হামলার ঘটনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। এর আগে সকালে তিনি ময়মনসিংহের জুবলী রোডে বুড়া পীরের মাজার ও ঘাট এলাকার হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। প্রেস সচিব জানান, সরকার নির্বাচনি পরিবেশ ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সতর্ক করেছে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভের অধিকার মারাত্মকভাবে সীমিত হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই বাড়ছে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত ‘সাইলেন্সিং দ্য স্ট্রিটস: দ্য রাইট টু প্রোটেস্ট আন্ডার অ্যাটাক ইন দ্য ইউকে’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য এমন দেশগুলোর কৌশল অনুসরণ করছে যেখানে গণতান্ত্রিক নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাধীনতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে। প্রতিবেদনের প্রকাশের পরপরই নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের সমর্থনে এক বিক্ষোভে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গকে আটক করা হয়, পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে ক্রমবর্ধমান হারে মানুষকে আটক, মামলা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার সরকারের সমালোচনা করেছে, কারণ ২০২৩ সালে কনজারভেটিভ সরকারের আনা কঠোর আইনগুলো এখনো বাতিল করা হয়নি। এইচআরডব্লিউ’র যুক্তরাজ্য পরিচালক ইয়াসমিন আহমেদ বলেন, সরকারের কঠোর অবস্থান উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যতে এসব আইন যে কারোর বিরুদ্ধেই প্রয়োগ হতে পারে। সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিক্ষোভের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য। এইচআরডব্লিউ’র তথ্যমতে, জুলাই মাসে সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে অন্তত ২ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে বিশ্বের ১২১টি দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ব্যালট পাঠানো শুরু হয় এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ হয়। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বৃহস্পতিবার বিমান বাংলাদেশ, এমিরেটস, মালয়েশিয়ান, সিঙ্গাপুর ও সৌদিয়া এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ করে। ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিভি) কার্যক্রমটি ইসি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক বিভাগ, সিভিল অ্যাভিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের যৌথ প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয়। ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার জানান, প্রায় ৩ হাজার প্রবাসী ভোটার ভুল ঠিকানা দেওয়ায় তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো সম্ভব হয়নি। দেশের ভেতরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন, যাদের কাছে ২১ জানুয়ারি থেকে ব্যালট পাঠানো শুরু হবে। ইসির তথ্যমতে, সৌদি আরবে সর্বাধিক ব্যালট পাঠানো হয়েছে, এরপর মালয়েশিয়া, কাতার ও ওমান। মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ঘোষণা করেছে, তারা গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি স্বাধীন কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারা এই ভূখণ্ডের কোনো শাসনব্যবস্থার অংশ হতে চায় না। বৃহস্পতিবার হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, গাজার প্রশাসন তদারকির জন্য স্বাধীন একটি কমিটি গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে তারা এবং হামাস এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সহজ করবে ও কমিটির কাজে সহায়তা করবে। কাসেম জোর দিয়ে বলেন, হামাস গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার এই বক্তব্য আসে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত গাজা-সংক্রান্ত জরুরি আরব শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি প্রত্যাখ্যান করা হয়। ওই পরিকল্পনায় ছয় মাসের জন্য একটি অস্থায়ী প্রশাসনিক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কমিটি হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ টেকনোক্র্যাটদের নিয়ে গঠিত এবং ফিলিস্তিন সরকারের অধীনে কাজ করবে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলেপ্পোর কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। সরকারি বাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর শুক্রবার ভোর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কয়েক দিনের সহিংসতায় হাজারো বেসামরিক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যা ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ ক্ষমতা নেওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে আলেপ্পোয় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছিল। উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়েহ ও বানি জেইদ এলাকায় ভোর ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে, যাতে আবাসিক এলাকায় নতুন উত্তেজনা এড়ানো যায়। কুর্দি যোদ্ধাদের সকাল ৯টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ইতিমধ্যে এলাকা ছেড়েছেন। এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদি বলেন, কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা সমঝোতার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে এবং একীভূতকরণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলেপ্পো এসডিএফের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে তুরস্ক ও ইসরাইলও এতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রশাসন বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। বুধবার দিবাগত রাতে বার্লিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন পরিস্থিতি রোধে এগিয়ে আসতে হবে যাতে বিশ্ব ‘ডাকাতের আস্তানায়’ পরিণত না হয়। তার মতে, বর্তমানে বৈশ্বিক গণতন্ত্র নজিরবিহীন আক্রমণের মুখে রয়েছে। স্টেইনমায়ার সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপ, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে একে ‘ঐতিহাসিক ভাঙন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আচরণকে বিশ্বব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বড় শক্তিগুলো যেসব দেশ বা অঞ্চলকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করছে, সেই ধারা এখনই বন্ধ করা প্রয়োজন। যদিও জার্মান প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক, স্টেইনমায়ারের এই বক্তব্য জার্মানিতে ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির প্রতি ইউরোপীয় উদ্বেগকে প্রতিফলিত করছে।
মালয়েশিয়ার সাবেক সেনাপ্রধান হাফিজুদ্দিন জানতানকে সামরিক বাহিনীর একটি ক্রয় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুই স্ত্রী ও আরও দুই ব্যক্তিসহ গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি)। তাদের পুত্রজায়া ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত হাফিজুদ্দিনের সাত দিনের, এক স্ত্রীর ছয় দিনের এবং অন্য স্ত্রীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেনাবাহিনীর ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির তদন্তের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার করা হয়। এমএসিসির প্রধান কমিশনার আজম বাকি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত এখনো চলছে। সংস্থাটি জানায়, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত পরিচালনার প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছে। গত বছরের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং এক সন্দেহভাজন ও তার পরিবারের ছয়টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সরকারি সংবাদ সংস্থা বেরনামা জানায়, মামলাসংশ্লিষ্ট ২৪ লাখ রিঙ্গিত নগদ অর্থ পাচারের একটি প্রচেষ্টা বানচাল করেছে এমএসিসি। তদন্ত শুরু হলে গত ডিসেম্বরে হাফিজুদ্দিনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়।
রাশিয়া শুক্রবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর উপকণ্ঠে বিমান হামলা চালায়, এতে অন্তত তিনজন নিহত ও ১৩ জন আহত হন বলে কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান। হামলায় আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক ভবনে দ্বিতীয়বারের মতো ড্রোন হামলায় একজন চিকিৎসক নিহত হন। প্রাথমিক হতাহত তালিকায় ওই চিকিৎসকের নাম নিশ্চিত করা যায়নি। আঞ্চলিক গভর্নর মাইকোলা কালাশনিক বাসিন্দাদের সাইরেন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রুশ বোমারু বিমান আকাশে থাকায় পুরো দেশ ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লভিভে মধ্যরাতের আগে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো স্থাপনায় আঘাত হানে। লভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি জানান, সামরিক বাহিনী যাচাই করছে হামলায় পরমাণু অস্ত্র বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কি না, তবে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার কিয়েভে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সতর্ক করেছিল যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গুরুতর বিমান হামলা হতে পারে।
পাকিস্তান জানিয়েছে যে তারা প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনো শত্রুতাপূর্ণ সম্পর্ক চায় না। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থবহ উন্নতি নির্ভর করছে আফগানিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানের ওপর। ইসলামাবাদ কাবুলকে আহ্বান জানিয়েছে যেন আফগান মাটি পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ব্যবহার না হয়—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য এবং লিখিত আশ্বাস দেয়। আন্দ্রাবি বলেন, পাকিস্তানের একমাত্র উদ্বেগ নিরাপত্তা, কাবুলের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক বিরোধ নেই। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যে দ্বিপক্ষীয় বিরোধ রয়েছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে তেমন কোনো বিরোধ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মুখপাত্র জানান, কাবুলের সাম্প্রতিক ইতিবাচক বিবৃতিগুলোকে পাকিস্তান স্বাগত জানিয়েছে, তবে সেগুলোকে লিখিত ও যাচাইযোগ্য হতে হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ খোলা রয়েছে এবং দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সীমান্তে কোকেন পাচারকারী গেরিলাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। কলম্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরমান্ডো বেনেদেত্তি বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বুধবার দুই নেতার মধ্যে প্রথমবারের মতো ফোনালাপ হয়, যা ট্রাম্পের সামরিক হুমকি ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাতের প্রচেষ্টার পর উত্তেজনা প্রশমনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। বেনেদেত্তি জানান, উভয় নেতা কলম্বিয়ার অবশিষ্ট বড় বিদ্রোহী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন)-এর বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কলম্বিয়া অভিযোগ করেছে, ইএলএন হামলা ও অপহরণের পর ভেনেজুয়েলায় নিরাপদ আশ্রয় নেয়। পেত্রো ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন সীমান্তে ইএলএনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে সহযোগিতা করতে। ২,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী মাদক পাচার, অবৈধ খনিজ খনন ও চোরাচালানে লিপ্ত। সম্প্রতি ট্রাম্প পেত্রোকে মাদক পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিলেও পেত্রো ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সাক্ষাতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। কয়েক দশক ধরে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা থাকলেও ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সম্পর্ক কিছুটা শীতল হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের আগামী ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। শুক্রবার সকালে দিনাজপুরের সেনা ময়দানে ভোটের গাড়ির প্রচারণায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আগের মতো বাঁধাধরা নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। মুহাম্মদ ফাওজুল কবির জানান, নির্বাচনের সঙ্গে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, যারা সংস্কার, সংসদীয় গণতন্ত্র ও ক্ষমতার ভারসাম্য চান, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, আর যারা চান না, তারা ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংস্কারের জন্য ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ অঙ্গহানি হয়েছে। সরকার তাদের ত্যাগের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, অতীতের জুলাই অভ্যুত্থানে মানুষ ভোট দিতে পারেনি বা তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেননি। এবার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যেখানে ধর্ম, দল বা বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হবেন।
ভেনেজুয়েলা গত বৃহস্পতিবার বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে শুরু করেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশিও রয়েছেন। এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমন এবং মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো এত বড়সংখ্যক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও পেয়েছে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে ওয়াশিংটন তেলের ওপর প্রবেশাধিকার পেলে রদ্রিগেজ দেশ পরিচালনা করতে পারবেন। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি বলেছেন, এটি দেখায় যে প্রেসিডেন্ট মার্কিন ও ভেনেজুয়েলার জনগণের অধিকার রক্ষায় তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করছেন। সংসদের স্পিকার ও ডেলসি রদ্রিগেজের ভাই জর্জ রদ্রিগেজ জানান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে বিদেশিসহ বিপুলসংখ্যক নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তবে সংখ্যা বা স্থান উল্লেখ করেননি। বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, অবিচার চিরকাল স্থায়ী হয় না এবং সত্য শেষ পর্যন্ত তার পথ খুঁজে নেয়।
ডেনমার্কের অধীন উত্তর মেরু অঞ্চলের ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এই হুমকি দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ডেনিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই হুমকি ন্যাটো দেশগুলোর মধ্যে তীব্র সংকট সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রুবিওর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প ন্যাটো জোটে বিভক্তির ঝুঁকি নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেবেন কি না, সে বিষয়ে রুবিও কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রেসিডেন্ট জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সামরিক বিকল্প রাখেন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট জানান, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা নিয়ে ফ্রান্স মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে। রুবিও আরও বলেন, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদ থেকেই গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের কথা বলে আসছেন, যদিও তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট নন যিনি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বৈষম্যমূলক নীতি ফিলিস্তিনিদের জন্য শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইল নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে বৈষম্য চালাচ্ছে এবং তাদের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। এতে পশ্চিম তীর থেকে সব ইহুদি বসতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয় এবং এই নীতিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের জন্য দুটি ভিন্ন আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে, যার ফলে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পদ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ইসরাইলের বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি অধিকৃত পশ্চিম তীরে জীবনের সব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে, এতে ১,১০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও অন্তত ২১ হাজার গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে ইসরাইলি সরকার নতুন ১৯টি ইহুদি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি শুক্রবার পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। পাকিস্তান আবহাওয়া দপ্তরের অধীন জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চীন-তাজিকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায়, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে। রাজধানী ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াত, শাংলা, বুনেরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে কম্পন অনুভূত হয়। ভবন কেঁপে ওঠায় মানুষ সতর্কতামূলকভাবে ঘর থেকে বের হয়ে আসে, তবে কোনো হতাহতের বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা ঘন ঘন ঘটে, কারণ এটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। গত বছরের অক্টোবরে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং কয়েক দিন আগে ৫.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এছাড়া, গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ২,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। ঘন ঘন ভূমিকম্প এই অঞ্চলের ভূকম্পন ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।