অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেশজুড়ে সহিংস রূপ নিয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে অন্তত ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিক্ষোভ রাজধানী তেহরান থেকে ১৮৬টি শহর ও ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের আহ্বানে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের প্রতি সমর্থন জানায়। বিক্ষোভ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, দেশটি যুদ্ধ ও সংলাপ—দুইয়ের জন্যই প্রস্তুত। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করতে চান। জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও কানাডা ইরানকে বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। চীন বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানিয়েছে। ইরানজুড়ে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা ধীরে ধীরে পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার, যারা দাবি করছে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। ১২ জানুয়ারি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় বিশ্লেষকেরা এই পদক্ষেপকে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেননি, ‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে। সাধারণভাবে চীন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পরিচিত। হোয়াইট হাউস এখনো জানায়নি কোন দেশ বা পণ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, বিমান হামলাসহ সামরিক বিকল্পগুলো বিবেচনায় রয়েছে। ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় তথ্য যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছেন, তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
ইরানে টানা ১৬ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬৪৮ জনে পৌঁছেছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআরএনজিও) ১২ জানুয়ারি এ তথ্য জানায়। নিহতদের মধ্যে ১৮ বছরের নিচে অন্তত ৯ জন শিশু ও কিশোর রয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা যাচাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তেহরানের হাসপাতাল ও মর্গ থেকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিপুলসংখ্যক মরদেহের দৃশ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। নির্বাসিত শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভির আন্দোলন জোরদারের আহ্বানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এই দমনাভিযানের নিন্দা জানিয়ে ইরান সরকারকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিমা সমালোচনার জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন এবং লন্ডনে ইরানি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কর্মী প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারি দেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, সরকার নমনীয় না হলে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েক সপ্তাহের নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সোমবার রাতে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে কোন দল কোন আসনে প্রার্থী দেবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইসলামী আন্দোলন ও কয়েকটি খেলাফতভিত্তিক দলের সঙ্গে কিছু আসনের সমঝোতা এখনো বাকি থাকলেও মঙ্গলবারের মধ্যে তা শেষ করার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বুধবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত রূপ পাবে এবং পরদিন ঘোষণা দেওয়া হবে। জোটে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। আলোচনায় জামায়াতকে ১৯০টির বেশি, ইসলামী আন্দোলনকে প্রায় ৪০টি এবং অন্যান্য দলকে কমসংখ্যক আসন দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সমঝোতা সম্পূর্ণ না হলেও বুধবারের মধ্যে ঘোষণা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোনো দল রাজি না থাকলে তাদের বাদ দিয়েই ঘোষণা হতে পারে।
গাজা যুদ্ধে ইসরাইলের হাতে শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ার পর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নেতৃত্ব পুনর্গঠনের জন্য অভ্যন্তরীণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হামাসের এক নেতা জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ২০২৬ সালের প্রথম মাসের মধ্যেই ভোট গ্রহণ করা হবে। তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম ডেইলি সাবাহ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতৃত্ব পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৫০ সদস্যের নতুন শুরা কাউন্সিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের দ্বারা প্রভাবিত একটি পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। হামাসের তিনটি শাখা—গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও প্রবাসী নেতৃত্ব—প্রতি চার বছর অন্তর নিজেদের সদস্য নির্বাচন করে। পূর্ববর্তী নির্বাচনে সদস্যরা মসজিদ ও অন্যান্য স্থানে একত্রিত হয়ে ভোট দেন। নতুন কাউন্সিল রাজনৈতিক ব্যুরো ও সামগ্রিক নেতার নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবে। সূত্রে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান পদে গাজার হায়া খলিল আল-হাইয়া ও প্রবাসী নেতা খালেদ মেশাল এগিয়ে আছেন। হামাসের মতে, এই নির্বাচন গাজার জনগণের প্রতিরোধ ক্ষমতা ও সংগঠনের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি বাতিল করেছে। লোহিত সাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার সোমালিয়া সরকার এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে দেশটিতে স্থাপিত আমিরাতের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প থেকে সরে আসতে হবে আমিরাতকে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের হাতে আসা নথি অনুযায়ী, সরকারি সংস্থা, সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও আঞ্চলিক প্রশাসনের সঙ্গে সব ধরনের চুক্তি এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। বারবারা, বোসাসো ও কিসমায়ো বন্দর ঘিরে হওয়া সব চুক্তি ও সহযোগিতাও এতে অন্তর্ভুক্ত। সোমালিয়ার মন্ত্রিপরিষদ দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিও বাতিল করেছে। নথিতে বলা হয়েছে, সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার গুরুতর পদক্ষেপের প্রতিবেদন ও প্রমাণ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ সোমালিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল শুনানির পর আরও ৪১ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীর প্রার্থিতা পুনর্বহাল করেছে। ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল মিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই দিন মোট ৭১টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়, যার মধ্যে ৪১টি মঞ্জুর, ২৪টি নামঞ্জুর এবং চারটি আবেদন অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত তিন দিনে মোট ১৫০ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ময়মনসিংহ-৪ আসনের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো. হামিদুল ইসলামের আবেদনও সোমবার মঞ্জুর হয়। ইসির তথ্যমতে, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফোরাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থী রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে ৭২৩টি বাতিল হয়। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৬৪৫টি আপিল ইসিতে জমা পড়ে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নির্বাচনি প্রচারণায় আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আতিয়ার রহমান রবি প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চাওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও প্রচারণা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি মুশা মিয়ার হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন, তবে এখন আ.লীগ নেই বলে ধানের শীষে ভোট দেবেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতার মুখে এমন বক্তব্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ একে সময়ের বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বলে সমালোচনা করছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, রবি তিনবার ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন, তবে তার এমন প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়া উচিত হয়নি এবং এতে তারা বিব্রত। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ফরিদপুরের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ যদি একটি প্রফেশনাল সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে পারে, তাহলে দুনিয়া বাধ্য হবে সম্মান জানাতে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব দেশের সেবা করা, আন্তর্জাতিক সেবা ঐচ্ছিক। সেনাবাহিনীর আকার নয়, বরং প্রজ্ঞা, সাহস ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এমন একটি পরিবেশের আহ্বান জানান, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারে এবং ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটে। এজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। জামায়াতে যোগ না দিয়েও তারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের জটিল সময়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে।
বাংলাদেশে কার্যরত মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন ফি বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে জানানো হয়েছে, এখন থেকে লাইসেন্স নবায়নে ১০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে, যা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা। নতুন ফি কাঠামো ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত অন্যান্য নির্দেশনা পূর্বের মতোই বহাল থাকবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল মানি চেঞ্জার ও গ্রাহকদের অবহিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নবায়ন ফি বৃদ্ধি মানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং তাদেরকে ‘গুড বুক’-এ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এতে বোঝা যায়, বাজার স্থিতিশীল রাখতে মানি চেঞ্জারদের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সন্তুষ্ট। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খাতটির প্রতি আস্থা ও বাজার স্থিতিশীলতায় তাদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। সোমবার তিনি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দাখিল করেন, যেখানে যথাসময়ে নির্বাচন ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগের সীমানা সংক্রান্ত আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ৬ জানুয়ারি কমিশন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই দুটি আসনের ভোট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। আবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টির শুনানি হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধিত ভোটারদের তালিকা আসনভিত্তিক ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল রয়েছে কি না তা যাচাই করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে নিবন্ধিত ভোটারদের তালিকা ও মূল ভোটার তালিকার সফট কপি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। যাচাই শেষে সঠিকতা নিশ্চিত হলে ইসি প্রত্যয়নপত্র দেবে। সোমবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি, সরকারি কর্মকর্তা, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং কারাবন্দী ভোটাররা ডাকযোগে ভোট দেবেন। এই পদ্ধতিতে ভোট দিতে ইতোমধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক ইসির অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আইসিভি ও ওসিভির জন্য জলছাপযুক্ত ও ছবিসহ ভোটার তালিকা যাচাই করে ত্রুটিমুক্ত করার প্রত্যয়ন দেবেন। এসব তালিকার দুটি কপি মুদ্রণ করা হবে—একটি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এবং অন্যটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সংরক্ষণে থাকবে। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি, প্রচারণা শুরু ২২ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর কমিশনার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ধারা ২৪ (১) (ঘ) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯–এর বিধি ২২ অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদমর্যাদায় সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তিনি যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। বিএফআইইউ বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত একটি আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, যা মানি লন্ডারিংসহ আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করে।
২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ২০২৫-২৬ করবর্ষে মোট ৩১ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বাধ্যতামূলক না হওয়া সত্ত্বেও তিন হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। এনবিআর প্রবাসীদের এই অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছে। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ জানান, এ পর্যন্ত ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার প্রবাসীও রয়েছেন। ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ দুই দফা বাড়িয়ে আগামী ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ, প্রবাসী, মৃত করদাতার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের জন্য এই বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য নয়। এনবিআর সকল করদাতাকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান। এনসিপি ১১ দলের নির্বাচনি সমঝোতা জোটের অংশ হিসেবে এই আসনগুলোতে লড়বে। আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের জনগণ ও বৃহত্তর স্বার্থে দলের সব নেতাকর্মী এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। তিনি জানান, এই জোট আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংস্কারের জোট এবং এনসিপি জোট গঠনের জন্য অনেক ছাড় দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই জোটই আগামী সরকার গঠন করবে। যারা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন, তাদের পদত্যাগ এখনো গৃহীত হয়নি এবং একসঙ্গে কাজের সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এনসিপির মুখপাত্র জানান, এটি কোনো আদর্শিক নয়, বরং কৌশলগত জোট। যেখানে এনসিপির প্রার্থী নেই, সেই ২৭০টি আসনে দলটি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাবে এবং তৃণমূলে গণভোটের প্রার্থী হিসেবে কাজ করবে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।