আসামের নগাঁও জেলার ঘটনায় বাঙালি মুসলমানদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ৩১ বছর বয়সি হাসান আলী জানান, তার বাবা ৫৮ বছর বয়সি কৃষক তাহের আলীকে গত আট মাসে তিনবার সীমান্ত পেরিয়ে নোম্যানস ল্যান্ডে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল তাকে ‘ঘোষিত বিদেশি’ ঘোষণা করে নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। এই ট্রাইব্যুনাল হাজারো বাসিন্দার নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের কথা না শুনেই রায় দিয়েছে। গত বছরের মে মাস থেকে বিজেপি সরকার আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে ১৯৫০ সালের আইন ব্যবহার করে বন্দুকের মুখে রাতের অন্ধকারে এসব মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে। বাংলাদেশ তাদের প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ায় অনেকে ‘পুশ ব্যাক’ ও ফিরে আসার দুষ্টচক্রে পড়েছেন। ডিসেম্বর মাসে অন্তত সাতজনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হলেও তারা ঢুকতে না পেরে ফিরে আসেন। আইনজীবী ও পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, আসাম সরকারের এই নীতি আন্তর্জাতিক ও সাংবিধানিক নিয়ম লঙ্ঘন করছে। অক্সফোর্ডের এক গবেষক একে রাষ্ট্রহীনতার উৎপাদন বলে অভিহিত করেছেন, যেখানে মানুষ দুদেশের মধ্যে ‘টেনিস বলের মতো’ ছুড়ে ফেলা হচ্ছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগতপুর (নাগরবাড়ি) এলাকায় ডায়াপার ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে অন্তঃসত্ত্বা নারী ফাহিমা আক্তার আখি হত্যাকাণ্ডের মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কসবা সীমান্ত এলাকায় ভারতে পালানোর প্রস্তুতিকালে বুড়িচং থানা পুলিশ বিজিবির সহযোগিতায় তাদের আটক করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সীমান্তের কাছাকাছি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রধান আসামি মো. সাইদুর রহমান (২৪), দ্বিতীয় আসামি শাফিউল জান্নাত ওরফে সিয়াম (১৯) এবং চতুর্থ আসামি শাহারিয়ার নাজিম জয় (১৯)। সাইদুর ও সিয়াম বুড়িচং উপজেলার জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং জয় কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার বাঁশমঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা। ওসি জানান, তারা মামলার এজাহারনামীয় এক, দুই ও চার নম্বর আসামি। গত ১১ জানুয়ারি দুপুরে ময়লা ফেলা নিয়ে তুচ্ছ বিরোধের জেরে ফাহিমা আক্তার আখিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইসরাইলকে সতর্ক করেছেন যে, ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ বাতিল না করলে দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) নেওয়া হতে পারে। ৮ জানুয়ারি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি আইন বাতিল, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং সংস্থার কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বান জানান। ইসরাইলের পার্লামেন্ট ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে আইন পাস করে এবং কর্মকর্তাদের সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ নিষিদ্ধ করে। পরবর্তীতে আইন সংশোধন করে ইউএনআরডব্লিউএর কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমে সংস্থাটির অফিসও জব্দ করে, যা জাতিসংঘ দখলকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও ইসরাইল পুরো জেরুজালেমকে নিজের অংশ বলে দাবি করে। জাতিসংঘে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন গুতেরেসের চিঠি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইসরাইল হুমকিতে ভীত নয় এবং ইউএনআরডব্লিউএর কর্মীদের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ মোকাবিলা করা উচিত। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা ইউএনআরডব্লিউএকে গাজায় মানবিক সহায়তার মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র মিশর, লেবানন ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জর্ডান ও মিশরের শাখাকে ‘বিশেষভাবে মনোনীত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে, আর পররাষ্ট্র দপ্তর লেবাননের শাখাকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ বা এফটিও হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নভেম্বরে এই গোষ্ঠীগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, তার কয়েক সপ্তাহ পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, মুসলিম ব্রাদারহুড ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসকে সমর্থন করে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনটি সামাজিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তবে হামাসের মতো গোষ্ঠীকে সহায়তা করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই পদক্ষেপে সংগঠনগুলোর আর্থিক উৎস বন্ধ হয়ে যাবে এবং সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে। মার্কো রুবিও বলেন, এটি মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার প্রথম ধাপ। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংগঠনগুলোর আর্থিক লেনদেন বন্ধ হবে এবং সদস্যদের ওপর স্থায়ী প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হবে।
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে বুধবার রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন, ২০২৫’-এর খসড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক পরামর্শসভা শেষে খসড়াটি হালনাগাদ করা হয়। গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বরের অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানুয়ারির প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারি করার আশ্বাস দিয়েছিল। প্রতিশ্রুত সময়ে অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলনে নেমে দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসন ভাগাভাগি নিয়ে তীব্র সংকটে পড়েছে। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাবি করছে, তাদের দেশব্যাপী শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে, তাই তারা আরও বেশি আসন চায়। জামায়াত ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দিলেও চরমোনাই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। একাধিক বৈঠকেও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় জোটে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইভাবে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও বেশি আসনের দাবি জানিয়েছে, যা জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। জামায়াত প্রাথমিকভাবে চরমোনাই ও মামুনুলের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে প্রার্থী দেয়নি, যা তাদের দরকষাকষির সুযোগ বাড়িয়েছে। আট দলীয় ইসলামি জোটে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর ছোট ইসলামি দলগুলোর প্রভাব কমে যায়। এর ফলে আসন ভাগাভাগি নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে জোট ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে।
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের ১৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার রাতে ইউনিয়ন জামায়াত অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মতিউর রহমান এবং উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তরিকুল ইসলাম। দিনাজপুর ও বীরগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। গণঅধিকার পরিষদের দিনাজপুর জেলা শাখার সহসভাপতি সেলিম রেজা বলেন, দলটি মানুষের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে গিয়ে “ধানের শীষ” প্রতীকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা তাদের জন্য বেদনাদায়ক ও বিব্রতকর। যারা যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সেলিম রেজা, মুরশেদ আলি, জয়দেব রায়, মামুনুর রশিদ, সোহেল রানা, মনিরুল ইসলাম, ফারুক হোসেনসহ আরও কয়েকজন ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা। তারা জামায়াতের সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা ও মাল্যদানের মাধ্যমে বরণ করা হয়। এই যোগদান কাহারোলের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা গণঅধিকার পরিষদের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, ইরান সরকার যদি চলমান বিক্ষোভের কারণে আটক বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করতে শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তবে তিনি কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা বিস্তারিতভাবে জানাননি। মঙ্গলবার দেওয়া এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তাকে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে, বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, দমন-পীড়নের মুখে চলমান বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘে ইরানের মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই ধরনের কৌশল অতীতেও ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও সফল হবে না। ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ধারাবাহিক গণবিক্ষোভের পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে এবং পাঁচ দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করেছে। গুম ও হত্যার অভিযোগে এই বিচার বুধবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চে শুরু হয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছে। এর আগে ৮ জানুয়ারি আসামির আইনজীবী মনসুরুল হক ও নাজনিন নাহার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন, দাবি করেন প্রসিকিউশন তার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারেনি। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, প্রসিকিউশন প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। আদালত ১৪ জানুয়ারি আদেশের জন্য দিন ধার্য করে পরে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। প্রসিকিউশন তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগ উপস্থাপন করেছে—২০১১ সালে গাজীপুরে বন্দি হত্যা, বরগুনার উপকূলে ‘গেস্টাপো’ বা ‘গলফ’ কোডনামে হত্যাকাণ্ড, এবং সুন্দরবনে ‘অপারেশন নিশানখালী’, ‘মরা ভোলা’ ও ‘কটকা’ অভিযানে বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা।
থাইল্যান্ডে নির্মাণাধীন একটি উচ্চগতির রেলপথের ওপর ক্রেন ভেঙে পড়ে যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ২২ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে রাজধানী ব্যাংকক থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে যাত্রারত ট্রেনটি নাখন রাচাসিমা প্রদেশের সিখিও জেলায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ব্যাংকক থেকে প্রায় ২৩০ কিলোমিটার দূরে রেলপথ নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ক্রেন হঠাৎ ভেঙে ট্রেনের একটি বগির ওপর পড়ে গেলে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে যায়। নাখন রাচাসিমা প্রদেশের পুলিশপ্রধান থাচাপোন চিন্নাওং জানান, নিহতের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছেছে এবং আহতদের আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। থাই কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের (সিএসওএইচ) প্রকল্প ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (আইএইচএল)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্যের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে ২১টি রাজ্যে মোট ১,৩১৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালের তুলনায় ৯৭ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ মুসলিমদের লক্ষ্য করে এবং ১৩৩টি খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে। বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ঘটনার ৮৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১,১৬৪টি, বিজেপি বা তার মিত্রদের শাসিত অঞ্চলে ঘটেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি। উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও দিল্লিতে সর্বাধিক ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। বিপরীতে, বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলোতে ৩৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল ২৮৯টি এবং অন্তর্রাষ্ট্রীয় হিন্দু পরিষদ ১৩৮টি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ এসব বক্তব্যের প্রায় অর্ধেক ‘লাভ জিহাদ’, ‘ভূমি জিহাদ’ ও ‘জনসংখ্যা জিহাদ’-এর মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব উস্কে দিয়েছে। অনেক বক্তব্যে সহিংসতা, অস্ত্র ব্যবহার, বয়কট ও উপাসনালয় ধ্বংসের আহ্বান ছিল।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির ইতিহাসে সর্বাধিক ৩,০২৩ জন নবীন সদস্য—এর মধ্যে ২,৯৫০ জন পুরুষ ও ৭৩ জন নারী—দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, যিনি নবীন সৈনিকদের শপথ করান ও কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি জানায়, সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ নবীন সৈনিক নির্বাচিত হন আল ইমরান (বক্ষ নম্বর ১৫৫)। শারীরিক উৎকর্ষতায় প্রথম হন শপিকুল ইসলাম (পুরুষ) ও লুবনা খাতুন (মহিলা), আর শ্রেষ্ঠ ফায়ারার নির্বাচিত হন শফিকুর রহমান তামিম (পুরুষ) ও নাহিদা আক্তার (মহিলা)। বিজিবি আরও জানায়, বিজিটিসিএন্ডসি গত ৪৪ বছর ধরে রিক্রুট প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে এবং স্বাধীনতার পর থেকে ৭২টি ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ৭০০ থেকে ১,০০০ জন হলেও অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে এবার একসঙ্গে ৩,০২৩ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স ও কানাডা। দুই দেশ জানিয়েছে, ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা বিদেশিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কানাডা সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যেকোনো সময় গ্রেপ্তারের আশঙ্কার কারণে সেখানে থাকা বা ভ্রমণ নিরাপদ নয়। তারা স্বীকার করেছে, ইরানে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও অনুরূপ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। ফরাসি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা ও তেহরানে দূতাবাসের নির্দেশনা মানার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, আর ইরান অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির অস্থিরতার পেছনে জড়িত।
জামায়াতে ইসলামী ও এর মিত্ররা আজ বুধবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় নির্বাচনি আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। জামায়াতের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পাঠালেও আজ সকালে তা পাঠানো হতে পারে। মঙ্গলবার দিনভর জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের নেতারা বৈঠক করে আসন বণ্টন চূড়ান্ত করেন। খবরে বলা হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন ৭০টির বেশি আসন চাইলেও শেষ পর্যন্ত ৪৫টি পেয়েছে, যা নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত তারা জোটে থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টির বেশি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ২টি আসন। জামায়াতের জন্য ১৮০টির বেশি আসন থাকবে বলে জানা গেছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরে ১১ দলে পরিণত হয়। আজকের সংবাদ সম্মেলনে সব দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরান। বিক্ষোভে হস্তক্ষেপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই অভিযোগ করেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানিদের সরকারি প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানানোর পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলি লারিজানি এক্সে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ইরানের জনগণের প্রধান হত্যাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া, সহিংসতা প্ররোচিত করা এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরির অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, নিরীহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল প্রত্যক্ষ ও অনস্বীকার্য আইনি দায় বহন করে। চিঠিটি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকেও পাঠানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।