হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন। সফরটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ বছর পর কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের এটি হবে প্রথম দ্বিপক্ষীয় যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ব্যতীত। রদ্রিগেজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে তার কোনো আপত্তি নেই এবং দুই দেশের মতপার্থক্য কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা চলছে। এই সফরের সম্ভাবনা ওয়াশিংটন ও কারাকাসের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচার চলছে। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বর্তমানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তিনি তেল রপ্তানি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সফরের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং ভেনেজুয়েলা সরকারও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস বুধবার ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিয়েছে। কনজারভেটিভ দলের জন ন্যাশের উত্থাপিত সংশোধনীটি লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের সদস্যদের সমর্থনে ২৬১ ভোটে পাস হয়, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৫০। এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারকে অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি কোনো বিকল্প নাকচ করছেন না, তবে চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আইন প্রণয়নে যেতে চান না। এখন প্রস্তাবটি লেবার-নিয়ন্ত্রিত হাউস অব কমন্সে যাবে, যেখানে লেবার পার্টির ৬০ জনের বেশি এমপি প্রধানমন্ত্রীকে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। গত ডিসেম্বর ইউগভ পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের ৭৪ শতাংশ মানুষ ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার পক্ষে। অভিনেতা হিউ গ্রান্টসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সরকারের প্রতি এই প্রস্তাব সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের মতে শুধু অভিভাবকদের পক্ষে শিশুদের রক্ষা করা যথেষ্ট নয়। তবে কিছু শিশু সুরক্ষা সংগঠন সতর্ক করেছে যে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অভিভাবক ও সমাজে মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে। অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের আওতায় ক্ষতিকর কনটেন্টের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে কঠোর বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
ইসরাইল সিরিয়া-লেবানন সীমান্তের চারটি ক্রসিং পয়েন্টে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলের দাবি, এসব পয়েন্ট হিজবুল্লাহ অস্ত্র পাচারের জন্য ব্যবহার করে। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। বুধবারের এই হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে পরিচালিত হয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এক বিবৃতিতে ইসরাইলের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইসরাইল জনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আগ্রাসনের নীতি অনুসরণ করছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করছে। তিনি আরও বলেন, এই আচরণ ইসরাইলের চুক্তির শর্ত মানতে অস্বীকৃতির প্রমাণ। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দক্ষিণ লেবাননের কানারিট শহরে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা জানায়, ইসরাইলি বাহিনী আল-খারাইব, আল-আনসার, কানারিট, কফোর ও জারজুহসহ কয়েকটি শহরে হামলা চালায়। এর আগের দিন সিডন জেলার জাহরানি ও টায়ার জেলার বাজুরিয়েহ শহরে গাড়ি লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলায় দুইজন নিহত হয়। সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানের করাচিতে গুল প্লাজা শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকাজে আরও ৩০টি লাশ পাওয়া গেছে। মেজানিন ফ্লোরের একটি ক্রোকারিজ দোকান থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়, এতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে। ডিআইজি (সাউথ) সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, উদ্ধার করা লাশগুলো সিভিল হাসপাতালে পাঠাতে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এখনো অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। গত ১৭ জানুয়ারি করাচির অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় আগুন লাগে। আগুনটি প্রথমে বেসমেন্টে শুরু হয়ে দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ২৪ ঘণ্টা সময় লেগেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর মেজানিন ফ্লোরে অভিযান চালিয়ে নতুন লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভারত ক্রিকেটকে সফট পাওয়ারের হাতিয়ার থেকে আঞ্চলিক আধিপত্যের অস্ত্রে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সম্প্রতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) একটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয়, যা রাজনৈতিক কারণে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানায় এবং বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। প্রতিবেদনটি জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে, রাষ্ট্রদূতদের পাল্টাপাল্টি তলব এবং কূটনৈতিক মিশনে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই ‘ক্রিকেট কূটনীতি’ তার ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির পরিপন্থী এবং এটি বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারকে দূরে ঠেলে দিতে পারে। এতে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে, ক্রিকেটকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতা বাড়াতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লায়েন সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন এমন এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে যেখানে অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তিই প্রধান নিয়ামক। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগদানের আগে তিনি বলেন, ২৭ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দ্রুত অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা খাত শক্তিশালী করতে হবে এবং বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখতে আরও দৃঢ় হতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মিত্রদের মধ্যে বিরোধ পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিদ্বন্দ্বীদেরই শক্তিশালী করবে। ফন ডের লায়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মিত্রদের মধ্যে সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের চক্র শুরু হলে তা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই কৌশলগতভাবে ক্ষতিকর হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন সাময়িক নয়, বরং স্থায়ী। তিনি আরও বলেন, ইউরোপকে তার দীর্ঘদিনের সতর্ক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে প্রয়োজন হলে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে ব্রাসেলসে ইইউ নেতাদের বৈঠকের আগেই তিনি এই মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পদক্ষেপ—ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া ও গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে—বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ১৮২৩ সালের মনরো নীতির আধুনিক ও আগ্রাসী সংস্করণ, যা এখন ‘ডনরো নীতি’ নামে পরিচিত। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকান আধিপত্য আর কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই নীতির মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতের জ্বালানি ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ। লাতিন আমেরিকার লিথিয়াম, কপার, গ্রাফাইট ও গ্যালিয়ামের মতো দুর্লভ খনিজ এখন চীনের প্রভাবাধীন। ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চীন এই অঞ্চলে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রভাব হটিয়ে পুনরায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নজর উত্তর মেরুর গ্রিনল্যান্ডেও, যেখানে তেল, গ্যাস ও খনিজের বিপুল সম্ভার রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে আর্কটিক বরফমুক্ত হলে এই অঞ্চল বাণিজ্য ও নিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে ‘ডনরো নীতি’কে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক প্রভাব রক্ষার পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারপন্থি একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বহরে বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামদি শুকরি আহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এডেন শহরের উত্তরে জা’আওলা এলাকায় রাস্তার পাশে রাখা একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরিত হয়, ঠিক সেই সময় দ্বিতীয় জায়ান্টস ব্রিগেডের কমান্ডার শুকরির বহর ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। চিকিৎসা সূত্র জানায়, শুকরির পায়ে শ্রাপনেলের আঘাত লেগেছে এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, হামলায় সশস্ত্র বাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত এবং আরও তিনজন আহত হন। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। দক্ষিণ ইয়েমেনে সরকারপন্থি বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ হামলা ঘটে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনতে ইয়েমেনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। ইয়েমেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও হামলাটিকে “উসকানিমূলক ও অযৌক্তিক” বলে নিন্দা জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী ইলিয়াসের নেতৃত্বাধীন একটি চক্রের বিরুদ্ধে। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সামনে আসার পরও ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই চক্র বহুদিন ধরে পরীক্ষার তিন থেকে চার দিন আগে গোপনে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন সরবরাহ করে আসছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ এতে জড়িত কি না, তা তদন্তেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। সাত কলেজের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস জানান, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং আগামীকাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিমাদ্রী শেখর চক্রবর্তী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিল্লিতে ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা বেড়েছে বলে একাধিক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। এসব তৎপরতার মধ্যে রয়েছে দিল্লিতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় কূটনীতিকদের প্রত্যাহার, এবং বাংলাদেশে কথিত ইসলামি মৌলবাদের উত্থান নিয়ে সেমিনার আয়োজন। আগামীকাল দিল্লিতে শেখ হাসিনার অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান হওয়ার কথা, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের নীতিনির্ধারকরা আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন মেনে নিতে পারছেন না এবং ইসলামি দলগুলোর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করেন, দিল্লি বাংলাদেশকে মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকারকে চাপে ফেলতে চাইছে। ঢাকার পক্ষ থেকে এসব কর্মকাণ্ডে আপত্তি জানানো হলেও মোদি সরকার তা উপেক্ষা করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সদস্যসচিব আখতার হোসেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে প্রার্থী হিসেবে তার নির্বাচনি প্রচারে সহযোগিতা চেয়েছেন। বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সাধারণ মানুষের দোয়া, অনুদান ও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, কারণ আনুষ্ঠানিক প্রচার কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রচারণার সাফল্যের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সমর্থকদের লিফলেট, ব্যানার, মিছিল, উঠান বৈঠক আয়োজন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় সহায়তা করতে আহ্বান জানান। তিনি ব্যাংক ও মোবাইল পেমেন্টের মাধ্যমে আর্থিক অনুদান দেওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেন এবং সামান্য পরিমাণ অনুদানকেও স্বাগত জানান। অনলাইন প্রচারণায় যুক্ত হতে ভিডিও, ছবি ও ফটোকার্ড তৈরিতে আগ্রহীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। আখতার হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে কাউনিয়া–পীরগাছার মানুষ, সারাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রবাসীরা তার পাশে থাকবেন এবং একসঙ্গে সফলতা অর্জন করবেন।
লাইটার জাহাজের তীব্র সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ভয়াবহ জাহাজ জট সৃষ্টি হয়েছে। তিন লাখ টনেরও বেশি পণ্য নিয়ে ৮৫টির বেশি মাদার ভেসেল গভীর সাগরে অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিটি জাহাজের জন্য আমদানিকারকদের প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ওয়েটিং চার্জ দিতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, রমজান সামনে রেখে এ সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যাপ্ত ড্রাফট না থাকায় বড় জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে বহির্নোঙরে থাকা জাহাজ থেকে ছোট লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন নৌঘাটে পাঠানো হয়। কাগজে প্রায় দেড় হাজার লাইটার জাহাজ থাকলেও বাস্তবে সক্রিয় রয়েছে এক হাজারেরও কম। প্রায় ৪০ শতাংশ জাহাজ বিভিন্ন এলাকায় আটকে আছে, অনেকগুলো সার ও গম আমদানিকারকদের ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কোঅর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি) চাহিদা অনুযায়ী জাহাজ সরবরাহ করতে না পারায় জট আরও বেড়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় পণ্যসহ দাঁড়িয়ে থাকা জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে ব্যবসায়ীরা দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
রংপুরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের গ্রেপ্তার ও দলটি নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জুলাইযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ। গত মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের প্রকাশ্যে গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নেন। এর পরদিন বুধবার বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছে এবং অতীতে স্বৈরাচার সরকারের সুবিধাভোগী ছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে জাতির সঙ্গে বেঈমানি করেছে। তারা বলেন, দলটি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতা করে ফ্যাসিবাদের পক্ষ নিয়েছে। জুলাইযোদ্ধা ও বিরোধী নেতারা দাবি করেন, জি এম কাদেরের এই অবস্থান দেশকে অস্থিতিশীল করছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা জানান, দলটি গণভোটে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
বিএনপি আজ বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে প্রচারাভিযান উদ্বোধন করবেন। সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি প্রচার শুরু করবেন। এর আগে সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। বুধবার রাতে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সিলেটে পৌঁছান তিনি, যা তার ২১ বছর পর শ্বশুরবাড়ি সফর। তার আগমনকে ঘিরে সিলেট নগরী বর্ণিল সাজে সেজেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সফরকালে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, প্রচারাভিযানে ইতিবাচক রাজনীতি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সিলেটের জনসভা শেষে তারেক রহমান মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক সমাবেশে অংশ নিয়ে রাতে ঢাকায় ফিরবেন।
রাজধানীর পল্টন মডেল থানা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা ১০৫টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে। মঙ্গলবার থানার সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব ফোন হস্তান্তর করা হয়। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান। থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ফোন উদ্ধার করা হয়। হারানো মোবাইলের মালিকদের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হয়। মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও পল্টন মডেল থানার এএসআই ইকবাল হোসেন এ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় হারানো সম্পদ উদ্ধারের এই উদ্যোগ নাগরিক আস্থা ও পুলিশের সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।