দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জেলার ১১টি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দুই প্রার্থীর অযোগ্য ঘোষণার কারণে অন্তত ছয়টি আসনে বিএনপির পরাজয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব আসনে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোটের প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার ১১ আসনে মোট ৮১ জন প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন, যার মধ্যে ৭৬ জন দলীয় এবং পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর দেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব কুমিল্লার নির্বাচনে স্পষ্ট। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১২টির মধ্যে ১১টি আসনে জয়ী হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, কুমিল্লা–২, ৪, ৯, ১০ ও ১১ আসনে জামায়াত–এনসিপি জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন, অন্যদিকে যেখানে দলীয় কোন্দল নেই, সেখানে বিএনপি এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে মুসলিম নাগরিকদের ওপর হেনস্তা ও প্রান্তিককরণ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলমানদের প্রায়ই বলা হয় রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করতে হলে তাদের রাজনৈতিকভাবে নীরব থাকতে হবে। স্বাধীনতার পর থেকে তারা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও এখন তাদের বৈধ রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। প্রতিবেদনটি দেখায়, এই ‘ব্যতিক্রমবাদ’-এর শিকড় দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে, যখন ভারতে থেকে যাওয়া মুসলমানদের নৈতিকভাবে আলাদা হিসেবে দেখা হতো। ইতিহাসবিদ মুশিরুল হাসান এবং তাত্ত্বিক মাহমুদ মামদানি ও হিলাল আহমেদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মুসলমানদের হয় অরাজনৈতিক ও অনুগত, নয়তো রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হলে সন্দেহভাজন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। গণমাধ্যমও এই বিভাজনকে জোরদার করছে, যেখানে প্রতিবাদী মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে চিত্রিত করা হয়। প্রতিবেদনটি উপসংহারে জানায়, এই ধারণা এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। মুসলমানদের সম্পর্কিত আইন ও নীতিগত সংস্কারকে নিরপেক্ষ বলা হলেও তাদের বিরোধিতাকে আবেগপ্রবণ বা পশ্চাদগামী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
গুম-সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে র্যাবের গোপন ‘গলফ অপারেশন’-এর ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, চোখ ও হাত বাঁধা আটক ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে নিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হতো। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল আহসান (পরে মেজর জেনারেল) নিজ হাতে গুলি করতেন এবং অন্য সদস্যদের এমন কাজ শেখাতেন। যারা দ্বিধা করত, তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে ধমক দিতেন। নিহতরা সবাই তরুণ বয়সী মনে হতো এবং তাদের শরীরে দীর্ঘদিন আটক ও নির্যাতনের চিহ্ন দেখা যেত। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রমাণ মুছে ফেলতে লাশ কখনো রেললাইনে ফেলে দুর্ঘটনার মতো দেখানো হতো, কখনো নদীতে বা সেতু থেকে ফেলে দেওয়া হতো। অনেক সময় সিমেন্টের বস্তা বেঁধে গভীর পানিতে নিক্ষেপ করা হতো। এসব হত্যাকাণ্ডকে র্যাবের ভেতরে ‘দায়িত্ব’ বা ‘দক্ষতা’ হিসেবে দেখা হতো। এসব অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের মধ্যে গভীর মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ দেখা গেছে। শতাধিক গুম ও হত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, এসব হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত, যা র্যাবের অভ্যন্তরে সংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো।
ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে, যার মধ্যে থাইল্যান্ডও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব দেশের অভিবাসীরা অগ্রহণযোগ্য হারে কল্যাণ সুবিধা দাবি করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ২৭ বছর বয়সী থাই নাগরিক খাওচাত মানকংসহ অনেকের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে, যিনি তার মার্কিন স্বামীর সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন। এই স্থগিতাদেশ ইবি শ্রেণির কর্মসংস্থান ভিসা এবং কে শ্রেণির দাম্পত্য ও নির্ভরশীল ভিসাকেও প্রভাবিত করেছে। থাইল্যান্ড সরকার এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ দেশটি আফগানিস্তান ও হাইতির মতো দরিদ্র ও সংঘাতপীড়িত দেশের সঙ্গে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকেও মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এলিজাবেথ জে কোনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে থাইল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিছু থাই নাগরিক এই নীতিকে কল্যাণ সুবিধা অপব্যবহার রোধের পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করলেও, অনেকে একে অন্যায্য ও সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন।
আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ন্যাটো বাহিনী সামনের সারিতে ছিল না বলে মন্তব্য করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো ন্যাটোর প্রয়োজন বোধ করেনি এবং মিত্র বাহিনী সামান্য দূরে অবস্থান করেছিল। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, প্রয়োজনে ন্যাটো সদস্যরা ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়াবে না। এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমালোচকরা ২০ বছরের যুদ্ধে ন্যাটো সদস্যদের প্রাণহানির কথা তুলে ধরেন। আফগানিস্তানে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন, কানাডা, ফ্রান্স ও ডেনমার্কও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ব্রিটিশ মন্ত্রী স্টিফেন কিনক ট্রাম্পের বক্তব্যকে “গভীরভাবে হতাশাজনক” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইউরোপীয় বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে বড় মূল্য দিয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ ছিল যে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর করেছিল। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি ট্রাম্পের ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন সামরিক সেবা এড়ানোর ইতিহাসের কথা তুলে ধরে বলেন, এমন ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলা লজ্জাজনক।
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের পাশিরলাঙ্গু গ্রামে শনিবার ভোরে ভূমিধসে অন্তত সাতজন নিহত এবং বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে মাউন্ট বুরাংরাং পর্বতের ঢাল থেকে নেমে আসা পানি ও আলগা মাটি প্রায় ৩০টি বাড়ি ধ্বংস করে দেয়, যখন অধিকাংশ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্থানীয় জনগণ উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আরও বিপর্যয় এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা প্রায় ৩০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত। ভূমিধসের সঙ্গে আকস্মিক বন্যাও দেখা দেয় এবং বাসিন্দারা প্রবল গর্জনের শব্দ শুনেছিলেন বলে জানিয়েছেন। আবহাওয়া দপ্তর শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহব্যাপী ভারী বৃষ্টিপাত ও চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করেছিল। গত মাসে উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে ভূমিধস ও বন্যায় ১,১৭০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান। পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে সরকার ছয়টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যা এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আরও তীব্র করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬ শেষ হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের শিরোপা জয়ে। ফাইনালে তারা চট্টগ্রাম রয়্যালসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। তবে ব্যাটিং ও বোলিং তালিকায় রাজশাহীর কেউ শীর্ষে নেই। সিলেট টাইটান্সের পারভেজ হোসেন ইমন ১২ ম্যাচে ৩৯৫ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। রংপুরের তাওহীদ হৃদয় ৩৮২ রান নিয়ে দ্বিতীয় এবং রাজশাহীর তানজিদ হাসান তামিম ৩৫৬ রান নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন। ফাইনালে তামিম দুর্দান্ত শতক করেন। বোলারদের মধ্যে চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরিফুল ইসলাম ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েন, যা আগের ২৫ উইকেটের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। দ্বিতীয় স্থানে আছেন নাসুম আহমেদ ১৮ উইকেট নিয়ে, আর রাজশাহীর রিপন মন্ডল ১৭ উইকেট নিয়ে তৃতীয়। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হাসান মাহমুদ ও রাজশাহীর বিনুরা ফার্নান্ডো ১৬ উইকেট করে নেন। রংপুরের মোস্তাফিজুর রহমানও ১৬ উইকেট নেন, আর চট্টগ্রামের মেহেদী হাসান ও আমির জামাল ১৫ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে পঞ্চম। পুরো আসরে ব্যাটিং-বোলিংয়ে নতুন রেকর্ড ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সমৃদ্ধ ছিল এবারের বিপিএল।
রাজধানী ঢাকার পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে শুক্রবার দিনভর নির্বাচনি প্রচারে মুখর ছিল। ছুটির দিনে ভোটারদের উপস্থিতি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা সকাল থেকেই গণসংযোগে নেমে পড়েন। চায়ের দোকান, মোড়ের আড্ডা ও বাসার সামনে প্রার্থীদের কুশল বিনিময় ও ভোটারদের অভিযোগ শোনার দৃশ্য ছিল সর্বত্র। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, হাতপাখা, ফুটবল ও হাঁস প্রতীক নিয়ে মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢাকা-৪, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৮ আসনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালান। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেন, আর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রচারে অংশ নেন চরমোনাই পীর। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও ভোটারদের দরজায় দরজায় গিয়ে সমর্থন চান। পুরো দিনজুড়ে রাজধানীর অলিগলি ও সড়কগুলোতে নির্বাচনি উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, প্রার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে আসে শহরের রাজনৈতিক পরিবেশে।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় তীব্র শীত পড়ছে। শনিবার ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ। গত রাত থেকে শীতের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে বিভিন্ন মোড়ে ও চায়ের দোকানের সামনে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। খেটে খাওয়া মানুষদের জন্য এই শীত চরম দুর্ভোগ বয়ে এনেছে। জেলার হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সকাল ৯টায় রেকর্ড করা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা তীব্র শীতের অব্যাহত অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড তার বিপুল খনিজ সম্পদ ও আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপটি দখলের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করার পর ডেনমার্ক সেখানে অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে। ট্রাম্প ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও পরে তা থেকে সরে আসেন, তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মুখোমুখি অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে, আর চীন ও রাশিয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ২০২৩ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপীয় কমিশনের তালিকাভুক্ত ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের মধ্যে ২৫টি গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে। দক্ষিণ গার্ডার প্রদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিরল মৃত্তিকার ভান্ডারও এখানেই। এসব খনিজ সবুজ জ্বালানি প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অপরিহার্য। তবে পরিবেশগত নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনিক জটিলতা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিরোধিতার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। টেকসই খনিজ আহরণ ও সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে এই সম্ভাবনা সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট ডেকে আনতে পারে।
২২ জানুয়ারি প্রকাশিত দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একসময়ের নিষিদ্ধ ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামীকে ‘বন্ধু’ হিসেবে দেখতে চায়। প্রতিবেদনে এক মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই সম্পর্ক শর্তহীন নয় এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক শূন্যতায় জামায়াত পুনরায় সংগঠিত হয়েছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাদের ভালো ফলের সম্ভাবনা কূটনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে, জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ভারতের কাছে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ। অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন যে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও সময়মতো, তবে সমান সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। একই দিনে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনী লড়াই এখন মাঠের চেয়ে বেশি অনলাইনে—টিকটক, ফেসবুক ও ইউটিউবে। তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে তৈরি এই ডিজিটাল প্রচারণা রাজনীতির ভাষা ও কৌশল বদলে দিচ্ছে এবং গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি হাইপার প্রোপাগান্ডার অংশ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে যে তারেক রহমান রাত ৮টার পরও মাইক ব্যবহার করে প্রচারণা চালিয়েছেন, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দিচ্ছে এবং ব্যবস্থা না নিলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে। রিজভী জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর স্থগিত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে কমিশনের নিয়ম মেনে প্রচারণা চালান।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তীব্র শীতের প্রভাব বেড়েছে। শনিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চা-বাগানের শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা শীত মোকাবিলায় কষ্ট পাচ্ছেন এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এখনো কোনো ত্রাণ বা সহায়তার খবর পাওয়া যায়নি, তবে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে শীতের এই অবস্থা আরও কিছুদিন থাকতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করায় কানাডার কড়া সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি সতর্ক করে বলেন, বেইজিং আগামী এক বছরের মধ্যে ‘কানাডাকে খেয়ে ফেলতে পারে’। ট্রাম্প দাবি করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা প্রত্যাখ্যান করে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নিচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষা থেকে বিনা মূল্যে সুবিধা নিচ্ছে। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মন্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই প্রতিক্রিয়া আসে। ট্রাম্প বলেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে টিকে আছে, তবে কার্নি তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কানাডা সফল কারণ তারা কানাডিয়ান। এই বিরোধ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করছে।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সামরিক সমন্বয় এখন কেবল কূটনৈতিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি বিনিময় ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি একটি কার্যকর কাঠামোয় রূপ নিচ্ছে। পাকিস্তানের বৃহৎ সেনাশক্তি, সৌদি আরবের উচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প একত্রে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করছে, যা ভারতের কৌশলগত মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত তুরস্কের ড্রোন ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা পাকিস্তানের হাতে গেলে তা ভারতের সীমান্ত পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ আনতে পারে। কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের অবস্থান ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য রাজনৈতিক সতর্কতার কারণ হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ভারতের অন্যতম তেল সরবরাহকারী ও শ্রমবাজার হওয়ায় দিল্লি রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চেষ্টা করছে যাতে এই ঘনিষ্ঠতা ভারতের বিরুদ্ধে কোনো কৌশলগত প্ল্যাটফর্মে পরিণত না হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে লেখক মনে করেন, কোনো সামরিক জোটে যুক্ত হওয়া তার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ও শান্তিরক্ষাকারী ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সংযম, নিরপেক্ষতা ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখাই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পথ।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।