সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মাসব্যাপী যাত্রা নিবন্ধন উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে। সমাপনী দিনে একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’। এম এ মজিদের রচনা ও তানভীর নাহিদ খানের নির্দেশনায় নির্মিত এই যাত্রাপালায় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্নেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্ব, কৌশল ও আত্মমর্যাদাবোধের গল্প তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বিশেষ অতিথি সচিব মো. মফিদুর রহমান এবং সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩৫টি নিবন্ধিত যাত্রাদল অংশ নেয় এবং মোট ৩৬টি যাত্রাপালা মঞ্চায়িত হয়। যাত্রাশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বর্ষীয়ান শিল্পী আনোয়ার হোসনকে আজীবন সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ফারুকী জানান, মাত্র সাত দিনে নির্মিত ‘জেনারেল ওসমানী’ যাত্রাপালাটি আগামী মার্চ মাসে দেশের ৬৪টি জেলায় মঞ্চায়িত হবে, যা জাতীয় ইতিহাসভিত্তিক যাত্রা নির্মাণের নতুন উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উৎসবের টিকিট বিক্রির অর্থ সংশ্লিষ্ট যাত্রাদলগুলোকে প্রদান করা হয় এবং প্রতিটি প্রদর্শনী জুরি বোর্ডের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর ওয়ারী ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে এক পথসভায় তিনি বলেন, তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ চান। এলাকাবাসীর সন্তান ও ভাই হিসেবে তিনি তাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট, ভঙ্গুর সড়ক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব ও পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া তিনি অবৈধ স্থাপনা, মাদক বিস্তার ও যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন এবং বাস রুট র্যাশনালাইজেশনের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। তিনি অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, জনগণের সঙ্গে একত্রে থেকে একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চান। এ সময় তিনি তার পিতা ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেবেন। বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সমাবেশের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমিনুর রশিদ ইয়াছিন শনিবার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠ পরিদর্শন করেন এবং জানান, মঞ্চের কাজ প্রায় শেষ এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-১১ আসনের প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, তারা লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, চৌদ্দগ্রামের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত উৎসাহে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কারণ এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম চৌদ্দগ্রাম সফর। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম বলেন, চৌদ্দগ্রামের সাধারণ মানুষও নেতাকে একনজর দেখার অপেক্ষায় আছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার তারেক রহমান চট্টগ্রাম ও ফেনীতে জনসভা শেষে কুমিল্লার তিনটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন, যার প্রথমটি হবে চৌদ্দগ্রামে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, শহীদ আবু সাঈদের মতো দেশের জন্য বুক পেতে দিতে তিনি প্রস্তুত, তবে দেশের এক ইঞ্চি জমির সম্মানও কারো কাছে বন্ধক রাখবেন না। শনিবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই বিপ্লবে নিহত সকল শহীদের হত্যাকাণ্ডের বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সিগবাতুল্লাহ। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জানান, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ১০ দলীয় জোট দেশের ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও তাদের পরিবারকে সারাজীবন পাশে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি শনিবার সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের উল্লাপাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে হাজার হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন। সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মাঠের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে নারীদের অবস্থান দেখা যায়। দশ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সমাবেশে মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ নারীরাও উপস্থিত ছিলেন। উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী কর্তৃক আয়োজিত এই জনসমাবেশে আফরোজা পারভীন নামের এক নারী জানান, তিনি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আশায় সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের একটি ভোটকেন্দ্রের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া এই নারী বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে নারীরা নির্ভয়ে চলাচল ও কাজ করতে পারবে। সমাবেশে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণায় নারী ভোটারদের সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টাকে স্পষ্ট করে তোলে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আইসিসি ভারতের পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। আইসিসি সময়সীমা বেঁধে দিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অবস্থান পরিবর্তন করেনি, ফলে স্কটল্যান্ড বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হয়। পাকিস্তানের জিও সুপারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাজাম শেঠি বলেন, বাংলাদেশ যথার্থ কারণেই শক্ত অবস্থান নিয়েছে, কারণ ভারতে উত্তেজনা ও হুমকির বিষয় ছিল। তিনি দাবি করেন, আইসিসি এসব উপেক্ষা করে ভারতের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শেঠি আরও বলেন, আইসিসির উচিত ভারতের পক্ষ নেওয়া বন্ধ করা এবং অন্য দেশগুলোর এখন রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তিনি বর্তমান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভিকে বাংলাদেশের মতো বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানান এবং বলেন, এমন সিদ্ধান্ত হলে তিনি তার পাশে থাকবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সূতি মাহমুদ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতের আয়োজনে ১০ দলীয় ঐক্য জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে যাদের চাঁদাবাজ বলা হয়, তাদেরও সম্মানজনক কাজ দেওয়া হবে যাতে তারা মর্যাদার সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারে। তিনি জানান, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যবাদী প্রভাব দেখতে চান না এবং বিশ্বের সব সভ্য দেশ ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। তিনি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ব্যবস্থা দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাই এর আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, জুলাই শহীদদের ঋণ শোধ করতে ১০ দলীয় জোটকে ভোট দিতে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাঁর দল নির্বাচিত হলে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প পুনরুজ্জীবনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শনিবার সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ থাকলেও উচ্চশিক্ষার জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং শিল্প ও কৃষির পুনরুত্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও নারীদের ঘর, কর্মক্ষেত্র এবং রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। যোগ্য নারীদের জন্য সম্মানজনক কাজের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন তিনি। ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এতে অতীতের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জাতীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজি নির্মূলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশার দুই শতাধিক মানুষ শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জামায়াতে যোগ দেন। তার উপস্থিতিতে নতুন সদস্যরা সহযোগী সদস্য ফরম পূরণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যুক্ত হন। গত ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় ও ঢাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং জামায়াত মনোনীত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় ভূমিকা রাখছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাবেক ইউপি সদস্য এবং দুজন সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দুই শতাধিক মানুষ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। শুক্রবার শুরু হওয়া এই যোগদান কর্মসূচি শনিবার বিকেল পর্যন্ত চলবে।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ভোলা সদরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব তাকে দিয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রথমবার ভোলায় আগমন উপলক্ষে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পার্থ জানান, তিনি তারেক রহমানের আস্থা ও আশীর্বাদ নিয়ে মানুষের সেবায় এসেছেন এবং ভোলার মানুষের ভালোবাসা তার প্রেরণা। তিনি বলেন, তার বাবার মতোই ভোলার মানুষের পাশে থাকার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, বিএনপির এই মাটিতে অনেক ত্যাগ রয়েছে এবং তিনি সেই ত্যাগীদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কোনো ধরনের হানাহানি বা সংঘাত চান না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি অন্য প্রার্থীরা বেশি যোগ্য মনে হয় তবে তাদের নির্বাচিত করতে পারেন, তবে ভোলার উন্নয়ন যেমন মেডিকেল কলেজ ও ভোলা-বরিশাল সেতু বাস্তবায়নে তিনি সক্ষম হলে তাকে সমর্থন দিতে অনুরোধ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিজেপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন, তবে বিএনপির জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন না। তিনি আরও স্মরণ করেন, টকশোতে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠে প্রতিবাদ করার সময় ভোলার কেউ তার সঙ্গে ছিলেন না।
ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারি আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের সময় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো সামনের সারি থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিল এবং প্রয়োজনে এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন। তার এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে সর্বত্র নিন্দার মুখে পড়ে। আফগানিস্তানে নিহত ন্যাটো সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রিন্স হ্যারি বলেন, এই আত্মত্যাগের কথা সত্য ও সম্মানের সঙ্গে বলা উচিত। সাসেক্সের ডিউক হ্যারি জানান, তিনি আফগানিস্তানে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে তিনি বন্ধু হারিয়েছেন এবং আজীবনের বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনাসদস্যসহ বহু ন্যাটো সেনা নিহত হন। হ্যারি বলেন, ২০০১ সালে ন্যাটো ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়। তিনি জানান, এই যুদ্ধে হাজারো মানুষের জীবন বদলে গেছে এবং কূটনীতি ও শান্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকা এখনো জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাভোস ইকোনোমিক ফোরামে তার নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধন করেছেন, যা তিনি বিশ্বব্যাপী দীর্ঘদিনের সংঘাত ও দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেন। গাজা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টার সময় জন্ম নেওয়া এই ধারণা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছিল, কিন্তু এখন এটি আরও বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রকল্পে রূপ নিচ্ছে। ফাঁস হওয়া খসড়া সনদে দেখা যায়, ট্রাম্প আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন এবং সদস্য নির্বাচন, উপ-সংস্থা গঠন বা বিলুপ্তি এবং উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতা তার হাতে থাকবে। স্থায়ী সদস্যপদের মূল্য ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ডলার। এই উদ্যোগে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সতর্কবার্তা দেন, হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান প্রশংসা করেন, আর যুক্তরাজ্য, সুইডেন ও নরওয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশ গাজা পুনর্গঠনের আশায় এতে যুক্ত হয়েছে, যদিও সনদে গাজার উল্লেখ নেই। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে ট্রাম্প শুল্ক আরোপের হুমকি দেন, আর স্লোভেনিয়া একে বিপজ্জনক হস্তক্ষেপ বলে মন্তব্য করে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যর্থতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, তবে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শক্তির শাসনের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, তবে কোনো আধিপত্য মেনে নেবে না। শনিবার বগুড়ার শেরপুরে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের তরুণরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে এবং এই অবস্থান অটল থাকবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত সরকার গঠন করলে জনগণের অর্থে হাত দেওয়া হবে না এবং দেশের কোথাও চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকার ভাতা নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে রাষ্ট্র দায়িত্ব নেবে এবং প্রত্যেকের মেধা অনুযায়ী সুযোগ নিশ্চিত করবে। তিনি জনগণকে চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মামলাবাজদের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখতে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানান। সমাবেশে তিনি শেরপুর-ধুনট আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
১০ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ভাটারা এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগ শুরুর আগে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি দল নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভোট কেনার কৌশল নিচ্ছে। তিনি বলেন, এমন আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে যার বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করা হয়েছে এবং ভোটারদের যেন কোনোভাবেই ভয় না পায় সে আহ্বান জানান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কর্মীদের কেন্দ্রে থেকে পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, তরুণদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। শনিবার আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যপুস্তকনির্ভর জ্ঞান নয়; এটি নাগরিকত্ব, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গঠনের ক্ষেত্র। তরুণদের অংশগ্রহণ যেন প্রতীকী না হয়ে বাস্তব ও কার্যকর হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আসন্ন নির্বাচন ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানগত পরিবর্তনে তরুণদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে হবে এবং জাতীয় সংসদসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে। ড. আবরার আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা ও আগ্রহ বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সংগঠন, ক্লাব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নাগরিক সচেতনতা বাড়ায়। তিনি জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সংবেদনশীল প্রশাসন ও ধারাবাহিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।