চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারকালে কথিত ককটেল বিস্ফোরণের কোনো প্রমাণ পায়নি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শেষে সেনাবাহিনী জানায়, যে শব্দটিকে ককটেল বিস্ফোরণ বলা হয়েছিল, সেটি আসলে স্বল্পমাত্রার আতশবাজি বা ‘চকলেট বাজি’র শব্দ। বোয়ালখালী সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মো. রাসেল জানান, ঘটনাস্থলে কোনো বিস্ফোরক আলামত বা ‘আফটার শক’ পাওয়া যায়নি। চারটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রচারণার সময় খুবই স্বল্প তীব্রতার একটি শব্দ হয়, যা ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তদন্তে দেখা যায়, এক ব্যক্তির গতিবিধি কিছুটা সন্দেহজনক হলেও বিএনপি বা জামায়াতের কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। সেনাবাহিনীর তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তাদের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। বিএনপির অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত কর্মীকেও নির্দোষ প্রমাণিত করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব কধুরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে, যা চট্টগ্রাম-৮ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। সেনাবাহিনীর তদন্তে বিষয়টি ‘বিস্ফোরণ’ নয়, বরং ‘ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় অস্ত্রসহ বিএনপির সাবেক নেতা সৈয়দ আহমেদ বেপারী (৪৫) কে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সোমবার রাত সোয়া দুইটার দিকে হাইমচর উপজেলার হাওলাদার বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরিদগঞ্জের নিজ বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে ছিল তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি রামদা, একটি লোহার চাকু, একটি দেশীয় দা, চারটি স্টিল পাইপ, একটি হাতুড়ি, একটি চেইন, একটি বেইচ গিয়ার, তিনটি স্টিলের চাকু এবং দুটি স্মার্টফোন। চরদুখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান জানান, সৈয়দ আহমেদ আগে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তবে বর্তমানে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রথমে হাইমচর থানায় সোপর্দ করা হয় এবং পরে ফরিদগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আপাতত তিনটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান—জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)—অবসায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হবে। উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি এনবিএফআইয়ের বিরুদ্ধে অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফাস ফাইন্যান্স, বিআইএফসি, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সময় বাড়ানোর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড। গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, অবসায়নের পথে থাকা নয়টি প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা রমজানের আগেই তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন। সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে, তবে কোনো সুদ দেওয়া হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষপাতদুষ্ট ও নির্বিকার অবস্থানের কারণেই ঢাকা-৮ আসনের ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে প্রশাসন কার্যত একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হিজাব নিয়ে উসকানিমূলক আচরণ, প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের হুমকি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংসতা—এসবের মাধ্যমে একটি দল রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের একাংশও পক্ষপাতমূলক ভূমিকা রেখে সংঘাতমুখী রাজনীতিকে উৎসাহিত করছে। সাদিক কায়েম জানান, চাঁদাবাজদের হামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত ১৩ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সহিংসতা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নে বিএনপির ২২ জন কর্মী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। মঙ্গলবার বিকেলে মোবারকপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি পথসভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। রাজশাহী মহানগরীর আমির ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০১ (শিবগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. মাওলানা কেরামত আলী ফুলের মালা দিয়ে নতুন সদস্যদের বরণ করেন। বিএনপি থেকে আসা কর্মীরা বলেন, জামায়াত একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল যা সুষ্ঠু ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম। তারা দলের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে যোগদান করেছেন। অধ্যাপক ড. মাওলানা কেরামত আলী জানান, দলের আদর্শ, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা স্বেচ্ছায় জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। এই যোগদান স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নির্বাচনি প্রচারণার সময়কে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহিলা বিভাগের উদ্যোগে ‘প্রতিবাদী সমাবেশ’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। জাকসু এজিএস (শিবির সমর্থিত প্যানেল) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা এই সমাবেশকে জামায়াতের একটি যুগান্তকারী মুভমেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জামায়াতের মহিলা বিভাগের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। পোস্টে মেঘলা লেখেন, জামায়াতে ইসলামের মহাসমাবেশের সময় তিনি বলেছিলেন নারীদেরও এমন সমাবেশ করা উচিত। তখন অনেক নারী তাকে জানিয়েছিলেন এটি সম্ভব নয়, কারণ জেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণ ও পারিবারিক সীমাবদ্ধতা ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের মহিলা বিভাগ পূর্বে একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি আয়োজন করেছিল, যা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। মেঘলা বলেন, মহিলা সমাবেশ জামায়াতে ইসলামের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তিনি এটিকে নির্বাচনের আগে দলের পলিসি সামিটের মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন এবং আশা করছেন এটি নতুন চমক আনবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটারদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা সমর্থক ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। পরিপত্রটি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষায় নির্ধারিত কক্ষ অনুযায়ী গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপন করতে হবে। এসব কক্ষ এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে ভোটদানের সময় ভোটারের পছন্দ সম্পূর্ণ গোপন থাকে এবং জানালা বা উন্মুক্ত স্থান থাকলে তা বন্ধ রাখতে হবে। যেহেতু একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রতিটি ভোটকক্ষে দুটি গোপন কক্ষ বা অতিরিক্ত ভোটকক্ষ রাখতে হবে। এছাড়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে এবং অতিরিক্ত একটি বাক্স সংরক্ষণে রাখতে হবে। ভোটের দিন কোনো প্রার্থী বা তাদের পক্ষে ভোটার পরিবহনে যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না এবং ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সব ধরনের প্রচারপত্র সরিয়ে ফেলতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নগরীর জুলাই-৩৬ চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে ফ্যাসিবাদের অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তিনি বলেন, এই অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী। আল মামুন জানান, যারা জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন তারা সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, আর যারা বিরোধিতা করেছিলেন তারা ‘না’ ভোটের পক্ষে কাজ করছেন। তার দাবি, জিএম কাদের একমাত্র নেতা যিনি প্রকাশ্যে বড় পরিসরে ‘না’ ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন, যা ফ্যাসিবাদের সমর্থন হিসেবে প্রতীয়মান। তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে দেশে ফ্যাসিবাদ আর ফিরে আসবে না এবং একক ক্ষমতাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মহানগর নেতৃবৃন্দ আব্দুল মালেক, শান্তি কাদেরী, শরিফ হোসেন, খলিলুর রহমান, মাহফুজুর রহমান, মাহফুজ শাহ, নিয়াজ মোরশেদ ও শেখ রেজওয়ান উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে না এবং সবাইকে ক্ষমা করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যারা কালো টাকার দিকে হাত বাড়াবে, তাদের কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট ব্যবসা ভেঙে ফেলা হবে এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানুষের সম্পদ ও ইজ্জতের দিকে কেউ হাত বাড়াতে পারবে না এবং কোনো আধিপত্যের কাছে মাথা নত করা হবে না। জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের দ্বৈত আচরণের সমালোচনা করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘হ্যাঁ ভোটের’ পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান দেশ গঠনে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। জনসভায় জেলা জামায়াত আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বিএনপি কর্মীদের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মহিলা জামায়াত বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। সোমবার গোপালপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সূতী নয়াপাড়া গ্রামে টাঙ্গাইল-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীরের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় কয়েকজন মহিলা জামায়াতকর্মীর ওপর বিএনপি কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা চাঁন মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবু, কুরবান আলীর ছেলে মহিউদ্দিন ও চান মিয়া ছিলেন বলে জানা যায়। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় গোহাটা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে গোপালপুর থানার সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশে পরিণত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গোপালপুর উপজেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান তালুকদার। সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হুমায়ুন কবীর, জেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি নাসরিন সুলতানা, রহিমা সুলতানা, ফজিলা বেগম, শিল্পী খাতুন, জান্নাতুন নাহার ও শরিফা খাতুন। বক্তারা হামলার বিচার ও নির্বাচনী প্রচারণায় মহিলা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যানবাহন চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে একই দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। চিঠিটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। ইসির নির্দেশনায় জরুরি ও বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু যানবাহন চলাচলে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক, অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি সেবা, ঔষধ ও সংবাদপত্র পরিবহনকারী যানবাহন। বৈধ টিকিটধারী বিমানযাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের যানবাহন এবং প্রার্থীদের অনুমোদিত গাড়িও এই ছাড়ের আওতায় থাকবে। টেলিযোগাযোগ সেবার যানবাহনকেও জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনে জাতীয় মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা বাড়ানোর ক্ষমতা পাবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাসদস্যদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েনরত রাজশাহী সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছে। আইএসপিআর জানায়, সেনাপ্রধান মাঠপর্যায়ে সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার (বিআইআরসি) আয়োজিত সভায় সামরিক, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সভায় শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, ১১ পদাতিক ডিভিশন, বগুড়া এরিয়া কমান্ডসহ সেনাসদর ও রাজশাহী বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, দলটি ক্ষমতায় এলে রাজধানীর উত্তরায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করবে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উত্তরার আজমপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, উত্তরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি—বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসার জন্য একটি সরকারি হাসপাতালের প্রয়োজন। ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ বিজয়ী হলে এই উদ্যোগ নেওয়া হবে। তারেক রহমান বক্তৃতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে উত্তরাবাসীর অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং বলেন, সেই অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম, পানির সংকট, জলাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন এবং এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান বন্ধ থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে, যা সমাধান করতে হবে। জনসভা শেষে রাত ১টা ২০ মিনিটে তিনি উত্তরার অনুষ্ঠানস্থল থেকে গুলশানের বাসায় রওনা হন।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার তিন পার্বত্য জেলায় ১২টি বিদ্যালয়ে ই-লার্নিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে ভার্চুয়ালি তিনটি প্রাথমিক ও নয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি এই উদ্যোগের সূচনা করেন। পর্যায়ক্রমে তিন জেলার ১৪৯টি নির্বাচিত বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালু করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইউনূস বলেন, ইন্টারনেট সুবিধা না পৌঁছানো সরকারের ব্যর্থতা এবং দ্রুত সব বিদ্যালয়ে সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো শিক্ষক থেকে পাঠ নিতে পারবে, ফলে শিক্ষক সংকটেও শিক্ষার মান কমবে না। এছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, এই উদ্যোগ সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ এবং পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা অঞ্চলটিকে বাংলাদেশের মূলধারার সঙ্গে আরও সংযুক্ত করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচিত হলে তারা শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুরের বদরগঞ্জ সদরে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত যুব র্যালি শেষে তিনি এ কথা বলেন। সাহাপুর মাঠ থেকে শুরু হওয়া র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ সড়কে শেষ হয়। এতে বিপুলসংখ্যক যুবকর্মী দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। সমাবেশে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে দেশে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতৃত্ব দিয়ে কখনোই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান নেই এবং অতীতের সরকারগুলো জনগণকে শাসন ও শোষণ করেছে। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণবিপ্লবের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই বিপ্লব না হলে আজকের রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকত না। তিনি বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে ইনসাফভিত্তিক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানান এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে অনুরোধ করেন।
আরো ফিড দেখতে লগইন করুন।
সহজে ব্যবহারের সুবিধার্থে একনজরের ওয়েব অ্যাপটি সেটাপ করে নিন।